সর্বশেষ

বাংলাদেশের চারপাশে আকাশ নজরদারি জোরদারে ঐতিহাসিক ঘাঁটি সচল

Unknown জানুয়ারী ১৩, ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত এবং দীর্ঘদিন কার্যত অচল থাকা পাঁচটি বিমান ঘাঁটি নতুন করে সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বরাতে জানা গেছে, এসব ঘাঁটির অবস্থান এমনভাবে নির্ধারিত যে বাংলাদেশের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক ঘিরে একটি কৌশলগত বলয় তৈরি হয়। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা ভারসাম্য, নজরদারি সক্ষমতা এবং দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানায়, যেসব ঘাঁটি পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে, সেগুলোর বেশ কয়েকটি ব্রিটিশ শাসনামলে মিত্রবাহিনীর ব্যবহারের জন্য নির্মিত হয়েছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এসব ঘাঁটির অনেকগুলো সীমিত ব্যবহারে থাকলেও আধুনিক যুদ্ধবিমান ও নজরদারি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার উপযোগী ছিল না। সাম্প্রতিক উদ্যোগের আওতায় রানওয়ে সম্প্রসারণ, আধুনিক ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা স্থাপন, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা উন্নতকরণ এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালী করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই পাঁচটি ঘাঁটির অবস্থান ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তর-পূর্ব ভারতের পার্বত্য অঞ্চল, বঙ্গোপসাগরমুখী উপকূলীয় এলাকা এবং পূর্ব সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থিত এসব ঘাঁটি থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে আকাশ নজরদারি, পরিবহন ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে নজরদারি ড্রোন, পরিবহন বিমান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ উদ্যোগকে ‘অবকাঠামো উন্নয়ন’ ও ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধি’র অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও, আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন—এটির সুস্পষ্ট কৌশলগত দিক রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং সমুদ্রপথের গুরুত্ব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ঘাঁটিগুলো ভারতের সামরিক পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
বাংলাদেশ ঘিরে এই উন্নয়ন নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নীরব পর্যবেক্ষণ চলছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও আস্থার পরিবেশ বজায় রাখা এ ধরনের উদ্যোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলছেন, আকাশসীমা ও সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির যেকোনো পদক্ষেপ আঞ্চলিক সংলাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হলে উত্তেজনার ঝুঁকি কমে।
এদিকে সামরিক ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এই বিমান ঘাঁটিগুলো একসময় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আকাশযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সেগুলোকে নতুন করে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার ফলে অতীতের অবকাঠামো বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।
সার্বিকভাবে, ভারতের এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা চিত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে এই ঘাঁটিগুলোর ব্যবহার, সেখানে কোন ধরনের বিমান বা প্রযুক্তি মোতায়েন হয় এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে এর প্রভাব কী দাঁড়ায়—সেদিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
সার্ক বাংলাদেশের ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

  পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, সার্ক আমাদের কাছে একটি বিশেষ ঐতিহাসিক অর্থ বহন করে। এটি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কূটনৈতিক উত্তরাধিকার, যার দৃষ্টিভঙ্গি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতাকে আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় রাখতে সহায়তা করেছিল। কিন্তু সেই উত্তরাধিকার শুধু অতীতের ব্যাপার নয়। এটি সরাসরি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কথাও বলে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ একটি স্লোগানের চেয়েও বেশি কিছু। এর মধ্যে রয়েছে এমন একটি প্রতিবেশী গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা, খাদ্য নিরাপত্তা, যোগাযোগ এবং বৈশ্বিক অবস্থানকে সমর্থন করে। সেই অর্থে, সার্ক বাংলাদেশের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে শুরু হয়েছিল এবং আজ এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে।   সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘বিশ্বাস পুনঃস্থাপন ও আঞ্চলিক সংহতি নবায়ন: সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার পথ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে বিআইআইএসএস।   শামা ওবায়েদ বলেন, সার্ক রাজনৈতিকভাবে সীমাবদ্ধ তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রাসঙ্গিক। এর সনদ এখনও বহাল রয়েছে। এর সচিবালয় এখনও কাজ করছে। এর বিশেষায়িত সংস্থা এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলো কাজ করে চলেছে। এর আইনি উপকরণ, প্রযুক্তিগত নেটওয়ার্ক এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি আমাদের কাছে উপলব্ধ। সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার যেকোনও গুরুতর প্রচেষ্টা অবশ্যই একটি সৎ সমাধানের সঙ্গে শুরু করতে হবে। সার্ক রাজনৈতিক অবিশ্বাস, অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় বিরোধ, ক্রসবর্ডার উত্তেজনা, ক্ষমতার অসামঞ্জস্যতা এবং প্রতিযোগিতামূলক নিরাপত্তা ধারণা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা ঐকমত্যকে কঠিন করে তুলেছে এবং প্রায়শই আঞ্চলিক উদ্যোগকে ধীর করে দিয়েছে। তবে সার্কের চ্যালেঞ্জগুলো কেবল রাজনৈতিক নয়, প্রাতিষ্ঠানিকও। এটি পুনরুজ্জীবনের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রাতিষ্ঠানিক মেরামত উভয়ই প্রয়োজন।   তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ভৌগোলিকভাবে ঘনিষ্ঠ, ঐতিহাসিকভাবে সংযুক্ত এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ, তবে রাজনৈতিকভাবে খণ্ডিত এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। আমাদের কাজ হলো সম্ভাবনা এবং পারফরম্যান্সের মধ্যে ব্যবধান কীভাবে হ্রাস করা যায় তা বিবেচনা করা। সার্কের প্রতিষ্ঠাতা দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট ছিল যে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ অভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ভাগ করে নেয় এবং তাই তাদের একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনীয়তা আজও বৈধ। প্রকৃতপক্ষে, এটি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অস্বীকার করার উপায় নেই, সার্ক গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। শীর্ষ সম্মেলন প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। রাজনৈতিক আস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। আঞ্চলিক সংহতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা এবং অমীমাংসিত বিরোধ বারবার সংস্থাটির গতিকে প্রভাবিত করেছে। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সার্কের জন্মস্থান হিসেবে বাংলাদেশ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আদর্শ সমুন্নত রাখতে যথেষ্ট কাজ করেছে কিনা তা নিয়ে প্রতিফলিত হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সব সদস্য রাষ্ট্রের সম্মিলিত আত্মসমীক্ষার মুহূর্ত। কেবল কল্পনা করুন, আমরা যদি সত্যিই সার্ককে আমাদের ভাগ করে নেওয়া প্রতিষ্ঠান হিসাবে গ্রহণ করতাম এবং গত চার দশক ধরে, বিশেষত গত ১৭ বছর ধরে টেকসই প্রতিশ্রুতি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার সঙ্গে তার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মিলে গেলে দক্ষিণ এশিয়া কতদূর এগিয়ে যেতে পারতো।   শামা ওবায়েদ বলেন, সার্ক এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে ছোট রাষ্ট্রগুলো সম্মিলিতভাবে কথা বলতে পারে, যেখানে ভারত গঠনমূলক আঞ্চলিক নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে পারে, যেখানে পাকিস্তান একটি বিস্তৃত দক্ষিণ এশীয় কাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত থাকে এবং যেখানে বাংলাদেশের জন্য রাজনৈতিক বিরোধগুলো অমীমাংসিত থাকলেও অভিন্ন সমস্যাগুলো সমাধান করা যেতে পারে। এখানেই ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ মিলিত হয়।   সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের উপদেষ্টা এবং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়া স্টাডিজের বিশিষ্ট ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো রাষ্ট্রদূত তারিক এ করিম। এছাড়া সেমিনারে একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (সার্ক ও বিমসটেক) সাবেক অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ও কোডার্স ট্রাস্ট বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুল হক।   মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা ও প্যানেল আলোচনার পর একটি উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা সার্কের কার্যকারিতা সীমিত করে রাখার পেছনে কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা, আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতার প্রভাব এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৬, ২০২৬

শিশু জন্মের পরই পাবে আইডি, মিলবে মৃত্যু পর্যন্ত সুবিধা

ছবি: সংগৃহীত

৪৫ হাজার বিনিয়োগকারীর ৫৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় সোহেল তাজের স্ট্যাটাস

ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনার দেশে ফেরায় কোনো আইনি বাধা নেই, বললেন চিফ প্রসিকিউটর

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে কোনো আইনি বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার উচিত দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে পাওয়া সাজা ও বিচারাধীন মামলাগুলোর আইনি মোকাবিলা করা।   রোববার (৫ জুলাই) নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা আপিল করতে পারবেন কিনা, এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপিরিয়র রেসপনসেবলিটির দায় নিয়ে শেখ হাসিনার সাজা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে তার এ শাস্তি হয়নি। সাধারণত রায় ঘোষণার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের বিধান রয়েছে। এরই মধ্যে সেই সময় অতিক্রম হয়ে গেছে। তাই এ সময়ের মধ্যে যদি আপিল করা না যায়, তাহলে আর করতে পারবেন না। তবে আমরা চাই শেখ হাসিনা দেশে এসে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া দণ্ড চ্যালেঞ্জ করুক। তিনি আপিল ফাইল করুক। কারণ তার দেশে আসতে কোনো আইনগত বাধা নেই। সুযোগ না থাকলে আপিল ফাইল করবেন কীভাবে- জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, এটা আপিল বিভাগের বিষয়। আগে তাকে (শেখ হাসিনা) আসতে দিন। তিনি আসুক। আমরাও চাই তিনি আপিল করুক। আইনি প্রক্রিয়ায় তখন কীভাবে কী হবে, সেটা তখন দেখা যাবে। এখন অগ্রিম বলার কোনো অবকাশ নেই। তবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও অনেকগুলো মামলা বিচারাধীন। বেশ কিছু মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষায় রয়েছে। বিশেষত শাপলা চত্বর মামলাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও অনেক মামলায় তিনি বিচারের সম্মুখীন হতে পারেন। এরই মধ্যে একটি মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এজন্যই বাংলাদেশে এসে তার এসব বিচার মোকাবিলা করা উচিত। ইনুকেও শাপলা চত্বরের মামলায় আসামি করা হবে জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ মামলার শুরু থেকেই আমরা জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সংশ্লিষ্টতা পাচ্ছি। তখন তিনি তথ্যমন্ত্রী ছিলেন। তার নির্দেশনায় ২০১৩ সালের ৫ মে'র পর দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। সংসদে দাঁড়িয়ে এসবের দায় স্বীকার করে তিনি বলেছেন যে, তিনি এগুলো মোকাবিলা করেছেন। অতএব এই তথ্যপ্রমাণ শুরু থেকেই আমরা পেয়েছি। যেহেতু এটি একটি বড় ঘটনা, সেহেতু গুছিয়ে আনতে সময়টুকু লাগছে। হাসানুল হক ইনু আসামি হবেন, আগে থেকেই আমরা বলে আসছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবে আমাদের দেশে যে স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছে, তা আমাদের একাধিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। আমরা যাদের বিচারের সম্মুখীন করছি, প্রাথমিক তদন্তে তারা স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করেছেন বলে প্রমাণ মিলছে। এছাড়া যাত্রাবাড়ীর একটি মামলায় আমরা দেখেছি যে- পুলিশ যখন অস্ত্র বণ্টন করতো, তখন বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে দেখানো হতো। বাস্তবে অস্ত্রগুলো দেওয়া হতো আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে। তারা পুলিশের পাশাপাশি এসব ব্যবহার করতেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৫, ২০২৬
কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়া শহর। ছবি: সংগৃহীত

কেপ ভার্দে ভ্রমণে বাংলাদেশিদের কি আগাম ভিসা লাগবে?

কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়া শহর | ছবি: সংগৃহীত

কেপ ভার্দের মুসলিমদের জীবনযাপন কেমন চলছে?

ছবি: সংগৃহীত

ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি, উড্ডয়নের পর ফিরে এলো নভোএয়ারের ফ্লাইট

ছবি: সংগৃহীত
ডিএমপিতে ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তার রদবদল, নতুন দায়িত্বে পদায়ন

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) প্রশাসনে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে রদবদল আনা হয়েছে। এক অফিস আদেশের মাধ্যমে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ও সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার মোট ছয় কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ডিএমপি কমিশনারের পক্ষে উপপুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মোহাম্মদ সারোয়ার আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করবেন।   নতুন পদায়ন অনুযায়ী, মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (২আইসি) এস এম মিজানুর রহমানকে আইসিটি বিভাগে, গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (২আইসি) মো. আল আমিন হোসাইনকে গোয়েন্দা-রমনা বিভাগের রমনা জোনাল টিমে এবং লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (২আইসি) আবু সাঈদকে গোয়েন্দা-তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনাল টিমে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   এছাড়া, মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (২আইসি) এস. এ. এম. ফজলে-ই-খুদাকে গোয়েন্দা-মিরপুর বিভাগের পশ্চিম জোনাল টিমে, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (বাজেট) মো. সজল হোসেনকে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইনভেস্টিগেশন বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।   অন্যদিকে, ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (সবুজবাগ জোন) জাহাঙ্গীর ফেরদৌসকে ডিএমপির এফঅ্যান্ডডি বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রেনিং) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ পদায়ন কার্যকর করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ নতুন দায়িত্ব পালন করবেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লালবাগে সড়ক দুর্ঘটনা: বুলডোজারের চাপায় প্রাণ গেল অজ্ঞাত বৃদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

কাল থেকে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি জমায় ‘এ-চালান’ বাধ্যতামূলক

ছবি: সংগৃহীত

জেল থেকে ছাড়া পেয়েই সাইফুলের নয়া মিশন

0 Comments