জাতীয়

ভোটারদের জন্য যানবাহন নয়: ইসি-র কড়া হুঁশিয়ারি

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে।


নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, কোনো প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট বা সমর্থক ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য কোনো ধরনের যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না।


এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রিটার্নিং অফিসারদের। তারা প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে চলছেন কি না এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে কি না তা তদারকি করবেন। কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা সমর্থক নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন না। এছাড়া ভোট শুরুর আগেই সব ধরনের প্রচারণামূলক পোস্টার ও লিফলেট অপসারণ করতে হবে।


স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি ভোটকক্ষে একটির বেশি ব্যালট বাক্স রাখা যাবে না। জেলা পর্যায়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।


উল্লেখ্য, আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশের অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ করা ও সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, জনগণ যেন নির্ভয়ে কথা বলতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।   সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনে কিছু জটিলতা থাকায় যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর তা সংসদে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান যতদিন থাকবে, ততদিন প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রস্তাব ও নামগুলো এখনো পাওয়া যায়নি।   আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে যেতে চাই না। আমাদের ভুল হতে পারে, তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা জুলাই সনদের পথ ধরেই এগোতে চাই।   আসাদুজ্জামান বলেন, অনেকে বলেছিলেন বাহাত্তরের সংবিধান ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। তবে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে যা কিছুই করা হোক না কেন, বাহাত্তরের সংবিধান সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। কারণ বাহাত্তরের সংবিধান এখনো বলবৎ আছে।   আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধান সংস্কারে যারা মতামত দেবেন, সেসব বিবেচনায় নিয়ে গ্রহণযোগ্য হলে তা গ্রহণ করা হবে। সংবিধান ও সংস্কার নিয়ে বাস্তবসম্মত চিন্তা করতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২১ দিনে শেয়ারদর বেড়েছে ৮২%, ডিএসইকে ব্যাখ্যা দেয়নি তুং হাই নিটিং

ছবি: সংগৃহীত

হালাল পণ্যের মান ও সনদে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নতুন আইনি ক্ষমতা

ছবি: সংগৃহীত

১৯ বছর পর ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল কার্যকর, পুরনো মামলার নিষ্পত্তির পথ খুলল

ছবি: সংগৃহীত
৯ বছরেও অনিশ্চিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, নিজ দেশে ফিরতে চান আশ্রিতরা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার নয় বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের। দীর্ঘ সময় ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বসবাস করলেও নিজ দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা এখনো অটুট রয়েছে তাদের। তবে রাখাইনের চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।   ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের সহিংসতার পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন লাখ লাখ রোহিঙ্গা। তাদের একজন মোহাম্মদ আরিফুল্লাহ। পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে উখিয়ার কুতুপালংয়ে আশ্রয় নেওয়া এই রোহিঙ্গা যুবক জানান, প্রাণ বাঁচাতে দীর্ঘ আট দিন হেঁটে বাংলাদেশে পৌঁছেছিলেন তিনি। সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনো তাঁকে কাঁদায়। তবে নিজের দেশ ও ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর প্রবল।   জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক বা রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন করে আরও দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।   রাখাইনে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়নি।   নিজেদের নেতৃত্বে সংগঠিত রোহিঙ্গারা: নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার দাবিকে আরও সংগঠিত করতে রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণে গড়ে উঠেছে ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের অনুমতি নিয়ে ২০২৫ সালে কক্সবাজারের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংগঠনটির প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।   ইমাম, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নারী প্রতিনিধি, প্রবীণ নাগরিক, ব্যবসায়ী, যুবক, কমিউনিটি চিকিৎসক, হেড মাঝি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে সংগঠনটির কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।   ইউসিআরের সদস্যদের দাবি, রোহিঙ্গাদের অধিকার ও প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের কাছে তুলে ধরতে তারা কাজ করছেন। পাশাপাশি ক্যাম্পে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেও কাজ করছে সংগঠনটি।   ইউসিআরের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য সৈয়দ উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে জীবন রক্ষা করেছে, এজন্য তারা কৃতজ্ঞ। তবে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থাকার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। নিজ দেশে ফিরে যাওয়াকেই রোহিঙ্গারা সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন।   স্থানীয়দের ওপরও বাড়ছে চাপ: রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানের কারণে উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ ও সামাজিক ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে।   স্থানীয় আইনজীবী ব্যারিস্টার সাফফাত ফারদিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের অতিথি এবং মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল জনগোষ্ঠীর অবস্থানের কারণে স্থানীয়দের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দ্রুত একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়া প্রয়োজন।   কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ১২ লাখের বেশি মানুষকে ধাপে ধাপে ফেরত পাঠানো একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। শুধু সীমান্ত পার করে দিলেই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হবে না; ফিরে যাওয়া মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।   নিরাপদ প্রত্যাবাসনের আগে সংঘাত বন্ধ জরুরি: রাখাইনে চলমান সংঘাতকে প্রত্যাবাসনের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দেখছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটির কক্সবাজার সাব-অফিসের প্রধান মার্সেল কলুনের মতে, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার আগ্রহ থাকলেও বর্তমানে সেখানে নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নেই।   তিনি বলেন, প্রথমে সংঘাত বন্ধ করতে হবে। এরপর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নিজ ভূমিতে ফেরার সুযোগ, জমি ও বাড়ির অধিকার এবং নাগরিকত্বসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।   তাঁর মতে, এসব শর্ত বাস্তবায়নে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তাই প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতির পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও প্রয়োজন। এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি শরণার্থী নীতি বা কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।   আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব: শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধু বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়; এটি আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রত্যাবাসনের রূপরেখা তৈরি এবং সংকট সমাধানে সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।   নয় বছর ধরে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বড় অংশের প্রত্যাশা একটাই—নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। তবে সেই প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে মিয়ানমারের পরিস্থিতির উন্নতি, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   আগামী ২৫ আগস্ট নবমবারের মতো রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস পালিত হবে। নয় বছর পরও প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য দিনটি তাই নতুন করে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও অনিশ্চয়তার কথাই স্মরণ করিয়ে দেবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এনএসআইয়ের পরিচালক হলেন পুলিশের ২ ডিআইজি

ছবি: সংগৃহীত

বাংলা এডিশনের নিবন্ধন পুনর্বহাল, আবারও সংবাদ কার্যক্রমের সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত

অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘোষণা

 গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জোটটি।   রোববার (২৩ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।   বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।   ব্রিফিংয়ে নেতারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে লংমার্চ সফল করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দেশবাসীও এতে অংশ নেবেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সূচনা পর্বে রাজধানীতে জনসমাবেশ হবে। পথে বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে সারাদেশে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে।   নেতারা বলেন, ১১ দলের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সরকার জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।   সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নেতারা বলেন, সরকারের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশে চাঁদাবাজি বেড়েছে, কৃষক সার পাচ্ছেন না এবং জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।      তাদের অভিযোগ, বিরোধী দল জ্বালানি সংকট নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাব দিলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। সরকার বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার না করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও দাবি করেন তারা।   পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ১১ দলের নেতারা বলেন, গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের ঘটনায় ভারত সরকারকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দিল্লিতে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। তবে সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চান বলে জানান তারা।   বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসংসদের নেতাদের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দলীয় লোক নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।   নেতারা আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার কিংবা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার যেন ‘এদিক-সেদিক উঁকিঝুঁকি’ না করে। সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের দিকে সরকার ধাবিত হলে এর পরিণতি ভালো হবে না—এটি তাদের স্পষ্ট বার্তা।   দেশবাসীকে লংমার্চে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন। এতে রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হলে তা প্রতিহত করে সামনে এগিয়ে যাওয়া হবে।   বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   ব্রিফিংয়ে নেতারা বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যার সমাধান করাই তাদের আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৪, ২০২৬

ধর্ষণ মামলার রায় শুনে আদালতে জ্ঞান হারালেন আ.লীগ নেতা

যে ফার্স্টলেডির মরদেহ চুরির ১৬ বছর পর উদ্ধার হয়েছিল

সার্ককে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

0 Comments