খেলাধুলা

অপ্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তনকেই ক্যারিয়ার পুনরুত্থানের কারণ মানছেন নাওয়াজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬ 0

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পাকিস্তানী অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নাওয়াজ তার সাম্প্রতিক ক্যারিয়ার পুনরুত্থানের পেছনে সুযোগ, ধৈর্য এবং কৌশলগত বিষয়ের সমন্বয়কে কৃতিত্ব দিয়েছেন। জাতীয় দলে তার প্রত্যাবর্তন শুরুতে অপ্রত্যাশিত হলেও সেটিই তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়ের সূচনা করেছে।

জুলাই মাসে সতীর্থ শাদাব খানের চোটের পর নাওয়াজের জাতীয় দলে ফিরে আসা অনেকের জন্যই ছিল বিস্ময়কর। সে সময় তিনি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল)সহ বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এ সম্পর্কে নাওয়াজ বলেন, “জুলাইয়ে আমি সিপিএলে নির্বাচিত হয়েছিলাম এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো খেলতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। শাদাব চোটে পড়ায় তার বদলি হিসেবে আমাকে নেওয়া হয়। এটা আমার পরিকল্পনায় ছিল না। পাকিস্তান দলে নির্বাচিত হওয়ার সময়ও আমি ভাবিনি যে এমন পারফরম্যান্স করতে পারব। বছরের বাকি সময়টা এভাবে যাবে। এতগুলো দারুণ পারফরম্যান্স আসবে, এটা আমি কল্পনাও করিনি। আমাদের বড়রা বলেন, আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের পরিকল্পনার চেয়ে উত্তম। তাঁর পরিকল্পনাই সেরা”।

বিশ্ব মঞ্চের দিকে তাকিয়ে নাওয়াজ পাকিস্তানের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী, “এটাই আমাদের সেরা সুযোগ। শ্রীলঙ্কার কন্ডিশন অনুযায়ী আমাদের দারুণ একটি সমন্বয় আছে। বিশ্বকাপের আগে আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছি।”

বিশ্বকাপের চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি আলাদা মাত্রার এক মঞ্চ।

তিনি বলেন, “দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিততেও চাপ থাকে, কিন্তু বিশ্বকাপে খেললে ‘বিশ্বকাপ’ নামটাই আলাদা চাপ তৈরি করে। একজন খেলোয়াড়কে জানতে হবে, সেই চাপ কীভাবে সামলাতে হয়।”

বোলার হিসেবে সাম্প্রতিক উন্নতির পেছনে বড় কারণ হিসেবে নাওয়াজ তুলে ধরেন তার ডেলিভারিতে বৈচিত্র্য আনার সচেতন প্রচেষ্টাকে। গতি নিয়ন্ত্রণ ও ভিন্ন ভিন্ন ধরন ব্যবহার করে তিনি ব্যাটসম্যানদের জন্য নিজেকে আরও কার্যকর ও অনিশ্চিত করে তুলেছেন।

নাওয়াজ বলেন, “গত কয়েক মাসে কোচরা আমাকে বলেছেন যে আমি গতির ভিন্নতা আনছি। ধীরে বল করলে বল টার্ন করার সুযোগ পায়। আধুনিক ক্রিকেট খুব দ্রুতগতির হয়ে গেছে, তাই স্পিনার যখন চাপে পড়ে, তখন সে দ্রুত বল করতে শুরু করে।”

নাওয়াজ সাদা বলের কোচ মাইক হেসনের প্রভাবের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন এবং খেলোয়াড়দের জন্য তিনি যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছেন তার প্রশংসা করেন। পিএসএলে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডে হেসনের অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে ৩১ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার বলেন, কোচের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা খেলোয়াড়দের কাজ সহজ করে দিয়েছে।

হেসনের অধীনে দলের সাফল্যের কথা স্মরণ করেন নওয়াজ, “মাইক হেসন খুবই ইতিবাচক একজন কোচ। গত মৌসুমের পিএসএলে আমি ইসলামাবাদ ইউনাইটেডে তার অধীনে খেলেছি। তিনি প্রত্যেক খেলোয়াড়কে তার ভূমিকা পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দেন, দলে তার কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একজন খেলোয়াড় যখন এসব জানে, তখন নিজের ভূমিকায় মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। আমরা দুটি ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছি, আরেকটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতেছি। এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছি। মাইক হেসনের অধীনে আমাদের ফলাফল ভালো ছিল। আমার মনে হয়, তিনি খেলোয়াড়দের পরিধি বাড়াতে চাইছেন, তরুণদের আরও সুযোগ দিতে চাইছেন।”

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর ক্ষেত্রেও হেসনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ, “পাকিস্তানে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে বড় একটি ব্যবধান আছে। আমার মনে হয়, তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য সেই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছেন তিনি। সর্বোচ্চ পর্যায়ে কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়, সেটা তাদের জানা দরকার। পাকিস্তান দলে ক্রিকেট কীভাবে খেলা হয়, তরুনদের সেটা দেখার সুযোগ করে দেওয়ার হেসনের উদ্যোগকে আমি খুবই ইতিবাচক মনে করি।”

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চিন্নাস্বামী থেকে সরে গেল আইপিএল ফাইনাল, প্লে-অফের ভেন্যু ঘোষণা বিসিসিআইয়ের

আইপিএলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, শিরোপাধারী দলের মাঠেই পরবর্তী আসরের ফাইনাল আয়োজন করা হয়। তবে গত দুই মৌসুমে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে না। এবারও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরুর ঘরের মাঠ চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ফাইনাল না হয়ে ম্যাচটি হবে অহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে।   গত আসরেও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। তখন চ্যাম্পিয়ন ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স, কিন্তু ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল অহমেদাবাদে। এবারও আয়োজক সক্ষমতার ঘাটতির কারণ দেখিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। এর ফলে তৃতীয়বারের মতো আইপিএলের ফাইনাল আয়োজন করতে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম।   বুধবার এক বিবৃতিতে আইপিএলের প্লে-অফ পর্বের সূচি প্রকাশ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ঘোষিত সূচিতে বেঙ্গালুরু কোনো ম্যাচই পায়নি। সাধারণত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা ফাইনালের পাশাপাশি আরও একটি প্লে-অফ ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পেয়ে থাকে, কিন্তু এবার সেই নিয়মও অনুসরণ করা হয়নি।   বিসিসিআই জানিয়েছে, ফাইনাল আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও প্রোটোকল অনুযায়ী স্থানীয় ক্রিকেট সংস্থা এবং প্রশাসনের কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল, তা সময়মতো পাওয়া যায়নি। এ কারণেই ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালনাগত ও যাতায়াতসংক্রান্ত কিছু সমস্যার কারণে প্লে-অফের ম্যাচগুলো মাত্র তিনটি ভেন্যুতে সীমিত রাখা হয়েছে বলেও জানায় বোর্ড।   ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম কোয়ালিফায়ার অনুষ্ঠিত হবে ২৬ মে ধর্মশালায়। ২৭ মে মুল্লানপুরে হবে এলিমিনেটর ম্যাচ। একই ভেন্যুতে ২৯ মে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। আর ৩১ মে অহমেদাবাদে গড়াবে এবারের আইপিএলের ফাইনাল।

আক্তারুজ্জামান মে ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সেঞ্চুরির লোভে ‘স্বার্থপর’ হননি স্যামসন

ছবি : সংগৃহীত

পিএসজির বিপক্ষে স্মরণীয় মুহূর্ত গড়তে প্রস্তুত বায়ার্ন

ছবি : সংগৃহীত

এগিয়ে থেকেও জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে পিএসজি

ছবি : সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপের ২৬ সুপারস্টারের একজন রাফিনিয়া

প্রাণশক্তিতে পূর্ণ এক উইঙ্গার, মুহূর্তে গড়ে দিতে পারেন ব‍্যবধান। আক্রমণে যেমন ভূমিকা রাখেন, রক্ষণেও দলকে সাহায‍্য করেন প্রাণপণে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটাতে মহাগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন রাফিনিয়া।   ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজ দেশের স্বপ্নের সারথীদের নিয়ে ফিফার আয়োজন ২৬ সুপারস্টার। এই পর্বে আছেন ব্রাজিলের উইঙ্গার রাফিনিয়া।   ২০১৬ সালে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে অচেনা এক টিনএজার পাড়ি জমান ইউরোপে। এক দশক পর, ২৯ বছর বয়সে নিজের সময়ের সেরা খেলোয়াড়দের একজন এবং দর্শকপ্রিয় তারকাদের একজন হিসেবে রাফিনিয়া খেলতে যাচ্ছেন উত্তর আমরিকা বিশ্বকাপে। নিজের প্রতিভার ওপর বিশ্বাস রেখে অধ‍্যাবসায়, সহনশীলতা ও কঠোর পরিশ্রমে সাফল‍্যের পথে ছুটে চলছেন রাফিনিয়া। দুর্দান্ত অভিযাত্রায় এই গ্রীষ্ম হতে পারে তার প্রাপ্তির মুকুটের সবচেয়ে ঝলমলে রত্ন।   ফুটবলের আঙিনায় রাফিনিয়ার অর্জন   পোর্তো আলেগ্রের রিও গ্রান্দে দো সলে জন্ম রাফিনিয়ার। যেখান থেকে উঠে এসেছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দুঙ্গা, ক্লাউদিয়ো তাফারেল, ব্রাঙ্কো ও রোনালদিনিয়ো।   তাদের মতো ক‍্যারিয়ারের শুরুতেই তারকা খ‍্যাতি পেয়ে যাননি রাফিনিয়া। বরং নিজের ছাপ ফেলতে যথেষ্ট সময় লাগে তার। পথটা ভীষণ কঠিন ছিল তার জন‍্য। বেড়ে ওঠার সময়টায় শীর্ণ দেহের জন‍্য তাকে নিয়ে সংশয়ে ছিলেন ব্রাজিলের বিভিন্ন ক্লাবের কোচ ও কর্মকর্তারা। একটা সময় তো হাল প্রায় ছেড়ে দিচ্ছিলেন রাফিনিয়া।   তবে শেষ পর্যন্ত পথ খুঁজে পান তিনি পর্তুগালে, ভিতোরিয়া দে গিমাইস ক্লাবে। সেখান থেকে যান পর্তুগালেরই আরেক ক্লাব স্পোর্তিংয়ে। এরপর ফ্রান্সের ক্লাব রেন, ইংল‍্যান্ডের লিডসে খেলেন। সেখান থেকে বার্সেলোনায় এসে দ‍্যুতিময় ফুটবলে হয়ে উঠেছেন সময়ের সেরাদের একজন।   দুর্দান্ত এক গোলস্কোরারের বাইরেও নানা পজিশনে ও ভূমিকায় খেলতে পারদর্শী রাফিনিয়া। উদাহরণ হিসেবে বার্সেলোনায় তার খেলার সময়ের কথাই বলা যায়। এখানে তিনি দুই উইংয়েই খেলেন, প্রয়োজন হলে প্লেমেকারের ভূমিকাতেও মাঠে নামেন। তবে মাঠে তার ভূমিকা যাই হোক না কেন, গোল করা কিংবা গোলে অবদান রাখার কাজটা করেন নিয়মিত।   ২০২৩ ও ২০২৫ সালে কাতালান ক্লাবটির লা লিগা জয়ে তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এবারও শিরোপার খুব কাছে আছে বার্সেলোনা। দলটির হয়ে ২০২৪-২৫ মৌসুমে তিনি জিতেছেন কোপা দেল রে। এছাড়া জিতেছেন তিনটি স্প‍্যানিশ সুপার কাপও। এর আগে ২০১৯ সালে স্পোর্তিংয়ের হয়ে জিতেছিলেন ঘরোয়া ডাবল।   এখন পর্যন্ত তার সেরা সময় কেটেছে ২০২৪-২৫ মৌসুমে। চ‍্যাম্পিয়ন্স লিগে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনি। ব্রাজিলের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে হন লা লিগার বর্ষসেরা। এছাড়া আরও কিছু ব‍্যক্তিগত অর্জন ধরা দিয়েছে তার হাতে। ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও ছিলেন তিনি।   কোচ ও সতীর্থদের চোখে রাফিনিয়া   তার মতো খেলোয়াড় কখনও পাইনি। বল পায়ে কিংবা বল ছাড়া- দুই ক্ষেত্রেই রাফিনিয়া অবিশ্বাস‍্য গতিময়। সে স্পেশাল এবং অল্প কথায় বলতে গেলে, বার্সেলোনায় যে ঘরানার ফুটবল আমি দেখতে চাই, ঠিক সেটাই সে খেলে।   - হান্সি ফ্লিক সে এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। তার উপস্থিতি আমাদের আক্রমণে আরও বেশি বিকল্প এনে দেয় এবং ভক্তদের রোমাঞ্চিত করে। আমি মনে করি, সে আমাদের জন‍্য সত‍্যিকারের গেম চেঞ্জার হতে পারে।   - কার্লো আনচেলত্তি সে যেন মাঠকে প্রসারিত করে তোলে এবং সে খুব উঁচু মানের। তার সঙ্গে খেলা আমার কাজটা সহজ করে দেয়।   - ভিনিসিউস জুনিয়র রাফিনিয়া বিস্ময়কর একজন। জাতীয় দলে (তার থেকে) আমরা যেটা অনেক দিন ধরে দেখছি, সেটা এখন লোকে দেখছে- শুধু তার ফুটবল সামর্থ্য নয়, তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বগুণও। দায়িত্ব নিতে সে সবসময়ই এগিয়ে আসে।   - মার্কিনিয়োস সে আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে আমাদের অনেক সাহায‍্য করে এবং দলে সব তরুণ খেলোয়াড়দের জন‍্য উদাহরণ তৈরি করে। আমি যখন প্রথম সিনিয়র দলে যোগ দিই, তখন থেকে সে আমাকে সাহায‍্য করছে।   - লামিনে ইয়ামাল   পরিসংখ‍্যানের আলোয় রাফিনিয়া • ২০২৪-২৫ মৌসুমে চ‍্যাম্পিয়ন্স লিগে ২২ গোলে অবদান রাখেন রাফিনিয়া, স্পর্শ করেন ২০১৩-১৪ আসরে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর গড়া কীর্তি। ১৪ ম‍্যাচে ১৩টি গোল করেন রাফিনিয়া, অবদান রাখেন ৯ গোলে। সেই আসরে এই দুই তালিকার কোনোটিতেই তাকে পেছনে ফেলতে পারেননি কেউ।   • চলতি মৌসুমে রাফিনিয়া খেলেছেন এমন ৩১ ম‍্যাচের কেবল দুটিতে হেরেছে বার্সেলোনা। তাকে ছাড়া ১৭ ম‍্যাচের ছয়টিতে হেরেছে স্প‍্যানিশ চ‍্যাম্পিয়নরা। নিউক‍্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে চ‍্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ৭-২ ব‍্যবধানের স্মরণীয় জয়ে দুটি গোল করেন রাফিনিয়া, দুটি গোলের ভিত গড়ে দেন, একটি পেনাল্টি আদায় করেন এবং চমৎকার একটি ফ্রি কিক করেন, যা থেকে শেষ পর্যন্ত আসে আরেকটি গোল।   • দলে গোলের দায়িত্ব নেওয়া রাফিনিয়ার জন‍্য নতুন কিছু নয়। বার্সেলোনায় এসে আরও উন্নতি করার আগে ২০২১-২২ মৌসুমে ১১ গোল করে ছিলেন লিডসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এর আগে ২০১৯-২০ মৌসুমে ছিলেন রেনের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস‍্য।   বিশ্বকাপ মঞ্চে রাফিনিয়া   উত্তর আমেরিকা আসর দিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে খেলবেন রাফিনিয়া। দেশের হয়ে মাত্র ১১ ম‍্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে কাতার আসরে খেলেন তিনি। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্ব মঞ্চে শুরু হয় তার যাত্রা।   প্রথম ১১ ম‍্যাচে পাঁচ গোল করেন রাফিনিয়া, আরও অবদান রাখেন চারটিতে। নেইমার, ভিনিসিউস ও রিশার্লিসনের সঙ্গে গড়ে তোলেন দারুণ এক আক্রমণভাগ। দল অন্তঃপ্রাণ রাফিনিয়া বিশ্বকাপে সব ম‍্যাচেই ছিলেন শুরুর একাদশে।   ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে রাফিনিয়া ও ব্রাজিলের প্রত‍্যাশা   ভিনিসিউস জুনিয়রের মতো গত আসরের পর মাঠ ও মাঠের বাইরে কেবলই সামনে ছুটে চলেছেন রাফিনিয়া। বার্সেলোনার তৃতীয় অধিনায়ক তিনি।   এখন ব্রাজিল দলেও খুব গুরুত্বপূর্ণ রাফিনিয়া। বিভিন্ন পজিশনে তার খেলার সামর্থ‍্য কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশল সাজানোয় খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। হ‍্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে তার সেরে ওঠার জন‍্য অপেক্ষা আছেন ইতালিয়ান কোচ। তার আশা, ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণে দলকে সামনে থেকে পথ দেখাবেন রাফিনিয়া।   আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু হবে ব্রাজিলের। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় দলে ডাক পেয়ে উচ্ছ্বসিত অমিত

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকায় পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বাবর আজম

ছবি : সংগৃহীত

নতুন কুঁড়িতে অংশ নিয়ে ফেরার পথে দূর্ঘটনায় আহত সোহাদার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হকের সাথে আজ সচিবালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে বাংলাদেশে নারী ক্রীড়ার মানোন্নয়ন, যুব সমাজকে দক্ষ করে তোলা এবং দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া কূটনীতি শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক বলেন, ‘ক্রীড়া কূটনীতি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যে আমরা সম্প্রতি দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস কার্যক্রম শুরু করেছি। এই কার্যক্রমের আওতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের বাছাই করে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য বিকেএসপিতে পাঠানো হবে।’  প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্রীড়া ও যুব উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, খেলাধুলা সমাজে বৈষম্য দূরীকরণে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। আমাদের স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি নির্মাণে কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন। আমরা চাই ব্রিটিশ সরকারের কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড়রা আরও আধুনিক ও বিশ্বমানে নিজেদের পরিনত করার সুযোগ পাবে। সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক নারী ক্রীড়ার উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, নারী ক্রীড়ার উন্নয়নে যুক্তরাজ্য অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী। বিশেষ করে কমনওয়েলথ গেমসকে সামনে রেখে সাঁতার, বক্সিং ও মার্শাল আর্টের মতো খেলাধুলা নিয়ে যৌথভাবে আমরা কাজ করতে পারি। এছাড়া প্যারালিম্পিক গেমসে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আমরা সমাজের প্রতিটি স্তরে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে চাই, যা দুই দেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তান সিরিজে বিনামূল্যে খেলা দেখতে পারবে শিক্ষার্থী ও একাডেমির প্রশিক্ষণার্থীরা

ছবি : সংগৃহীত

আতলেতিকো ম্যাচের আগে স্বস্তির খবর, দুই তারকা ফিরে পেল আর্সেনাল

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাদার্সকে উড়িয়ে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস

0 Comments