অন্যান্য

বাতাসে বিষ, অবহেলায় আয়ু কমছে ৬ বছর

খবর৭১ ডেস্ক, নভেম্বর ১১, ২০২৫

ঢাকা সারা বিশ্বে ১২৬টি নগরীর মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। এবারই প্রথম না, এর আগেও এত শীর্ষে আমরা পৌঁছাতে পেরেছি। তবে এই শীর্ষস্থান দখল উদযাপন করার বিষয় না—দূষণে তৃতীয় হয়েছে আমাদের শহর ঢাকা। গত এক মাস ধরেই উত্তরোত্তর খারাপের দিকে যাচ্ছে ঢাকার বায়ুমান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের কারণ জানার পরেও এর বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়াতে না পারাও এক ধরনের অপরাধ। কেননা, এই দূষণের কারণে অন্তত ৬ বছর আয়ু কমছে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের। কেবল মানুষ না, বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রাণী ও উদ্ভিদ জগৎও। আবার, এত ভয়াবহতার মধ্যে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোর মধ্যে দায়সারা ভাব দেখছেন পরিবেশবাদীরা। যখন আমরা দূষণের শীর্ষে পৌঁছে যাচ্ছি—তখন এটা প্রতিরোধে গড়ে তোলা জাতীয় কমিটি কোনও সভা বসায়নি।

বায়ুদূষণের দেশগুলোতে শীর্ষস্থানে ঘুরে ফিরে নাম আসে—ভারত, পাকিস্তান, চীন, বাংলাদেশ, গ্রিস, তাজিকিস্তানের নাম। আবার কী কারণে এসব দেশে দূষণ বেশি, তার কারণগুলোও কাছাকাছি একই রকমের। বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎসগুলো জানার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া এবং প্রকল্পকেন্দ্রিক চিন্তা আমাদের এই জায়গায় দাঁড় করিয়েছে। এই কারণে প্রকল্প শেষ হলে সেই সক্রিয়তা আর থাকে না। একইভাবে এটি যেমন কেবল কোনও একটি মন্ত্রণালয়ের বিষয় না, তেমনই বাতাসের বিষয়ে আঞ্চলিক প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই।


দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দূষিত নগরের বিষয়ে গবেষণায় দূষণের কারণ হিসেবে বেরিয়ে এসেছে— যানবাহনের ধোঁয়া ও রাস্তার যানজট। এছাড়া শিল্প ও উত্তপ্ত কয়লাভিত্তিক জ্বালানি, কৃষি‑খড় পোড়ানো, ইটভাটা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ছোট কারখানা ও অপরিকল্পিত শিল্পকলার কারণে সূক্ষ্ম কণা নির্গমন বেশি,  মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা। এমনকি প্রায় তালিকায় শীর্ষ পাঁচে অবস্থান নেওয়া গ্রিসেরও বায়ুমান কমার পেছনে কারণ অনেকটা একই। এথেন্সের মতো জায়গায় নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইডের স্তর অনেক জায়গায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সীমাকে ছাড়িয়ে গেছে। আবাসিক তাপায়ন ও কাঠ বা কাঠকয়লা পোড়ানো—শীতে ঘরোয়া জ্বালানির কারণে দূষণ বেশি বলে জানা গেছে।


শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউট দুই বছর আগের একটি প্রতিবেদনে দেখিয়েছে যে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত—যার মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তান রয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রায় ২৩ শতাংশ বসবাস করে। এই এলাকার বায়ুদূষণের মাত্রা মানুষের গড় আয়ুর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

এর ফলে কী হচ্ছে?

বায়ুদূষণ ও আয়ু কমে যাওয়া প্রসঙ্গে একাধিক গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশর বায়ুমান বিশ্লেষণে জানা গেছে, বায়ুদূষণের কারণে এখানকার মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর কমে আসছে। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘‘এখন স্মোক আর ফগ মিলিয়ে বাতাসে ‘স্মোগ’ তৈরি হয়েছে। এটা ধোঁয়া ও কুয়াশা এবং ধুলার সন্নিবেশ। সব মিলিয়ে এর মধ্যে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। এতে শ্বাসকষ্টের রোগী, শিশু, বয়স্ক ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।’’

আসলে কী পরিস্থিতিতে আছি আমরা, প্রশ্নে পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের চিকিৎসক লেলিন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বায়ুদ‍ূষণে অনেক দিন যাবৎ নগরীগুলো এই পরিস্থিতিতেই আছে। আমাদের যত লোক হার্ট অ্যাটাকের কবলে পড়েন, তার কারণ বায়ুদূষণ। বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসতন্ত্রীয় অসুখ—হাঁচি, কাশি, টিবি জাতীয় সংক্রামক রোগ হয়। বায়দূষণের কারণে ত্বকে অ্যালার্জি হয়। দূষিত বাতাসে এমন কিছু ধাতব পদার্থ থাকে—যার কারণে শিশু ও গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এমনকি বায়ুদূষণের কারণে নারী পুরুষের উর্বরতা হ্রাস পায় এবং এ কারণে বন্ধ্যা দম্পতি বাড়ছে। দূষিত বায়ুর কারণে হার্টের ও ব্লাড প্রেসারের ওপর প্রভাব পড়ায় মানুষ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। সংক্রামক অসুখের ক্ষেত্রে বায়ুদূষণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। বায়ুদূষণের কারণে গাছের সালোক সংশ্লেষণ ক্ষমতা কমে যায়, দূষণটা জমে জমে পানিতে দ্রবীভূত হয়। ফলে জলজ-প্রাণী ও ভূমিজ-প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অর্থাৎ কেবল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। এর কারণে প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ‘’

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দ্রুত স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে চীন ইতোমধ্যে লাভবান হয়েছে। স্বল্পমেয়াদের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারকে দৃঢ় হতে হবে এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করতে হবে। এখন পরিকল্পনাগুলো নিয়ে আমলাতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হবে না। আসলেই কাজটি আপনি করতে চান, এমন মনোভাব নিয়ে সক্রিয় হতে হবে।’’

কার্যকর উদ্যোগ আছে?

অধ্যাপক কামরুজ্জামান বলেন, ‘‘ঢাকার বাতাসে দূষণের উৎস আমরা জানি—ফিটনেসবিহীন গাড়ি, ইটের ভাটা, ১২ মাস রাস্তা কাটা ও দীর্ঘদিন সে অবস্থাতেই ফেলে রাখা, বর্জ্য পোড়ানো। উৎস জানা থাকার পরেও সেটা নিয়ন্ত্রণের কোনও কার্যকর পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি না এবং কোনও সমন্বয়ও নেই। হাইকোর্ট মাঝে মাঝে রুলিং দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়। তবে আজ পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপই নিয়মিত নয়।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা ফিটনেসবিহীন গাড়ির অভিযান করি ঘোষণা দিয়ে, যেন অপরাধীকে সুযোগ করে দেওয়া হয়। অথচ খুব সহজেই এগুলো বন্ধ করা যায়। আদালতের নির্দেশ আছে ২৫ বছরের পুরোনো গাড়ি রাস্তায় থাকবে না। তারপরও কেন থাকে, কাদের আকাঙ্ক্ষায় থাকে। সরকার ব্যবসায়ীদের চাপে নতি স্বীকার করে এই ধরনের যানবাহন, শিল্প চলতে দিচ্ছে। যতদিন সেটা করবে এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে না।’’

অধ্যাপক কামরুজ্জামান আরও বলেন, ‘‘আমরা কখনোই বলছি না রাতারাতি কিছু হবে। আমরা যদি নিয়মিত কাজটি করতাম, গত ২০ বছর ধরে সবার সামনে দিয়ে এই দূষণ যেভাবে বাড়ছে সেটা হতো না।’’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মাত্র ৪ দিনেই হাইকোর্টে ২০ হাজারের বেশি পুরনো মামলার নিষ্পত্তি

আদালতে মামলার জট হ্রাস ও বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে মাত্র চার কার্যদিবসে হাইকোর্টে ২০ হাজার ৭৪০টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।   বিপুল সংখ্যক পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বাসসকে বলেন, হাইকোর্টে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির গৃহীত এই পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। আমি আশা করি, এটি অব্যাহত থাকবে। সেই সাথে মামলা জট নিরসনে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সুপ্রিম কোর্টের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে চাই। এরই মধ্যে আমি প্রধান বিচারপতির সাথে দেখা করে মামলা জট নিরসনে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছি। সেই সাথে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ১ হাজার ৪০০ মামলার একটি তালিকা দিয়েছি।   এদিকে সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নির্দেশনা অনুসারে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে গত ৭ মে থেকে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু হয়। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এই বিশেষ উদ্যোগের ফলে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে।   সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মোট ৩ হাজার ২৪৭টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চে ১ হাজার ৭৬৫ টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।   গত ১৪ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মোট ৩ হাজার ৮৪২টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চে ৩ হাজার ২৬২ টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।   গত ১১ জুন হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মোট ৬ হাজার ১৯৯ টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়। এছাড়া গত ১৮ জুন হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চগুলোতে ১ হাজার ৮৮৪টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে ৫৪১টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র চার কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) মোট ১৫ হাজার ১৭২টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ৫ হাজার ৫৬৮টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এই চার কার্যদিবসে হাইকোর্টে মোট ২০ হাজার ৭৪০ টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুন ২৪, ২০২৬
কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগকে রুখে দিতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে পদবঞ্চিত যুবদল নেতারা।

‘আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই রাজপথে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না’: যুবদল নেতারা

ছবি : সংগৃহীত

ইউপি মেম্বার থেকে এমপি হওয়ার এক অবিরাম যাত্রার গল্প

সংগৃহীত ছবি

ঢাবির ৩ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, ২ জনের একাডেমিক দায়িত্ব স্থগিত

সংগৃহীত ছবি
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ‘আয়নাঘরে’ নেওয়ার দাবি বিএনপি এমপির

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে ‘আয়নাঘরে’ নেওয়ার দাবি সংসদে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।   কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দাবি জানান তিনি।   কিছুদিন আগে একটি ‘আয়নাঘর’ দেখেছেন জানিয়ে রেহানা আক্তার বলেন, ‘সেখানে বিরোধী দলের (আওয়ামী লীগের আমলের বিরোধী দল) সদস্যদের ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো। আমার দাবি, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে, ওই চেয়ারে বসাইয়া-শোয়াইয়া, শেখ হাসিনাকে ইলেকট্রিক শক দিতে হবে।’   আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে গোয়েন্দা সংস্থ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা গুম হওয়া ব্যক্তিদের আটকে রাখা হতো গোপন বন্দিশালায়। গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যার সাংকেতিক নাম দিয়েছিল ‘আয়নাঘর’। সেখানে অনেককে বন্দী করে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ‘আয়নাঘর’গুলো বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানায়।   আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান। তাঁকে ফেরত আনতে বাংলাদেশ সরকার তৎপরতা চালালেও এখনো ভারতের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।   সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ঠেকাতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান।   বর্তমান প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী আরেকটি আন্দোলন–বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হওয়ার যে আহ্বান জানাচ্ছে, তার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আপনারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন। প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। আপনাদের অনৈক্যের কারণে যদি দানব হাসিনা, আল্লাহ না করুক, আবারও ফিরে আসে, যারা ফেসবুকের প্রোফাইল লাল করেছিলেন তাদের জীবনটা কালো করে ছাড়বে।’   জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ফেনীতে যাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন জানিয়ে রেহানা আক্তার বলেন, তাঁরা (পরিবারের সদস্যরা) পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, পুলিশ প্রশাসন আসামিদের ধরছে না। ধরলেও আদালত জামিন দিয়ে দিয়েছে। তাঁরা বলছেন, ‘আমরা আপনাদের কাছে কিছু চাই না, আমরা শুধু সন্তান হত্যার বিচার চাই।’   যেসব ব্যাংকের মালিক ‘ব্যাংক গিলে খেয়েছে’, বিদেশে আরামে-আয়েশে জীবন-যাপন করছে, তাঁদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়া সমন্বয়ের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী: জাহাজ থেকে নামা পণ্যের অনন্য মার্কেট

ছবি: সংগৃহীত

পিকে হালদারের সহযোগী অভিজিতের ৭ বছরের জেল

ছবি: সংগৃহীত
জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব হত্যা: আরও এক আসামি গ্রেফতার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আসামি ধরতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত র‌্যাব সদস্যের হত্যা মামলায় আইয়ুব আলী ওরফে বাবুল সওদাগরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭। র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানার লয়েল রোড এলাকার নবী মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত ১৮ জুন সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমূল ১ নম্বর সমাজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি আলী আকবরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২০ জুন পৃথক অভিযানে মামলার আরেক আসামি মো. ইমরানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৭। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চালানোর সময় র‌্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ হামলায় র‌্যাবের ডিএডি আব্দুল মোতালেব নিহত হন এবং আরও তিন সদস্য গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর দায়ীদের গ্রেফতারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মারিয়া রহমান জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নতুন কর্মসূচি দিল ১১ দলীয় জোট

ছবি : সংগৃহীত

৫ কর্মদিবসেই তাবাসসুম ধর্ষণ ও হত্যার বিচার, আসামি তাহেরের মৃত্যুদণ্ড

ছবি : সংগৃহীত

গুলশানের বাড়ি ছাড়তে হবে সালাম মুর্শেদীকে, সরকারের সম্পত্তি ঘোষণা

0 Comments