খেলাধুলা

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই: দেশম

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সফল ব্যক্তিত্ব দিদিয়ের দেশম। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে এবং কোচ হিসেবে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়া এই ফরাসি কিংবদন্তি এবারও দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বকাপ মিশনে। তবে অতীতের সাফল্য নয়, তার মনোযোগ এখন পুরোপুরি বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে।

 

ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশম বলেন, ‘আমি কেবল বর্তমান আর ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবি। আমার স্বভাবটাই এমন। সত্যি বলতে, এছাড়া অন্য কিছু আমার কাছে কোনো গুরুত্ব পায় না। সামনের দিনগুলোতে কী অপেক্ষা করছে, আমি শুধু সেটা নিয়েই ভাবছি।’

বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও সাফল্যে ভরা ক্যারিয়ার দেশমের। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিভিন্ন লিগ শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও বিশ্বকাপকে তিনি অন্য যেকোনো অর্জনের চেয়ে বেশি মর্যাদা দেন।

এ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘ক্লাব পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অনেক ট্রফি জেতার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে আনন্দের আর কিছুই হতে পারে না। এই গৌরব অর্জনের পর আপনার নাম আগের মতোই থাকবে, কিন্তু নামের পাশে চিরদিনের জন্য যুক্ত হয়ে যাবে দুটি শব্দ, ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’।’

১৯৯৮ সালে অধিনায়ক এবং ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হলেও সেগুলোকে পেছনে ফেলেই এগোতে চান দেশম। তার মতে, অতীতের অর্জন যত বড়ই হোক, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ এবং ২০১৮ সালে যা ঘটেছিল তা আজীবন আমার স্মৃতিতে অমলিন থাকবে, তবে অতীতকে কখনো পরিবর্তন করা যায় না। এখন আমরা সামনে কী করছি, সেটাই আসল কথা। ১৯৯৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আমার দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছিল, কিন্তু দুটি গৌরবময় মুহূর্তেই আমি দলের সাথে ছিলাম। দুটি অভিজ্ঞতাই ছিল এককথায় জাদুকরী।’

আসন্ন বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে দেখছেন দেশম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে সমর্থকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘আমরা প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছি কারণ আমাদের কাছে ফল আছে। আমরা ২০১৮ সালে শিরোপা জিতেছি এবং ২০২২ সালে ফাইনাল খেলেছি। এ কারণে দর্শক সমর্থকরা আমাদের থেকে উচুঁমানের পারফরম্যান্সেরই প্রতাশ্যা কারে। আমরা সেই ১০-১২টি দেশের মধ্যে একটি যারা শিরোপার দাবিদার এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল। তবে এই লড়াইয়ে একটি দলই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। বাকিরা হতাশ হয়ে ফেরে।’

গত আসরের রানার্সআপ ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৭ জুন সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। গ্রুপ পর্বে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ইরাক ও নরওয়ে। কিলিয়ান এমবাপ্পেদের সামনে তাই শুরু থেকেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
এশিয়ান গেমস শেষ, ১৬৯ স্বর্ণ নিয়ে শীর্ষে চীন

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত ২০তম এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। এবারের আসরে ১৬৯টি স্বর্ণসহ মোট ৩৪১টি পদক জিতে পদক তালিকার শীর্ষে রয়েছে চীন। বাংলাদেশের অবস্থান ৩৭তম।   আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ৪৫টি দেশ ও একটি শরণার্থী দল অংশ নেয়। বাংলাদেশের ঝুলিতে এসেছে একটি ব্রোঞ্জ পদক। উশুর ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে জিন্নাত আক্তার এ পদক এনে দেন দেশকে।   বাংলাদেশের মতো একটি করে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে ব্রুনাই, লাওস ও সিরিয়াও। তবে ইংরেজি বর্ণানুক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশ এগিয়ে থাকায় পদক তালিকায় ৩৭তম অবস্থানে রয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ কোনো পদক জিততে পারেনি।   সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদরা। বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন লিটন দাস। মার্চ পাস্টের পর পরবর্তী এশিয়ান গেমসের আয়োজক দেশ হিসেবে কাতারের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে মশাল নিভিয়ে এবারের আসরের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।   এবারের গেমসে বাংলাদেশ ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়। ক্রিকেট, কাবাডি, আর্চারি ও শুটিংয়ে পদকের প্রত্যাশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত উশু থেকেই এসেছে একমাত্র সাফল্য।   উশুর ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে জিন্নাত আক্তারকে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে হয়নি। নির্ধারিত প্রতিপক্ষের ওজন বেশি হওয়ায় সরাসরি সেমিফাইনালে উঠে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন তিনি।   এর মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমসের একক ইভেন্টে দীর্ঘ ৪০ বছর পর পদক জিতল বাংলাদেশ।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বসনিয়ার কাছে হারের পর মাসের পর মাস ঘুমাতে কষ্ট হয়েছে গাত্তুসোর

ছবি: সংগৃহীত

মেসির আর্মব্যান্ডে হাতছানি দিচ্ছে নতুন ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনা দলের ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোকে ঘিরে তৈরি হলো নতুন আলোচনা

ছোট বোন রাফায়েলার সঙ্গে নেইমার। ছবি: ইন্সটাগ্রাম
১১ মার্চ এলেই ফুটবল মাঠের বাইরে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার

১১ মার্চ এলেই যেন ফুটবল মাঠ থেকে দূরে থাকেন নেইমার!      কখনো চোট, কখনো নিষেধাজ্ঞা—কারণ বদলেছে, বদলায়নি তারিখটি। আরো বিস্ময়কর বিষয়, ১১ মার্চ নেইমারের বোন রাফায়েলার জন্মদিন।       গত এক দশকে বারবার এমন কাকতালীয় ঘটনা ঘটায় নেইমারকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য।      ২০১৫ ও ২০১৬ সালে নিষেধাজ্ঞার কারণে ১১ মার্চ মাঠে নামতে পারেননি নেইমার। এরপর ২০১৭ ও ২০১৮ সালে চোট তাকে আটকে দেয়।       ২০২০ ও ২০২১ সালেও একই কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।     ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫—টানা তিন বছরও ১১ মার্চ নেইমারের নাম ছিল না ম্যাচের একাদশে। চোটই ছিল কারণ।     ২০২৬ সালেও ব্যতিক্রম হয়নি। এ বছরের ১১ মার্চ অবশ্য চোট নয়, নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারেননি নেইমার।       অর্থাৎ ২০১৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মোট ১০ বার ১১ মার্চ নেইমারের দলের ম্যাচ থাকলেও তিনি খেলেননি। একই তারিখে বারবার এমন ঘটনা ঘটায় বিষয়টিকে ফুটবলপ্রেমীরা এখন আর নিছক কাকতালীয় মনে করেন না।        যদিও এর সঙ্গে নেইমারের বোন রাফায়েলার জন্মদিনের যোগসূত্র আছে—এমন প্রমাণও নেই। ১১ মার্চ মাঠে না থাকার কারণগুলোও প্রতিবার ছিল ভিন্ন। কখনো শাস্তি, কখনো চোট।     তাই এটি ফুটবলের এক অদ্ভুত ঘটনা হিসেবেই দেখার সুযোগ বেশি।     তবে নেইমারের ক্যারিয়ারে ১১ মার্চ যে বিশেষ এক তারিখ হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। বোনের জন্মদিনে মাঠে না থাকার এই অদ্ভুত ধারাই ব্রাজিলিয়ান তারকাবে ঘিরে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।       ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্ব থেকে বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন নেইমার। বর্তমানে খেলছেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর ক্লাবটির সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ ফুরাবে।  

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচ স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত

কুশল মেন্ডিসের নেতৃত্বে ত্রিদেশীয় সিরিজের লঙ্কান দল ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

সিটির অনিশ্চয়তায় দোন্নারুম্মাকে নিয়ে জুভেন্টাস-ইন্টারের আগ্রহ

ছবি: সংগৃহীত
ফুটবলে ১৬ দিনের আন্তর্জাতিক বিরতি নিয়ে কোচদের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ফুটবলের নতুন সূচিতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের বিরতি একসঙ্গে করে ১৬ দিনের উইন্ডো রাখায় জাতীয় দলের কোচদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাড়তি এই সময় কীভাবে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যাবে, সেটিই এখন কোচদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   নতুন সূচিতে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতির অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের কোচদের জন্যও নতুন। জার্মানির নতুন কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ এই বিরতিতে দুটি আলাদা দলে মোট ৪৪ জন খেলোয়াড়কে জাতীয় দলে ডেকেছেন। তবে এখন পর্যন্ত দলটির পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি।   ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলও নতুন আন্তর্জাতিক সূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, জাতীয় দল ও ক্লাব ফুটবলের অনুশীলন পদ্ধতি, কাজের ধরন এবং খেলার কৌশলে স্বাভাবিকভাবেই পার্থক্য রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির এই কাঠামো সেই পার্থক্যজনিত ঝুঁকি কমানোর পরিবর্তে বাড়িয়ে দিতে পারে।   স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও নতুন সূচি নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, আগের সূচিতে খেলোয়াড়দের বিশ্রামের সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল এবং সেটি খেলোয়াড়দের শারীরিক সুস্থতার জন্যও বেশি উপযোগী ছিল।   তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্য তিনটি উইন্ডো—নভেম্বর, মার্চ ও জুন—আগের মতোই নয় দিনের থাকবে। প্রতিটি বিরতিতে জাতীয় দলগুলো দুটি করে ম্যাচ খেলবে।   ফিফার নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের আন্তর্জাতিক সূচি একত্র করে ১৬ দিনের একটি উইন্ডো রাখা হয়েছে। আগামী চার বছর, অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই কাঠামো কার্যকর থাকার কথা রয়েছে।   নতুন সূচিতে দীর্ঘ বিরতির পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ক্লাব থেকে জাতীয় দলে যোগ দেওয়া, অনুশীলনের পরিকল্পনা এবং ম্যাচের আগে দলীয় সমন্বয় ধরে রাখাও কোচদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৪-০ গোলে হার, তবু ভারতের খেলায় মুগ্ধ দর্শকরা

ছবি: সংগৃহীত

রিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে চোটের ধাক্কা রোমায়

ছবি: সংগৃহীত

ওকাফোরের হ্যাটট্রিকেও জয় পেল না সিটি ক্লাব

0 Comments