খেলাধুলা

সর্বোচ্চ বয়স্ক ফুটবলারের ইতিহাস গড়বে ২০২৬ বিশ্বকাপ

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ইতোমধ্যে চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে প্রতিযোগী ৪৮টি দেশ। যেখানে ১২৪৮ ফুটবলার ডাক পেয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জনেরই বয়স ৪০ বছর বা তারও অধিক। যা ফিফার এই মেগা ইভেন্টের এক আসরে সর্বোচ্চসংখ্যক ৪০ বছর বয়সী খেলোয়াড় উপস্থিতির রেকর্ড। অথচ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৪০ বা এরবেশি বয়সী কেবল ৮ জন ফুটবলার বিশ্বকাপ খেলেছেন। 

 

১৯৩০ সাল থেকে ফুটবলভক্তদের বুঁদ করে আসছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২ আসরে সবমিলিয়ে কেবল ৮ ফুটবলারের বয়স ন্যূনতম ৪০ বছর ছিল। বিগত সকল আসরকে ছাড়িয়ে কেবল ২৩তম আসরেই ৮ জন ওই বয়সী ফুটবলার মাঠে নামবেন। যেখানে বয়সের দিক থেকে বাকিদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন।

এবারের বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া ৪০ বা এরবেশি বয়সী ৮ ফুটবলারের মধ্যে পাঁচজনই গোলরক্ষক– ক্রেইগ গর্ডন, গুইলার্মো ওচোয়া, ম্যানুয়েল নয়্যার, জোসিমার দিয়াজ ও ফার্নান্দো মুসলেরা। এর মধ্যে গর্ডন ও দিয়াজ দুজনেই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ খেলবেন। কিছুটা বিস্ময়কর হলেও মজার বিষয় হচ্ছে, স্কটিশ গোলরক্ষক প্রথম এই মেগা ইভেন্টে খেলার সুযোগ পেলেন ৪৩ বছর বয়সে। ১৯৯৮ আসরের পর তার দেশ এবারই বিশ্বকাপে ফিরেছে।

আসন্ন ২৩তম বিশ্বকাপ আসরের ‘সি’ গ্রুপে রয়েছে স্কটল্যান্ড, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, মরক্কো ও হাইতি। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচেই স্কটিশ গোলরক্ষক গর্ডন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মোকাবিলার সুযোগ পেতে পারেন। এই আসরের দ্বিতীয় বয়োজ্যষ্ঠ খেলোয়াড় পর্তুগিজ সুুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আসর খেলতে নামবেন, যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ আসরে নামার রেকর্ডও। 

রোনালদোর মতো মেক্সিকোর ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ওচোয়াও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলবেন এবার। বিশ্বকাপের বয়োজ্যষ্ঠ খেলোয়াড়দের মধ্যে কেবল লুকা মদ্রিচ (ইন্টার মিলান) ও ম্যানুয়েল নয়্যার (বায়ার্ন মিউনিখ) ইউরোপের শীর্ষ লিগে আছেন। 

 

২০২৬ বিশ্বকাপের বয়োজ্যষ্ঠ ফুটবলাররা

 

ক্রেগ গর্ডন (স্কটল্যান্ড) – ৪৩ বছর (জন্ম : ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৮২)
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল) – ৪১ বছর (জন্ম : ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫)
গুইলার্মো ওচোয়া (মেক্সিকো) – ৪০ বছর (জন্ম : ১৩ জুলাই, ১৯৮৫)
লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া) – ৪০ বছর (জন্ম : ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫)
এডিন ডিজেকো (বসনিয়া) – ৪০ বছর (জন্ম : ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫)
ম্যানুয়েল নয়্যার (জার্মানি) – ৪০ বছর (জন্ম : ২৭ মার্চ, ১৯৮৬)
জোসিমার দিয়াজ (কেপ ভার্দে) – ৪০ বছর (জন্ম : ৩ জুন, ১৯৮৬)
ফার্নান্দো মুসলেরা (উরুগুয়ে) – ৪০ বছর (জন্ম : ১৬ জুন, ১৯৮৬)

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ব্যালন ডি’অর। ছবি: গেটি ইমেজস
ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে সেরা দশে জায়গা পেলেন বিশ্বসেরা ১০ ফুটবলার

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের সেরা ১০-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। তালিকায় রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি, ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে, নরওয়ের আর্লিং হলান্ড, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, জর্জিয়ার খভিচা কাভারাস্কেলিয়া, ফ্রান্সের মাইকেল অলিসে এবং স্পেনের ফাবিয়ান রুইজ, রদ্রি ও লামিন ইয়ামাল।     সেরা দশের বাইরে ১১তম স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম। ১২তম স্থানে স্পেনের পাও কুবার্সি এবং ১৩তম স্থানে মরক্কোর আশরাফ হাকিমি। ১৪তম স্থানে পর্তুগালের ভিতিনিয়া এবং ১৫তম স্থানে ইংল্যান্ডের ডেকলান রাইস রয়েছেন।       তালিকায় ১৬তম স্থানে রয়েছেন স্পেনের ফেরান তোরেস। এরপর ১৭তম স্থানে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের পর ১৮তম স্থানে স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া, ১৯তম স্থানে পর্তুগালের জোয়াও নেভেস এবং ২০তম স্থানে ইকুয়েডরের উইলিয়ান পাচো রয়েছেন।     ২১তম স্থানে ব্রাজিলের গ্যাব্রিয়েল এবং ২২তম স্থানে আর্জেন্টিনার লাউতারো মার্তিনেজ রয়েছেন। ২৩তম স্থানে পর্তুগালের নুনো মেন্দেস, ২৪তম স্থানে কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজ এবং ২৫তম স্থানে ব্রাজিলের মারকিনিওস।       এ ছাড়া ২৬তম স্থানে জার্মানির ডায়ো উপামেকানো, ২৭তম স্থানে পর্তুগালের ব্রুনো ফার্নান্দেজ এবং ২৮তম স্থানে মেক্সিকোর হুলিয়ান কুইনোনেস রয়েছেন। তালিকায় ২৯তম স্থানে যৌথভাবে রয়েছেন সেনেগালের সাদিও মানে ও ফ্রান্সের উইলিয়াম সালিবা।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কিউইদের বিপক্ষে টেস্টের আগে বড় সুখবর পেল টিম ইন্ডিয়া

ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশকে হারিয়ে পুরস্কার পেতে চায় উইন্ডিজ

ম্যানইউর দুর্দশা কাটছেই না, বরখাস্তের শঙ্কায় ক্যারিক

ছবি: সংগৃহীত
তামিমের ফোন পেয়ে বাংলাদেশে চারু শর্মা, ডি থ্রি নিলাম পরিচালনায় উচ্ছ্বসিত

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলাম পরিচালনা করে পরিচিতি পাওয়া ভারতের চারু শর্মা এবার বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ডি থ্রি-এর নিলাম পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালের এক ফোনকলেই এ আয়োজনে অংশ নিতে বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।   গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে চারু শর্মা বলেন, তামিম তাঁকে ফোন করে ডি থ্রি টুর্নামেন্টের নিলামে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। শুরুতে ব্যস্ততার কথা জানালেও পরে বাংলাদেশে আসার বিষয়ে সম্মতি দেন তিনি।   বাংলাদেশে এসে ভালো লাগছে জানিয়ে চারু বলেন, দীর্ঘদিন পর এ দেশে ফিরে তাঁর নিজের বাড়িতে থাকার মতো অনুভূতি হচ্ছে। তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তামিম ইকবালের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   বাংলাদেশের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক বাংলাদেশে নিজের প্রথম সফরের কথা স্মরণ করতে গিয়ে চারু শর্মা বলেন, সম্ভবত ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সময় প্রথম এ দেশে এসেছিলেন তিনি। সে সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে আনন্দের স্মৃতি হয়ে আছে। তিনি জানান, ওই সফরে অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল। বাংলাদেশের ধারাভাষ্যকারদের মধ্যেও তাঁর বেশ কয়েকজন বন্ধু রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে আবার দেখা হওয়ার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত তিনি।   ডি থ্রি নিলাম নিয়ে সন্তুষ্টি ডি থ্রি টুর্নামেন্টের নিলাম আয়োজনের ধারণার প্রশংসা করেছেন চারু শর্মা। তাঁর মতে, নিলামের পদ্ধতিটি বুঝতে অংশগ্রহণকারীদের কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে আয়োজনকে আকর্ষণীয় রাখতে সময়ের ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নিলাম পরিচালনা তাঁর পছন্দের কাজগুলোর একটি। বিশেষ করে ডি থ্রি-তে যেভাবে নিলামের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা তাঁর ভালো লেগেছে। নিলামের ‘এ’ ক্যাটাগরিতে বেশ রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   তরুণ ক্রিকেটারদের বিকাশে ডি থ্রি গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে বিপিএলের পাশাপাশি ডি থ্রি টুর্নামেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরেন চারু শর্মা। তাঁর মতে, বিপিএল বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়াতে সহায়তা করে, আর ডি থ্রি তরুণ ক্রিকেটারদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, ভালো ক্রিকেটার তৈরি করতে হলে তাঁদের নিয়মিত ভালো খেলার সুযোগ দিতে হবে। ডি থ্রি-তে সব ফরম্যাটের ক্রিকেট আয়োজনের পরিকল্পনাকে দেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। টুর্নামেন্টটি কেবল শুরু হয়েছে উল্লেখ করে চারু বলেন, নিলামে আরও অনেক রোমাঞ্চকর মুহূর্ত বাকি রয়েছে। তাঁকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আবারও তামিম ইকবালকে ধন্যবাদ জানান এই নিলাম সঞ্চালক।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাফের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বাফুফেতে অসন্তোষ, মিডিয়া ম্যানেজারের ভূমিকায় আমের খান

ছবি: সংগৃহীত

এল ক্লাসিকোতে রেফারিং বিতর্ক, ভিএআরের ভূমিকা নিয়ে মরিনিওর ক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ইশান কিষাণকে পাচ্ছে না ভারত

প্রতি ক্রিকেটারের জন্য ২৫ হাজার ডলার চায় পিসিবি

নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অনাপত্তিপত্র বা এনওসি নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন টুর্নামেন্ট খেলার অপেক্ষায় থাকা দেশটির ক্রিকেটাররা। এমনকি আগে যাদের এনওসি দেওয়া হয়েছিল, তাদেরও আপাতত লিগে খেলার অনুমতি স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো।   এনপিএলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির বরাতে ক্রিকইনফো জানিয়েছে, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এনওসি দেওয়ার বিনিময়ে পিসিবি অর্থ দাবি করেছে বলে আলোচনা রয়েছে। প্রতিটি ক্রিকেটারের জন্য এই ফি প্রায় ২৫ হাজার মার্কিন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে লিগ কর্তৃপক্ষের কাছে এ ধরনের দাবি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি।   আট দলের এনপিএল শুরু হচ্ছে ২৬ অক্টোবর, চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো হবে নেপালের কাঠমান্ডুতে। পাকিস্তানের কয়েকজন ক্রিকেটার ইতোমধ্যে সেখানে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, যারা নেপালের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তারা পরিস্থিতির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত যাত্রা পিছিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।   এনওসি নিয়ে জটিলতার পেছনে সম্ভাব্য ফি-ই মূল কারণ কি না, কিংবা সত্যিই এমন ফি দাবি করা হয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি পিসিবি।   এনপিএলে খেলার কথা রয়েছে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাহেবজাদা ফারহান, হায়দার আলী, হুনাইন শাহ, হুসাইন তালাত, ইফতিখার আহমেদ, হাসান আলী ও উসামা মীরের।    চলতি বছরই কেন্দ্রীয় চুক্তির নতুন কাঠামো ঘোষণা করেছিল পিসিবি। সেখানে সাদা বল ও লাল বলের ক্রিকেটের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়। কাঠামোটিতে ‘ফরম্যাট ট্র্যাক ডি’ নামে একটি বিভাগও ছিল, যেখানে থাকা ক্রিকেটারদের টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিবেচনা করার কথা।   নীতিগতভাবে এই বিভাগের ক্রিকেটারদের যত খুশি টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু শর্ত হলো, এক্ষেত্রে সূচি পিসিবির নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না।   তবে নতুন কাঠামোয় কোন ক্রিকেটার কোন বিভাগে পড়ছেন, তা পিসিবি প্রকাশ্যে জানায়নি। এমনকি কাঠামোটি কার্যকর হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। এনপিএলে খেলতে যাওয়া ক্রিকেটারদের কেউই বর্তমানে পাকিস্তানের টেস্ট বা ওয়ানডে পরিকল্পনায় নেই। তারপরও তাদের নেপাল লিগে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কম্পানিকে ছাড়া প্রথম ম্যাচ জিতে শীর্ষে ফিরল বায়ার্ন

ছবি: সংগৃহীত

এমবাপ্পের জোড়া গোলে এল ক্ল্যাসিকোতে রিয়ালের দাপুটে জয়

ছবি: সংগৃহীত

কমনওয়েলথ কাবাডিতে অম্লমধুর দিন বাংলাদেশের

0 Comments