নবগঠিত ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোতাহার হোসেন তালুকদার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-২ আসনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সরকার তাকে এ দায়িত্ব দেয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন গতকাল রাতে জারি করা হয়। এতে বলা হয়, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী মোতাহার হোসেন তালুকদারকে অন্য যেকোনও পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই মান রাখতে কাজ করে যাবো। তিনি আগেও জনগণের রাজনীতি করার জন্য আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন।’
মোতাহার হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা ময়মনসিংহবাসীর জন্য কিছু কাজ করতে চাই। এই শহরটাকে একটা পরিকল্পিত শহর এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ওই পারে যে এলাকাটা আছে, সেটাকেও কাজে লাগিয়ে মানুষের মনমতো একটা সুন্দর শহর গড়তে চাই। আমরা একটা পরিকল্পিত নগরী এবং মনোরম সিটি গড়তে চাই, যেটা দৃষ্টিনন্দন ও মানুষের নজর কাড়বে। বাইরে থেকে যেকোনো লোক ময়মনসিংহ শহরে আসবে কিংবা ময়মনসিংহ জেলায় ঢুকবে, তখন বুঝবে যে এটা ময়মনসিংহ। ও রকম একটা সিটি আমরা প্রতিষ্ঠা করবো, ইনশা আল্লাহ।’
এর আগে গত ১২ জানুয়ারি ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। ময়মনসিংহ মহানগর ও আশপাশের এলাকার ভূপ্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ, পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ-সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটনশিল্পের বিকাশ, উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করা এবং মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়। এটি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে।
ময়মনসিংহ-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহর কাছে হেরে যান বিএনপি প্রার্থী মোতাহার হোসেন। মুহাম্মদুল্লাহ পেয়েছিলেন এক লাখ ৪৪ হাজার ভোট। আর বিএনপি প্রার্থী পেয়েছিলেন এক লাখ ১৭ হাজার ভোট। ভোটের ব্যবধান ২৭ হাজার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নবগঠিত ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোতাহার হোসেন তালুকদার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-২ আসনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সরকার তাকে এ দায়িত্ব দেয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন গতকাল রাতে জারি করা হয়। এতে বলা হয়, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী মোতাহার হোসেন তালুকদারকে অন্য যেকোনও পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই মান রাখতে কাজ করে যাবো। তিনি আগেও জনগণের রাজনীতি করার জন্য আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন।’ মোতাহার হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা ময়মনসিংহবাসীর জন্য কিছু কাজ করতে চাই। এই শহরটাকে একটা পরিকল্পিত শহর এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ওই পারে যে এলাকাটা আছে, সেটাকেও কাজে লাগিয়ে মানুষের মনমতো একটা সুন্দর শহর গড়তে চাই। আমরা একটা পরিকল্পিত নগরী এবং মনোরম সিটি গড়তে চাই, যেটা দৃষ্টিনন্দন ও মানুষের নজর কাড়বে। বাইরে থেকে যেকোনো লোক ময়মনসিংহ শহরে আসবে কিংবা ময়মনসিংহ জেলায় ঢুকবে, তখন বুঝবে যে এটা ময়মনসিংহ। ও রকম একটা সিটি আমরা প্রতিষ্ঠা করবো, ইনশা আল্লাহ।’ এর আগে গত ১২ জানুয়ারি ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। ময়মনসিংহ মহানগর ও আশপাশের এলাকার ভূপ্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ, পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ-সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটনশিল্পের বিকাশ, উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করা এবং মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়। এটি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে। ময়মনসিংহ-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহর কাছে হেরে যান বিএনপি প্রার্থী মোতাহার হোসেন। মুহাম্মদুল্লাহ পেয়েছিলেন এক লাখ ৪৪ হাজার ভোট। আর বিএনপি প্রার্থী পেয়েছিলেন এক লাখ ১৭ হাজার ভোট। ভোটের ব্যবধান ২৭ হাজার।
মাহমুদা খাতুন চলতি বছর মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে। সম্প্রতি ভর্তিও হয়েছে জামালপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে। প্রথম বর্ষের ক্লাশও শুরু হয়েছে। এরপরও তার লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তার বাবা একজন চা বিক্রেতা। তার পক্ষে মেয়ের মেডিকেলে লেখাপড়ার খরচ জোগানো সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে ক্লাশ শুরু হলেও বই ও স্কিলেটন (কঙ্কাল) কেনা অতি জরুরি হলেও টাকার জোগাড় করতে না পারায় তা কিনে দিতে পারেননি এখনো। মোসা. মাহমুদা খাতুনের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির কৃষ্ণপুর গ্রামে। বাবা চা বিক্রেতা মাসুদ রানা ও মা সায়েরা বিবি একজন গৃহিণী। মাসুদ রানার কোনো ছেলে নেই, দুই মেয়ে। এর মধ্যে মাহমুদা বড়। আর ছোট মেয়ে মিম খাতুন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। মাহমুদা ২০২৩ সালে কৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পায়। আর ২০২৫ সালে কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ হতে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবা মাসুদ রানা বলেন, মাহমুদা ছোট থেকেই পড়াশোনাই আগ্রহী। আমরা পড়ালেখা জানি না। মেয়ে পড়ার আগ্রহ দেখে খেয়ে না খেয়ে গ্রামের প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পর্যন্ত পড়িয়েছি। প্রাইভেট পড়ার টাকাও দিতে পারিনি ওই সময়ে। গরিবের মেয়ে হলেও তার চোখে মুখে স্বপ্ন ছিল ডাক্তারি পড়ার। তার মেধাশক্তি ও ইচ্ছার প্রতিফলন আল্লাহপাক কবুল করেছেন। মাহমুদার ডাক্তারি পড়ালেখায় সহায়তা করতে হৃদয়বান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে পরিবার। মাসুদ রানা আরও বলেন, গ্রামে তার ছোট একটি চায়ের দোকান আছে। চা বিক্রি করে প্রতিদিন তার ৪শ থেকে ৫শ টাকা আয় হয়। এতে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। এত স্বল্প আয় দিয়েই তিনি গ্রামের কলেজে মেয়েকে পড়ালেখা করাতে পেরেছেন। এখন মেডিকেলে চান্স পেয়েছে তার মেয়ে। ভর্তির সময় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেই টাকাও ধার দেনা করে খরচ করা হয়েছে। ক্লাশ শুরু হয়েছে তার বই কিনতে লাগবে ২০ হাজার টাকা। সেই সঙ্গে একটি স্কিলেটন (কঙ্কাল) যার মূল্য ৪০ হাজার টাকা। এতো টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়াও প্রতি মাসে খাতা কলম ও হোস্টেলে খাওয়ার খরচ মাহমুদার লাগবে আরও ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে। মাহমুদার মা সায়েরা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের কোনো সম্পত্তি নেই যে বিক্রি করে মাহমুদাকে পড়ার খরচ জোগাব। গ্রামে মাত্র দুই শতক জমি রয়েছে। সেখানে মাটি ও বেড়া দিয়ে ঘর বানিয়ে বাস করি। সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। মেয়েটি ছোট থেকে ধার্মিক, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। সৃষ্টিকর্তার কাছে কান্না করেন, যেন পড়াশোনা করে বড় ডাক্তার হয়ে গ্রামের সাধারণ গরিব-দুঃখী মানুষের ফ্রি চিকিৎসা করতে পারে তার মেয়ে। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন যাতে পূরণ হয় এজন্য রাষ্ট্রের সরকার ও দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। মাহমুদা খাতুন বলেন, প্রথম বর্ষের ক্লাশ শুরু হয়েছে। তাই গত এক সপ্তাহ আগে জামালপুর মেডিকেল কলেজে হোস্টেলে গিয়ে উঠেছেন। নিজের বই না থাকায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি খারাপও লাগছে। এছাড়াও কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে একটি স্কিলেটন (কঙ্কাল) কিনতে বলেছেন। কিন্তু বাবা টাকার অভাবে এখনো কিনে দিতে পারেননি। মাহমুদার প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিন মুণ্ডুমালা পৌরসভায় চাকরি করেন। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, মাহমুদা ছোট থেকে বাবার সংসারে শুধু অভাব-অনটনে বেড়ে উঠে। অন্যের বই ধার করে অনেক সময় পড়ালেখা করতে হয়েছে তাকে। তার বাবা মাসুদ রানা গ্রামে সকালে ও বিকালে চা বিক্রি করেন। এছাড়াও অতি অভাবে মানুষের কামলা খাটে। গ্রামে অনেক ধনী পরিবার থাকলেও মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাইনি। মাহমুদার পাশে সবাইকে দাঁড়ানো উচিত। এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, মাহমুদা খাতুনের মেডিকেল কলেজে ভর্তির বিষয়টি জানতাম না। এমন পরিবার থেকে মেডিকেলে ভর্তি শুধু তার পরিবারের একাই নয় পুরো তানোর উপজেলার সে গর্ব। তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে কথা বলে কিছু আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। তবে শুধু সরকারি সহায়তা নয়- এমন অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
রাজশাহী অঞ্চলের আম ব্যবসায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ‘ঢলন’ প্রথা বন্ধ করে কেজি দরে আম কেনাবেচার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমচাষিদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে আমচাষিরা তাদের উৎপাদিত আমের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১১টায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘আমের বিপণন ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সভায়’ সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। সভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আমচাষি, ব্যবসায়ী, আড়তদার, বাজার ইজারাদার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিশেষ করে রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। সভায় জানানো হয়, এতদিন আমচাষিদের কাছ থেকে এক মণ বা ৪০ কেজি আমের দাম পরিশোধ করা হলেও বাস্তবে আড়তদাররা ৫৪ কেজি পর্যন্ত নিতেন। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত এই ব্যবস্থাকে ‘ঢলন’ বলা হয়। চাষিদের অভিযোগ, এর ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আম বিনা মূল্যে চলে যায় এবং তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে কেজি হিসেবে আম কেনাবেচা করা হবে। এর মধ্য দিয়ে ‘ঢলন’ প্রথার দিন শেষ ঘোষণা করা হলো। একইসঙ্গে আড়তদারদের জন্য প্রতি কেজিতে তিন টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় একই নিয়মে আম বিপণন নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশের বৃহত্তম আমের বাজার হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট বাজারের ব্যবসায়ী ওমর আলী বলেন, বর্তমানে বাজারে মণপ্রতি ১০ টাকা এবং ক্যারেটপ্রতি আট টাকা টোল নেওয়া হয়। এ অবস্থায় টোল আদায়ের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানাই।’ কানসাটের আমচাষি আহসান হাবিব বলেন, আম আমাদের জীবন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু ঢলন প্রথার কারণে চাষিরা প্রতি বছর বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ৫৪ কেজি পর্যন্ত আম নেওয়া হলেও দাম দেওয়া হয় ৪০ কেজির। এতে প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ আম বিনামূল্যে চলে যায়। কানসাট অঞ্চলে বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার আম ব্যবসা হয়। ঢলন প্রথার কারণে এর একটি বড় অংশ অতিরিক্তভাবে চলে যায়। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। শিবগঞ্জের আমচাষি শামীম হোসেন বলেন, ‘অধিকাংশ আমের হাট সড়কের পাশে বসানো হয়। এতে যানজট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। নিরাপদ স্থানে বাজার স্থানান্তরের দাবি জানাই।’ আমচাষি সোহেল রানা বলেন, ‘সংরক্ষণ ও পরিবহনের কারণে শতকরা পাঁচ ভাগ পর্যন্ত ওজন কমে যেতে পারে। তাই সীমিত পরিমাণ অতিরিক্ত ওজন গ্রহণ করা যৌক্তিক হলেও এর বেশি নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি সব বাজারে একই ওজন পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানাই।’ সভায় বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমচাষিরা যেন তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বহুদিনের ঢলন প্রথা নিয়ে অসন্তোষ ছিল। আজকের সিদ্ধান্তে আমচাষিদের আর্থিক ক্ষতি কমবে এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় একই নিয়ম কার্যকর করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। এ সময় বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, কৃষি বিপণন অধিদফতর রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক শাহানা আখতার জাহান, ফল গবেষণা কেন্দ্র রাজশাহীর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের এজিএম মাহমুদুল আলম সজল।