প্রযুক্তি

৫৬ বছরের অমীমাংসিত গাণিতিক সমস্যার সমাধান করল গুগলের এআই

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি এখন শুধু লেখা তৈরি বা ছবি আঁকায় সীমাবদ্ধ নেই, জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধানেও সক্ষমতা দেখাতে শুরু করেছে। সম্প্রতি ওপেনএআই দাবি করেছিল, তাদের একটি এআই মডেল কিংবদন্তি গণিতবিদ পল এরদোসের ১৯৪৬ সালে উত্থাপিত বিখ্যাত ‘প্ল্যানার ইউনিট ডিস্ট্যান্স প্রবলেম’–এর সমাধান করেছে। সেই আলোচনার মধ্যেই আরও বড় দাবি নিয়ে সামনে এসেছে গুগল ডিপমাইন্ড।


গুগলের গবেষকদের দাবি, ডিপমাইন্ডের ‘আলফাপ্রুফ নেক্সাস’ নামের একটি এআই ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পল এরদোসের ৯টি উন্মুক্ত গণিত সমস্যার সমাধান করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি সমস্যা ৫৬ বছর ধরেও অমীমাংসিত ছিল। গবেষকদের মতে, প্রতিটি সমস্যার সমাধানে ব্যয় হয়েছে মাত্র কয়েক শ ডলার।


গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, আলফাপ্রুফ নেক্সাস ‘ওপেন এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইন্টিজার সিকোয়েন্সেসের’ (ওইআইএস) ৪৪টি উন্মুক্ত অনুমানও প্রমাণ করেছে। পাশাপাশি বীজগাণিতিক জ্যামিতির ১৫ বছর পুরোনো একটি প্রশ্নের সমাধান ও অপটিমাইজেশন তত্ত্বে নতুন একটি অ্যালগরিদমিক প্যারামিটারও খুঁজে পেয়েছে, যা আগে মানুষের জানা ছিল না।


গবেষণাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পুরো কাজটি এআই নিজেই সম্পন্ন করেছে। অর্থাৎ এটি নিজে গাণিতিক প্রমাণ তৈরি করেছে এবং কম্পিউটারনির্ভর যাচাইয়ের ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা করেছে। ফলে মানুষের সহায়তা ছাড়াই প্রমাণ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ওপেনএআই যখন তাদের এআই দিয়ে এরদোসের প্ল্যানার ইউনিট ডিস্ট্যান্স প্রবলেম সমস্যা সমাধানের দাবি করেছিল, তখন প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, সমস্যা সমাধানের প্রমাণ মানুষের সহায়তায় যাচাই করা হয়েছে।


গুগল সরাসরি ওপেনএআইয়ের নাম উল্লেখ না করলেও প্রতিষ্ঠানটির এআই মডেলের একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে ‘হ্যালুসিনেশন’ কথা তুলে ধরেছে । অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির এআই এমন তথ্য বা যুক্তি তৈরি করতে পারে, যা প্রথম দেখায় বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও বাস্তবে তাতে গুরুতর ভুল থাকতে পারে। গবেষকদের মতে, অনেক সময় এআই এমন গাণিতিক প্রমাণ তৈরি করে, যা প্রযুক্তিগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে হয়, কিন্তু তাতে যৌক্তিক ত্রুটি থেকে যায়। কিছু ক্ষেত্রে এআই নিজেই নতুন ‘লেমা’ বা গাণিতিক বিশ্লেষণ তৈরি করে সেটিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করে।


আবার কখনো সমস্যার সবচেয়ে জটিল অংশটি সমাধান না করেই সেটিকে ‘সহায়ক লেমা’ হিসেবে দেখায়। এতে পুরো প্রমাণটি সম্পূর্ণ বলে মনে হলেও মূল সমস্যাটিই অমীমাংসিত থেকে যায়। গবেষকদের মতে, এ ধরনের ভুল সাধারণ পর্যালোচনায় সহজেই চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। কারণ, যুক্তিগুলো মানুষের কাছেও যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।


এই সমস্যা এড়াতে গুগলের ডিপমাইন্ড লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজভিত্তিক মডেলের বিশ্লেষণ ক্ষমতার সঙ্গে ‘লিন’ নামের একটি আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। এ পদ্ধতিতে এআই বিভিন্ন ধরনের গাণিতিক প্রমাণ তৈরির চেষ্টা করে, আর ‘লিন’ কঠোর গাণিতিক নিয়ম অনুসরণ করে প্রতিটি যৌক্তিক ধাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করে। ফলে ভিত্তিহীন দাবি, কৃত্রিম লেমা কিংবা অসম্পূর্ণ যুক্তি সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল হয়ে যায়। এতে পুরো প্রমাণ যাচাই করতে মানুষের আলাদা করে সময় ব্যয় করতে হয় না। গুগলের গবেষকদের মতে, এআইভিত্তিক বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের এই সমন্বয় ভবিষ্যতে গণিত গবেষণার ধরন বদলে দিতে পারে।


সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রযুক্তি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সমুদ্রের গভীরে গড়ে উঠল মানুষের নতুন আবাস

মহাকাশে মানুষের তৈরি স্পেস স্টেশনে বসবাসের গল্প আমরা সবাই জানি। কিন্তু এবার পৃথিবীর বুকেই এক নতুন রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের সূচনা হলো। সমুদ্রের গভীর অন্ধকূপ ও রহস্যময় তলদেশে অবশেষে চালু হলো মানুষের তৈরি প্রথম সম্পূর্ণ কার্যকর সাবসি হ্যাবিট্যাট বা পানির নিচের কৃত্রিম বাসস্থান। আপনি কি সমুদ্রকে এতটাই ভালোবাসেন যে ল্যাবরেটরি, ডরমিটরি ও ডাইভিং ভেসেলের সংমিশ্রণে তৈরি একটি কাঠামোর ভেতরে সমুদ্রের তলদেশে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিতে রাজি আছেন?   খুব শিগগির অ্যাকুয়ানটস বা জলচারীদের একটি বিশেষ দল ঠিক এই কাজটিই করতে যাচ্ছে। সমুদ্র প্রকৌশল সংস্থা ডিপের তৈরি স্বল্পমেয়াদি পানির নিচের বাসস্থান ভ্যানগার্ডে তাঁরা বসবাস শুরু করবেন। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির হাত ধরেই প্রথমবারের মতো মানুষ সমুদ্রের তলদেশে দীর্ঘ সময় কাটানোর এক অভূতপূর্ব সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ভ্যানগার্ড কেবল শুরু। ২০২৭ সালের মধ্যে তারা সেন্টিনেল নামের আরও একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে সমুদ্রের যেকোনো মহীসোপানে স্বল্পমেয়াদি বা স্থায়ীভাবে মানববসতি স্থাপন করা সম্ভব হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা কিজ ন্যাশনাল মেরিন স্যাঙ্কচুয়ারির টেনেসি রিফের পানির ১৭ মিটার গভীরে একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্মের ওপর এই ভ্যানগার্ড স্থাপন করা হয়েছে। এখানে একসঙ্গে চারজন ক্রু মেম্বার থাকতে পারবেন। ভ্যানগার্ডের অন্যতম প্রথম ক্রু মেম্বার এবং নাসার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অ্যাকুয়ানট ডন কার্নাগিস জানান, বিজ্ঞানীদের জন্য পানির নিচে একটানা সময় কাটানো গবেষণার ক্ষেত্রে এক বিশাল আশীর্বাদ।   সাধারণত সমুদ্রের গভীর থেকে কোনো নমুনা বা স্পেসিমেন যখন ওপরে আনা হয়, তখন চাপের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে তার আণবিক বা কোষীয় গঠনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। ফলে বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের গভীরে উপাদানটি আসলে কেমন অবস্থায় ছিল, তা নিখুঁতভাবে বুঝতে পারেন না। কিন্তু ভ্যানগার্ডের ভেতরে বসেই বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের তলদেশের চাপ অপরিবর্তিত রেখে একদম রিয়েল-টাইমে সেসব নমুনা পরীক্ষা করতে পারবেন। ভ্যানগার্ড মূলত একটি বড় ডিকম্প্রেশন চেম্বারের মতো কাজ করে, যা এর ভেতরের বাতাস এবং বায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এর ভেতরের বাসিন্দারা মূলত স্যাচুরেশন ডাইভার হিসেবে থাকবেন। এর ফলে তারা প্রথাগত স্কুবা ডাইভিংয়ের মতো মাত্র ৬০ মিনিটের সীমাবদ্ধতা ভেঙে কয়েক সপ্তাহ বা মাসজুড়ে সমুদ্রের তলদেশে কাটাতে পারবেন। তাঁরা একটি আম্বিলিক্যাল কর্ড বা বিশেষ পাইপের মাধ্যমে ভ্যানগার্ড থেকে সরাসরি বাতাস নিয়ে বাইরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত পানির নিচে কাজ করতে পারবেন।   সবচেয়ে মজার বিষয় হলো ভ্যানগার্ডের মুন পুল, যা মূলত নিচের দিকে থাকা একটি খোলা দরজা। যেহেতু ভেতরের ও বাইরের বায়ুচাপ সমান রাখা হয়, তাই এই দরজাটি সরাসরি সমুদ্রের তলদেশের দিকে খোলা থাকলেও ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে না। ডাইভাররা সরাসরি হ্যাবিট্যাটের মেঝে থেকেই সাগরে ঝাঁপ দিতে পারেন। পানির নিচের এই স্টেশনটির সঙ্গে ভূপৃষ্ঠের সংযোগকারী একটি আম্বিলিক্যাল কেব্‌লের মাধ্যমে যুক্ত থাকে একটি ভাসমান বয়া। এই বয়াটি ক্রুদের জন্য বাতাস, বিদ্যুৎ এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের ব্যবস্থা করে। ফলে অনশোর বা মূল ঘাঁটির সঙ্গে ক্রুরা ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ রাখতে পারেন। এখানে ব্যবহারের জন্য স্বাদুপানির ট্যাংক রয়েছে এবং বর্জ্য বা পয়ঃনিষ্কাশনের পানি ভেতরে রিসার্কুলেট না করে সরাসরি নিষ্কাশন করে নিরাপদে অপসারণ করা হয়।   যদিও বর্তমানে ভ্যানগার্ডকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে এর পেছনে আরও অনেক বাণিজ্যিক এবং প্রতিরক্ষা–সংক্রান্ত স্বার্থও জড়িয়ে রয়েছে। ডিপের অংশীদারদের তালিকায় রয়েছে এমন সব কোম্পানি যারা মহাকাশ প্রযুক্তি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞানী ডন কার্নাগিস আরও বলেন, ‘আমরা সাবসি হ্যাবিট্যাট বা সমুদ্রের নিচের বাসস্থানকে সাধারণ মানুষের কাছেও নিয়ে যেতে চাই। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী ছাড়াও শিল্পী, ইতিহাসবিদ, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ এমনকি রাজনীতিবিদদেরও এখানে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা সমুদ্রের তলদেশের পরিবেশ ও জীবন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন।   সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ‘আসক্তি তৈরির’ নকশা বদলাতে ইইউর নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

বুয়েট প্রকৌশলীদের ‘টিপসই’ এখন বিশ্বের ১১ দেশে

ছবি: সংগৃহীত

মানুষের সাহায্য ছাড়াই প্রথমবার এআইয়ের সাইবার আক্রমণ

সন্তান হারিয়ে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও মায়ের সঙ্গে শৈশবের প্রিয় কার্টুন নিয়ে ক্ষুদেবার্তা আদান-প্রদান করছিলেন ২৪ বছর বয়সী অ্যালিস ক্যারিয়ার। মা ক্রিস্টি ক্যারিয়ারের কাছে মেয়ে ছিলেন তার গল্পসঙ্গী। তবে দীর্ঘদিন ধরে নিজের মানসিক সংকট ও একাকীত্বের কথা ভাগ করে নেওয়ার জন্য অ্যালিস বেছে নিয়েছিলেন চ্যাটজিপিটিকে।   মেয়ের মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর ওপেনএআই এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ক্রিস্টি ক্যারিয়ার। তার অভিযোগ, ব্যবহারকারীর আত্মঘাতী মানসিক অবস্থা শনাক্ত করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কিংবা পরিবারকেও সতর্ক করা হয়নি।     আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, কানাডার মন্ট্রিয়ালে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত অ্যালিস ২০২৩ সালে প্রথমে কম্পিউটার ও গেমিং কনসোল-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান খুঁজতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করেন। পরে সেই ব্যবহার প্রযুক্তিগত প্রশ্নোত্তরের গণ্ডি ছাড়িয়ে তার ব্যক্তিগত ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনার ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। একাকীত্ব, মানসিক চাপ এবং আত্মমূল্যায়নসংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়ে তিনি নিয়মিত চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলতেন।     অ্যালিস ক্যারিয়ার ২০২৫ সালের ২ জুলাই মন্ট্রিয়ালে নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন। এরপর মেয়ের ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে চ্যাটজিপিটি অ্যাপে দীর্ঘ কথোপকথনের রেকর্ড খুঁজে পান তার মা। মামলায় দাবি করা হয়েছে, আত্মঘাতী চিন্তা ও মানসিক অবস্থার অবনতিসংক্রান্ত বিষয়ে অ্যালিস অন্তত ৪০ বারের বেশি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।   ক্রিস্টি ক্যারিয়ার জানিয়েছেন, অ্যালিস মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন এবং নিয়মিত থেরাপিও নিতেন। একইসঙ্গে অ্যালিস নিজের না-বলা কষ্টগুলো ক্রমশ চ্যাটবটের কাছে প্রকাশ করতে শুরু করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জিপিটি-৪ও মডেল ব্যবহারকারীর প্রতি সহানুভূতিশীল প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে অ্যালিসকে এর ওপর মানসিকভাবে নির্ভরশীল করে তোলে। অথচ এসব কথোপকথন ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা দলের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়নি এবং কোনও জরুরি হস্তক্ষেপও করা হয়নি।   ওপেনএআই ঘটনাটিকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আলোচিত কথোপকথনগুলো চ্যাটজিপিটির একটি পুরোনো মডেলের সঙ্গে হয়েছিল, যা বর্তমানে আর ব্যবহৃত হয় না। ওপেনএআই জানিয়েছে, এরপর থেকে তারা ১৭০ জনের বেশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করেছে এবং ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়িয়েছে।   ক্রিস্টি ক্যারিয়ারের ভাষ্য, তার মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা শুধু তাদের পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়; অজান্তেই আরও অসংখ্য তরুণ-তরুণী একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে। তাই ভবিষ্যতে অন্য কোনও পরিবার যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের সঙ্গে অতিরিক্ত মানসিক নির্ভরশীলতা এবং তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমানে চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক ব্যবহারকারী সংখ্যা শত কোটির পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে তরুণদের একটি বড় অংশ মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শের জন্য এআই চ্যাটবটের শরণাপন্ন হচ্ছেন।   ফলে শুধু এআই মডেলের সক্ষমতা বৃদ্ধি নয়, বরং কোটি কোটি ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় দায়িত্ব হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইভিত্তিক সেবার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এসব প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকেও আরও শক্তিশালী করতে হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৫, ২০২৬
ওপেনএআই’র চ্যাটজিপিটিতে নতুন ফিচার যুক্ত

ওপেনএআই’র চ্যাটজিপিটিতে নতুন ফিচার যুক্ত

ছবি: সংগৃহীত

বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, প্রতিদিন ২০০ টাকা ভাতা; আবেদন শেষ ১৫ জুন

ছবি: সংগৃহীত

৫৬ বছরের অমীমাংসিত গাণিতিক সমস্যার সমাধান করল গুগলের এআই

ছবি : সংগৃহীত
মঙ্গল গ্রহে পাথরের অদ্ভুত স্তূপ কোথা থেকে এল, কারা রাখল

লাল গ্রহ মঙ্গলকে ঘিরে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এই গ্রহের রুক্ষ ও শুষ্ক মরুভূমির বুকে লুকিয়ে আছে কোটি কোটি বছরের প্রাচীন ইতিহাস, যা জানার জন্য প্রতিনিয়ত গবেষণা চলছে। সম্প্রতি নাসার পারসিভারেন্স রোভার মঙ্গল গ্রহে অদ্ভুত গঠনের পাথরের সন্ধান পেয়েছে, যা দেখতে একটির ওপর আরেকটি খাড়াভাবে স্তূপ করে রাখা পাথরের মতো। এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই মঙ্গলের ভূতত্ত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ১৩ মে রোভারের উঁচুতে বসানো অত্যাধুনিক মাস্টক্যাম-জেড ক্যামেরার সাহায্যে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, পাথরগুলো এমন সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো রয়েছে, যেন মনে হয় কেউ হাত দিয়ে একটির ওপর আরেকটি স্তূপ করে রেখেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, লাখ লাখ বছর ধরে তীব্র বাতাস এবং পরিবেশগত প্রতিকূলতার কারণে পাথরগুলোর ক্ষয় হয়েছে। এর ফলে পাথর উপরিভাগ অসম বা আঁকাবাঁকা আকার ধারণ করে সেগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। আসলে এগুলো আলাদা কোনো পাথরের স্তূপ নয়, একটিমাত্র বিশাল পাথর যা কোনো কারণে ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। আর মঙ্গলের তীব্র বাতাস লাখ লাখ বছর ধরে এই ভাঙা পাথরগুলোকে এমন অদ্ভুত রূপ দিয়েছে। প্রাচীনকালে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ আজকের মতো ছিল না। সেই সময়ে এই গ্রহে প্রবহমান নদী বা পানির ধারা, পরিবর্তনশীল আবহাওয়া এবং বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া সক্রিয় ছিল। এর আগে নাসার কিউরিওসিটি রোভারের করা বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মঙ্গলের বর্তমান ভূপ্রকৃতি গঠনে সেখানকার তীব্র ও চরম বাতাস প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। সেখানে প্রতিনিয়ত বিশাল বিশাল পাথুরে এলাকাকে ক্ষয় করে চলেছে। মঙ্গলের প্রাচীন নদীতে বা নদীর তলদেশগুলোও একসময় এই বড় বড় পাথরের খণ্ডকে ভাঙতে এবং স্থানান্তরিত করতে সাহায্য করেছিল। নাসার মঙ্গল মিশন অতীতেও এমন অনেক ছবি পাঠিয়েছে, যা প্রথম দেখায় মানুষকে চমকে দিয়েছিল। রোভারের পাঠানো ছবিতে মঙ্গলের বুকে অদ্ভুত আকৃতির বস্তু, বিচিত্র নকশা এবং ডোরাকাটা পাথর দেখা গেছে। এসব ছবি ইন্টারনেট–দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে অনেকবার। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৭৬ সালে নাসার ভাইকিং মিশনের সময়। ভাইকিং এমন একটি ছবি পাঠিয়েছিল, যা দেখতে হুবহু মানুষের বিশাল মুখের অবয়বের মতো লাগছিল। পরবর্তী সময়ে উন্নত প্রযুক্তির ছবিতে প্রমাণিত হয় যে সেটি আসলে একটি সাধারণ পাথরের স্তূপ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। পারসিভারেন্স রোভারও এর আগে এমন অনেক ছবি পাঠিয়েছে, যা প্রথম দেখায় অদ্ভুত লাগলেও পরে সাধারণ ভূতাত্ত্বিক গঠন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। মঙ্গল গ্রহের একটি বিশাল অংশ এখনো অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। পারসিভারেন্সের মতো রোভারগুলোই এখন মঙ্গলের মাটিতে আমাদের গবেষণার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। প্রতিটি ছবি এবং স্ক্যান পৃথিবীতে তথ্য পাঠাচ্ছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলের পরিবর্তনের রহস্য বুঝতে সাহায্য করছে। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক যেকোনো অচেনা কাঠামোর মধ্যে পরিচিত কোনো রূপ খোঁজার চেষ্টা করে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় প্যারেডোলিয়া বলা হয়। কিন্তু প্রকৃতির নিজস্ব প্রকৌশল যে মানুষের কল্পনার চেয়েও নিখুঁত হতে পারে, এই পাথর তারই প্রমাণ।   সূত্র: টেক্লুসিভ নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফোন নম্বর ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলার নতুন সুবিধা

ছবি: সংগৃহীত

দেড়-দুই লাখ টাকার সোলারে চলবে এসি, ফ্রিজ ও টিভি

ছবি : সংগৃহীত

ভয়াবহ গরমের উৎস হতে পারে ডেটা সেন্টার, দাবি গবেষণায়

0 Comments