আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার পর দেশটিতে আফিম উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর ২০২৫ সালে এসে আফিম চাষ প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত এক বছরে আফিম চাষের জমি ২০ শতাংশ কমেছে এবং মোট আফিম উৎপাদন ৩২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
২০২২ সালের আগে আফগানিস্তান বিশ্বের ৮০ শতাংশেরও বেশি আফিম উৎপাদন করত, যা থেকে তৈরি হতো ইউরোপের ৯৫ শতাংশ হেরোইন। কিন্তু ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান ২০২২ সালের এপ্রিলে আফিম চাষ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। আফিমকে ‘ধর্মবিরোধী ও ক্ষতিকর’ বলে উল্লেখ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ কৃষক অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা মানছেন। অনেকেই এখন গমসহ বিভিন্ন শস্য চাষ করছেন, যদিও আফিম চাষ এখনো অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক বেশি লাভজনক।
জাতিসংঘ জানায়, ৪০ শতাংশ কৃষিজমি এখন অনাবাদী পড়ে আছে। এর কারণ হিসেবে লাভজনক বিকল্প ফসলের অভাব, উৎপাদন কমে যাওয়া ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
চলতি বছর আফিম চাষের জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২০০ হেক্টর, যার বড় অংশ আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বাদাখশন প্রদেশে। ২০২২ সালের আগে দেশটিতে ২ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে আফিম চাষ হতো।
এদিকে বালখ, ফারাহ, লাঘমান ও উরুজগান — এই চারটি প্রদেশ চলতি বছর আফিমমুক্ত ঘোষণা করেছে তালেবান সরকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের কঠোর পদক্ষেপ আফিম উৎপাদনের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলগুলোতেও চাষ প্রায় সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করেছে।
তবে কৃষকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে বাদাখশন প্রদেশে, যেখানে মাঠ ধ্বংসের সময় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
হেলমান্দ প্রদেশের এক কৃষক বিবিসি পশতুকে বলেন, নিষেধ মানলে অভাব, না মানলে জেল — দুই দিকেই বিপদ। যদি টাকা না পাই, তবে আবার পপি চাষে ফিরব।
যদিও হেলমান্দে এখন খোলা মাঠে আফিম দেখা যায় না, অনেক কৃষক দেয়ালঘেরা ছোট জমিতে গোপনে চাষ করছেন। এক কৃষক বলেন, আমি বাধ্য হয়ে করছি। আমার কাছে আর কোনো উপায় নেই, পরিবারের খাবার পর্যন্ত জোটে না।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আফিম কমে গেলেও এখন মাদক পাচারকারীরা সিন্থেটিক ড্রাগ যেমন মেথামফেটামিনে ঝুঁকছে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে আফগানিস্তান ও আশপাশের এলাকায় এই ধরনের মাদক জব্দের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
ইউএনওডিসি জানায়, সিন্থেটিক মাদক উৎপাদন সহজ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকেও তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত। ফলে অপরাধী চক্রগুলো এখন এগুলোতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে নতুন সহযোগিতা চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরাক ও পাকিস্তান—এমন একটি খবর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জানা গেছে, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত নৌপথ Strait of Hormuz ব্যবহার করে জ্বালানি পরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে এই সমঝোতা হয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে Iraq এবং Pakistan। দুই দেশই জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করতে চাইছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী হয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হওয়ায় এই রুটকে কেন্দ্র করে ঝুঁকি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। চুক্তির আওতায় নৌপথে জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা, সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প রুট ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরগুলোর একটি। তাই এই অঞ্চলে যেকোনো নতুন চুক্তি বৈশ্বিক তেল বাজার ও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে ইরাক–পাকিস্তানের এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে থাকলেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল মোহাম্মদ আক্রামিনিয়া। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পিছু হটার সুযোগ নেই। মাশহাদ শহর থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির পশ্চিম অংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইসলামি রেভ্যুলুশনারি গার্ড-এর নৌ ইউনিট, আর পূর্ব অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনী। আক্রামিনিয়ার দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনী শত্রুপক্ষকে তাদের কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে দেয়নি। এই যুদ্ধের পর আর পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যুদ্ধ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। তবে কোন কোন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নতুন করে কোনো অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হতে দেওয়া হবে না। ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রশংসা করে আকরামি নিয়া বলেন, আমাদের এমন সক্ষমতা রয়েছে, যা শত্রুপক্ষ আগে কল্পনাও করতে পারেনি। সূত্র : আল জাজিরা
দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর, প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বুধবার বেইজিংয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ট্রাম্পের। তিনি চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই সফরে তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য উত্তেজনা বা মতবিরোধ দেখা দিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। ট্রাম্প মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান নিয়ে ‘দীর্ঘ আলোচনা’ করবেন বলে আশা করছেন। ইরান তার তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে চীনের ওপর নির্ভরশীল। যদিও সেই তেল যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এই সফর বিলম্বিত হয়েছে। তবে ট্রাম্প ইরান নিয়ে মতবিরোধকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, সত্যি বলতে ‘সি যথেষ্ট ভাল মানুষ’। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বা অন্য যে কোনো উপায়ে ইরান পরিস্থিতি সামলাতে পারব। হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে ইরানের ব্যাপারে আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন আছে। আমরা যে কোনো ওপায়েই জিতব। শান্তিপূর্ণভাবে হোক বা অন্যভাবে, আমরা জিতবই।’ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে ফোন করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং ই বুধবার এক বিবৃতিতে জানান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত বিষয়গুলোর যথাযথভাবে সমাধানে ভূমিকা রাখতে হবে। এই সপ্তাহের সফরটি ২০১৭ সালের পর ট্রাম্পের এটি প্রথম চীন সফর। এই সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সি’র সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন। ব্যস্ত এই কর্মসূচিতে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ ও চা-চক্রের অনুষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ট্রাম্প গত সোমবার বলেছেন, তিনি সি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিয়েও আলোচনা করবেন। বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির রাষ্ট্র প্রধানদের আলোচনায় চীনের বিরল খনিজ রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ ও দেশ দুটির বাণিজ্যিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো আলোচ্যসূচিতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বেইজিংয়ের রাস্তায় দুই পরাশক্তির শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়ে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। এএফপি সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পুলিশ শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নজরদারি চালাচ্ছিল ও মেট্রোর যাত্রীদের পরিচয়পত্রও পরীক্ষা করছিল। পূর্বাঞ্চলীয় শহর নানজিং থেকে আসা ২৪ বছর বয়সী ওয়েন ওয়েন নামের এক নারী এএফপি’র পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সফর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে একটি বড় বিষয়।’ তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবেই কিছু অগ্রগতি হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার’ মধ্যেও তিনি আশা করেন চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তি’ নিশ্চিত করতে পারবে।