এফএ কাপে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে আর্সেনাল। তবে ব্রাইটনের কাছে হেরে আসর থেকে ছিটকে গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। রোববার (১১ জানুয়ারি) আলাদা আলাদা ম্যাচে মাঠে নামে দু'দল।
তৃতীয় রাউন্ডের এই ম্যাচে আর্সেনালের হয়ে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য পিছিয়ে পরে আর্সেনাল। তবে গানাররা সমতায় ফেরে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে। এরপরই শুরু মার্তেনেল্লি শো।
ম্যাচের ২৫তম মিনিটে দলকে লিড এনে দেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে আর্সেনাল। পেনাল্টি পেয়েও লক্ষ্যভ্রস্ট শট নেন ইংলিশ উইঙ্গার ননি মাদুয়েকে।
বিরতির পর যথাক্রমে ৫১ ও ৭২তম মিনিটে আরও দুই গোল করে আর্সেনালের জার্সিতে প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মার্তিনেল্লি। সেই সাথে নিশ্চিত হয় পোর্টসমাউথের বিপক্ষে দলের ৪-১ গোলের বড় জয়।
অপরদিকে, ব্রাইটনের কাছে ২-১ গোলে হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এদিন ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে রেড ডেভিলরা। তবে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে ১২ মিনিটে গুর্দার গোলে এগিয়ে যায় ব্রাইটন। প্রথমার্ধে আরও একটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করলেও ১-০ গোলের লিডে থকেই বিরতিতে যায় দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্লেচারের শিষ্যরা। তবে, ৬৪ মিনিটে উল্টো আরও একটি গোল হজম করে বসে ওল্ড ট্রাফোর্ডের দলটি। এবার স্কোর শিটে নাম লেখান ওয়েলবেক। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে সেসকো একটি গোল পরিশোধ করলেও শেষ পর্যন্ত হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ম্যান ইউনাইটেডকে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ-এ'র ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যে প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্যভাবে। শুরু থেকেই বল দখলে এগিয়ে ছিল কোরিয়া। ৬ মিনিটে লি কাং-ইনের দারুণ ক্রসফিল্ড পাস থেকে আক্রমণ গড়লেও চেক প্রজাতন্ত্রের রক্ষণ তা সামলে দেয়। ওদিকে চেকরা শুরু থেকেই দ্রুত লং বল ও শারীরিক ফুটবল দিয়ে চাপ তৈরি করে। ম্যাচের সেরা সুযোগটা নষ্ট করেন লি জে-সাং। লি কাং-ইনের পাসে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বাজে ফার্স্ট টাচে সুযোগ হারান তিনি। ফিরতি সুযোগে সন হিউং-মিনের শটও ব্লক করে চেক রক্ষণ। এরপর ২০ মিনিটে প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে শট নেন লি কাং-ইন। তবে দারুণ রিফ্লেক্স সেভে সেই শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক কোভার। ৩৭ ও ৩৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুটো শট নেন সন হিউং-মিন। দুটোই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এই ম্যাচে একটি মজার ঘটনাও ঘটে। খেলার শুরুতে কোরিয়ার একজন ডিফেন্ডারের আলতো টানেই ছিঁড়ে যায় পাভেল শুলৎসের জার্সি। জার্সি বদলাতে কিছু সময়ের জন্য খেলা থামাতে হয় রেফারিকে। প্রথমার্ধে কমপক্ষে দুটি পরিষ্কার সুযোগ নষ্ট করেছে কোরিয়া। চেক প্রজাতন্ত্রর শারীরিক ফুটবলের সামনে তারা এখনো ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে না। দ্বিতীয়ার্ধে কোরিয়াকে আরও সংগঠিত হয়ে মাঠে নামতে হবে।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার ৮ উইকেটের ৬টিই শিকার করেছেন দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম ওয়ানডেতে তিন পেসারের উইকেট ছিল ৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ যে সংস্করণেই খেলুক না কেন, সেখানেই থাকে পেসারদের দাপট। এমন ধারাবাহিক দাপটে তাসকিনের বিশ্বাস, বিশ্বের সেরা তিন পেস বোলিং আক্রমণের একটি বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। বরাবরের মতো এই ম্যাচেও পেসারদের হাত ধরে আসে ভালো শুরু। প্রতি ম্যাচেই পেসারদের এমন পারফরম্যান্স বারবারই প্রতিপক্ষকে বাধ্য করেছে বাংলাদেশের পেস বোলিং নিয়ে কথা বলতে। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা প্রতিটি ম্যাচের পরই প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন বাংলাদেশি পেসারদের। তাসকিনের মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত করার সুযোগ হয়তো থাকবে সামান্যই, “আমার বিশ্বাস সেরা তিনের থাকার মতো আমরা (ভালো) করছি।” তার বিশ্বাস প্রতিপক্ষ দলগুলিও এখন নিজেদের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে পেস উইকেট বানাতে খানিকটা হলেও ভাববে, “কিছুটা হলেও হয়তো চিন্তা করবে সিমিং উইকেট বানাতে।” এক সময় বিদেশের মাঠে বাংলাদেশের জন্য থাকত পেস উইকেটই। তবে উইকেট যেমনই হোক, ধারাবাহিকতা আর ছন্দ ধরে রাখলে মানিয়ে নিতে কোন অসুবিধা থাকবে না বলে তাসকিনের বিশ্বাস। “এটা বলতে পারছি না যে কন্ডিশনে যাব, তখন কে কেমন কন্ডিশন বানায়। কিন্তু আমাদের গ্রুপে ওই বৈচিত্র্যটা আছে। যেমনই কন্ডিশন হোক, মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা আছে। আল্লাহ যাতে সবাইরে সুস্থ রাখে, সবার ছন্দ ভালো থাকলে ভালো করা যাবে।” ক্ষুরধার এই পেস আক্রমণে তাসকিনের প্রধান সঙ্গী মুস্তাফিজুর রহমান। তার মতো নতুন বলে সাফল্য পেয়েছেন এই বাঁহাতি পেসারও। এই ম্যাচে তার তিন উইকেটই পেয়েছেন নতুন বলে। ক্যারিয়ারজুড়ে যে কাজটি করতে পেরেছেন তিনি কমই। সাধারণত নতুন বলে তাকে খুব বেশি ব্যবহার করে না বাংলাদেশ। তবে অভিজ্ঞতা দিয়েই তিনি এখন সব চ্যালেঞ্জের দাবি মেটাতে পারেন বলে মনে করেন তাসকিন। “(মুস্তাফিজ) ফিজ তো সবসময়ই ‘চিল গাই’। আসলে অভিজ্ঞতা যে ভূমিকা রাখে সেটা ওর বোলিং দেখলে বোঝা যায়। যখন দলের প্রয়োজনে নতুন বলে আসে তার সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করে।” “সে দারুণ বোলার। আমাদের জন্য দারুণ সম্পদ। ও চাইলে সব জায়গায় ও কন্ডিশনে বল করতে পারে।” এ দিন প্রথম ওভারে তাসকিনের উইকেটের পর দ্বিতীয় ওভারে মুস্তাফিজ জোড়া ধাক্কায় টালমাটাল করে দেন অস্ট্রেলিয়াকে। রানের খাতা খোলার আগেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। মুস্তাফিজের সঙ্গে নতুন বলের জুটি সব সময়ই উপভোগ্য তাসকিনের কাছে। “যে যখন খেলছে বা বল করছে, সবাই তো ভালো করছে। এটাই আসলে একটা ভালো পেস বোলিং গ্রুপের লক্ষণ। ফিজের সাথে বল করতে তো সবসময় উপভোগ করি। শুধু আমি নই, সবাই।” এই পেস আক্রমণের নবীনতম সদস্যকে নিয়েই অবশ্য এখন তোলপাড় তুলনামূলকভাবে বেশি। শুধু বাংলাদেশে নয়, নাহিদ রানা আলোড়ন তুলেছেন গোটা ক্রিকেট বিশ্বেই। তরুণ সতীর্থের সেই সাফল্য আনন্দ দেয় তাসকিনকেও। “এটা ভালো অনুভূতি। কারণ আমাদের পেস বোলিং ইউনিটেরই সবার নাম। সবার সব সময় এক যায় না। ঘুরেফিরে কেউ না কেউ নেতৃত্ব দিচ্ছে। সবারই অবদান থাকছে। সেটা উন্নতি করছে। এটা একটা ভালো অনুভূতি।” “আল্লাহ যাতে ওকে (নাহিদ) আরও সাফল্য দেয়। আমাদের পেস বোলিংটাকে উপরে নিয়ে যায়।” নাহিদের গতিময় বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের খাবি দেখেও দারুণ উপভোগ করেছেন তাসকিন। “সে ভালো সম্ভাবনাময় এবং সুন্দর পাওয়া আমাদের দল এবং দেশের জন্য। রানার মতো একটা এক্সপ্রেস বোলার পেয়েছি। ওর বল খেলতে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরাও মিডল অর্ডারে ভয় পাচ্ছিল আসলে। এটা দারুণ অনুভূতি। বোলিং ইউনিট হিসেবে সবাই মিলে উন্নতি করছি, এটা সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা।” যার নামই বেশি উচ্চারিত হোক, পুরো বিশ্ব বাংলাদেশের পেস বোলিং নিয়ে কথা বলছে, এটাকেই বড় পাওয়া মনে করেন তাসকিন। “একটা সময়ে গিয়ে তো আমরা কেউ খেলব না। এটাই পাওয়া, এ রকম পেস বোলিং ইউনিট হয়েছে। এটা যাতে ভবিষ্যতে আমরা ওপরের দিকে নিয়ে যেতে পারি।” “বিশ্ব কথা বলছে আমাদের পেস বোলিং গ্রুপ নিয়ে, এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।”
অপেক্ষার প্রহর শেষ করে মেক্সিকো সিটিতে পর্দা উঠেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। আর বিশ্বমঞ্চের এই মহারণ শুরু হতে না হতেই দেখা মিলল কাঙ্ক্ষিত গোলের। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার জালে বল জড়িয়ে মেক্সিকোকে উল্লাসে ভাসিয়েছেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। তবে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপের এবারের আসরের প্রথম গোলটি যিনি করলেন, জন্মসূত্রে তিনি মেক্সিকান নন; বরং এক ‘প্রবাসী’! ম্যাচের তখন মাত্র ৯ মিনিট পেরিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বক্সের ঠিক সামনে প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করে বল কেড়ে নেন মেক্সিকোর লিরা। এরপর দারুণ দক্ষতায় বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুর্দান্ত এক শটে প্রোটিয়া গোলরক্ষক উইলিয়ামসের দুই পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান কিনিয়োনেস । আর তাতেই ১-০ গোলের লিড পায় স্বাগতিকরা, ২০২৬ বিশ্বকাপ পেয়ে যায় টুর্নামেন্টের প্রথম গোলের দেখা। তবে মেক্সিকোর জার্সিতে ইতিহাস গড়া এই উইঙ্গারের নেপথ্যের গল্পটা আরও বেশি আকর্ষণীয়। কিনোনেস আদতে কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত। ২০১৬ সাল থেকে মেক্সিকোতে পেশাদার ক্লাব ফুটবল খেললেও, একসময় গায়ে জড়িয়েছিলেন কলম্বিয়ার বয়সভিত্তিক দলের জার্সি। তবে মেক্সিকোর হয়ে খেলার স্বপ্ন নিয়ে তিনি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। ভিনদেশি খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে নেওয়া নিয়ে একসময় মেক্সিকান ফুটবলে বেশ বিতর্ক ছিল। তবে মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল—যাঁদের মেক্সিকান জাতীয়তা, ফুটবলীয় দক্ষতা ও দেশের হয়ে খেলার সদিচ্ছা আছে, তাদের ‘প্রথম’ বা ‘দ্বিতীয়’ শ্রেণির মেক্সিকান হিসেবে ভেদাভেদ করা হবে না। ফেডারেশনের সেই আস্থারই যেন চূড়ান্ত প্রতিদান দিলেন কিনিয়োনেস। যে দেশের আলো-বাতাসে তাঁর পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের বিকাশ, বিশ্বমঞ্চের প্রথম দিনেই সেই মেক্সিকোকে এনে দিলেন অবিস্মরণীয় এক মুহূর্ত। প্রবাসীর পা থেকেই লেখা হলো এবারের বিশ্বকাপের প্রথম গোলের ইতিহাস। শুধু তা–ই নয়, কনক্যাকাফ অঞ্চলের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে প্রথম গোল করলেন তিনি।