ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত ছিল তুঙ্গে, বিশেষ করে ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধে মারণাস্ত্রের ব্যবহার ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত ছিল তুঙ্গে, বিশেষ করে ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধে মারণাস্ত্রের ব্যবহার ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রায়। বিশ্বব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘাতে গত বছর ব্যাপক প্রাণহানির বিপরীতে বিপুল পরিমাণ মুনাফা করেছে অস্ত্রবিক্রেতারা। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ১০০ অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানি ২০২৪ সালে অস্ত্র ও সামরিক পরিষেবা বিক্রি বাবদ ৬৭ হাজার ৯০০ কোটি ডলার আয় করেছে। এ সময় কোম্পানিগুলোর ২০২৪ সালের তুলনায় আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
২০১৮ সালের পর গত বছরই প্রথম বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অস্ত্র কোম্পানির আয় একসঙ্গে বেড়েছে। এসআইপিআরআইর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী অস্ত্র ব্যবসার রেকর্ড আয়ের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপভিত্তিক কোম্পানিগুলোর দখলে। গত বছর এশিয়া ও ওশেনিয়া বাদ দিয়ে সব অঞ্চলেই প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে অস্ত্র ব্যবসা।
বিশ্বব্যাপী গত বছর অস্ত্রের উৎপাদন ও বিক্রি বৃদ্ধির পেছনে গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছে এসআইপিআরআই। সংস্থাটির মিলিটারি এক্সপেনডিচার অ্যান্ড আর্মস প্রডাকশন প্রোগ্রাম বিভাগের গবেষক লরেঞ্জো স্কারাজাটো বলেন, ‘গত বছর বৈশ্বিক অস্ত্র খাতের আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্রেতা চাহিদা মেটাতে কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন লাইন, কারখানার পরিসর বৃদ্ধি বা অধিগ্রহণ চুক্তি করতে হয়েছে। তবে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর পরও এখনো কোম্পানিগুলো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে, যার ফলে এগুলোর খরচ ও সরবরাহ শিডিউল প্রভাবিত হতে পারে।’
বিশ্বের ১০০টির শীর্ষ অস্ত্র কোম্পানির মধ্যে ৩৯টিই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক। এর মধ্যে ৩০টির আয় গত বছর বেড়েছে। এসব মার্কিন কোম্পানির সম্মিলিত আয় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে লকহিড মার্টিন, নরথ্রপ গ্রুম্যান ও জেনারেল ডায়নামিকস। তবে এ আয় বৃদ্ধির পরও মার্কিন কোম্পানিগুলোর এফ-৩৫ ফাইটার জেট, কলাম্বিয়া ও ভার্জিনিয়া-ক্লাস সাবমেরিন ও সেনটিনেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইলের মতো প্রকল্প বাজেট জটিলতায় ভুগছে।
স্টকহোমভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদন অনুসারে, ইলোন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্স প্রথমবারের মতো শীর্ষ বৈশ্বিক সামরিক সরঞ্জাম নির্মাতাদের তালিকায় স্থান পেয়েছে। কোম্পানিটির অস্ত্র বিক্রি বাবদ আয় দ্বিগুণ হয়ে ১৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো তালিকায় প্রবেশ করেছে ইন্দোনেশিয়ার ডিইএফইএনডি আইডি, কোম্পানিটির আয় ৩৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১১০ কোটি ডলার।
শীর্ষ ১০০ অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানির তালিকায় রাশিয়া বাদ দিয়ে ইউরোপের কোম্পানি আছে ২৬টি। এর মধ্যে ২৩টিরই আয় বেড়েছে। এসব কোম্পানির সম্মিলিত আয় ১৩ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার হয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের জন্য আর্টিলারি শেল উৎপাদনকারী চেক কোম্পানি চেকস্লোভাক গ্রুপের আয় ১৯৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৬০ কোটি ডলার। এটি শীর্ষ ১০০ কোম্পানির মধ্যে আয় বৃদ্ধির হারে সর্বোচ্চ। জেএসসি ইউক্রেনিয়ান ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রির আয় ৪১ শতাংশ বেড়ে ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তালিকায় স্থান পাওয়া রুশ দুই কোম্পানি রসটেক ও ইউনাইটেড শিপবিল্ডিং করপোরেশনের সম্মিলিত আয় ২৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ১২০ কোটি ডলার।
এসআইপিআরআই বলছে, ইউক্রেনে রাশিয়াকে মোকাবেলায় ইউরোপের দেশগুলো উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়ে তুলছে। তবে দুষ্প্রাপ্য খনিজের ওপর চীনের রফতানি নিয়ন্ত্রণ এসব কোম্পানির জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
তবে এ সময় এশিয়া ও ওশেনিয়ার অস্ত্র নির্মাতাদের আয় কমেছে। এসব কোম্পানির আয় আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে হয়েছে ১৩ হাজার কোটি ডলার। এর মধ্যে চীনভিত্তিক আটটি কোম্পানির সম্মিলিত আয় কমেছে ১০ শতাংশ। বিশেষ করে স্থলযুদ্ধের জন্য সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কোম্পানি এনওআরআইএনসিওর আয় কমেছে ৩১ শতাংশ।
এসআরপিআরআইর মিলিটারি এক্সপেনডিচার অ্যান্ড আর্মস প্রডাকশন প্রোগ্রাম বিভাগের পরিচালক নান তিয়ান বলেন, ‘চীনে অস্ত্র ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগের কারণে ২০২৪ সালে বড় সমরাস্ত্র সরবরাহ চুক্তি স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। এটি দেশটির সামরিক আধুনিকায়ন ও নতুন সক্ষমতা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।’
অন্যদিকে ইউরোপীয় ও স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে শক্তিশালী চাহিদা দেখেছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার অস্ত্র নির্মাণ খাত। এতে তাইওয়ান ও উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে উত্তেজনার বিশেষ অবদান রয়েছে।
জাপানের পাঁচ অস্ত্র কোম্পানির সম্মিলিত আয় গত বছর ৪০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার। দক্ষিণ কোরিয়ার চার কোম্পানির আয় ৩১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪১০ ডলার। দেশটির সবচেয়ে বড় অস্ত্র কোম্পানি হানওয়া গ্রুপের আয় বেড়েছে ৪২ শতাংশ, যার অর্ধেকের বেশি এসেছে রফতানি বাবদ।
প্রথমবারের মতো তালিকার শীর্ষ ১০০ কোম্পানির মধ্যে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের নয়টি প্রতিষ্ঠান। এ সময় কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার আয় করেছে, যা আগের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। তবে তথ্যের অভাবে তালিকায় ঠাঁই পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) এজ গ্রুপ।
তালিকায় থাকা ইসরায়েলি তিনটি অস্ত্র কোম্পানির আয় ১৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬২০ কোটি ডলার। গাজায় ইসরায়েলি হামলার রসদ সরবরাহ করতে গিয়ে উৎপাদন বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। এ সময় ৭০ হাজারের মতো ফিলিস্তিনিকে হত্যার পাশাপাশি পুরো গাজার অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসআইপিআরআই জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলে নির্মিত মনুষ্যবিহীন আকাশযান ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা কোম্পানি রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্সের আয় বেড়েছে।
এ তালিকায় তুর্কি কোম্পানি পাঁচটি। ২০২৪ সালে এগুলোর সম্মিলিত আয় ১১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১০ কোটি ডলার হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি এবং বহু মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার সকালে বিমানবন্দরের একটি টার্মিনাল ভবনে একাধিক ড্রোন আঘাত হানে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৌদ আবদুলআজিজ আল-ওতাইবির এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ এলাকায় বিস্ফোরকবাহী কয়েকটি ড্রোন আঘাত করে। এতে স্থাপনার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে হামলার পর বিমানবন্দরে সব ধরনের বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে হামলার জন্য ইরানি ড্রোনকে দায়ী করা হলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান। উল্লেখ্য, একই দিনে ভোরের দিকে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সেই হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এসব ঘটনার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। সেন্টকোমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের একটি ‘গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন’ লক্ষ্য করে বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, অভিযানে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে আঘাত করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার গভীর রাতে ইরান কুয়েতে মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটির দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই হামলাকে ‘শত্রুতাপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে এর পাল্টা জবাব হিসেবে কেশম দ্বীপে অভিযান চালানোর কথা জানায় সেন্টকোম। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানের নিক্ষেপ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত করা হয়েছে। কুয়েতে দুটি এবং বাহরাইনে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। এছাড়া পারস্য উপসাগরে কয়েকটি বেসামরিক জাহাজের দিকে ইরান ড্রোন পাঠিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে সেন্টকোম। তাদের দাবি, মার্কিন নৌবাহিনী এসব ড্রোনও ধ্বংস করেছে। অর্থনৈতিক ও সামরিক গুরুত্বের কারণে কেশম দ্বীপ ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপটিতে তেল ও গ্যাস সংরক্ষণের একাধিক স্থাপনা রয়েছে এবং এখানকার বন্দর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল করে। অন্যদিকে, কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে, কেশমে বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরই আইআরজিসি ওই হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি
লেবানন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর ইসরায়েলের কয়েকটি এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার পর বিমানবাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পরে লেবানন থেকে ছোড়া দুটি প্রজেক্টাইল ইসরায়েলি আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া