মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কয়েকটি পশ্চিমা মিত্র দেশের নেতৃত্বে আরোপিত বহুমুখী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে জব্দ অবস্থায় থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ অবমুক্ত করার বিষয়ে এক অনমনীয় ও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের এই বিশাল জব্দ সম্পদ বা ফ্রিজড ফান্ড অবমুক্ত করার আগে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানকে অবশ্যই একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে এবং সেই চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পরই কেবল এই অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। রোববার (৭ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে সম্প্রচারিত এক বিশেষ এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে যখন সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয় যে, ইরানের সাথে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বা আটকে থাকা আন্তর্জাতিক সম্পদ ছাড় দিতে রাজি আছেন কি না, তখন তিনি সরাসরি এক শব্দে জবাব দেন, ‘না।’ আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই সাক্ষাৎকারটির বরাতে বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক পরাশক্তি ইরানের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পথরেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘জব্দ অর্থ অবমুক্ত করার বিষয়টি মূলত অনেক পরে আসবে। ইরান যদি আগে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভালো আচরণ করে এবং আমাদের শর্তানুযায়ী ভালো কাজ করে, তাহলেই কেবল আমরা তাদের এই অর্থ নিয়ে আলোচনা শুরু করার বিষয়টি ভেবে দেখব।’
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অন্যায়ভাবে জব্দ হয়ে থাকা শত বিলিয়ন ডলারের রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবমুক্ত করার জোর দাবি জানিয়ে আসছে। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম আলজাজিরা গত এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক বিশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে ইরানের জব্দকৃত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১২ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা) বা তারও চেয়ে অনেক বেশি।
ওয়াশিংটনের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও নীতিগত বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে কাতারে ইরানের চালানো আকস্মিক ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উপসাগরীয় মার্কিন মিত্র দেশগুলোকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে এই বিপুল পরিমাণ জব্দ সম্পদের একটি বড় অংশ ব্যবহারের একটি বিশেষ আইনি রূপরেখা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণ ও ধ্বংসের মেগা প্ল্যান
নিষেধাজ্ঞা ও জব্দ তহবিলের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও সাক্ষাৎকারে তীব্র ক্ষোভ ও আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের অত্যন্ত গোপন ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সুনির্দিষ্ট অবস্থান এই মুহূর্তে মার্কিন গোয়েন্দাদের সম্পূর্ণ জানা আছে এবং তিনি যেকোনো উপায়ে, তা সামরিক বা কৌশলগত যে পন্থাই হোক না কেন, তা মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নিতে চান। তবে এই গোপন পারমাণবিক সাইটগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে মার্কিন সেনা সরাসরি মোতায়েন করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সামরিক কৌশলের স্বার্থে স্পষ্ট কিছু বলেননি।
ইরানের পারমাণবিক হুমকি চিরতরে নস্যাৎ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আমরা শেষ পর্যন্ত ইরানের সাথে একটি চূড়ান্ত ও কঠোর চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হই, তাহলে আমরা বিশ্বের প্রধান প্রধান শক্তিগুলো সবাই মিলে সেখান থেকে ওই সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক নজরদারিতে ওয়াশিংটনে নিয়ে আসব এবং তা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেব।’ ইরান যুদ্ধের ১০০ দিন পার হওয়ার এই সংবেদনশীল সময়ে ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
উত্তর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। টাইমস অব ইসরায়েল, আল-জাজিরাসহ একাধিক বৈশ্বিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। আইআরজিসির বরাতে জানা গেছে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) হামলার জবাব দিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে উত্তর ইসরায়েলে। ইসরায়েলের স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ঘটেছে এ হামলা। কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ইরান ছুড়েছে, তা জানা যায়নি; তবে আইডিএফ জানিয়েছে উত্তর ইসরায়েলের অনেক জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র সতর্ক অ্যালার্ম বেজেছে। এদিকে হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলজুড়ে স্কুলসহ যাবতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার। সেই সঙ্গে নাগরিকদের বাড়িঘর ছেড়ে সেফ হোম এবং আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে। শনিবার (৬ জুন ২০২৪) লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি দাহিয়েহতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বিমান অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী (আইএএফ)। এতে আহত হয়েছে ৪ জন শিশুসহ কমপক্ষে ২০ জন। একই দিন দক্ষিণ লেবাননেও বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে আইএএফ। এতে লেবানিজ সেনাবাহিনীর এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ বেশ কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বর্তমান সময়ে জ্বালানি সঙ্কটের আবহে পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ঠিক এই আবহেই এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, এবার ইথানল থেকে উৎপাদিত হবে বিদ্যুতও। ইতিমধ্যেই ব্রাজিল বিশ্বের প্রথম ইথানল ইঞ্জিন (Ethanol Engine) তৈরি করেছে। যেটি সম্পূর্ণরূপে ইথানলের সাহায্যে চলবে এবং বৃহৎ পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এখনও পর্যন্ত, ইথানল শুধুমাত্র গাড়ি ও ট্রাকের মতো যানবাহনে পেট্রোল এবং ডিজেলের বিকল্প হিসাবে অথবা ব্লেন্ডিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহৃত হতো। এখন, বিজ্ঞানীদের দ্বারা তৈরি করা একটি বিশাল ইঞ্জিন পাওয়ার গ্রিডের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। এমতাবস্থায়, এই অসাধারণ প্রযুক্তি পাওয়ার গ্রিডে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। তৈরি বিশ্বের প্রথম ইথানল ইঞ্জিন (Ethanol Engine): আখ থেকে তৈরি হবে বিদ্যুৎ: প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, এই প্রকল্পটি ব্রাজিলের পের্নাম্বুকোতে অবস্থিত ‘সুয়াপে II পাওয়ার প্ল্যান্ট’-এ স্থাপন করা হয়েছে। এর নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বালানি কোম্পানি সুয়াপে এনার্জিয়া এবং ফিনল্যান্ডের প্রখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থা ভার্টসিলা। এর জন্য, ভার্টসিলা ৩২এম নামের একটি বিশেষ ইঞ্জিনকে পরিবর্তন করেছে। যা শুধুমাত্র ব্রাজিলের আখ থেকে উৎপাদিত ইথানলে চলে। বিজ্ঞানীরা এখন বাস্তব পরিস্থিতিতে এটি পরীক্ষা করবেন। এটির কর্মক্ষমতা, স্থায়িত্ব এবং দূষণের মাত্রা যাচাই করার জন্য আগামী কয়েক বছর ধরে ইঞ্জিনটি চালানো হবে। ইথানল উৎপাদনে ব্রাজিল একটি অগ্রণী দেশ: জানিয়ে রাখি যে, ব্রাজিল বিশ্বের বৃহত্তম ইথানল উৎপাদক এবং গ্রাহক হিসাবে বিবেচিত হয়। ইথানল উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং পরিবহণের জন্য একটি শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ব্রাজিল বহু বছর ধরে কাজ করেছে। রিপোর্ট অনুসারে সুয়াপে এনার্জিয়ার কারিগরি পরিচালক হোসে ফাউস্তিনো কান্দিদো জানিয়েছেন যে, যদিও ব্রাজিল বিশ্বের বৃহত্তম ইথানল উৎপাদনকারী দেশ, তবুও তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণাটি এখনও পর্যন্ত উপেক্ষিত ছিল। তবে, নতুন ইঞ্জিনটির মাধ্যমে ইথানল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ এখন সুগম হয়েছে। ইথানল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা কেন উপকারী: উল্লেখ্য যে, সৌর প্যানেল এবং বায়ু টারবাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যদি সূর্যরশ্মির তেজ না থাকে বা বাতাস না বয়, সেক্ষেত্রে এগুলি অকার্যকর হয়ে পড়ে। এই কারণে গ্রিড চালু রাখার জন্য ব্যাটারি বেসড স্টোরেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আরেকটি সুবিধা হল, এটি একটি স্বল্প-কার্বন শক্তির উৎস। যা সংরক্ষণ ও পরিবহণ করা যায়। এদিকে, ইথানল ইঞ্জিন সৌর বা বায়ু শক্তি উপলব্ধ না থাকলেও নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (IEA)-এর মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জৈবশক্তির উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এমতাবস্থায়, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলেই অনুমান করা হচ্ছে
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে এক ধাপ পিছিয়ে এবার র্যাংকিংয়ে ৯৬তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ইতিবাচক খবর হলো, বর্তমানে তারা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৬টি দেশে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রকাশিত বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের জন্য ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভুটান, বার্বাডোজ, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দে, কোমোরোস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মাইক্রোনেশিয়া ও মন্টসেরাট। এছাড়া রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস, গাম্বিয়া, নিউই, তিমুর-লেস্তে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, টুভালু এবং ভানুয়াতুও এই তালিকায় রয়েছে। তবে সব দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা প্রযোজ্য নয়। কিছু দেশে বাংলাদেশিরা সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশ করতে পারেন, আবার কয়েকটি দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে ভিসা (ভিসা অন অ্যারাইভাল) নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিছু দেশের ক্ষেত্রে আগে থেকেই অনলাইনে ই-ভিসা সংগ্রহ করতে হয়। অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আগের মতোই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও সুইজারল্যান্ড। উল্লেখ্য, হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের এই সূচক আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টধারীরা কতটি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা সুবিধা পান, তার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়।