অন্যান্য

আওয়ামী লীগ ভারতের সেবাদাস সরকার ছিল : সালাহউদ্দিন

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ 0


দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করলেও তা বিলুপ্ত করে শেখ হাসিনা প্রায় ১৫–১৬ বছর ধরে দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসন চালু রাখে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

আওয়ামী লীগকে ভারতীয় দল অ্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার একনায়কতন্ত্র শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিল, ছাত্র-জনতা সেই ফ্যাসিস্ট শক্তিকে বিদায় করেছে। এরা ভারতীয় দল, এরা ভারতের সেবাদাস সরকার ছিল।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়ার পহরচাদা ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে এসব মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন।


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই সরকার এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং আলেম সমাজের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ ছিল আলেমবিদ্বেষী ও ইসলামবিদ্বেষী সরকার।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হলো-আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই? জনগণ ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চায়, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চায়। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে আইনের শাসন থাকবে, সুবিচার নিশ্চিত হবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।


পহরচাদা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফরিদ আহমদ আজিজির সভাপতিত্বে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে চকরিয়া বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলী, পহরচাদা সাংগঠনিক ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক নাছির উদ্দিন হায়দার,  উপদেষ্টা জালাল আহমদ সিকদারসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
মির্জা আব্বাস ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। ছবি : সংগৃহীত
মির্জা আব্বাসের অসুস্থতা নিয়ে পোস্ট আসিফ মাহমুদের

অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। এ অবস্থায় তার সুস্থতা কামনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।   বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাস ভাইয়ের দ্রুত সুস্থতা ও পূর্ণ আরোগ্য কামনা করছি।’ এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় পানি পান করার সমই হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস তার স্বামীর (মির্জা আব্বাস) সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ছবি : সংগৃহীত

চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হতে পারে মির্জা আব্বাসকে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ছবি : সংগৃহীত

এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে মির্জা আব্বাস

ছবি : সংগৃহীত

সংসদের প্রথম দিনেই আবেগঘন মুহূর্ত, চোখ ভিজল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব কিডনি দিবসে বিএমইউতে র‌্যালি-সেমিনার, সচেতনতায় গুরুত্বারোপ

‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ক্যাম্পাসে কিডনি রোগ নিয়ে সচেতনতামূলক র‌্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ব্লকের সামনে বটতলা থেকে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালির শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। এ সময় সংগঠনটির সদস্য সচিব ডা. মো. ফরহাদ হাসান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল মুকীত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. রেজাউল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমানসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। র‌্যালি শেষে শহীদ ডা. মিল্টন হলে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং সম্প্রসারণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কিডনি চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত ও শক্তিশালী করা এবং কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি মরণোত্তর কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রম সফল করার আহ্বানও জানানো হয়। বক্তারা বলেন, কিডনি রোগ দীর্ঘদিন নীরবে বৃদ্ধি পায়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা না পেলে এটি জটিল আকার ধারণ করে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  তারা আরও বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও রোগ নির্ণয়ের ব্যয় তুলনামূলকভাবে খুবই কম। একটি সাধারণ প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমেই অনেক ক্ষেত্রে কিডনি রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। বক্তারা জানান, যদি ইউনিয়ন সাব-সেন্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ এবং ডায়াবেটিক কেয়ার সেন্টারগুলোতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে কিডনি রোগ দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রতিরোধ করা অনেক সহজ হবে। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, নীরবঘাতক কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। তিনি ভেজাল খাবার পরিহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যান্য বক্তারা জানান, ২০১৯ সালে প্রকাশিত আটটি গবেষণার ওপর একটি সিস্টেমিক রিভিউ অনুযায়ী বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের হার প্রায় ২২.৪৮ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের দেশে এ হিসাবে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং দ্রুত হারে এ সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি বছর প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয়ে যাচ্ছে এবং নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে বা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছেন। বর্তমানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগ অষ্টম স্থানে রয়েছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে এটি পঞ্চম স্থানে উঠে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সংসদের নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ

ছবি : সংগৃহীত

কারচুপির অভিযোগে হাইকোর্টে নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিদিন কয়েক মিনিট সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করাই হতে পারে সবচেয়ে সহজ, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর ব্যায়ামগুলোর একটি | ছবি : সংগৃহীত
সিঁড়ি দিয়ে টানা ওঠানামা করলে কী উপকার? জেনে নিন

আজকের ব্যস্ত শহুরে জীবনে লিফট আর এসকেলেটর এতটাই হাতের কাছে যে, সিঁড়ি ব্যবহারের কথা অনেকেই ভাবেন না। অথচ প্রতিদিন কয়েক মিনিট সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করাই হতে পারে সবচেয়ে সহজ, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর ব্যায়ামগুলোর একটি। নিয়মিত এই অভ্যাস শুধু কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যই উন্নত করে না, শরীরের পেশি গঠন, সহনশীলতা, এমনকি ওজন নিয়ন্ত্রণেও এনে দিতে পারে দারুণ পরিবর্তন।   সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার কী কী উপকার রয়েছে, আর কারা এই ব্যায়ামটি বেশি সময় করা থেকে বিরত থাকবেন—চলুন জেনে নেওয়া যাক।   ১. সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার শারীরিক উপকারিতা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা একটি ভারবহনকারী ব্যায়াম, যা পুরো শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। ক. হৃদযন্ত্র ও ক্যালোরি খরচ কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য : সিঁড়ি বেয়ে ওঠা হৃদস্পন্দনকে দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যা হার্টকে শক্তিশালী করে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। এটি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ক্যালোরি খরচ : দ্রুত হাঁটা বা জগিং করার চেয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠলে প্রতি মিনিটে বেশি ক্যালোরি খরচ হয়। এটি চর্বি কমাতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। খ. পেশি গঠন ও হাড়ের স্বাস্থ্য পেশির কার্যকারিতা : সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় প্রধানত পা এবং নিতম্বের পেশিগুলো (কোয়াড্রিসেপস, হ্যামস্ট্রিংস, গ্লুটস) সক্রিয় হয়। এটি এই পেশিগুলোকে শক্তিশালী করে। হাড়ের ঘনত্ব : এটি একটি ভারবহনকারী ব্যায়াম হওয়ায় নিয়মিত অনুশীলন হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কমায়। ২. কাদের এই কাজ বেশিক্ষণ করা উচিত নয়? যদিও সিঁড়ি ওঠা উপকারী, তবে কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক পরিস্থিতিতে এই কাজ দীর্ঘক্ষণ ধরে বা উচ্চ তীব্রতায় করা ক্ষতিকর হতে পারে। শারীরিক অবস্থা বিপদ কেন পরামর্শ হাঁটুর সমস্যা সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হাঁটুর জয়েন্টে শরীরের ওজনের প্রায় ৩ থেকে ৭ গুণ বেশি চাপ পড়ে। অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা হাঁটুর পুরোনো ব্যথা থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। হালকা ব্যায়াম বা সাঁতারের মতো বিকল্প বেছে নিন। গোড়ালি বা পায়ের পাতার আঘাত এই ধরনের ব্যায়াম গোড়ালি এবং পায়ের পাতার পেশি ও জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। আঘাত সম্পূর্ণ নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত সিঁড়ি ওঠা এড়িয়ে চলুন। তীব্র কার্ডিয়াক সমস্যা তীব্র হৃদরোগ বা গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকলে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার কারণে হার্টের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। হৃদরোগীরা বা যাদের অনিয়মিত হৃদস্পন্দন আছে, তাদের চিকিৎসকের ছাড়পত্র নিয়েই এই ব্যায়াম করা উচিত। ভারসাম্যহীনতা বা মাথা ঘোরা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ভারসাম্যহীনতার সমস্যা থাকলে সাবধানে সিঁড়ি ব্যবহার করা উচিত। প্রয়োজনে রেলিং ধরে ধীরে ধীরে হাঁটুন। কীভাবে এই অভ্যাস শুরু করবেন যদি আপনার কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকে, তবে প্রতিদিনের রুটিনে ছোট ছোট পরিবর্তন এনে এই অভ্যাস শুরু করতে পারেন— ধীরে শুরু করুন : প্রথমে দিনে ৫-১০ মিনিট সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করুন। গতি বাড়ান : একবার স্বচ্ছন্দবোধ করলে ধীরে ধীরে সময় এবং গতি বাড়ান। সঠিক জুতা : আঘাত এড়াতে ভালো গ্রিপযুক্ত আরামদায়ক জুতা পরে এই ব্যায়াম করুন। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা হলো ক্যালোরি পোড়ানো, হৃদযন্ত্র শক্তিশালী করা এবং পেশি টোন করার একটি চমৎকার উপায়। তবে হাঁটুবা হৃদরোগের মতো সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া এই কাজ বেশি ক্ষণ ধরে করা উচিত নয়। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ১২, ২০২৬ 0
প্রতি বছর ৩ মার্চ সারা বিশ্বে পালিত হয় ‘বিশ্ব শ্রবণ দিবস’ | ছবি : সংগৃহীত

কানে কম শোনা শুরু? দেখুন ১০টি সতর্ক সংকেত

মাঝরাতে ঘন ঘন খিদে লাগা অনেক সময় এক ধরনের ইটিং ডিসঅর্ডার-এর লক্ষণ | ছবি : সংগৃহীত

মাঝরাতে খিদে পায়? হতে পারে বড় সমস্যার লক্ষণ

ছবি : সংগৃহীত

দলীয় স্বার্থে নির্বাচন পেছানো গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: গাজী আতাউর

0 Comments