স্বাস্থ্য

সংগৃহীত ছবি
রুক্ষ চুলে বিরক্ত? জেনে নিন সহজ যত্নের উপায়

প্রখর রোদ, ঘাম আর ধুলাবালির কারণে গরমকালে চুলের সমস্যা বেড়ে যায়। চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত চুল পড়া কিংবা খুশকির মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। তাই এই সময়ে একটু বাড়তি যত্ন নিলেই চুল থাকবে সুস্থ ও প্রাণবন্ত। নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখুন গরমে মাথার ত্বক বেশি ঘামে, ফলে ময়লা জমে যায়। তাই সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করুন। তবে অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার না করাই ভালো। তেল ব্যবহার করুন চুলের পুষ্টির জন্য সপ্তাহে ১-২ বার নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এটি চুলকে নরম ও মজবুত রাখতে সাহায্য করে। হিট স্টাইলিং কমান গরমে হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লিং আয়রন ব্যবহার কমিয়ে দিন। অতিরিক্ত তাপ চুলকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এতে করে চুলের রুক্ষতা রোধ করা যাবে। হাইড্রেশন বজায় রাখুন পর্যাপ্ত পানি পান করলে শুধু শরীরই নয়, চুলও ভালো থাকে। পানিশূন্যতা চুলকে শুষ্ক ও দুর্বল করে তোলে। প্রাকৃতিক হেয়ার প্যাক ব্যবহার  ডিম, দই, অ্যালোভেরা বা মেথি দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে চুল পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি। বাইরে গেলে চুল ঢেকে রাখুন রোদে বের হলে ছাতা বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন। এতে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চুল সুরক্ষিত থাকবে।  স্বাস্থ্যকর খাবার  প্রোটিন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন-ডিম, মাছ, শাকসবজি ও ফলমূল চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। এতে চুল থাকবে সুস্থ ও প্রাণবন্ত। সূত্র : এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু, সংক্রমণের হার বাড়ছে

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।   শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই হিসাব শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়কালের।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জনের। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৭৮ জনে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪২ জন, যাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬২৪ জন।   নিশ্চিত হামে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু না হলেও, ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। অপরদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৭৮ জন।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ৫২২ জন। এই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৫১ জন।   উল্লেখ্য, শুক্রবার প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩৭ বলা হলেও শনিবার তা সংশোধন করে ৩৫ করা হয়েছে। বরগুনা জেলায় ভুলক্রমে দুজনের মৃত্যুকে নিশ্চিত হাম হিসেবে গণনা করা হয়েছিল বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

আবরার আল মামুন সাহাফ এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
আধুনিক খাদ্যতালিকায় চিনি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে | ছবি : সংগৃহীত
চিনি ছাড়া ৪২ দিন, ‘অবিশ্বাস্য’ পরিবর্তনে চমকে দিলেন লেখিকা

প্রতিদিন অন্তত এক-দুটি চকোলেট বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া ছিল বিবিসির বিজ্ঞানবিষয়ক পুরস্কারজয়ী লেখিকা মেলিসা হোজেনবুমের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। কিন্তু অতিরিক্ত চিনি সেবনের স্বাস্থ্যঝুঁকি; যেমন দাঁতের ক্ষয়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং স্থূলতার কথা চিন্তা করে তিনি এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। টানা ৪২ দিন বা ছয় সপ্তাহ তিনি কোনো ধরণের ‘অ্যাডেড সুগার’ বা কৃত্রিম চিনি ছোঁবেন না। এই সময়ের মধ্যে তার শরীরে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।   লুকিয়ে থাকা চিনির ফাঁদ মেলিসা তার পরীক্ষা শুরু করতে গিয়ে দেখেন, চিনি কেবল চকোলেট বা মিষ্টিতেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ সুপারমার্কেটের পাউরুটি, স্যান্ডউইচ, এমনকি পাস্তা সসের মতো নোনতা খাবারেও প্রচুর পরিমাণে চিনি লুকানো থাকে। তিনি লক্ষ্য করেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলো আমাদের অজান্তেই প্রচুর চিনি শরীরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। চিনি ছাড়ার প্রথম কয়েকদিন মেলিসার জন্য ছিল প্রচণ্ড কষ্টের। তিনি তীব্রভাবে মিষ্টি খাওয়ার অভাব বোধ করতেন এবং ফ্রিজে পাগলের মতো মিষ্টি কিছু খুঁজতেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনি মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ সক্রিয় করে ডোপামিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা অনেকটা মাদকাসক্তির মতো কাজ করে। মেলিসার ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল, যা কাটিয়ে ওঠা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। অবিশ্বাস্য পরিবর্তনসমূহ ছয় সপ্তাহের এই সফরে মেলিসা বেশকিছু বিস্ময়কর পরিবর্তনের সাক্ষী হন: ১. অফুরন্ত শক্তি: চিনি ছাড়ার পর তার দুপুরের খাবারের পরের ক্লান্তি বা ঝিমুনি ভাব পুরোপুরি চলে যায়। সারা দিন তার শরীরের শক্তির মাত্রা স্থিতিশীল থাকতে শুরু করে। ২. স্বাদের অনুভূতি পুনর্গঠন: তিন সপ্তাহ পর মেলিসা লক্ষ্য করেন তার ‘টেস্ট বাডস’ বা স্বাদকোরকগুলো পরিবর্তিত হচ্ছে। সাধারণ একটি আপেলও তার কাছে আগের চেয়ে অনেক বেশি মিষ্টি মনে হতে থাকে। ৩. আভ্যন্তরীণ সুস্থতা: তার শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং ট্রাইগ্লিসারাইড বা ক্ষতিকর চর্বির পরিমাণ কমতে শুরু করে। ৪২ দিন পর সেই চকোলেট কুকি পরীক্ষা শেষে মেলিসা যখন আবারও একটি চকোলেট চিপ কুকি মুখে তুলেন, তখন ফল হয় উল্টো। সেটি তার কাছে এতটাই অসহ্য রকমের মিষ্টি মনে হয় যে, তিনি তা শেষ করতে পারেননি। কয়েক কামড় খাওয়ার পরেই তিনি ক্লান্তি অনুভব করেন এবং তার ঝিমুনি আসে। মেলিসা হোজেনবুম তার এই অভিজ্ঞতার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি পুরোপুরি চিনি বর্জন না করলেও সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতে আর কখনোই চিনিযুক্ত খাবার খাবেন না। চিনির ‘আসক্তির চক্র’ থেকে মুক্তি পাওয়াই ছিল তার এই ৪২ দিনের সবচেয়ে বড় অর্জন। বিবিসি অবলম্বনে

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
ঘরে বসেই সহজে ফেসিয়াল করার উপায়

ত্বক ভালো ও পরিষ্কার রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ফেসিয়াল। এটি মুখের ত্বককে এক্সফোলিয়েট এবং হাইড্রেট করতে সাহায্য করে, পাশাপাশি বিভিন্ন দাগ দূর করে। নিয়মিত ফেসিয়াল করলে ত্বক পরিষ্কার হয়। সেই সঙ্গে ত্বক বেশ নরম ও মসৃণ হয়।   অনেকেই আছেন যাদের ফেসিয়াল করতে পার্লারের উপরই নির্ভর করতে হয়। তবে পার্লারে যাওয়া সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না, তাছাড়া বেশ খরচ সাপেক্ষও। সেক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি মেনে বাড়িতেই কিন্তু ফেসিয়াল করতে পারেন। বাড়িতে ফেসিয়াল করার ক্ষেত্রে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। প্রথমেই হেডব্যান্ড বসান কপালের ঠিক ওপরে, হেয়ারলাইন বরাবর। ঘাড়ের পেছন দিয়ে গিঁট বেঁধে নিন চুলকে বাঁচানোর জন্য। ত্বক পরিষ্কার করে নিন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী মুখ ত্বকে ক্লিনজার লাগিয়ে নিন। তুলোর প্যাড ভিজিয়ে, চিপে নিন। ত্বকে ঘষতে থাকুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। ত্বক ভেজা থাকতে থাকতেই স্ক্রাব লাগিয়ে নিতে হবে। স্ক্রাবিংয়ে ডিপ পোর দূর হবে, যা তৈলাক্ত ত্বক এবং ব্ল্যাকহেডসের জন্য ভালো (যদি স্পট, পিম্পল, অ্যাকনে, র‌্যাশ থাকে, তাহলে স্ক্রাব এড়িয়ে চলুন)। ত্বক যদি স্বাভাবিক থেকে শুষ্কর দিকে হয়, তাহলে এরপর নারিশিংয়ের পালা। ত্বকে নারিশিং ক্রিম লাগিয়ে নিন। তারপর ভিজে হাতে ম্যাসাজ করুন। চোখের চারপাশে ম্যাসাজ করার সময় শুধু অনামিকা ব্যবহার করুন। খুব আলতো আঙুলে ঘষবেন। খেয়াল রাখবেন যেন ম্যাসাজের সময় ত্বকে টান না পড়ে। ঘাড়ে ম্যাসাজ করুন চিবুক থেকে, নিচের দিকে। তিন-চার মিনিট এভাবে ম্যাসাজ করে, ভিজে তুলো বা ফেস টাওয়েল দিয়ে মুখ-গলা-ঘাড় মুছে পরিষ্কার করে নিন। তৈলাক্ত ত্বক হলে মুখে ক্রিম ব্যবহার করবেন না, খালি ঘাড়ে দিন। এবার ফেস মাস্ক লাগিয়ে (বাড়িতে মাস্ক বানানোর পদ্ধতি আগেই বলা হয়েছে) ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে, জলে ধুয়ে নিন। বরফ-ঠান্ডা গোলাপজলে তুলো ডুবিয়ে, তা দিয়ে মুখ মুছে নিন। শেষে মুখে চেপে চেপে, প্যাট করে নিন। এর ফলে ত্বকের টোনিং হয় এবং রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। ত্বকে স্বাস্থ্যের দীপ্তি ফুটে ওঠে। এ ছাড়াও সম্ভব হলে প্রতিদিনই ঠান্ডা গোলাপজল দিয়ে ত্বকের টোনিং করুন। ফ্রিজে যখন গোলাপজল রাখবেন, তাতে তুলোর প্যাড ডুবিয়েই রেখে দিন। তা দিয়ে ত্বক প্রথমে ওয়াইপ করে, পরে স্ট্রোক করে নিন। আলতো চাপ দেবেন। কপালের মাঝখান থেকে শুরু করে বাইরের দিকে যান, রগ পর্যন্ত। চিবুকে ঘষুন সার্কুলার মোশনে। শেষে মনে করিয়ে দিচ্ছি, ঠিক করে খান, ঘুমান আর শরীরচর্চা করুন। প্রচুর পানি পান করুন। কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে রোজ সকালে খান। সুস্থ থাকুন।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
শিশু মৃত্যুর মিছিল থামছেই না, হামে আরও ৯ জনের প্রাণহানি

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১০৫ জনের মধ্যে সন্দেহজনক হাম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।   মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত মারা যাওয়া ৯ শিশুর মধ্যে একজনের দেহে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি আটজন হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।   মৃত শিশুদের মধ্যে ছয়জন ঢাকার, দুইজন চট্টগ্রামের এবং একজন রাজশাহীর বলে জানানো হয়েছে। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। একদিনে শনাক্ত ১ হাজার ১০৫ জনের মধ্যে ৪৮৫ জনই ঢাকা বিভাগের। একই সময়ে ৬৯৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ২৯০ জন ঢাকার। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭৬ জন, যার মধ্যে ১৫৭ জনই ঢাকা বিভাগের।   গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৩৫ শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। এর মধ্যে ঢাকার ২৫৮ জন, খুলনার ৭৯ জন, ময়মনসিংহের ৯ জন, রাজশাহীর ৮৯ জন, রংপুরের ১৩ জন, সিলেটের ২৬ জন এবং বরিশালের ৫০ জন শিশু রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে।   এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৮ হাজার ১২৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত রোগী ১৭৬ জন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না করলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু

ঢাকা: হাম এবং তার উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১,৮২৯ জন।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই শিশু ও বৃদ্ধ। হাসপাতালগুলোতে রোগী সংক্রমণের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হিসেবে বিবেচিত। এর সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, সর্দি, শ্বাসকষ্ট এবং শারীরিক দুর্বলতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক চিকিৎসা এবং দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো গেলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রোগী ভর্তি কেন্দ্রগুলোতে প্রস্তুতি আরও শক্ত করা হচ্ছে। জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ডাক্তার ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার জানাচ্ছে, জনসাধারণকে গণজমায়েত এড়িয়ে চলা, মাস্ক ব্যবহার করা, এবং নিয়মিত হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।  

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
হাম-রুবেলা প্রতিরোধে বরগুনায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন চীফ হুইপ

বরগুনাকে হামের হটস্পট ঘোষণা করায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মিলনায়তনে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। বেলা সাড়ে ১১ টায়  ভার্চুয়ালি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের এমপি নূরুল ইসলাম মণি। দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০টি জেলার ৩০টি স্থানকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে বরগুনা জেলা সদর উপজেলা ও পৌরসভাকে হামের হটস্পট ঘোষণা করেছে সরকার। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন আবুল ফাত্তাহ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সেলিম শাহনেওয়াজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহিম, প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো সালেহ, ইসলামি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস শাকুর,   চিকিৎসক  ও  সাংবাদিকবৃন্দ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ০৫, ২০২৬ 0
প্রতিদিন ব্যবহার করলেও অনেকেই জানেন না, কখন সময় হয় পুরোনো টুথব্রাশ বদলে নতুনটি ব্যবহার করার | ছবি : সংগৃহীত
একটি টুথব্রাশ কতদিন ব্যবহার করবেন? জেনে নিন সময়

জুতা পুরোনো হয়ে গেলে আমরা বুঝি নতুন কিনতে হবে, পোশাকের রঙ ফিকে হলে সেটাও বদলাই। কিন্তু টুথব্রাশ? প্রতিদিন ব্যবহার করলেও অনেকেই জানেন না, কখন সময় হয় পুরোনো টুথব্রাশ বদলে নতুনটি ব্যবহার করার। বিষয়টি নির্ভর করে ব্যবহার, স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত অভ্যাসের ওপর। তাই পরেরবার দাঁত মাজার আগে ভেবে দেখুন, আপনার টুথব্রাশ বদলানোর সময় কি এসে গেছে?   এক টুথব্রাশ কতদিন ব্যবহার করবেন? দাঁতের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পর টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। তবে কেউ সম্প্রতি অসুস্থ থাকলে বা একাধিক টুথব্রাশ একসঙ্গে রাখলে আরও আগে পরিবর্তন করাই ভালো। ব্রাশের ব্রিসল বা কাঁটা যদি ছেঁড়া বা বেঁকে যায়, সেটি আর ঠিকভাবে পরিষ্কার করতে পারে না, তখনই বুঝতে হবে, সময় হয়েছে নতুন টুথব্রাশ নেওয়ার। শিশুরা সাধারণত বেশি জোরে ব্রাশ করে, তাই তাদের টুথব্রাশ বড়দের তুলনায় বেশি ঘনঘন বদলানো প্রয়োজন। টুথব্রাশের ধরন মূলত দুই ধরনের টুথব্রাশ ব্যবহৃত হয়। একটি ম্যানুয়াল (হাতে চালানো) ও অন্যটি ইলেকট্রিক (বিদ্যুৎচালিত)। এর মধ্যে যেটি ব্যবহার করে আপনার আরাম লাগে এবং নিয়মিত দাঁত মাজতে উৎসাহ পান, সেটিই বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। ম্যানুয়াল টুথব্রাশ সহজে বহনযোগ্য, শব্দহীন এবং ব্যবহারকারী নিজের ইচ্ছেমতো চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। অন্যদিকে, ইলেকট্রিক টুথব্রাশে ঘূর্ণায়মান ব্রিসল দাঁতের ফাঁক ও মাড়ির কাছের ময়লা সহজে দূর করে। অনেক ইলেকট্রিক ব্রাশে টাইমার ও প্রেসার সেন্সর থাকে, যা নির্দিষ্ট সময় ধরে সঠিকভাবে ব্রাশ করতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত চাপ পড়া থেকে মাড়িকে রক্ষা করে। টুথব্রাশের যত্ন যে ধরনের টুথব্রাশই ব্যবহার করুন, পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে জরুরি। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন (ADA)-এর পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিবার ব্যবহারের পর টুথব্রাশ ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে, যেন পেস্ট বা ময়লার কোনো অংশ আটকে না থাকে। ব্যবহারের পর টুথব্রাশ সোজা করে দাঁড়ানো অবস্থায় শুকাতে দিন। ভেজা অবস্থায় ঢাকনা দেওয়া বা বন্ধ কনটেইনারে রাখলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ভ্রমণে গেলে ব্রাশ আর্দ্র থেকে ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে, তাই চাইলে ডিসপোজেবল টুথব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত অভ্যাসে আনুন পরিবর্তন বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের সবার জন্য বছরে কয়েকবার নতুন টুথব্রাশ কেনার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ব্রাশ পরিবর্তনের সময় নির্ভর করে ব্যবহার, বয়স ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ওপর; তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি বাথরুম ক্যাবিনেটে সব সময় বাড়তি একটি নতুন টুথব্রাশ মজুত থাকে, প্রয়োজনে যেন সঙ্গে সঙ্গে বদলানো যায়। সূত্র : মায়ো ক্লিনিক ও কোলগেট

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ০৫, ২০২৬ 0
ডা. তাসনিম জারা। ফাইল ছবি
গর্ভবতী মায়ের খাবারে থাকা জরুরি ৬টি পুষ্টিকর উপাদান

গর্ভাবস্থায় মায়েদের বেশ কিছু বিষয় মেনে চলতে হয়। এই সময়ে খাবারের দিকে বিশেষ নজর দিতে হয়। গর্ভস্থ শিশুর উপযুক্ত বিকাশের জন্য দরকার হয় বিশেষ কিছু খাবারের। ডিম, ডাল, শাক, বিভিন্ন প্রোটিন জাতীয় খাবারের সঙ্গেই হাল্কা খাবার বা টিফিনের সময়েও দিতে হবে আলাদা নজর। এই সময়ে টিফিনে কোন ধরনের খাবার থাকা উচিত তা জানিয়েছেন চিকিৎসক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।   চলুন জেনে নি যে ৬ খাবার খাওয়া জরুরি- সামাজিক মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের কোন ধরনের খাবার খাওয়া উচিত তা জানিয়েছেন তাসনিম জারা। তিনি জানান, এই সময়ে মেয়েদের পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। গবেষকরা প্রায় ১০০ রকমের পুষ্টিকর খাবারে তালিকা তৈরি করেছেন। সেই তালিকা অনুসারে, গর্ভবতী নারীদের পুষ্টিকর খাবার হিসাবে রাখতে হবে কাঠবাদাম, সিয়া সিড এবং মিষ্টি কুমড়োর বীজ।  তিনি বলেন বলেন, শুধুমাত্র এই তিনটি জিনিসেই নয়, সব ধরনের বাদাম এবং বীজে নানা রকম পুষ্টি গুণ থাকে। চিনা বাদাম তাসনিমের মতে, ওই নারীরা টিফিনে অবশ্যই রাখতে হবে চিনাবাদাম। কারণ এই বাদামে থাকে ফলিক অ্যাসিড এবং কোলিন। এই দুটি জিনিসই গর্ভের শিশুর ব্রেন গঠনে খুব গুরুত্বপূর্ণ সূর্যমুখী বীজ গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত সূর্যমুখী বীজ খাওয়া উচিত বলেও জানান তাসনিম জারা। কারণ এই সূর্যমুখী বীজে আছে ভিটামিন ৬। এটা শিশুর নতুন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। ওই মায়েদের শরীরে নতুন করে রক্ত তৈরির জন্য আয়রন প্রয়োজন। তাই শাক খাবার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার  লেবু, কমলা বা আমলকী জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত, যা শরীরকে আয়রন শোষণে সহায়তা করে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ডিম (প্রতিদিন একটি), ডাল, মুরগির মাংস ও মাছ শিশুর টিস্যু ও পেশি গঠনে সহায়তা করে। শাকসবজি ও ফলমূল গাঢ় সবুজ শাক (পালং শাক), মিষ্টি আলু, গাজর, এবং লেবু জাতীয় ফলে থাকা ভিটামিন ও মিনারেলস শিশুর বিকাশে প্রয়োজনীয়। দুগ্ধজাত খাবার দুধ, দই, ও পনির ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস, যা বাচ্চার হাড় ও দাঁত শক্ত করে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নগরবাসীর স্বাস্থ্য সেবায় সরকার বড় উদ্যোগ, স্থাপন হচ্ছে ১৭০ ‘নগর স্বাস্থ্য নীড়’

’ নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের বিভিন্ন শহরে স্থাপন করা হচ্ছে ১৭০টি ‘নগর স্বাস্থ্য নীড়’, যা শহরের সাধারণ মানুষের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব স্বাস্থ্য নীড়ে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, টিকা কার্যক্রম, স্বাস্থ্য পরামর্শসহ নানা সেবা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের নগরবাসী যাতে সহজে ও স্বল্প খরচে চিকিৎসা পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নগর এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বিবেচনায় এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এতে করে বড় হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়েই অনেক রোগের চিকিৎসা সম্ভব হবে।   সরকার আশা করছে, ‘নগর স্বাস্থ্য নীড়’ চালু হলে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এদিকে, দ্রুত বাস্তবায়ন ও সেবার মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দিনাজপুরে ঠোঁট ও তালু কাঁটা অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

দিনাজপুর জেলায় তিন দিনব্যাপী বিনামূল্যে ঠোঁট ও তালু কাঁটা অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় দিনাজপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে ৪২ জন ঠোঁট ও তালু কাটা রোগীর সফল অপারেশন শেষে হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সফিকুল হক ছুটু এ তথ্য বাসসকে নিশ্চিত করেন।  বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সফিকুল হক বলেন, দিনাজপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা স্মাইল ট্রেইন এর সহযোগিতায় প্রখ্যাত প্লাস্টিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. সাজ্জাদ খন্দকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত ৯ মাস ধরে ৫ বছর থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিশেষ করে শিশু রোগীদের জন্মগত ঠোঁট কাঁটা, তালু কাঁটা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ দিনব্যাপী এ অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। মানবিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের নেতৃত্বে থাকা অধ্যাপক ডা. মো. সাজ্জাদ খন্দকার জানান, জন্মগত এসব রোগীদের আমরা বিনামূল্যে অপারেশন, ফ্রি ওষুধ প্রদানসহ হাসাতপাতালে থাকাকালীন সময়ে খাবার ও যাতায়াত ভাড়া প্রদান করে আসছি।  তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা স্মাইল ট্রেইন এর সহযোগিতায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের বিনামূল্যে আমি এবং আমার মেডিকেল টিম প্রতি মাসে দিনাজপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে এ অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। উল্লেখ্য, যারা এ ধরনের রোগীর অপারেশন করাতে চান তাদের সিরিয়ালের জন্য দাতা সংস্থার পক্ষ হতে নিয়োজিত পল্লব রায় নামের একজনের সাথে মোবাইল ফোন-০১৭১০৬০৬৭১৪, ০১৭১০৬০৬৭১৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।  অপারেশন শেষে রোগী এবং রোগীর স্বজনদের কাউন্সিলিং ও পরামর্শ প্রদান করেন, প্লাস্টিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. সাজ্জাদ খন্দকার।  অধ্যাপক ডা. মো. সাজ্জাদ খন্দকার বাসসকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ডায়বেটিক হাসপাতালে আমরা প্রতি মাসে এ চিকিৎসা সেবা ও অপারেশন ক্যাম্পের মাধ্যমে জন্মগত বিশেষ করে শিশুদের ঠোঁট কাঁটা ও তালু কাঁটা অপারেশন বিনামূল্যে করে আসছি। আমাদের এ চিকিৎসা সেবা ও অপারেশনে এসব রোগীরা এখন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন।  আগামীতে আমার নেতৃত্বে থাকা মেডিকেল টিম, বিনামূল্যে এ ধরনের অপারেশন ও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাব বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নন-স্টিক প্যান কতটা ক্ষতিকর, বিকল্প কী হতে পারে

রান্নার জন্য ননস্টিক প্যান অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে ননস্টিক প্যান ব্যবহারের কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। ননস্টিক প্যান কীভাবে ব্যবহার করা উচিত এবং এর বিকল্প হিসেবে কী ব্যবহার করা যেতে পারে সেই সম্পর্কে জেনে নিন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হাসান মোস্তফা রাশেদের কাছ থেকে। নন-স্টিক প্যান কতটা ক্ষতিকর ডা. হাসান মোস্তফা বলেন, আমরা রান্নার জন্য বিভিন্ন ধরনের পাত্র বা প্যান ব্যবহার করি। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের হলো ননস্টিক পাত্র। কারণ এগুলো সহজেই পরিষ্কার করা যায় এবং রান্নায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম তেল খরচ হয়। ননস্টিক প্যানের ওপর একটি প্রলেপ থাকে যা খাবারকে প্যানে আটকে রাখে না। এতে সাধারণত পলিটেট্রাফ্লুরোথাইলিন (পিটিএফই) দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়, যা টেফলন নামেও পরিচিত। এ কারণেই ননস্টিক পাত্র তেল ও পানিরোধী হয়ে ওঠে। পিটিএফই একটি সিনথেটিক রাসায়নিক, যা সহজে ক্ষয় হয় না এবং উপাদানটি মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য বেশ ক্ষতিকর। উচ্চতাপে পিটিএফই খাবারের সঙ্গে মিশে যায় যা মানবদেহে থাইরয়েড হরমোনজনিত রোগ, বন্ধ্যাত্ব, শ্বাসকষ্ট, কিডনি ও লিভারের দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী ক্ষতি, এমনকি ক্যানসারেরও কারণ হতে পারে। তারপরও পিটিএফই যুক্ত প্যানে রান্নার বাড়তি কিছু নিয়ম মেনে চলা ভালো। যেমন- ১. প্যানটি খালি থাকা অবস্থায় গরম করবেন না। ২. প্যানে অত্যাধিক তাপ সৃষ্টি করবেন না। ৩. প্যানের ননস্টিক প্রলেপ ক্ষয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে প্যানটি আর ব্যবহার করবেন না। ৪.  শক্ত মাজুনি দিয়ে প্যান পরিষ্কার করবেন না। এতে প্রলেপটি সহজে নষ্ট হয়ে যায়। ডা. হাসান মোস্তফা বলেন, পিটিএফইযুক্ত প্যান থেকে সৃষ্ট সমস্যার কারণে বাজারে নতুন কিছু পলিটেট্রাফ্লুরোথাইলিন মুক্ত বা পিটিএফইমুক্ত প্যান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এগুলো পিটিএফই প্যানের মতোই সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং তেল ও পানিরোধী হয়ে থাকে অর্থাৎ ননস্টিক প্যানের সকল গুণই থাকে কিন্তু উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যবহার উপযোগী, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব। এসব প্যানের প্রধান সুবিধা হলো, এতে কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে না। এর মধ্যে সিরামিক ফ্রাইং প্যান, কাস্ট আয়রন ফ্রাইং প্যান এবং কার্বন স্টিল ফ্রাইং প্যান ইদানিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই প্যানগুলো সাধারণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি হওয়ায় খাবারের সঙ্গে মিশে শরীরের ক্ষতি করে না বা পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। এছাড়া আমাদের বাসায় সাধারণত যে স্টেইনলেস স্টিলের ফ্রাইং প্যান ব্যবহার করা হয়, তাও উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্য বেশ উপযোগী এবং স্বাস্থ্যকর। তাই ফ্রাইং প্যান কেনার সময় যা দেখা দরকার তা হলো, প্যানটিতে প্রাকৃতিক নন-স্টিক আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং তা স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কি না।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ০৪, ২০২৬ 0
ছোটবেলা থেকেই প্রচলিত একটি ধারণা, তরমুজের বীজ গিলে ফেললে বিপদ হতে পারে | ছবি : সংগৃহীত
তরমুজের বীজ গিলে ফেললে কী হয়? জানুন সত্যটা

গরমের দিনে ঠান্ডা তরমুজের এক টুকরো মুখে তুলেছেন, আর অসাবধানতাবশত একটি কালো বীজ গিলে ফেললেন—এ অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। অনেকেই তখন চিন্তায় পড়ে যান, শরীরে কোনো ক্ষতি হবে কি না!   কারণ ছোটবেলা থেকেই প্রচলিত একটি ধারণা, তরমুজের বীজ গিলে ফেললে বিপদ হতে পারে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বীজ মোটেই ক্ষতিকর নয়; বরং সঠিকভাবে খেলে এটি হতে পারে পুষ্টির এক সমৃদ্ধ উৎস। গরমের এই সময়ে তরমুজের বীজ নিয়ে ভুল ধারণা ভেঙে সঠিক তথ্য জানা জরুরি।   তরমুজের বীজ : মিথ থেকে সুপারফুড তরমুজের বীজ খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ। কাঁচা অবস্থায় গিলে ফেললে এটি মূলত আঁশ হিসেবে কাজ করে এবং পরিপাকতন্ত্র দিয়ে প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বের হয়ে যায়। তবে আসল উপকার পেতে হলে বীজকে সঠিকভাবে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও রান্নায় তরমুজসহ অন্যান্য ফলের বীজ ব্যবহারের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। গবেষণাতেও দেখা গেছে, উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রোটিন ও খনিজের বৈচিত্র্য বাড়াতে এই বীজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পুষ্টিগুণে ভরপুর ছোট দেখতে হলেও তরমুজের বীজ পুষ্টিগুণে ভরপুর, যা আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে অনেক সময় ঘাটতি থেকে যায়। ১. প্রোটিনের ভালো উৎস তরমুজের বীজে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রোটিন থাকে। এতে রয়েছে আর্জিনিন নামের অ্যামিনো অ্যাসিড, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ২. উপকারী চর্বি (ফ্যাট) এতে রয়েছে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, যা খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে ও শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ৩. খনিজ উপাদানের ভাণ্ডার ম্যাগনেসিয়াম : স্নায়ুর কার্যক্রম ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে জিংক : রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ আয়রন : রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক, শক্তি বাড়ায় স্বাস্থ্য উপকারিতা গরমকালে শরীরের পানিশূন্যতা, ক্লান্তি ও ত্বকের সমস্যা বাড়ে। এ সময় তরমুজের বীজ উপকারী হতে পারে। ত্বক ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক : বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম ত্বকের সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে। হৃদ্‌স্বাস্থ্যে উপকারী : গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে হৃদ্‌যন্ত্রকে বেশি কাজ করতে হয়। তরমুজের বীজে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। শক্তি ও বিপাকক্রিয়া বাড়ায় : এতে থাকা বি-ভিটামিন (যেমন নায়াসিন ও ফলেট) খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। ফলে ক্লান্তি কমে। কীভাবে খাবেন তরমুজের বীজ : কাঁচা অবস্থায় গিলে ফেললে ক্ষতি নেই, তবে পুষ্টিগুণ পুরোপুরি পেতে হলে বীজ ভেঙে বা প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া ভালো। ভেজানো, অঙ্কুরিত বা ভাজা : বীজ ভিজিয়ে অঙ্কুরিত করলে খনিজ শোষণে বাধা দেওয়া উপাদান কমে যায়। এরপর রোদে শুকিয়ে বা হালকা ভেজে খাওয়া যায়। সহজ ভাজা রেসিপি তরমুজের বীজ ধুয়ে শুকিয়ে নিন। সামান্য ঘি বা তেলে হালকা ভেজে নিন। চাইলে লবণ, শুকনা আমচুর বা মরিচ গুঁড়া ছিটিয়ে স্বাদ বাড়াতে পারেন। এতে বাদামের মতো মচমচে স্বাদ পাওয়া যায়। খাবারে ব্যবহার ১. সকালের নাস্তায় পোহা বা উপমার সঙ্গে ২. স্মুদি বা লাচ্ছিতে ব্লেন্ড করে ৩. সালাদে টপিং হিসেবে সতর্কতা সবকিছুর মতো এটিও পরিমিত খাওয়া জরুরি। হজমের সমস্যা : কাঁচা বীজ বেশি খেলে পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে ক্যালরি বেশি : অল্প পরিমাণ (২৫–৩০ গ্রাম) যথেষ্ট শেষ কথা তরমুজের বীজ কোনো ভয় পাওয়ার বিষয় নয়। বরং এটি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া একটি পুষ্টিকর উপাদান। তাই পরেরবার তরমুজ খাওয়ার সময় বীজকে ফেলে না দিয়ে সচেতনভাবে খাবারের অংশ করে তুলতে পারেন। ছোট এই বীজই হতে পারে আপনার শরীরের জন্য বড় উপকারের উৎস। সূত্র : এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ০৪, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্যের দিক থেকে কোন চাল বেশি উপকারী, এই প্রশ্নের উত্তর জানেন না অনেকেই | ছবি : সংগৃহীত
মোটা চাল না চিকন চাল—স্বাস্থ্যের জন্য কোনটা সেরা?

বাজারে গেলে দেখা যায় নানান ধরনের চাল। কোথাও চিকন, কোথাও মোটা; কোনোটা ঝরঝরে, কোনোটা একটু আঠালো। অনেকেই স্বাদ, দামের পার্থক্য বা অভ্যাস অনুযায়ী চাল বেছে নেন। কিন্তু স্বাস্থ্যের দিক থেকে কোন চাল বেশি উপকারী, এই প্রশ্নের উত্তর জানেন না অনেকেই।   বিশেষ করে ডায়াবেটিস, ওজন বৃদ্ধি বা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ার এই সময়ে সঠিক চাল নির্বাচন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে কোন ধরনের চাল রাখা উচিত, তা নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিককে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী। নিচে তা তুলে ধরা হলো।   পুষ্টিগুণে এগিয়ে যে চাল চালের বাইরের স্তরে আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান থাকে। কিন্তু চাল প্রক্রিয়াজাত করার সময় এই বাইরের স্তর অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে হারিয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ। এসব পুষ্টি উপাদানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভিটামিন বি। যার মধ্যে রয়েছে থায়ামিন, নায়াসিন ও পাইরিডক্সিন। এছাড়া জিংক, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদানও অনেকটাই কমে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আঁশ বা ফাইবারও কমে যায়। অর্থাৎ চাল যত বেশি পরিশোধিত ও চিকন হবে, তাতে পুষ্টিগুণ তত কমে যাবে। সেই হিসেবে চিকন চালের তুলনায় মোটা চাল পুষ্টিগুণে অনেকটাই এগিয়ে। আরও সুবিধা-অসুবিধা মোটা চালে আঁশের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে এই চালের ভাত অল্প পরিমাণে খেলেও পেট ভরে যায় এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি থাকে। এটি ধীরে হজম হয়, ফলে রক্তের শর্করা হঠাৎ বেড়ে যায় না; বরং ধীরে ধীরে বাড়ে। এতে শরীর দীর্ঘ সময় শক্তি পায় এবং ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে না। অন্যদিকে চিকন চালে আঁশ কম থাকায় এটি দ্রুত হজম হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পরই তা কমতে শুরু করে। এতে দ্রুত ক্ষুধা লাগে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা তৈরি হয়, যা ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়। শেষ কথা পুষ্টিবিদদের মতে, মোটা চালে পর্যাপ্ত আঁশ থাকায় এটি ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ওজন নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে মোটা চাল বেশি উপকারী। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাদের জন্য মোটা চাল বেছে নেওয়াই ভালো। সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদে ভালো থাকার জন্য মোটা চাল উপকারী। তবে যাদের হজমে সমস্যা বেশি, কিংবা খাবার চিবাতে বা গিলতে অসুবিধা হয়, তাদের জন্য চিকন চাল সুবিধাজনক। এছাড়া সাময়িক হজম সমস্যার সময় কিছুদিনের জন্য চিকন চাল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ০৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঘুম ভেঙে যায় মাঝরাতে? জানুন কারণ ও করণীয়

সুস্থ থাকার প্রধান শর্ত হলো গভীর ও পর্যাপ্ত ঘুম। কিন্তু অনেকেরই মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এটি সাধারণ কোনো অভ্যাস হতে পারে, আবার বড় কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।   কেন বারবার ঘুম ভেঙে যায়? আমাদের ঘুমের একটি চক্র বা ‘স্লিপ সাইকেল’ থাকে, যা সাধারণত প্রতি ৯০ মিনিট পর পর পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনের সময় ঘুম কিছুটা পাতলা থাকে, ফলে সামান্য কারণেও তা ভেঙে যেতে পারে। প্রধান কারণগুলো হলো: পরিবেশগত কারণ: ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি বা কম হওয়া, বাইরে থেকে আসা আলো বা জানালার ধারের আওয়াজ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা: সারাদিনের ক্লান্তি, অফিসের কাজের চাপ বা মনের ভেতরের অস্থিরতা ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ডিপ্রেশন বা এনজাইটি থাকলে রাত তিনটার দিকে ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। খাদ্যাভ্যাস: শোবার আগে অতিরিক্ত পানি পান করলে বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া কফি বা অ্যালকোহল পান করলেও ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়। শারীরিক সমস্যা: ঘাড়, পিঠের ব্যথা বা মাংসপেশির টান ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তন বা মেনোপজের কারণেও এমনটি হতে পারে।   এটি কি কোনো রোগের লক্ষণ? বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া নিচের এই রোগগুলোর সংকেত হতে পারে: ১. স্লিপ অ্যাপনিয়া: এটি একটি গুরুতর সমস্যা যেখানে ঘুমের মধ্যে সাময়িকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্ক শরীরকে জাগিয়ে দেয়। ২. অ্যাসিড রিফ্লাক্স: যাদের গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা আছে, শুয়ে থাকার সময় পাকস্থলীর অ্যাসিড গলায় উঠে আসায় হঠাৎ ঘুম ভেঙে যেতে পারে। ৩. লো ব্লাড সুগার: রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ কমে গেলে শরীর ঘামতে শুরু করে এবং ঘুম ভেঙে যায়। ৪. ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা: এটি নিয়মিত হতে থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদী অনিদ্রা রোগে রূপ নিতে পারে।   ঘুম ভেঙে গেলে কী করবেন? যদি মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় এবং ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে আর ঘুম না আসে, তবে জোর করে বিছানায় পড়ে থাকবেন না। নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন: বিছানা ছেড়ে উঠুন: কিছুক্ষণ অন্য ঘরে গিয়ে হালকা পায়চারি করুন। মোবাইল ফোন এড়িয়ে চলুন: ভুলেও হাতে ফোন নেবেন না। স্ক্রিনের নীল আলো আপনার মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় যে—এখন দিন হয়ে গেছে, যা ঘুম পুরোপুরি কাটিয়ে দেয়। বই পড়া বা গান শোনা: হালকা কোনো বই পড়ুন অথবা মৃদু ধীরলয়ের গান শুনুন। মেডিটেশন: গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা মেডিটেশন মন শান্ত করতে সাহায্য করে। প্রতিকারের উপায় —দুপুরের ঘুম ২০ মিনিটের বেশি নয়। —শোয়ার আগে ঘর অন্ধকার রাখুন (প্রয়োজনে আই মাস্ক ব্যবহার করুন)। —প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। —শোয়ার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সেরে নিন। সতর্কবার্তা: যদি নিয়ম মেনে চলার পরও মাসের পর মাস এই সমস্যা চলতে থাকে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ই পারে আপনাকে প্রশান্তির ঘুম ফিরিয়ে দিতে। তথ্যসূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হামের প্রাদুর্ভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সব ছুটি বাতিল

শিশুদের হাম রোগের প্রাদুর্ভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অধিদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে গতকাল একটি অফিস আদেশও জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, শিশুদের মধ্যে হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় আপদকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা ও হামের ভ্যাকসিন প্রদানের সুবিধার্থে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও অধিদপ্তরাধীন সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সর্বস্তরের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি (অর্জিত ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটি) এতদ্বারা স্থগিত/বাতিল করা হলো। এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে জারি করা হলো এবং অবিলম্বে কার্যকরী হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাম হতে পারে বড়দেরও, জেনে নিন কী করবেন

অনেকেই হাম-কে শুধু শিশুদের রোগ মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে বড়রাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন এবং অনেক সময় জটিলতাও গুরুতর আকার নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়ায় বড়দের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি কম নয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, যারা ছোটবেলায় টিকা নেননি বা আগে কখনও হাম হয়নি, তারা যেকোনো বয়সেই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কেন বড়দের হাম হয়? বিভিন্ন কারণে বড়দের মধ্যে হাম দেখা দিতে পারে। যেমন— •    শৈশবে টিকা না নেওয়া  •    আগে হাম না হওয়া  •    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকা  •    সংক্রমিত বা ভিড়পূর্ণ পরিবেশে বসবাস  লক্ষণগুলো কী? বড়দের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো অনেক সময় বেশি তীব্র হয়— •    উচ্চ জ্বর  •    তীব্র মাথাব্যথা  •    চোখ লাল হওয়া ও আলো সহ্য করতে না পারা  •    কাশি ও গলা ব্যথা  •    শরীরে লাল ফুসকুড়ি  •    অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তি  জটিলতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? বড়দের ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারে। যেমন— •    নিউমোনিয়া  •    লিভারের সমস্যা  •    তীব্র পানিশূন্যতা  •    এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কে সংক্রমণ)  বিশেষ করে গর্ভবতী নারী বা দীর্ঘদিনের রোগে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি। আক্রান্ত হলে করণীয় •    দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন  •    আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখুন (আইসোলেশন)  •    পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন  •    চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন  •    পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন  •    প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ করুন  প্রতিরোধের উপায় হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা নেওয়া। যারা নিশ্চিত নন, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে টিকা নিতে পারেন। সচেতন থাকাই সুরক্ষা হামকে অবহেলা না করে সচেতন হওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা ও সতর্কতা মেনে চললে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই এ রোগ থেকে নিরাপদ থাকার প্রধান উপায়।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ০৩, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ছবি: সংগৃহীত
হাম প্রতিরোধে সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত: স্বাস্থ্য মন্ত্রী

  হাম প্রতিরোধে বর্তমান সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ ঢাকা শিশু হাসপাতালে হামজনিত নিউমোনিয়া শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বজ্রপাতের মতো এসেছে হাম। আমাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তবে অল্প সময়ে হাম প্রতিরোধে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’ সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী রোববার থেকে সারা দেশে হামের টিকা দেওয়া শুরু হবে। এতোগুলো শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আমি মর্মাহত। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা ও রাজশাহীসহ সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে, প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।  এরই মধ্যে হামের চিকিৎসায় কয়েকটি হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, রাজশাহী ও মানিকগঞ্জ ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রয়েছে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সব স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীদের অনেক সংকট আছে, সমস্যা আছে এবং এ ব্যাপরে আমরা ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি।  তিনি বলেন, আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি যে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আপনাদের সব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবো। কিন্তু তার আগে দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের সহযোগিতা চাইছি। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, টিকা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ১ হাজার ৩০৬ জন স্বাস্থ্য সহায়তাকারী দীর্ঘ সময় ধরে বেতন পাচ্ছে না, এটা তাদের মধ্যে অনেক বড় একটি কষ্ট। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী, সহ-স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিদর্শক মিলে ২৫ হাজারের বেশি, যাদের প্রমোশন আটকে আছে।  তিনি এ ব্যাপারে বলেন, আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করতে চাই, আজকে বা আগামীকালের মধ্যেই তাদের প্রতিনিধিদের ডেকে বিষয়টা ফয়সালা করার চেষ্টা করবো। আমার শুধু অনুরোধ থাকবে, জাতির এ দুর্যোগের সময় আপনারা আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করুন। ডাক্তারদের অবদান ও মানবিকতার বিষয় উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, আমি চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ করব, আপনারা মেডিকেল ইথিকসের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় ‘বিশ্বাস’কে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ০২, ২০২৬ 0
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়ার খবর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। ছবি : সংগৃহীত
শিশু হাম আক্রান্ত হলে কী খাওয়াবেন, কী খাওয়ানো যাবে না

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়ার খবর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। যদিও হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, তবুও এতে আক্রান্ত হলে শিশুদের নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়। কখনো কখনো পরিস্থিতি মারাত্মক আকারও ধারণ করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পরিচর্যার পাশাপাশি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ও প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি। দেশের প্রথম সারির একটি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে আলাপকালে এসব পরামর্শ দেন তিনি। রোগ-প্রতিরোধ বাড়াতে কী খাওয়াবেন? পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশির মতে, শিশু হাম আক্রান্ত হলে প্রথমেই তাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার। শিশুকে উষ্ণ গরম স্যুপ খাওয়ানো যেতে পারে। স্যুপে অল্প পরিমাণ মুরগির মাংস ও ডিমের সাদা অংশ যোগ করা যেতে পারে, যা শিশুর শরীরের জন্য উপকারী। তবে এতে কোনো ধরনের মসলা ব্যবহার না করাই ভালো। প্রোসেসড খাবার থেকে দূরে রাখুন অনেক সময় দেখা যায়, শিশু কিছু খেতে না চাইলে অভিভাবকরা তাকে চিপস বা প্রোসেসড খাবার দিয়ে দেন। কিন্তু এ অভ্যাসটি একেবারেই ঠিক নয়। প্রোসেসড ফুড সাধারণত শরীরের জন্য উপকারী নয়, বরং অসুস্থতার সময় তা আরও ক্ষতির কারণ হতে পারে। পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, হাম আক্রান্ত অবস্থায় শিশুকে এ ধরনের খাবার থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে হবে। চা-কফি কেন এড়িয়ে চলবেন? শুধু শিশু নয়, অনেক প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও অসুস্থ অবস্থায় কিছু খেতে না পারলে চা বা কফি পান করতে চান। অনেকেই মনে করেন এতে হয়তো কিছুটা স্বস্তি মিলবে। কিন্তু বাস্তবে এসব পানীয় উল্টো জটিলতা বাড়াতে পারে। তাই হাম আক্রান্ত অবস্থায় চা-কফি পরিহার করাই উত্তম। তরল ও প্রাকৃতিক খাবারের গুরুত্ব হাম আক্রান্ত রোগীর জন্য তরল খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ডাবের পানি অত্যন্ত উপকারী। এর পাশাপাশি ফলমূল এবং ঘরে তৈরি ফলের জুস খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। তবে জুস অবশ্যই বাসায় তৈরি হতে হবে এবং এতে কোনো ধরনের কৃত্রিম বা রাসায়নিক উপাদান মেশানো যাবে না। প্রয়োজন হলে অল্প পরিমাণ চিনি যোগ করা যেতে পারে। কারণ এ সময় শরীরে ক্যালোরির চাহিদা কিছুটা বেড়ে যায়। ডায়াবেটিসজনিত সমস্যা না থাকলে পরিমিত চিনি গ্রহণ করা যেতে পারে। অল্প অল্প করে, বারবার খাওয়ান শিশুরা অসুস্থ অবস্থায় একসঙ্গে বেশি খাবার খেতে চায় না। তাই অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে খাবারের বৈচিত্র্য আনা জরুরি, যাতে শিশু আগ্রহ পায়। খাবারের তালিকায় গাজর ও মিষ্টিকুমড়ার মতো পুষ্টিকর সবজি রাখা যেতে পারে (যদি পেটের সমস্যা না থাকে)। স্যুপ বা সবজির সঙ্গে এগুলো ব্লেন্ড করে দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া নরম ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গে মিশিয়ে অল্প অল্প করে খাওয়ালে শিশুর জন্য তা সহজপাচ্য হয় এবং উপকার মেলে। সব মিলিয়ে, হাম আক্রান্ত হলে ভয় না পেয়ে সচেতনভাবে শিশুর যত্ন নিতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ০১, ২০২৬ 0
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হাম কখন বিপজ্জনক, প্রতিরোধে অভিভাবকরা যা করবেন

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু স্থানে প্রাণহানির খবর আসায় অভিভাবকদের মধ্যে কাজ করছে তীব্র আতংক। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম নিয়ে আতংকিত না হয়ে সঠিক তথ্য জানা এবং সচেতন থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি। হাম কী এবং কেন ভয়ংকর? হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের মধ্যে ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুর কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। একবার সংক্রমণ শুরু হলে আশপাশের অন্য শিশুর মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে যায়। প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো—জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া। কয়েকদিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। কখন বিষয়টি বিপজ্জনক হয়? সব শিশুর ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক না হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি জটিল রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ঝুঁকি বেশি। হামের জটিলতায় রয়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখের সংক্রমণ, এমনকি বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ। এই জটিলতাগুলোই অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। টিকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের বিনামূল্যে হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়। টিকা শুধুমাত্র শিশুকে সুরক্ষিত রাখে না, পুরো সমাজকেও ভাইরাসের বিস্তার থেকে রক্ষা করে। অভিভাবকদের করণীয় সময়মতো টিকা নিশ্চিত করুন: শিশুর বয়স অনুযায়ী টিকা নেওয়া হয়েছে কিনা যাচাই করুন। প্রয়োজনে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।  লক্ষণ দেখলেই চিকিৎসা নিন: জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন।  আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখুন: হাম দ্রুত ছড়ায়, তাই আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি।  পুষ্টিকর খাবার দিন: শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার গুরুত্বপূর্ণ।  পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিষ্কার পরিবেশ সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক।  আতংক নয়, সচেতনতার সময় হাম নিয়ে ভয় পাওয়ার কারণ অবশ্যই আছে, কিন্তু অযথা আতংক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। সচেতনতা, সঠিক তথ্য এবং সময়মতো পদক্ষেপই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। তাই ভয় নয়, দায়িত্বশীল আচরণই আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখার মূল চাবিকাঠি।

মারিয়া রহমান মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ‘উইকিমিডিক্স’ নামের একটি হেলথ টেক অ্যাপ চালু করা হয়েছে | ছবি : সংগৃহীত
দেশে এআই নির্ভর হেলথ টেক অ্যাপ চালু, যেসব সুবিধা পাবেন

স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ‘উইকিমিডিক্স’ নামের একটি হেলথ টেক অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বাংলাভাষায় স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন। এতে উপসর্গ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য রোগ সম্পর্কে ধারণা, সাধারণ চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকবে। সোমবার (৩০ মার্চ) বিএমএ সভাককক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আসিফুর হাসান। অ্যাপটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন আনিকা সাবরিনা আহমেদ। বক্তব্য রাখেন, প্রকৌশলী রুদ্র সরকার প্রমুখ। আয়োজকরা জানান, অ্যাপটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ব্যবহারকারীর অবস্থান অনুযায়ী নিকটবর্তী হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খুঁজে বের করার সুবিধা। পাশাপাশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো স্থান থেকে বাবহার করা যাবে। ‘আস্ক ইউর ডক্টর’ নামে একটি ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য-পরামর্শ পাওয়া যাবে। এছাড়া মেডিকেল রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য দ্বিতীয় মতামত দেয়ার সুবিধাও এতে যুক্ত থাকবে। উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে, সেখানে এ উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে। বিপুল জনগোষ্ঠির এই দেশে এখনো জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ওষুধের দোকানি, হাতুড়ে চিকিৎসক, কবিরাজ এসবের মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়। ফলে এই জনগোষ্ঠির জীবনে অসুস্থতা স্থায়ীভাবে আসন গেড়ে নেয়। বাংলাদেশে চিকিৎসকদের রোগী দেখার সময় অনেক কম। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসকরা গড়ে ৪৮ সেকেন্ড থেকে সর্বোচ্চ ১ বা ২ মিনিট সময় দিয়ে থাকেন। অথচ সঠিক চিকিৎসার জন্য একজন রোগীর পেছনে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় দেওয়া প্রয়োজন। মানসম্মত সেবার জন্য বিশেষজ্ঞরা দিনে ২০ থেকে ৩০ জন রোগী দেখার পরামর্শ দেন। যদিও দেশের অনেক সরকারি হাসপাতালে একজন চিকিৎসক প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ বা তারও বেশি রোগী দেখে থাকেন। এতে চিকিৎসকের কাছ থেকে রোগী সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হন। তাই সামগ্রীক দিক বিবেচনায় উইকিমিডিক্স অ্যাপটি দেশের চিকিৎসা সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে বলে দাবি আয়োজকদের।

মারিয়া রহমান মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

বন্যা ও নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের দাবি এমপি রফিকুল আলমকে খোলা চিঠি

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0