সারাদেশ

৬ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ২৮ জনের মৃত্যু

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আবারও এক রক্তাক্ত দিন পার হলো। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেশের ছয়টি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে টাঙ্গাইলেই এক মর্মান্তিক ট্রাজেডিতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন।

 

এছাড়া বগুড়ায় চার, কিশোরগঞ্জে তিন, সিরাজগঞ্জে তিন, মানিকগঞ্জে এক, গোপালগঞ্জে এক এবং নোয়াখালীতে একজন মারা গেছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকেই।

 

জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো বিস্তারিত প্রতিবেদন:

 

টাঙ্গাইল:

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় সোমবার ভোর ৪টার দিকে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই পরিবহন খরচ বাঁচাতে যাত্রীবাহী বাসে না উঠে রডবোঝাই ওই ট্রাকে করে ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে গেলে যাত্রীরা রডের নিচে চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।

 

নিহতদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জের নজরুল ইসলাম (৫৫) ও মামুন (৪০); নওগাঁর সাগর মিয়া (২০), রবিউল ইসলাম (২৫), মাইনুল ইসলাম (৩৫), মাইনুল (৩৮), আলমগীর হোসেন সুজন (২৪), ইয়াকুব (১৫), বাদশা (২৮), তারেক (২০), আব্দুল বারিক (২০) ও গিয়াস উদ্দিন (২২); রাজশাহীর ইসমাইল হোসেন (২৫); কুষ্টিয়ার হাসান আলী (৩৯) এবং নাটোরের মোহাম্মদ আলম মোল্লা।

 

গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান জানান, মালবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।

 

বগুড়া:

বগুড়ায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে জেসমিন খাতুন (৪৫) ও তার মেয়ে তণু আক্তার (২০) নিহত হন। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

এর আগে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও মেয়ে নিহত হন।

 

নিহতরা হলেন- রংপুরে ব্র্যাকে কর্মরত আনিছুর রহমান ও তার চার বছরের শিশু সন্তান পুষ্প। এ ঘটনায় আনিছুর রহমানের স্ত্রী আয়েশা বেগম গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা মোটরসাইকেলে করে রংপুর থেকে পাবনায় গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন।

 

কিশোরগঞ্জ:

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী, স্ত্রী ও তাদের ছয় বছরের সন্তান নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কের কাস্তল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- মিঠামইন উপজেলার মহিষা কান্দি গ্রামের মনির হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) ও সন্তান আয়ান (৬)।

 

পুলিশ জানায়, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যান তাদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় জনতা ঘাতক পিকআপ ভ্যানটি আটক করেছে।

 

সিরাজগঞ্জ:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লবণবোঝাই ভটভটির সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে সিএনজি যাত্রী শিশু সারা খাতুন (৮) ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এছাড়া একই মহাসড়কের মশিপুর এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে আহম্মদ (৭) নামের এক শিশু নিহত হয়।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, ঘাতক যানগুলো আটক করা হয়েছে।

 

মানিকগঞ্জ:

মানিকগঞ্জ-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের কিটিংচর এলাকায় সোমবার বিকেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. কাউসার আহম্মেদ (১৮) নামের এক তরুণ মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী আরাফাত (১৮) গুরুতর আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

গোপালগঞ্জ:

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাশুর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক মাইক্রোবাস চালক নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে ‘কোটালীপাড়া স্টার এক্সপ্রেস’ নামের একটি বাস অন্য একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীতমুখী মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। একই সময় পেছন থেকে একটি প্রাইভেটকারও এসে ধাক্কা মারে। এতে বাসটি খাদে পড়ে যায় এবং অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

 

নোয়াখালী:

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মালবাহী নসিমন উল্টে রহিম উল্যাহ (৩২) নামের এক পোল্ট্রি খামারি নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করিম বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রহিম উল্যাহ ওই ইউনিয়নের তোরাব আলী গ্রামের মৃত শফিউল্যাহ সওদাগরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন মুরগি ব্যবসায়ী ছিলেন।

 

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বাগেরহাটে বাধা পেয়ে খালের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করল প্রশাসন

বাগেরহাটে মাছ চাষের জন্য অবৈধ বাঁধ দিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে একটি খাল। সেখানে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়েও ফিরতে হয়েছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন পরে বিএনপি নেতাদের অনুরোধে দখলদারদের ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এমন দৃষ্টান্ত দখলদারদের উৎসাহিত করবে।   স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেলভাষানী খালের একাংশে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। অতীতে ওই এলাকা আওয়ামী লীগের লোকজনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তা চলে যায় বিএনপিপন্থি কয়েকজনের হাতে।   শনিবার পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যান প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কিন্তু উচ্ছেদ শুরুর আগেই সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন দখলদার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বাঁধ না কাটার জন্য অনুরোধ জানান। সংবাদ পেয়ে সেখানে যান সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। তাদের কাছেও খালের বাঁধ না কাটার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন যুক্তি দেন সেলিম কাজী। তিনি দাবি করেন, খালে তারা পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মাছ ছেড়েছেন। এখন কেটে দিলে ক্ষতি হয়ে যাবে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁধ কেটে দেওয়ার দাবি জানান, চাপ সৃষ্টি করেন সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের ওপর। তবে শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক দখলদারদের ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার সময় দিয়ে চলে যান।   এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে। উল্টো তারা খালের পাড় দিয়ে গরু নিয়েও যেতে দেয় না। সরকারি লোকজন বাঁধ কাটতে আসায় আনন্দিত ছিলেন। কিন্তু এভাবে চলে যাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়। এমন দৃষ্টান্ত দখলদারদের উৎসাহিত করবে বলেও মনে করেন তারা।   স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল বলেন, সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষকে তারা অপরাধই মনে করে না। জেলার সবচেয়ে বড় কর্মকর্তা, এমনকি সংসদ সদস্যের সামনেও তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করলেন। সাধারণ মানুষ হিসেবে এটি ভালো লাগেনি।   এদিকে প্রকাশ্যে খালের বাঁধ কাটতে বাধা দিলেও অন্যদিকে দখলের বিষয়টি অস্বীকার করেন সেলিম কাজী। তাঁর দাবি, তিনি এ খাল দখল করেননি। আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ার পরে এক বছর ছাত্রদল, যুবদল ও দলীয় লোকজন খালটি ভোগদখল করছেন।   বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘এই দেলভাষানী খালে যারা বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন, তারা সময় চেয়েছেন। আমরা কৌশলগত কারণে ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেই বিষয়টি বিবেচনা করেছি। দুই সপ্তাহ পরে আমরা খালটি উন্মুক্ত করে দেব।’    সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, ‘খাল খনন ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সরকারের চলমান কর্মসূচির অংশ। সারাদেশের মতো বাগেরহাটেও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেলভাষানী খালে এসে জানতে পেরেছি এখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। যারা মাছ চাষ করছেন, তারা সময় প্রার্থনা করেছে। আমরা দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছি। দুই সপ্তাহের মধ্যেও তারা মাছ তুলে নেবেন, তারপর আমরা খালটি উন্মুক্ত করে দেব।’

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটন স্পট বন্ধ

ছবি : সংগৃহীত

মিরপুর ১৪ তলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত

ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে ১৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
সবাই যদি লাভের হিসাব করে, রাষ্ট্র উন্নত হবে কীভাবে: হুইপ নিজান

সমাজ ও নাগরিক দায়িত্ববোধের অবক্ষয় নিয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দীন নিজান বলেছেন, ওসি, ইউএনওদের কাছ থেকে আমরা ভালো সেবা চাই, রাজনীতিবিদদের কাছ থেকেও সেবা চাই। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদের যে কর্তব্য আছে, সেটা আমরা পালন করি না।   শনিবার (৪ জুলাই) সকালে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   তিনি বলেন, আমাদের সূচনাটাই অন্যায়ের মধ্য দিয়ে—সুদ, ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে আমাদের রাজনীতিবিদরাও জড়িত। সবাই যদি লাভের হিসাব করে, তাহলে রাষ্ট্র উন্নত হবে কীভাবে?   অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা অন্যায়ের কথা মুখে বলতেও পারি না। আমাদের সবকিছু এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে। অতীতের হারানো ঐতিহ্য আমাদের পুনরুদ্ধার করতে হবে।   স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার প্রসঙ্গে হুইপ আশরাফ উদ্দীন নিজান বলেন, রোগ হওয়ার চেয়ে রোগ যেন না হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাজেট বক্তব্যে বলেছেন, ন্যাশনাল হেলথ সেন্টার চালু করা হবে। রোগ যেন না হয়, সেদিকে আমাদের আগে থেকেই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।   রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শেখ এহসান উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজ উদ্দিন।   এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ডিএমপির নতুন ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস কমিশনার ওসমান গনি

সংগৃহীত ছবি

মাকে ধর্ষণের প্রতিশোধ: যুবককে গলা কেটে হত্যা, ৪ ছেলে আটক

ছবি : সংগৃহীত

ইউএনওর মানবিকতায় স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সাবেক ভিক্ষুক শফিকুল

ছবি: সংগৃহীত
হাম মৃত্যু: ইউনূস ও নূরজাহানদের বিরুদ্ধে মামলার আদেশ ১২ জুলাই

অবহেলাজনিত কারণে হামে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ তুলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে যে মামলার আবেদন হয়েছে সে বিষয়ে আগামী ১২ জুলাই আদেশের দিন রেখেছে আদালত।   রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ দিন নির্ধারণ করে বলে তথ্য দেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ ভৌমিক।   মামলার আবেদনে মুহাম্মদ ইউনূস ও নূরজাহান বেগম ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে আসামি করার আবেদন করা হয়।   এর আগে একই ধরনের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মুহাম্মদ ইউনূস, নূরজাহান বেগমদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার আবেদন খারিজ হয়েছে।   এদিন সকালে হামে মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সি সাউদা নুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম আদালতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টাসহ তাদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন।   আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখে। পরে বিকালে আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।   আবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক ও মার্চের শুরুর সময়ে শরীয়তপুর সদরের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ৯ মাস বয়সি মেয়ে সাউদা নুসকান জ্বরে আক্রান্ত হয়। মার্চের প্রথম সপ্তাহে হামসহ শিশুটিকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে হামের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পেয়ে শিশুটিকে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২২ মার্চ স্থানান্তর করা হয়।   আবেদনে অভিযোগ করা হয়, কিন্তু সেখানকার চিকিৎসক ও নার্সদের চিকিৎসায় ‘অসহযোগিতা এবং অবহেলার কারণে’ গত ২৬ মার্চ সাউদা মারা যায়।   আবেদনে শিশুদের টিকার যোগান সময়মত না থাকা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং টিকা কেনা ও তা দেওয়া নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘মারাত্মক খামখেয়ালিপনা’ এবং অবহেলাজনিত কারণে দেশে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সাউদা মুসকান অন্যতম বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মৃত্যুবরণ করেছেন

ছবি : সংগৃহীত

দেশে প্রথম ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক কর্নার’ উদ্বোধন গোলাপগঞ্জে

পৃথক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৫ নেতা | ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আ.লীগের ৫ নেতার পদত্যাগ

0 Comments