২০২৭ সালের ২ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এটিকে ইতোমধ্যে ‘শতাব্দীর সূর্যগ্রহণ’ বলা হচ্ছে। সহজে যাওয়া যায় এমন স্থলভাগ থেকে দেখা সূর্যগ্রহণগুলোর মধ্যে এটি ২১১৪ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ হবে বলে জানিয়েছে ইউরোনিউজ।
গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে মিসরে পূর্ণগ্রাস প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড স্থায়ী হবে। তুলনায় ২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণের সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব ছিল ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।
তবে এই বিরল দৃশ্য দেখতে মিসর পর্যন্ত যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পূর্ণগ্রাসের পথ ইউরোপের জিব্রাল্টার প্রণালি পেরিয়ে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাবে।
স্পেনে মারবেলায় পূর্ণগ্রাস থাকবে ৩ মিনিট ২১ সেকেন্ড এবং কাডিজে ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড। উত্তর আফ্রিকার উপকূলে স্পেনের অধীন সেউতা ও মেলিয়ায় পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে যথাক্রমে ৪ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড ও ৪ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড।
ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি জিব্রাল্টারে পূর্ণগ্রাস স্থায়ী হবে ৪ মিনিট ২৮ সেকেন্ড। ইতালির লামপেদুসায় দেখা যাবে ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের পূর্ণগ্রাস।
উত্তর আফ্রিকার মরক্কোর টাঙ্গিয়ারে পূর্ণগ্রাস থাকবে ৪ মিনিট ৫১ সেকেন্ড। তিউনিসিয়ার কয়েকটি শহরও থাকবে পূর্ণগ্রাসের পথে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী সাফাক্সে গ্রহণের স্থায়িত্ব হবে ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড।
তবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য সূর্যগ্রহণ দেখতে চাইলে গন্তব্য হতে পারে মিসর। সিওয়া মরূদ্যানে পূর্ণগ্রাস থাকবে ৫ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড, আসিউটে ৬ মিনিট ৭ সেকেন্ড এবং লুক্সরে ৬ মিনিট ২২ সেকেন্ড।
সৌদি আরবের জেদ্দায় পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে ৫ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড এবং মক্কায় ৫ মিনিট ১০ সেকেন্ড।
এত বড় সময়ের পূর্ণগ্রাস দেখতে ইতোমধ্যেই পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে এসব এলাকার অনেক হোটেল আগেভাগেই বুক হয়ে যাচ্ছে এবং অবশিষ্ট থাকার জায়গাগুলোর দামও বেড়ে গেছে।
তীব্র গরম নিয়ে যারা চিন্তিত, তাদের জন্যও কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। নাসার গ্রহণবিষয়ক বিজ্ঞানী কেলি কোরেকের মতে, পূর্ণগ্রাসের সময় কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
২০২৭ সালের পরও সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ থাকছে। ২০২৮ সালের ২৬ জানুয়ারি একটি বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। আর ২২ জুলাই ২০২৮ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা জোরদার করেছেন তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের দীর্ঘদিনের সমর্থনে বিভেদ তৈরি করেছেন। মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এই ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর এক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও অন্য দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ফলে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের পক্ষে নতুন সরকার গঠন করে নেতানিয়াহুকে সরানো সহজ হচ্ছে না। রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা। এর মধ্যে নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। **যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে দূরত্ব** দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলই ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। ১৯৭০-এর দশক থেকে ওয়াশিংটন প্রতিবছর ইসরায়েলকে বিপুল সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে রিপাবলিকানদের পক্ষ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের। ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমতে শুরু করে। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকানদের একাংশও এ নিয়ে সমালোচনা করেন। চলতি বছর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর যৌথভাবে ইরানে হামলার সিদ্ধান্তের পর অসন্তোষ আরও বেড়েছে। এবারের নির্বাচনে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার সমালোচনাকে প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় করেন। নির্বাচনের দিন ট্রাম্পও ইসরায়েলকে প্রতিবছর দেওয়া ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দেন। তার দাবি, এতে ডেমোক্র্যাটদের একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার দুর্বল হবে। তবে এত দিন তিনি নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়ে এসেছেন। আইজেনকোট বুধবার বলেন, তার নেতৃত্বে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে জোরদার করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও গভীর করা হবে এবং সম্পর্কের দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় ভিত্তি শক্তিশালী করা হবে। ইসরায়েলের মধ্য-বামপন্থী বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসের নেতা ইয়ার গোলান বলেন, মার্কিন নির্বাচনের ফল দেখিয়েছে, নেতানিয়াহু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের কাছেই কতটা ক্ষতিকর হয়ে উঠেছেন। মধ্যপন্থী বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও বলেছেন, নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রকে ঝুঁকিতে ফেলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির অবস্থানও দুর্বল করছে। নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত মার্কিন নির্বাচনের ফল নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তার দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু নাকি আইজেনকোটের হাতে যাবে, তা স্পষ্ট হতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস লাগতে পারে। নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়ে একজন ব্যর্থ হলে অন্যজনকে সুযোগ দেওয়া হবে। দুজনই ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন হতে পারে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উডি সোমারের মতে, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা নতুন মার্কিন কংগ্রেস ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পররাষ্ট্রনীতির বেশির ভাগ ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকলেও শুনানি, তদন্ত ও বাজেটের মাধ্যমে কংগ্রেস ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সোমার বলেন, ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এবং রিপাবলিকানদের পরাজয় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক ব্যুরোর সাবেক সদস্য মা শিংরুইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে। রয়টার্স জানায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার করার মধ্যে তার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। সরকারি কৌঁসুলিদের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা এবং চীনের মহাকাশ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন মা। এভাবে তিনি বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ঘুষ গ্রহণ করেছেন। গত সপ্তাহে দুর্নীতির অভিযোগে মা শিংরুইকে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। দলের পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। মা শিংরুইসহ মোট ৩৩ জন কর্মকর্তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ঝাং ইউশিয়া, সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক লিউ জিয়ানচাও এবং সাবেক শিল্পমন্ত্রী জিন ঝুয়াংলং। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইমেইল ও ফ্যাক্সের মাধ্যমে মা শিংরুইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পরও তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রিতে সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে তাইপে। বৃহস্পতিবার তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বরাবরই দলমত-নির্বিশেষে তাইওয়ানের প্রতি সমর্থন রয়েছে। দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতেও কংগ্রেস সহায়তা করবে বলে তিনি মনে করেন। আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেন, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ। তবে আরও ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ আটকে রয়েছে। গত মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ওই প্যাকেজকে দর-কষাকষির একটি হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে আসছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ। তবে তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধু সেখানকার জনগণের। তাইপেতে পার্লামেন্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওয়েলিংটন কু বলেন, তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে তার সরকার। একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা হবে, যাতে অস্ত্র বিক্রির কার্যক্রম নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগিয়ে যায়। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও কর্মঘণ্টার বাইরে থাকায় পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির চার আইনপ্রণেতা তাইওয়ানের জন্য আটকে থাকা ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি নিরাপত্তা সহায়তা ছাড় করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। সূত্র: রয়টার্স