সারাদেশ

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় দুই আনসার সদস্য আটক

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১২, ২০২৬

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে জেলা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজস্ব ব্যাটারিচালিত ভ্যানে স্ত্রীকে নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নানার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছাতে রাত ১টা বাজে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তারা জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্য তাদের পরিচয় নিয়ে দোতলায় বসতে বলেন। পরে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালের দোতলায় যান।

 

রাত আনুমানিক ৪টার দিকে দুই আনসার সদস্য তাদের কাছে এসে বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর স্বামীকে নিচতলায় নিয়ে যান এবং সেখানে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন এক আনসার সদস্য বলেন, তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে তথ্য যাচাই করে আসবেন। এ কথা বলে এক আনসার সদস্য ভুক্তভোগীর স্ত্রীর কাছে যান, অন্যজন স্বামীকে সঙ্গে রাখেন।

কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে ওই আনসার সদস্য জানান, স্বামী মিথ্যা কথা বলেছেন। এরপর অপর আনসার সদস্যও ভুক্তভোগীর স্ত্রীর কাছে যান। কিছু সময় পর ফিরে এসে তিনি বলেন, তারা রাতে কিছু খাননি, খাবার কিনে স্ত্রীর কাছে যেতে বলেন এবং সকালে চলে যেতে বলেন।

পরে ভুক্তভোগীর স্বামী খাবার কিনে স্ত্রীর কাছে গেলে স্ত্রী তাকে দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। স্ত্রীকে খুব চিন্তিত মনে হওয়ায় তিনি আর কিছু না ভেবে আনসার সদস্যদের জানিয়ে স্ত্রীকে ভ্যানে নিয়ে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চলে যান। সেখানে স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে তাকে জানান, দুই আনসার সদস্য জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেছেন।

ঘটনাটি জানার পরপরই তিনি স্ত্রীকে নিয়ে সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানার পর সদর উপজেলার আনসার অফিসারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন জানান, বিষয়টি জানার পর হাসপাতালে দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যকে ডেকে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের আটক করে। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুয়েল হোসেন নিরবকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রহমান শাহেদকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।   মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী।   গ্রেপ্তার আব্দুর রহমান শাহেদ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর এলাকার ফিরোজ আলমের ছেলে। তিনি দালালবাজার ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক।   অন্যদিকে হামলার শিকার জুয়েল হোসেন নিরব লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি। তিনি সাহাপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে।   মামলার এজাহার অনুযায়ী, একটি মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে জুয়েল ও শাহেদসহ কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।   এ ঘটনার জেরে রোববার রাতে সাহাপুর এলাকায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকের সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জুয়েলের ওপর হামলা চালান এবং তাকে মারধর করেন।   আহত অবস্থায় ওই রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসা নিতে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান জুয়েল।   এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জুয়েল চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর শাহেদের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি আবারও তার ওপর হামলা চালান।   এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি জরুরি বিভাগে থাকা কাঠের চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। হামলাকারীরা হাসপাতালের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   পরে আহত জুয়েলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।   এ ঘটনায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে জুয়েলের বাবা মো. শাহজাহান বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় মামলা করেন।   মামলায় আব্দুর রহমান শাহেদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।   হামলার অভিযোগ ওঠার পর একই দিন সন্ধ্যায় শাহেদকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।   অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, মামলার প্রধান অভিযুক্ত আব্দুর রহমান শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ছবি: সংগৃহীত

চুল কাটার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সেলুন ব্যবসায়ীকে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরায় চড়া মাছ-মাংসের দাম, পুষ্টিকর খাবার কমাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
ছাত্রীদের নিরাপত্তায় বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে সিসিটিভি বসাচ্ছে রংপুর সিটি করপোরেশন

ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং সড়কে অপরাধ কমানোর লক্ষ্যে নগরীর বিদ্যালয়গুলোর সামনের সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করছে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক)। ইতোমধ্যে নগরীর প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনের সড়ক ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনেও ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।   মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রংপুরের আরডিআরএস হলরুমে ‘লিঙ্গভিত্তিক গতানুগতিক ধারণা ও বৈষম্য দূরীকরণ’ শীর্ষক আলোচনা ও নেটওয়ার্কিং সভায় এ তথ্য জানান রসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন।   তিনি বলেন, নারীদের ভয় কাটিয়ে নিজেদের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজে বিদ্যমান বাধাগুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে তা মোকাবিলায় কাজ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে তরুণদের সম্পৃক্ত করে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে সিটি করপোরেশনের।   নিরাপদ চলাচল ও অপরাধ প্রতিরোধে নজরদারি রসিকের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় ছাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে হয়রানি ও অন্যান্য অপরাধের ঘটনা পর্যবেক্ষণ এবং ঘটনার পর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে সিসিটিভি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   সভায় রূপান্তরের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শাহরিয়ার রহমান নাফিজের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের কর্মকর্তা হ্যারি মরিল, সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জিলুফা সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত চন্দ্র রায়, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা মাহিন রেজা চৌধুরী এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের কর্মকর্তা পল্লব কান্তি রায়সহ অন্যরা।   ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত সভায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা এবং নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।   প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহযোগিতায় রূপান্তর ও জাগো ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সভায় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, যুব সংগঠক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা সেতুর পাশে নদীতে নিখোঁজ দুই জনের একজনের মরদেহ উদ্ধার, অপরজনের সন্ধানে অভিযান

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশের ভেন্যু নিয়ে জটিলতা, জিলা স্কুল মাঠ ছাড়তে নারাজ আয়োজকরা

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে উদ্ধার হওয়া ১০৭টি চুরি যাওয়া মোবাইল মালিকদের ফেরত দিল ডিবি

ছবি: সংগৃহীত
মাটি খুঁড়লেই মিলছে গুপ্তধন, কোটি টাকার প্রত্নসম্পদ পাচার হচ্ছে বিদেশে

মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজার বছরের অমূল্য প্রত্নসম্পদ বেচেই উত্তরবঙ্গে চলছে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার উন্মাদনা। একদিকে প্রাচীন দুষ্প্রাপ্য কালো পাথর বা কষ্টিপাথরের মূর্তি, অন্যদিকে ভূগর্ভ থেকে তোলা চোখধাঁধানো বহুমূল্য রঙিন পাথর পাচার করছে চোরাচালানিরা। এই রঙিন পাথর ‘দানা’ নামে পরিচিত। নওগাঁর প্রত্যন্ত নদীর তীর থেকে শুরু করে বগুড়ার প্রাচীন মহাস্থানগড়, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকার অভিজাত গুলশান হয়ে আকাশপথে চলে যাচ্ছে ব্যাংকক, বেইজিং কিংবা ভারতের জাবালপুর ও দিল্লির বাজারে।   অনুসন্ধানে জানা যায়, নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুরের টেকঠা এলাকায় পুনর্ভবা নদীর তীরবর্তী প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে চলছে বেপরোয়া মাটি খোঁড়াখুঁড়ি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শেরশাহ ও সুজাউদ্দীন আমলের ঐতিহাসিক বাণিজ্যকেন্দ্র ও প্রাচীন কালীমন্দিরকেন্দ্রিক জনপদ ছিল এই নদী অববাহিকায়। শত শত বছর আগের দেশভাগ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভূগর্ভে চাপা পড়ে রয়েছে বিপুল প্রত্নসম্পদ। কয়েক বছর আগে টেকঠা ভিটায় মাটি কাটতে গিয়ে কিছু অমূল্য প্রত্ননিদর্শনের সন্ধান মিললে শুরু হয় খননযজ্ঞ। প্রতিদিন দলে দলে কিছু মানুষ কোদাল, শাবল হাতে চার-পাঁচ ফুট মাটি খুঁড়ে প্রাচীন স্বর্ণমুদ্রা, রুপার অলঙ্কার, বিভিন্ন রঙের চকচকে পাথর এবং কষ্টিপাথরের দুর্লভ মূর্তির খোঁজ করছে। মাত্র ১০ গ্রাম ওজনের একটি বিশেষ পাথর পেলেই অনেক সময় মিলছে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। পার্শ্ববর্তী গ্রাম বিষ্ণুপুর থেকে আসা মনিরুল ইসলাম জানান, তারা সাত-আটজন তিন দিন ধরে মাটি খুঁড়ে জালি বল বা দানা পায়। সেটি জামিরুল নামে একজনের কাছে এক লাখ ষাট হাজার টাকায় বিক্রি করেন। নিতপুর এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য গামা জানান, প্রত্নসম্পদ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। চোরাচালান সিন্ডিকেটসহ প্রত্ন আহরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।   ‘দানা’ পাচারে দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে চক্র অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, মূল্যবান ‘দানা’ এবং আস্ত ‘কষ্টিপাথরের মূর্তি’ এই দুইয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পৃথক দুই সিন্ডিকেট। দানার সিন্ডিকেট চালাচ্ছে নওগাঁর নিতপুরের নুরুল হুদার দুই ছেলে আমিরুল ও জামিরুল। তারা নামমাত্র মূল্যে মূল্যবান দানা সংগ্রহ করে পাচার করেন। তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক মাঠপর্যায় পরিচালনা করেন আতাউর রহমান মিশু, মোসাদ্দেক ও আতাবুল।   সংগৃহীত এসব দুষ্প্রাপ্য দানা তুলে দেওয়া হয় বগুড়ার নন্দীগ্রামের কীটনাশক ব্যবসায়ী সবুজের হাতে। এই সবুজ ঢাকার শীর্ষ ক্রেতা এবং সরাসরি বিদেশি বায়ারদের হাতে দানাগুলো পৌঁছে দেয়।   মহাস্থানগড় ঘিরে পাচার সিন্ডিকেট দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট বগুড়ার প্রাচীন মহাস্থানগড়ের সুবিশাল এলাকা থেকে প্রায়ই তোলা হচ্ছে অমূল্য সব কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ নানা প্রত্ননিদর্শন। মহাস্থানগড় এলাকার মূর্তি বাণিজ্যের অন্যতম নিয়ন্ত্রক সুজন, ধলু, রফিক (বর্তমানে জেলে আছেন) এবং এক সময় হাটে সবজি বেচা আলোচিত জহুরুল। তাদের সঙ্গে সক্রিয় সিংড়া এলাকার কালীগঞ্জের পওতা গ্রামের সাইদুর, একই উপজেলার থাওল গ্রামের মহসিন এবং শেরপুরের ফারুক, সুলতান ও গোপী ঘোষ। অন্যদিকে নাটোরের সিংড়ার চিহ্নিত মূর্তি ব্যবসায়ী মহসিন, তার ছেলে আবু সাঈদ, সাঈদুল এবং পাটুল এলাকার মামুন তৃণমূল থেকে কষ্টিপাথর সংগ্রহ করেন। একই চেইনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সিরাজগঞ্জের স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট।   গুলশান থেকে বিদেশে পাচার প্রত্নরত্ন সারা দেশ থেকে সংগৃহীত কষ্টিপাথর, দানা ও প্রাচীন মূর্তি চলে যায় রাজধানীর গুলশান-২ ডিসিসি মার্কেটকেন্দ্রিক শীর্ষ মাফিয়া জাকিরের হাতে। সিন্ডিকেটে যুক্ত আছে জাকিরের ছেলে সুমন, সিরাজের ছেলে সমসের ও মামুন, আবুল ও তার ছেলে ফ্রান্সপ্রবাসী জিতু, জলিলের মেয়ে নাসরিন, নান্নুসহ অনেকে। এই চক্রের অন্যতম শীর্ষ সদস্য জাফর প্রত্নসম্পদ পাচার করতে গিয়ে ভারতে দীর্ঘদিন জেল খেটেছিল। বর্তমানে সে বিদেশিদের টার্গেট করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে একটি পুরাতন কাসার দোকান খুলেছে। জেল থেকে বের হয়ে সে আবারও জড়িয়ে পড়েছে একই কারবারে। বিদেশি বায়াররা বারিধারার স্যুট প্যালেসসহ অভিজাত হোটেলে থেকে লেনদেন চূড়ান্ত করে। এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক একেএম সাইফুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রত্ননিদর্শনগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। ভূগর্ভে পাওয়া যে কোনো ঐতিহাসিক প্রত্নবস্তুর একমাত্র মালিক রাষ্ট্র। সাধারণ নাগরিকরা কোনো নিদর্শন খুঁজে পেলে তা ব্যক্তিগতভাবে কেনাবেচা বা নিজের কাছে কুক্ষিগত করে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুপুরেই তালাবন্ধ প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ইউএনও

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে অভিযান: ৪ তলা রিসোর্টসহ ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদ

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিক কম্পোজিট (তৈরি পোশাক) কারখানা

শ্রমিক অসন্তোষের মুখে গাজীপুরের পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

0 Comments