কলা একটি সহজলভ্য, পুষ্টিকর এবং শক্তির প্রাকৃতিক উৎস। বছরের বেশিরভাগ সময় অন্যান্য ফলের দাম উর্ধ্বগতি দেখালেও কলা তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং সহজে পাওয়া যায়। দ্রুত শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি হজম উন্নত করতে চাইলে এটি সেরা ফলের মধ্যে একটি। কলা একটি পুষ্টিকর এবং শক্তি বৃদ্ধি করে এমন ফল। এটি আমাদের শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ এবং জটিল স্টার্চ সরবরাহ করে, যা দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। হজমের জন্যও কলা উপকারী, কারণ এতে থাকা ফাইবার, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন বি৬ অন্ত্রের গতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কলায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য খনিজও থাকে, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়ক, তবে প্রাকৃতিকভাবে এতে চর্বি এবং সোডিয়ামের পরিমাণ খুব কম। প্রতিদিন কতগুলো কলা খাওয়া উচিত? সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে দুইটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ এবং উপকারী। শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিরা দিনে দুই কলা খেতে পারেন যাতে শক্তি পুনরায় ভরাট হয়। তবে ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডাক্তার পরামর্শ অনুযায়ী কলার পরিমাণ সীমিত রাখা উচিত। কারণ এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে এবং উচ্চ পটাসিয়াম কিডনির কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা কলায় থাকা ফাইবার এবং পেকটিন অন্ত্রের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং পেট ফাঁপা কমায়। এই ফল শারীরিক পরিশ্রমের সময় প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। কলায় থাকা পটাসিয়াম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এছাড়া ভিটামিন বি৬ শরীরে সেরোটোনিন এবং ডোপামিন উৎপাদন উদ্দীপিত করে, যা মনের ভালো লাগার অনুভূতি বাড়ায়।
আজকাল বাজারে পা দিলেই মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর প্রথম চিন্তা একটাই, পুষ্টি আর খরচ—দুটো একসঙ্গে সামলানো যাবে তো? অনেকের ধারণা, ভালো ও স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই বেশি টাকা খরচ। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টা মোটেও এমন নয়। একটু বুদ্ধি করে পরিকল্পনা করলে, দৈনন্দিন খরচের মধ্যেই পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিকর খাবার মানেই দামি ফল, বিদেশি শাক-সবজি বা বিশেষ খাদ্যসামগ্রী নয়। বরং আমাদের চারপাশে সহজলভ্য বহু খাবারই আছে, যেগুলো নিয়ম মেনে খেলে শরীর সুস্থ থাকে, আবার পকেটেও টান পড়ে না। খরচ বাঁচাবেন কিভাবে প্রথমেই সারা দিন কী খাবেন, সেটা ঠিক করে নিতে হবে। প্রতিদিন কী রান্না হবে, সেটা ঠিক না করে বাজারে গেলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয়ে যায়। সপ্তাহের শুরুতেই যদি মোটামুটি একটা খাবারের তালিকা বানিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে বাড়তি খরচ অনেকটাই কমে। এতে খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে। পুষ্টির দিক থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ হলো, মৌসুমি ও স্থানীয় ফল ও সবজি। মৌসুমি শাক-সবজি বা ফলের দাম কম হয় এবং পুষ্টিগুণও ভালো থাকে। কলাই শাক, পুঁই শাক, লাউ, কুমড়া, পেঁপে বা কলা। এগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল পায়, আবার খরচও বাড়ে না। প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরতাও বেশ বড় সমস্যার। বাইরে থেকে কেনা খাবার কিছু সময় সস্তা মনে হলেও সেগুলোতে পুষ্টি কম এবং খরচ বেশি পড়ে। তার পরিবর্তে বাড়িতে রান্না করা ভাত, ডাল, সবজি, ডিম বা দই খেলে খরচও কমবে শরীরও ভালো থাকবে। অনেকেই ভাবেন, প্রোটিন মানেই দামি মাছ বা মাংস। ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, ডিম বা বাদামের দামও কম আবার প্রোটিনেও পরিপূর্ণ। এগুলো তুলনামূলক কম দামে সহজেই পাওয়া যায় এবং নিয়মিত খেলে শরীর সুস্থ থাকে। খরচ বাঁচানোর আরেকটি উপায় হলো একসঙ্গে বেশি পরিমাণে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনা। চাল, ডাল বা আটা যদি একবারে বেশি নেওয়া যায়, তাহলে দাম তুলনামূলক কম পড়ে। এতে বারবার বাজারে যাওয়ার ঝামেলাও কমে। অনেক বাড়িতেই রান্না করা খাবার ফেলে দেওয়া হয়। অথচ আগের দিনের ভাত বা সবজি সামান্য পরিবর্তন করে নতুন খাবার বানানো যায়। এতে একদিকে খাবার নষ্ট হয় না, অন্যদিকে নতুন করে রান্নার খরচও বাঁচে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সচেতনতা। দাম দেখে নয়, পুষ্টিগুণ বুঝে খাবার বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক পরিকল্পনা আর কিছু ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করলেই, অল্প খরচে সুস্থ ও পুষ্টিকর জীবনযাপন করা সম্ভব।
শীত এলেই অনেকের মাথার ত্বকে খুশকির সমস্যা বেড়ে যায়। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে পড়ে। এই শুষ্কতার সুযোগ নিয়ে ফাঙ্গাস দ্রুত বাড়তে থাকে, আর তখনই দেখা দেয় খুশকি, চুলকানি ও চুল পড়ার মতো সমস্যা। ভালো খবর হলো, এই সমস্যার সমাধান পেতে সব সময় দামি প্রোডাক্টের দরকার নেই। ঘরেই থাকা কিছু সাধারণ উপাদান নিয়মিত ব্যবহার করলে শীতের খুশকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ভারতীয় লাইফস্টাইল বিষয়ক সংবাদমাধ্যম বোল্ড স্কাই জানিয়েছে এমনই কিছু কার্যকর ঘরোয়া উপায়ের কথা। টি ট্রি অয়েল টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টিসেপটিক গুণ রয়েছে, যা খুশকি কমাতে সাহায্য করে। নারকেল, অলিভ বা জোজোবা তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। হালকা ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। ক্যাস্টর অয়েল ক্যাস্টর অয়েল স্ক্যাল্পের শুষ্কতা ও চুলকানি কমায়। অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে এই তেল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করুন। অ্যালোভেরা অ্যালোভেরা স্ক্যাল্পকে ঠান্ডা রাখে এবং ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে। শ্যাম্পু করার আগে সরাসরি অ্যালোভেরা জেল মাথার ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। আপেল সাইডার ভিনেগার পানির সঙ্গে আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। পাঁচ মিনিট পর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এটি স্ক্যাল্পের পিএইচ ব্যালান্স ঠিক রাখতে সহায়তা করে। নারকেল তেল নারকেল তেল শুষ্ক স্ক্যাল্পের জন্য খুবই উপকারী। নিয়মিত মাথার ত্বকে তেল ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ রেখে শ্যাম্পু করুন। এতে খুশকি কমে এবং চুল নরম থাকে। কলা, মধু ও অ্যাভোকাডো মাস্ক পাকা কলা ও অ্যাভোকাডো পেস্ট করে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিন। সপ্তাহে একবার এই মাস্ক স্ক্যাল্পে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করুন। স্ক্যাল্প ময়েশ্চারাইজড থাকবে। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, মধু ও টক দই দুই চামচ করে নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, মধু ও টক দই মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। শীতের খুশকি একদিনে যাবে না, তবে নিয়মিত যত্ন নিলে সমস্যা অনেকটাই কমে আসে। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা ও অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে মাথা না ধোয়ার অভ্যাসও জরুরি। একটু যত্নেই শীতেও রাখতে পারেন সুস্থ স্ক্যাল্প ও সুন্দর চুল।
সকালে চোখ খোলার পর শরীরের প্রথম ও সবচেয়ে জরুরি চাহিদা হলো পানি। সারা রাত ঘুমের সময় শরীর খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করলেও শ্বাসপ্রশ্বাস, ঘাম, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য পদার্থ বের হওয়ার মতো প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। এর ফলে শরীর ধীরে ধীরে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমের পর শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা শুষ্ক হয়ে যায়। সকালে উঠেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে শরীরের তরলের ভারসাম্য ঠিক হয়। এতে ব্রেন ফগ কমে, ঝিমুনি কাটে এবং মনোযোগ বাড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে স্কুলে যাওয়ার আগে পানি খেলে মনোসংযোগ বাড়ার সম্ভাবনাও থাকে। ঘুমের সময় শরীরে কোনো খাবার বা পানীয় না ঢুকলেও দেহের ভেতরের কাজ থেমে থাকে না। শ্বাস নেওয়া, রক্তসঞ্চালন, শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বিষাক্ত পদার্থ বের করার জন্য শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। তাই সকালে পানি না খেলে ক্লান্তি, মাথা ভার লাগা বা অলস ভাব দেখা দিতে পারে। সকালে পানি খাওয়ার একাধিক উপকারিতা রয়েছে। রাতে যে পানির ঘাটতি তৈরি হয়, তা পূরণ করে শরীরকে আবার কর্মক্ষম করে তোলে। পানি খেলে অন্ত্রে স্বাভাবিক নড়াচড়া শুরু হয়, ফলে হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে। অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী এক ঘণ্টার জন্য বিপাকীয় হার প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি শরীরের ভেতরে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ সহজে বের হয়ে যায়, কিডনি ও লিভারের ওপর চাপ কমে। সকালে পানি খেলে মন ও শরীর দুটিই সতেজ হয়। ঝিমুনি কাটে, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা অনেক বেশি সক্রিয় হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সকালের নাশতার আগে পানি খেলে অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতাও বাড়ে। সকালে পানি খেলে মন ও শরীর দুটিই সতেজ হয়। ঝিমুনি কাটে, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা অনেক বেশি সক্রিয় হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সকালের নাশতার আগে পানি খেলে অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতাও বাড়ে। পরিমাণের দিক থেকে ঘুম থেকে উঠে ১ থেকে ২ গ্লাস পানিই যথেষ্ট। খুব ঠাণ্ডা বা খুব গরম পানি নয়—স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা সামান্য উষ্ণ পানি শরীর সবচেয়ে সহজে গ্রহণ করতে পারে। প্রতিদিন এই ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে।
আজ সুস্থ আছেন বলে যে ভবিষ্যতেও কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তা থাকবে না, তা কিন্তু নয়। সাধারণত অল্প বয়সে কোলেস্টেরলের সমস্যা খুব একটা চোখে পড়ে না। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। বিশেষ করে পরিবারে যদি আগে থেকেই উচ্চ কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেই আশঙ্কা আরও বেশি। চিকিৎসকদের মতে, জিনগত কারণে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি থাকলে আগেভাগেই খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। কী খাবেন, কী খাবেন না— এই ছোট ছোট সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে হৃদ্রোগসহ নানা জটিলতা থেকে আপনাকে দূরে রাখতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোন খাবারগুলো আপনার পাতে থাকা জরুরি আর কোনগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। গুড কোলেস্টেরল বাড়ায় যে খাবার যেসব খাবারে গুড কোলেস্টেরল (HDL) এবং ভিটামিন বি১২-এর পরিমাণ বেশি, সেগুলো বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েট বা মেডিটেরানিয়ান ডায়েটে এসব উপাদান পাওয়া যায়। অলিভ অয়েল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরলের সমস্যার আশঙ্কা অনেকটাই কমে। রেড মিট ও ভাজাভুজিতে লাগাম রেড মিট যতটা সম্ভব কমিয়ে ফেলা উচিত। কারণ এটি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার বা ভাজাভুজির পরিমাণও কমাতে হবে। এসব খাবার কোলেস্টেরলের পাশাপাশি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। দিনের শুরু হোক ওটস দিয়ে সকালবেলার জলখাবারে ওটস রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ওটস শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও কার্যকর। চাইলে ওটসের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফল মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে শরীর পাবে নানা রকম পুষ্টিগুণ। রসুনের ছোট অভ্যাস, বড় উপকার রোজ দুপুরে খাবার শুরু করার আগে এক কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত রসুন খেলে অনেকের ক্ষেত্রেই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি রসুন শরীর সুস্থ রাখতেও নানাভাবে সাহায্য করে। গ্রিন টি রাখুন দৈনন্দিন রুটিনে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পলিফেনল ও ফ্লেভোনলস অত্যন্ত কার্যকর। এই দুই উপাদানই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে গ্রিন টি-তে। প্রতিদিন নিয়ম করে এক কাপ গ্রিন টি পান করলে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেকটাই কমতে পারে। স্ট্রবেরির নিয়মিত ব্যবহার এখন শীতকাল ছাড়াও অন্যান্য সময় স্ট্রবেরি সহজেই পাওয়া যায়। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, কেউ যদি টানা এক মাস প্রতিদিন একটি করে স্ট্রবেরি খান, তাহলে তার কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। কোলেস্টেরল নিয়ে যদি দুশ্চিন্তা থাকে, তাহলে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এই ফলটি রাখতেই পারেন। পরিবারে কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং এখন থেকেই সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে নিরাপদ ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
অনেকেই ঘর পরিষ্কার রাখতে বাড়ির বাইরে জুতা খুলে খালি পায়ে হাঁটতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। এতে ঘর কম নোংরা হয় এবং আরামও লাগে—এমনটাই ধারণা সবার। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় খালি পায়ে শক্ত মেঝেতে হাঁটা পা, জয়েন্ট এমনকি মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ঘরের মেঝে কি সত্যিই জীবাণুমুক্ত? মেঝে দেখতে পরিষ্কার হলেও সেখানে ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস ও নানা জীবাণু থাকতে পারে। রান্নাঘর ও বাথরুমের আশপাশে আর্দ্রতা বেশি থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। খালি পায়ে হাঁটলে অ্যাথলিটস ফুট, দাদ, চুলকানি, ফাটা গোড়ালি বা ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা হতে পারে। যাদের পায়ে আগে থেকেই কাটা বা ফাটল আছে, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ আরো দ্রুত ছড়াতে পারে। পায়ের ওপর বাড়তি চাপ রান্না করা, কাপড় কাচা, ঘর মোছা বা সিঁড়ি ওঠানামা—এসব কাজ সাধারণত শক্ত মেঝেতেই হয়। খালি পায়ে থাকলে পায়ের নিচের ফ্যাট প্যাডকেই পুরো শরীরের চাপ সামলাতে হয়। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে পায়ে ব্যথা, ফোলা ও ক্লান্তি বাড়ে। পরবর্তীতে এটি প্লান্টার ফ্যাসিয়াইটিস বা মেটাটারসালজিয়ার মতো জটিল সমস্যায় রূপ নিতে পারে। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশি ঝুঁকি ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের পায়ের স্নায়ুর সংবেদনশীলতা কমে যায়। ফলে ছোটখাটো কাটা, ফোসকা বা আঘাত সহজে টের পাওয়া যায় না। মেঝেতে পড়ে থাকা ছোট জিনিস থেকেও গুরুতর ক্ষত বা সংক্রমণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকরা তাদের সব সময় সাপোর্টযুক্ত জুতা পরার পরামর্শ দেন, এমনকি ঘরের ভেতরেও। জয়েন্ট ও পিঠের সমস্যা টাইলস বা মার্বেলের মতো শক্ত মেঝেতে খালি পায়ে হাঁটলে গোড়ালি, হাঁটু ও কোমরে বাড়তি চাপ পড়ে। এর ফলে গোড়ালির ব্যথা, অ্যাকিলিস টেন্ডোনাইটিস, জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া বা কোমর ব্যথা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ভঙ্গিমার সমস্যাও তৈরি হতে পারে। ঠাণ্ডা মেঝের প্রভাব ঠাণ্ডা মেঝেতে খালি পায়ে হাঁটলে শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্যেও প্রভাব পড়ে। এতে সর্দি-কাশি, পেশিতে টান বা খিঁচুনির মতো সমস্যা হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরো দ্রুত দেখা যায়। তাহলে কী করবেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বাড়ির ভেতরে হালকা, নরম ও সাপোর্টযুক্ত স্লিপার বা ইনডোর জুতা পরার পরামর্শ দেন। ভালো জুতার বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত—কুশনিং ভালো, আর্চ সাপোর্ট থাকা, পিচ্ছিল নয় এমন গ্রিপ থাকা উচিত। বাথরুমের জন্য আলাদা জুতা ব্যবহার করা উচিত। ঘরের বাইরের জুতা আলাদা রাখলে জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকিও কমে। সবশেষে বলা যায়, খালি পায়ে হাঁটা সাময়িকভাবে আরামদায়ক লাগলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি পা, জয়েন্ট ও পিঠের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সামান্য সতর্কতা— যেমন ঘরের ভেতরে সাপোর্টযুক্ত স্লিপার ব্যবহার— বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
বিশ্বজুড়ে মানুষের রোগা হওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কাঙ্ক্ষিত শারীরিক ওজন পেতে অনেকেই কঠোর পরিশ্রমের বদলে ঝুঁকছেন দ্রুত সমাধানের দিকে। ভুল অস্ত্রোপচার, অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ সেবন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বিভ্রান্তিকর পরামর্শের ওপর ভরসা করছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের ঘটনাও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। এই প্রবণতার পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যায়াম ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে অনীহা। দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল ও অতিরঞ্জিত তথ্য। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকান স্থূলতা বিশেষজ্ঞ ডা. স্পেন্সার নাদোলস্কি সম্প্রতি একটি ভিডিওতে ওজন কমানো নিয়ে প্রচলিত তিনটি ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে কথা বলেছেন। ওজন কমানোর লক্ষ্যে যারা অবিচল, তাদের জন্য এসব বাস্তব তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। যদিও সত্য অনেক সময় মেনে নেওয়া কঠিন, তবে এগুলো বুঝতে পারলে স্বাস্থ্যকর ও টেকসই উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শারীরিক ওজনের ভুল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ডা. নাদোলস্কির মতে, অনেক মানুষই শারীরিক ওজনের ভুল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। শরীরের গঠন, পেশির পরিমাণ, শক্তি কিংবা সামগ্রিক সুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে শুধুমাত্র একটি সংখ্যার পেছনে ছুটে বেড়ান তারা। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য কোনো স্কেলের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।’ একজন মানুষ প্রতিদিন কেমন অনুভব করছেন, তার শক্তি, কর্মক্ষমতা ও ল্যাব রিপোর্ট—এসবই প্রকৃত স্বাস্থ্যের সূচক। তাই শারীরিক ওজনের লক্ষ্যমাত্রা এমন হওয়া উচিত, যা শরীরের ক্ষতি না করে দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা যায়। মেদ কমানোর কোনো জাদুকরী খাবার নেই ‘এই পানীয় খেলেই চর্বি গলে যাবে’ কিংবা ‘চর্বি গলানো সালাদ’—এ ধরনের শিরোনামে ভাইরাল ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিত্যসঙ্গী। তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ব্যায়াম ও সঠিক জীবনযাপন ছাড়া দ্রুত ওজন কমিয়ে দেওয়ার মতো কোনো জাদুকরী খাবার বা পানীয় নেই। ডা. নাদোলস্কির ভাষায়, ‘একমাত্র কার্যকর খাদ্য হলো সেটিই, যেটা দিয়ে আপনি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারেন।’ আদর্শ ডায়েট এমন হওয়া প্রয়োজন, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। যে খাদ্য নিয়মিত ক্ষুধা, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত খিদে তৈরি করে, তা কখনোই স্বাস্থ্যকর ও টেকসই ওজন কমাতে সাহায্য করে না। তিনি সতর্ক করেন, কঠোর ডায়েটের মাধ্যমে একবার ওজন কমিয়ে আবার পুরোনো অভ্যাসে ফিরে গেলে আগের চেয়েও দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাহায্য চাওয়া মানেই দুর্বলতা নয় অনেকের জন্য ওজন কমানো সত্যিই কঠিন। কারো ক্ষেত্রে ওষুধ বা এমনকি অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে ডা. নাদোলস্কি বলেন, ‘GLP-1 ওষুধ নেওয়া কোনো প্রতারণা নয়, আর অস্ত্রোপচার করানো দুর্বলতার লক্ষণ নয়।’ তার মতে, সাহায্য চাওয়া মানে এই নয় যে কেউ যথেষ্ট চেষ্টা করেনি। বরং অনেক সময় শরীরের কিছুটা সহায়তা দরকার হয়। এই ধরনের চিকিৎসা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও দেখে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ সেবন বা মাত্রা বাড়ানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিটি চিকিৎসারই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান ছাড়া এমন পথে হাঁটা একেবারেই অনুচিত।
ঋতু পরিবর্তনের সময় নাক বন্ধ হওয়া ও সাইনাসে শ্লেষ্মা জমে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। এর ফলে মাথাব্যথা, মুখে চাপ, ভারি অনুভূতি ও শ্বাস নিতে অস্বস্তি দেখা দেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ হল সাইনাসের ভেতরে শ্লেষ্মা ঘন হয়ে যাওয়া, যা স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জটিল চিকিৎসা বা অস্বস্তিকর পদ্ধতির পরিবর্তে কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ঘরোয়া প্রতিকারেই এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উপশম মিলতে পারে। কেন নাক বন্ধ হয়? চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাইনাসের ভেতরে শ্লেষ্মা ঘন হয়ে গেলে তা বের হতে বাঁধা পায়। এর ফলে সাইনাসে চাপ তৈরি হয়, ভারী ভাব আসে এবং শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও নেটি পটের মতো কিছু যন্ত্র এক্ষেত্রে কার্যকর, তবে অনেকেই এগুলো ব্যবহার করতে অস্বস্তি বোধ করেন। তাই বিশেষজ্ঞরা এর প্রতিকার হিসেবে নিরাপদ ও সহজ বিকল্পের ওপর জোর দিচ্ছেন। বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত ৬টি ঘরোয়া প্রতিকার- ১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইড্রেশনই প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বেশি পানি ও তরল গ্রহণ করলে শ্লেষ্মা পাতলা হয়, ফলে সাইনাস স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারে। এতে নাক বন্ধ হওয়া ও অস্বস্তি অনেকটাই কমে। ২. গরম ভাপ নিন গরম পানির ভাপ নিলে নাকের পথ আর্দ্র হয় এবং ঘন শ্লেষ্মা আলগা হতে সাহায্য করে। গরম পানিতে গোসল করলেও একই উপকার পাওয়া যায়। এটি সাময়িক হলেও দ্রুত আরাম দেয়। ৩. উষ্ণ সেঁক দিন নাক, গাল ও কপালে উষ্ণ, স্যাঁতসেঁতে তোয়ালে রাখলে ফোলাভাব ও চাপ কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উষ্ণতা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং শ্বাস নেওয়া সহজ করে। ৪. মাথা উঁচু করে ঘুমান ঘুমের সময় অতিরিক্ত বালিশ ব্যবহার করে মাথা উঁচু রাখলে শ্লেষ্মা সহজে নিচের দিকে নেমে যায়। এতে সকালে নাক বন্ধ থাকা কমে এবং ঘুমও ভালো হয়। ৫. ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা বজায় রাখুন শুষ্ক বাতাস নাকের ভেতরের ঝিল্লি শুষ্ক ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে বাতাসে আর্দ্রতা বজায় থাকে, যা সাইনাসের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ৬. হালকা ফেসিয়াল ম্যাসাজ করুন নাক ও কপালের চারপাশে আলতো ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং চাপ কমে। যদিও এটি সাময়িক, তবে দ্রুত আরাম দিতে কার্যকর। কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে? বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি নাক বন্ধ থাকা বা সাইনাসের সমস্যা ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এছাড়া জ্বর, তীব্র মুখের ব্যথা, ফোলাভাব বা দৃষ্টিসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
দেশে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে শিশু জন্মের হার ব্যাপকহারে বেড়ে চলছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বড় ধরনের গবেষণা কার্যক্রম চলমান। গবেষণার প্রায় ৭০ ভাগ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শেষ হলে এ গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হবে। এ পর্যন্ত গবেষণার কার্যক্রমে জন্মগত ত্রুটি ও জটিল রোগ নিয়ে যেসব কারণে শিশুরা জন্মগ্রহণ করেছে, সেসব কারণ বিশেষজ্ঞ দলটি চিহ্নিত করেছে বলে একজন বিশেষজ্ঞ জানান। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে বিপুলসংখ্যক শিশু চিকিত্সা নিতে আসছে। এ চিকিত্সা খুবই ব্যয়বহুল হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই চিকিত্সা খরচ জোগান দেওয়া সম্ভব নয়। শিশুর জন্মগত ত্রুটির কারণ : শিশু শল্যবিদ, গাইনি বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত একজন বিশেষজ্ঞ জানান, খাদ্যে ভেজাল, পরিবেশগত বিষয়, খাবারে ফলিক অ্যাসিডের পরিমাণ খুব কম কিংবা না থাকা এই সমস্যার একটি বড় কারণ। অন্যদিকে পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ খুবই বেশি। খুলনা অঞ্চলসহ ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় খাবার পানিতে আর্সেনিক উপস্থিতির মাত্রা অনেক। এছাড়া সবজি ও মাছে বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার একটি বড় সমস্যা। এসব কেমিক্যাল ব্যবহার করলে দীর্ঘ সময় তরিতরকারি, মাছ কিংবা খাদ্যসামগ্রীর পচন ধরবে না, তরতাজা দেখাবে। গবেষক দলের একজন সদস্য বলেন, মনে হবে খাবারসামগ্রী কিছুক্ষণ আগে তৈরি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাস আগে তৈরিকৃত খাদ্যসামগ্রীর সন্ধান পাওয়া গেছে। অথচ এসব খাদ্যসামগ্রী সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি করার কথা। কিন্তু তারা অতি মুনাফার জন্য মাসের পর মাস রেখে বিক্রি করে আসছে। এছাড়া বিষাক্ত কেমিক্যাল কিংবা রং সংমিশ্রণে খাদ্যসামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। লাশ তাজা রাখার ফরমালিনও খাদ্যসামগ্রীতে ব্যবহার করা হয়। ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ কিংবা অলিগলি ও পাড়া-মহল্লা অথবা গ্রামাঞ্চলের ছোট ছোট কারখানায় এসব বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহূত হচ্ছে। গবেষক দল সরেজমিনে অনুসন্ধানে এ প্রমাণ পেয়েছে। এসব বিষাক্ত খাদ্যসামগ্রী ও ফল, তরকারি গর্ভবতী মায়ের খাওয়ার কারণে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে শিশু ভূমিষ্ঠ হচ্ছে। শুধু শিশুরা নয়, এসব বিষাক্ত খাদ্যসামগ্রী পরিবেশগত কারণে সব বয়সের নারী-পুরুষ জটিল রোগে আক্রান্তের হার বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। বিএসটিআইসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থা বাজারজাতকৃত কিংবা তৈরি কারখানায় অনেক সময় মোবাইল কোর্ট করে জেল-জরিমানা করছে। এই অভিযান চলমান বলে বিএসটিআইয়ের একজন কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, মুনাফালোভীদের দমন করা খুব কঠিন। ভেজাল খাদ্যসামগ্রীতে বাজার সয়লাব হয়ে আছে। এসব কারণে কিডনি কিংবা লিভার ক্যানসারে মা ও শিশু উভয়েরই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। দেশে অসংক্রামক রোগী আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধির এটি অন্যতম কারণ। ভেজাল ও বিষাক্ত কেমিক্যাল সংমিশ্রণে খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের বিকল্প নেই। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগ মাত্র ১৩ বেড নিয়ে শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। বর্তমানে শিশু বিভাগ ৭৬ বেডে উন্নীত হয়েছে। হাসপাতালের নিউনেটাল সার্জারি বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আবদুল হানিফ টাবলু বলেন, জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে অনেক ভর্তি হচ্ছে। বিছানা দেওয়া সম্ভব হয় না, তারপরও তাদের ভর্তি করে অপারেশন করতে হয়। অনেকের পায়খানা রাস্তা নেই। অপারেশন করে পায়খানার রাস্তা করতে হয়। প্রস্রাবের ও স্পাইনালকর্ডসহ নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে শিশুরা ভর্তি হয়। এই অপারেশন ব্যয়বহুল। এ হাসপাতালে এসব সমস্যার বিনা মূল্যে চিকিত্সা করা হয়ে থাকে। এ অভিজ্ঞ শিশু শল্যবিদের মতে, খাদ্যে ভেজাল ও পরিবেশগতসহ বিভিন্ন কারণে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে শিশুরা জন্মাচ্ছে। এই হার বেড়ে চলেছে। খাদ্যে ও ওষুধে ভেজাল প্রতিরোধ করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে ৯টি ইউনিট রয়েছে, ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। ছোটখাটো অপারেশন করে এ সেন্টারে রেখে ঐদিন ছেড়ে দেওয়া হয়। জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করা হয়ে থাকে। সমন্বিত উদ্যোগের কারণে ঐ বিভাগে শিশুরা সুচিকিত্সা পেয়ে আসছেন বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েও জন্মগত ত্রুটি নিয়ে প্রচুর শিশু ভর্তি হচ্ছে। এখানেও বিছানা পাওয়া অনেক কঠিন। এই প্রতিষ্ঠানের শিশু শল্যবিদরা এসব সমস্যার উন্নতমানের অপারেশন করে শিশুদের সুস্থ করে তুলছেন। ঢাকা শিশু হাসপাতাল পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগেও জন্মগত ত্রুটি নিয়ে আসা শিশুদের ভিড় দেখা যায়। প্রতিদিন এই হাসপাতালে শিশু শল্যবিদগণ বিরতিহীন অপারেশন করার পর অগণিত শিশু স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাচ্ছে। এই হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সফি আহমেদ মোয়াজ বলেন, জন্মগত হার্ট ছিদ্র, ঠোঁটকাটা, তালু কাটা, কানে কম শোনাসহ নানা ধরনের জন্মগত ত্রুটি নিয়ে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে অনেক শিশুকে অভিভাবকরা নিয়ে আসছেন। জেনেটিক, পরিবেশ ও খাদ্যে ভেজালের কারণে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে শিশু জন্মের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিকার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জানান। আগারগাঁও নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের যুগ্ম-পরিচালক ও নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম বলেন, গবেষণায় প্রমাণিত যে, ভেজাল খাদ্যসামগ্রীর কারণে স্পাইনালকর্ডে ত্রুটি, ব্রেনের ত্রুটি, মাথা বড় হয়ে যাওয়া, ব্রেনের নানা ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জন্মের পর দেখা যায়, শিশুর মেরুদণ্ড বের হয়ে আসে। বিষাক্ত কেমিক্যাল সংমিশ্রণের খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ, আর্সেনিকের পরিমাণ বেশি থাকা পানি পান কিংবা ব্যবহার করা এবং খাবারে ফলিক অ্যাসিড কম থাকলে এ ধরনের জন্মগত ত্রুটি নিয়ে শিশুর জন্ম হয় বেশি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও গাইনি বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা বলেন, খাদ্যে ভেজাল, পরিবেশ, বায়ুদূষণ ও পুষ্টিহীনতাসহ বিভিন্ন কারণে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে শিশু জন্মের হার বাড়ছে। প্রতিকার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জানান।
দাঁত ভালো রাখতে আমরা সাধারণত ব্রাশ আর ফ্লসের কথাই বেশি ভাবি। কিন্তু প্রতিদিনের খাবারও দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে। কিছু খাবার দাঁতের এনামেল দুর্বল করে, ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ায় এবং সময়ের সঙ্গে মাড়ির রোগের কারণ হতে পারে। তাই দাঁতের জন্য কোন খাবার ক্ষতিকর এবং তার ভালো বিকল্প কী হতে পারে, তা জানা জরুরি। নিচে দাঁতের জন্য ক্ষতিকর কিছু সাধারণ খাবার এবং সেগুলোর তুলনামূলক ভালো বিকল্প তুলে ধরা হলো। চিনিযুক্ত কোমল পানীয় ও সফট ড্রিংক কেন ক্ষতিকর : এই পানীয়গুলোতে চিনি ও অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে। এগুলো দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে এবং ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার বাড়ায়, ফলে ক্যাভিটি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ভালো বিকল্প : সাধারণ পানি, লেবু ছাড়া ফল মেশানো পানি বা চিনি ছাড়া হারবাল চা পান করা ভালো। পানি মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। আঠালো মিষ্টি ও ক্যান্ডি কেন ক্ষতিকর : চিবানো মিষ্টি দাঁতে লেগে থাকে এবং দীর্ঘ সময় চিনি ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে থাকে। এতে দাঁত ক্ষয়ের আশঙ্কা বাড়ে। ভালো বিকল্প : পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট বা চিনি ছাড়া চুইংগাম খাওয়া যেতে পারে, যা লালা তৈরি বাড়াতে সাহায্য করে। টক ফল ও ফলের রস কেন ক্ষতিকর : লেবু, কমলা বা জাম্বুরার মতো টক ফলের অ্যাসিড নিয়মিত খেলে দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং দাঁত সংবেদনশীল হয়। ভালো বিকল্প : আপেল বা নাশপাতির মতো শক্ত ফল খাওয়া ভালো। এগুলো লালা তৈরি বাড়ায় এবং দাঁতের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ। বরফ চিবানো কেন ক্ষতিকর : বরফ চিবোলে দাঁতে ফাটল ধরতে পারে বা দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ভালো বিকল্প : খাস্তা কিছু খেতে চাইলে ঠান্ডা গাজর বা সেলারির মতো সবজি খাওয়া যেতে পারে। শুকনো ফল কেন ক্ষতিকর : কিশমিশ বা শুকনো এপ্রিকটের মতো ফল আঠালো এবং এতে চিনি বেশি থাকে, যা দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে। ভালো বিকল্প : তাজা ফল খাওয়াই ভালো, কারণ এগুলো সহজে দাঁত থেকে সরে যায়। আলুর চিপস কেন ক্ষতিকর : এই ধরনের স্টার্চযুক্ত খাবার মুখে গিয়ে চিনিতে পরিণত হয় এবং দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকে। ভালো বিকল্প : বাদাম বা বীজজাত খাবার খাওয়া ভালো, যা দাঁতের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ। অ্যালকোহলজাত পানীয় কেন ক্ষতিকর : অ্যালকোহল লালা উৎপাদন কমিয়ে দেয়। লালা কমে গেলে মুখ পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়। ভালো বিকল্প : অ্যালকোহল গ্রহণের সময় ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। স্পোর্টস ও এনার্জি ড্রিংক কেন ক্ষতিকর : এগুলোতে চিনি ও অ্যাসিড বেশি থাকে, যা শিশু ও বড়দের দাঁতের ক্ষতি করতে পারে। ভালো বিকল্প : সাধারণ পানি বা নারকেলের পানি ভালো বিকল্প হতে পারে। আচার ও ভিনেগারযুক্ত খাবার কেন ক্ষতিকর : খুব টক হওয়ায় নিয়মিত খেলে দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ভালো বিকল্প : টক খাবারের সঙ্গে দই বা চিজ খেলে দাঁতের ক্ষতি কিছুটা কমানো যায়। সাদা পাউরুটি ও পরিশোধিত শর্করা কেন ক্ষতিকর : এই খাবারগুলো দ্রুত চিনিতে পরিণত হয় এবং ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হয়ে দাঁড়ায়। ভালো বিকল্প : আটা বা পূর্ণ শস্যের রুটি খাওয়া ভালো, যা ধীরে হজম হয়। চিনি মেশানো চা ও কফি কেন ক্ষতিকর : চিনি বা সিরাপ মেশালে দাঁতে দাগ পড়ে এবং ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে। ভালো বিকল্প : চিনি ছাড়া চা বা কফি পান করা ভালো। পরে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া উপকারী। গ্রিন টি দাঁতের জন্য তুলনামূলক ভালো। খাবার কীভাবে দাঁতের ক্ষতি বাড়ায় শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন এবং কতবার খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন অল্প অল্প করে খাওয়া, বারবার মিষ্টি পানীয় পান করা বা ঘুমের আগে টক খাবার খেলে দাঁতের ক্ষতি বাড়ে। দাঁত ভালো রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস - খাওয়ার পর পানি পান করা - বারবার স্ন্যাকস খাওয়া এড়িয়ে চলা - চিনি ছাড়া চুইংগাম চিবানো - ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া - খাস্তা ফল ও সবজি নিয়মিত খাওয়া দাঁতের জন্য উপকারী খাবার - শাকসবজি যেমন পালং বা লেটুস - দুধ, দই ও চিজ - আপেল, গাজর ও সেলারি - গ্রিন টি - বাদাম দাঁত সুস্থ রাখতে শুধু নিয়মিত ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিকর খাবার কমিয়ে দাঁতবান্ধব খাবার বেছে নিলে ক্যাভিটি, মাড়ির রোগ এবং এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। দৈনন্দিন জীবনে সামান্য সচেতনতা দীর্ঘদিন দাঁত সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সূত্র : Playa Family Dentistry
ডিম সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। বিশেষ করে কম খরচে ভালো মানের প্রোটিন পেতে ডিমের তুলনা নেই। প্রতিদিন দুটি সিদ্ধ ডিম খেলে শরীরের নানা দিকেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কী কী উপকার মিলবে সিদ্ধ ডিমে, তা জানুন আজকের প্রতিবেদনে। পেশি মজবুত করে : দুটি সিদ্ধ ডিম থেকে প্রায় ১২ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন পাওয়া যায়। এই প্রোটিন পেশি গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামতে সাহায্য করে। নিয়মিত ডিম খেলে শরীরের শক্তি ও সহনশীলতাও বাড়ে। দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে : ডিমে প্রোটিন বেশি এবং ক্যালরি তুলনামূলক কম। ফলে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং অকারণে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী : ডিমে কোলেস্টেরল থাকলেও পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি শরীরে ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়াতে সাহায্য করে, যা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তাই সঠিক পরিমাণে ডিম খাওয়া হার্টের জন্য ক্ষতিকর নয়। হাড় শক্তিশালী করে : ডিমে থাকা ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত করতে সহায়তা করে। নিয়মিত ডিম খেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায় : ডিমে রয়েছে কোলিন নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চোখের যত্নে সহায়ক : ডিমে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা বয়সজনিত চোখের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়ক। কিভাবে খেলে সবচেয়ে ভালো ডিম সিদ্ধ করে খাওয়াই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উপায়। অমলেট বা স্ক্র্যাম্বলড ডিম বানাতে অতিরিক্ত তেল বা মাখন ব্যবহার করলে ক্যালরি বেড়ে যায়, যা ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। সঠিকভাবে রান্না করে প্রতিদিন দুটি সিদ্ধ ডিম খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। সূত্র : আজতক বাংলা
খাবারের স্বাদ বাড়াতে লবণের তুলনা নেই। ভাত, ভাজি, তরকারি থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাত ও রেস্টুরেন্টের খাবার- সবখানেই লবণ ব্যবহার হয়। অল্পতেই খাবারের স্বাদ বাড়ায়, আবার দীর্ঘদিন সংরক্ষণেও সাহায্য করে এই উপাদান। কিন্তু খাবারে লবণ যতটা দরকার, তার চেয়ে বেশি খেলেই শুরু হয় নানা বিপদ। হিউস্টন মেথডিস্ট হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান আমান্ডা মিডোস বলছেন, লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরের জন্য জরুরি একটি খনিজ। এটি পেশির সংকোচন, স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শরীরের জলীয় ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সোডিয়াম গ্রহণ করলে শরীরে নানা ধরনের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হয়। লবণ বেশি খেলে কী হয় অনেকেই লবণাক্ত খাবার খাওয়ার পর তৃষ্ণা বেড়ে যাওয়া, হাত-পা ফোলা বা মাথাব্যথার অভিজ্ঞতা পান। এগুলো সাময়িক মনে হলেও আসল ক্ষতি শুরু হয় কিডনিতে। অতিরিক্ত লবণ প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে শরীরে সোডিয়াম জমা হতে থাকে। তখন শরীর পানি ধরে রাখে, রক্তের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং রক্তচাপ ওঠে। বিশেষজ্ঞ আমান্ডা জানান, ঘন ঘন অতিরিক্ত লবণ খেলে হৃৎপিণ্ড ও কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। রক্ত বেশি পাম্প করতে গিয়ে হৃৎপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনির রোগ কিংবা কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। কতটা লবণ বেশি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও খাদ্যতালিকাগত নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম বা প্রায় এক চা চামচ লবণ গ্রহণ করা উচিত। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের গড় নাগরিক প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম গ্রহণ করেন। কিন্তু শরীরের সঠিকভাবে কাজের জন্য দরকার হয় মাত্র ৫০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম। কেন আমরা বেশি খাই আমাদের দৈনন্দিন লবণ গ্রহণের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে প্রক্রিয়াজাত বা প্রস্তুতকৃত খাবার থেকে। মূলত খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য অজান্তেই আমরা বেশি লবণ খেয়ে ফেলি। চিপস, সস, স্যুপ, টিনজাত বা হিমায়িত খাবারের মতো সহজলভ্য খাবারগুলোতেই লবণের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। অতিরিক্ত লবণ এড়াতে করণীয় ডায়েটিশিয়ান আমান্ডা কয়েকটি সহজ উপায়ের পরামর্শ দিয়েছেন— খাবারের লেবেল পড়ুন : কেনা খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ কত, তা অবশ্যই দেখে নিন। কম সোডিয়াম লেখা মানেই একেবারে স্বাস্থ্যকর নয়, বরং সাধারণের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম সোডিয়াম থাকতে পারে। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন : টিনজাত স্যুপ, হিমায়িত খাবার বা রেস্টুরেন্টের অনেক খাবারেই লবণের মাত্রা বেশি থাকে। তাই যতটা সম্ভব ঘরে রান্না করা ও তাজা ফল-সবজি খাওয়াই ভালো। স্বাদের বিকল্প খুঁজুন : লবণের বদলে স্বাদ বাড়াতে লেবু, ভেষজ, মশলা কিংবা ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। লবণাক্ত খাবারে সাবধান : সস, ড্রেসিং, চিপস বা স্ন্যাকস- এসব খাবার খাওয়ার আগে দুবার ভাবুন। লবণ শরীরের জন্য অপরিহার্য হলেও বেশি লবণ আসলে নিঃশব্দে শরীরের ক্ষতি ডেকে আনে। তাই অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে ও খাবারে সচেতনতা বাড়িয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘লবণ খাবেন, তবে সীমিত পরিমাণে- তাহলেই শরীর থাকবে ভালো।’
দেশে তরুণ ও অবিবাহিতদের মধ্যে এইচআইভি (এইডসের ভাইরাস) সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন শনাক্ত হওয়া এইচআইভি আক্রান্তদের মধ্যে ৪২ শতাংশই তরুণ-তরুণী, যা আগের বছর ২০২৪ সালে ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২১৯ জন।বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, ইনজেকশনযোগ্য মাদক ব্যবহার, কনডমসহ সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার না করা এবং যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব। পরিবার ও সমাজে যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না থাকায় কৌতূহল, ভুল ধারণা ও ভুল সিদ্ধান্ত তরুণদের আরও ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক তরুণ বলেন, “অন্যের ব্যবহৃত সুচ যে এতটা বিপজ্জনক, তা আমি জানতাম না। জানলে কখনোই এই ঝুঁকি নিতাম না।” আরেক তরুণের ভাষায়, “আমাদের নিয়ে সমাজে শুধু নৈতিকতার কথা বলা হয়, নিরাপত্তা ও সচেতনতার বিষয়গুলো খুব কম গুরুত্ব পায়।”ইউএনএইডস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান জানান, তরুণদের মধ্যে অসচেতনতা ও রোমাঞ্চের আকর্ষণ অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্ম দিচ্ছে। তার মতে, এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ যৌন আচরণ সম্পর্কিত শিক্ষা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।বিশেষজ্ঞরা সামাজিক লজ্জা ও ভয় কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তরুণদের লক্ষ্য করে ব্যাপক ও ধারাবাহিক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।ভাইরাসবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও অনেক কমে যায়। তবে সামাজিক ভয় ও লজ্জার কারণে অনেক তরুণ আক্রান্ত হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পরীক্ষা করাতে বা চিকিৎসা শুরু করতে চান না।রাজধানীর বাড্ডা এলাকার এক এইচআইভি আক্রান্ত তরুণ বলেন, “আমি এখন নিয়মিত ওষুধ নিচ্ছি। তবে আমার মতো ভুল আর কেউ যেন না করে—এটাই চাই।”সমাজতত্ত্ব ও মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার, নগরায়ণ ও সামাজিক পরিবর্তনের ফলে তরুণদের মধ্যে যৌনতার প্রতি আগ্রহ বাড়লেও যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা তৈরি হয়নি। মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রযুক্তির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো তরুণদের কাছে সহজেই পৌঁছাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।অধ্যাপক নজরুল ইসলাম আরও বলেন, তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্কুল পর্যায়ে প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রমগুলো সরকারিভাবে নিয়মিত তদারকি করা জরুরি।উল্লেখ্য, এ বিষয়ে ২৪ জানুয়ারি দৈনিক প্রথম আলো–এর অনলাইন সংস্করণে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
‘সঠিকভাবে দাঁত প্রতিস্থাপন, সুন্দর হাসি সুস্থ জীবন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব প্রস্থোডন্টিস্ট দিবস উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ প্রস্থোডন্টিক সোসাইটির উদ্যোগে বিশ্ব প্রস্থোডন্টিস্ট দিবস–২০২৬ উদযাপন এবং নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ডেন্টাল চিকিৎসার বিশেষায়িত শাখা প্রস্থোডন্টিকস-এর দুই শতাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয় এবং শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা ওড়ানো হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ডা. মো. আলমগীর কবীর স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বিশ্ব প্রস্থোডন্টিস্ট দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। সংগঠনের কার্যপরিধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোকপাত করেন বাংলাদেশ প্রস্থোডন্টিক সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. মাসুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ প্রস্থোডন্টিক সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এটিএম সাইফুল ইসলাম। বাংলাদেশ প্রস্থোডন্টিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবু তৈয়ব মো. আহসান উল্লাহ’র সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আতিক মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল অনুষদের ডিন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ডেন্টাল সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) ডা. কামরুল হাসান। বক্তারা নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটির বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রস্থোডন্টিকস শাখার উন্নয়ন এবং ডেন্টাল চিকিৎসার অন্যান্য বিশেষায়িত শাখার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে মুখ ও দাঁতের আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যাফেল ড্র-এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মুখ ও দাঁতের চিকিৎসার উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজন দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার হচ্ছে মাছের ডিম। মাছকে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলা হয়, তা আমরা জানি। কিন্তু মাছের ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। কী আছে এই মাছের ডিমে, তা জানুন আজকের প্রতিবেদনে। মাছের ডিমের পুষ্টিগুণ ভেরিওয়েলফিট ডট কম-এ প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, মাছের ডিমে অল্প পরিমাণে তিন ধরনের ফ্যাট থাকে—স্যাচুরেটেড, পলিআনস্যাচুরেটেড ও মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট। এই তিন ধরনের ফ্যাটই শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়াতে সাহায্য করে। মাছের ডিমে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড (ওমেগা থ্রি) থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এই উপাদানগুলো হৃদয়কে শক্তিশালী করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং রক্ত পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। চোখ ও মস্তিষ্কের জন্যও উপকারডিএইচএ (ডিএইচএ) ও ইপিএ (ইপিএ) জাতীয় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড চোখের রেটিনা ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত মাছের ডিম খেলে চোখের দৃষ্টি উন্নত হতে পারে এবং স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়তে পারে। এই উপকারিতা বিশেষত শিশু, প্রবীণ ও এমন ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ, যারা দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে চান বা তাদের মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে চান। মাছের ডিমে থাকা উপাদানগুলো হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। এটি মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, যারা হৃদয়, চোখ বা মস্তিষ্কের সুস্থতা বাড়াতে চান, তাদের জন্য মাছের ডিম উপকারী হতে পারে। তবে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, রক্তের সমস্যা বা অন্য চিকিৎসাসংক্রান্ত উদ্বেগ আছে, তাদের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। সূত্র : নিউজ ১৮
গ্রীষ্মকাল শুরু হলে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, প্রচণ্ড গরমে শরীর সুস্থ ও ঠাণ্ডা রাখার উপায় কী। কারণ এই সময়ে অতিরিক্ত তাপের কারণে নানা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখা অত্যন্ত জরুরি, আর সেজন্য খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হওয়া দরকার। উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার প্রভাবে শরীরে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা ও শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলস্বরূপ হিট স্ট্রোক, মাথা ঝিমুনি বা হজমের গোলযোগের মতো সমস্যায় পড়তে পারেন অনেকে। তাই গ্রীষ্মকালে এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা শরীর ঠাণ্ডা রাখার পাশাপাশি পুষ্টিও জোগাবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, গরমে শরীর শীতল রাখতে কোন কোন খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা জরুরি— ১. তরমুজ: গ্রীষ্মের অন্যতম জনপ্রিয় ফল তরমুজে প্রায় ৯২ শতাংশই পানি। এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বক ও শরীর দুটোকেই সতেজ রাখে। ২. দই ও ঘোল: গরমে হজমের সমস্যা কমাতে দই খুবই উপকারী। এতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান হজমশক্তি উন্নত করে। দই সরাসরি খাওয়া যায়, আবার ঘোল বানিয়েও পান করা যেতে পারে, যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ৩. ডাবের পানি: প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটে ভরপুর ডাবের পানি ঘামের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া খনিজ উপাদান দ্রুত পূরণ করে। এটি শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায় এবং গরমে স্বস্তি দেয়। ৪. তাজা সবজির স্যালাড: গ্রীষ্মে ভারী খাবারের পরিবর্তে শসা, টমেটো ও লেটুসের মতো সবজি দিয়ে তৈরি স্যালাড খাওয়া ভালো। এগুলো পানিসমৃদ্ধ ও হালকা হওয়ায় শরীরের বিপাকক্রিয়া সহজ হয়। ৫. লেবুর শরবত: রোদে পুড়ে এক গ্লাস ঠান্ডা লেবুর শরবত শরীরকে মুহূর্তেই চাঙ্গা করে তোলে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়ক।
প্রতিদিনের জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িত বহু অভ্যাসই শরীরের হরমোনের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন না হলে নিঃশব্দে বাড়তে পারে নানা শারীরিক সমস্যা—যার অন্যতম থাইরয়েড। ডায়াবেটিসের মতোই থাইরয়েডের সমস্যাও ঘরে ঘরে দেখা যাচ্ছে। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদ্স্পন্দন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করে। এই হরমোনের নিঃসরণ বেশি হলে এক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, আবার মাত্রা কমে গেলে হয় ভিন্ন সমস্যা। কারো ওজন বেড়ে যায়, কারো আবার অস্বাভাবিক ভাবে কমে যায়। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ক্লান্তি, উদ্বেগ, বুক ধড়ফড়ানি, অল্পতেই ঠান্ডা লাগা, ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে সমস্যা আরো জটিল আকার নিতে পারে। কম ঘুম বর্তমানে অনেকেই পর্যাপ্ত ঘুম পাচ্ছেন না—কেউ অনিদ্রায় ভোগেন, কেউ কাজের শিফ্ট বা সময়ের অভাবে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—অনেকের পক্ষেই দিনে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু দীর্ঘদিন কম ঘুম হলে শুধু শরীর বিশ্রাম পায় না, থাইরক্সিনসহ বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হয়। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত সাত ঘণ্টার কম ঘুম হলে থাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণ কমে যেতে পারে, যা ধীরে ধীরে নানা শারীরিক সমস্যার জন্ম দেয়। দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও উদ্বেগ থাইরয়েডের কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাময়িক দুশ্চিন্তা শরীর সামলে নিতে পারলেও, চাপ যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে তবে সমস্যা গুরুতর হতে পারে। পরিস্থিতিগত কারণে চাপ এড়ানো সব সময় সম্ভব না হলেও নিয়মিত শরীরচর্চা, ধ্যান ও প্রাণায়ামের মাধ্যমে মনকে শান্ত রাখা যায়। কড়া ডায়েট বা অনিয়মিত খাওয়া দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, অনিয়মিত খাবার বা পুষ্টিহীন ডায়েট থাইরয়েডের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া ওজন কমাতে গিয়ে অতিরিক্ত কড়া ডায়েট করলে ঝুঁকি বাড়ে। দিনে ১০০০ ক্যালরির কম খাবার গ্রহণ করলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় না, ফলে বিপাকহার হঠাৎ কমে যেতে পারে এবং তার প্রভাব পড়ে থাইরয়েড গ্রন্থির ওপর। ভুল সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার ওজন কমানো বা পেশি গঠনের জন্য অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নানা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত সাপ্লিমেন্ট হরমোনের স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যার প্রভাব থাইরয়েডের ওপরও পড়ে। তাই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শরীরচর্চার অভাব অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও ব্যায়ামের অভাব পরোক্ষভাবে থাইরয়েডের সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত শরীরচর্চা শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সক্রিয় ও সুস্থ রাখে, ফলে হরমোনের ভারসাম্যও বজায় থাকে। সূত্র: আনন্দবাজার
শীত পড়লেই অনেকের সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হয়, আর দিনভর এক ধরনের অদ্ভুত ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাব লেগেই থাকে। অন্য ঋতুতে যেখানে ‘ঘুম ঠিকমতো হয়নি’ এই অনুভূতিটা তেমন জোরালো হয় না, সেখানে ঠান্ডা আবহাওয়ায় বিষয়টি যেন আরও বেশি চোখে পড়ে। আপনার যদি এমনটা মনে হয়, তাহলে আপনি একা নন। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ শীত মৌসুমে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের ঘুমের চাহিদাও বদলে যায়। শীতকালে কেন ঘুম বাড়ে? মানুষের শরীরে একটি প্রাকৃতিক ‘বডি ক্লক’ বা জৈবঘড়ি রয়েছে, যা সূর্যের আলোকে ভিত্তি করে ঘুম ও জাগরণের সময় নির্ধারণ করে। বাইরে সূর্যের আলো থাকলে আমরা বেশি সক্রিয় থাকি, আর সূর্য ডুবে গেলে শরীরে ক্লান্তি ও ঝিমুনি ভর করে। এদিকে, শীতকালে সূর্যের আলো কমে যাওয়ার ফলে শরীরে মেলাটোনিন নামের একটি হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোনটি ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৌসুমে ঠান্ডা পড়লে মেলাটোনিন তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত শুরু হয়। ফলে আগেভাগেই ঘুম ঘুম ভাব আসে। শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মানের ওপরও আলো বড় প্রভাব ফেলে। শীতকালে দীর্ঘ সময় অন্ধকার থাকায় শরীর সারা বছরের ঘুমের ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, শীতকালে গভীর ঘুমের সময় প্রায় ৩০ মিনিট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই গভীর ঘুম মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময় স্মৃতিশক্তি উন্নত হয়, মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ে, মেজাজ ভালো থাকে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। এ ছাড়া গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বেড়ে যায় এবং তখনই মানুষ স্বপ্ন দেখে। এই প্রক্রিয়াগুলোই শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ঋতু অনুযায়ী ঘুমের অভ্যাস বদলানো জরুরি গবেষকরা বলছেন, ফলাফল থেকে প্রথমবারের মতো স্পষ্ট হয়েছে, ঘুমের অভ্যাস ঋতুভেদে বদলানো দরকার। অর্থাৎ শীতকালে তুলনামূলকভাবে একটু আগেই ঘুমাতে যাওয়া শরীরের জন্য উপকারী। যদিও দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে সারা বছর মানুষের ঘুমের সময় মোটামুটি একই থাকে, তবু বাস্তবতা হলো—শীতকালে মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ধীর হয়ে যায় এবং তখন শরীর বেশি ঘুমের দাবি জানায়। শেষ কথা শীতকালে বেশি ঘুম পাওয়া অলসতা বা দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক জৈব প্রতিক্রিয়া। তবে দৈনন্দিন জীবনে এই পরিবর্তন যদি অতিরিক্ত মনে হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়। সূত্র : জিও নিউজ
গরম ভাতে এক চামচ ঘি আর সকালের নাশতায় টোস্ট বিস্কুটে মাখনের প্রলেপ— দুটিই আমাদের দৈনন্দিন খাবারের পরিচিত অনুষঙ্গ। তবে স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন মানুষের মনে প্রায়ই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ঘি নাকি মাখন, কোনটি রাখা বেশি নিরাপদ ও উপকারী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুটোরই উৎস দুধ হলেও এদের পুষ্টিগুণ এবং শরীরের ওপর প্রভাব কিন্তু একেবারেই আলাদা। চলুন জেনে নিন, ২০২৬ সালের আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের নিরিখে কোনটি কোথায় এগিয়ে— ঘি বনাম মাখন : পুষ্টির লড়াইয়ে কে এগিয়ে? ঘি ও মাখনের মূল পার্থক্য তৈরি হয় এদের প্রস্তুত প্রণালি ও উপাদানের ঘনত্বে। ১. ল্যাকটোজ ও ক্যাসিনমুক্ত ঘি মাখন গরম করে এর জলীয় অংশ ও দুধের কঠিন অংশ আলাদা করে তৈরি করা হয় ঘি। ফলে এতে ল্যাকটোজ ও ক্যাসিন থাকে না। যারা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা দুগ্ধজাত খাবারে অ্যালার্জিতে ভোগেন, তাদের জন্য ঘি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি নিরাপদ। অন্যদিকে, মাখনে অল্প পরিমাণে ল্যাকটোজ থেকে যায়। ২. স্মোক পয়েন্টে ঘি অনেক এগিয়ে রান্নার নিরাপত্তার দিক থেকে ঘি নিঃসন্দেহে এগিয়ে। ঘি-এর স্মোক পয়েন্ট প্রায় ২৫০° সেলসিয়াস, অর্থাৎ উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলেও এটি সহজে পুড়ে গিয়ে ক্ষতিকর ধোঁয়া তৈরি করে না। অপরদিকে, মাখনের স্মোক পয়েন্ট তুলনামূলক কম, প্রায় ১৫০° সেলসিয়াস। ফলে কড়াই বা প্যানে মাখন দিলে দ্রুত পুড়ে কালো হয়ে যেতে পারে এবং এতে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যাল তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ৩. হজম ক্ষমতা ও মেটাবলিজম ঘিতে থাকা বিউটাইরিক অ্যাসিড অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং হজম শক্তি বাড়ায়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও ঘিকে শরীরের ‘অগ্নি’ বা মেটাবলিজম বৃদ্ধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাখনও শরীরে শক্তি জোগায়, তবে এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড সরাসরি চর্বি হিসেবে জমার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। ৪. ভিটামিনের ভাণ্ডার ঘিতে ভিটামিন A, D, E ও K— এই চারটি ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখা এবং হাড় মজবুত করতে সহায়ক। মাখনেও এই ভিটামিনগুলো রয়েছে, তবে জলীয় অংশ থাকার কারণে এর ঘনত্ব তুলনামূলক কম। কোনটি রোজ খাওয়া যেতে পারে? এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নির্ভর করে আপনার জীবনযাপন ও শারীরিক অবস্থার ওপর— ওজন কমাতে চাইলে অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, পরিমিত পরিমাণে ঘি ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে। এটি শরীরের জমে থাকা চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, নুনযুক্ত মাখন (Salted Butter) শরীরে জল ধরে রাখতে পারে, যা ওজন বাড়ার কারণ হতে পারে। হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে যাদের কোলেস্টেরল বেশি, তাদের ক্ষেত্রে ঘি বা মাখন— দুটিই খুব সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। তবে সরাসরি মাখনের তুলনায় রান্নায় অল্প ঘি ব্যবহার করা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ১-২ চা চামচ ঘি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। মাখন মাঝেমধ্যে নাশতা বা জলখাবারে খাওয়া যেতে পারে, তবে রোজকার রান্নায় ঘি-ই বেশি উপযোগী। শেষ কথা শুদ্ধতা ও পুষ্টিগুণের বিচারে ঘি মাখনের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘির মান। বাড়িতে তৈরি বা খাঁটি গাওয়া ঘি হলে তবেই উপকার মিলবে। বাজারের ভেজাল বা ডালডা-মিশ্রিত ঘি শরীরের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি ডেকে আনতে পারে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
পরিষ্কার থাকতে প্রতিদিনই তো কত সাবান, শ্যাম্পু ব্যবহার করে থাকেন। তারপরও শরীরের একটি অংশ কিন্তু নোংরা থেকেই যায়। সেখানে গিজগিজ করে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া। জেনে আবাক হবেন, এটিই শরীরের সবচেয়ে নোংরা ও দুর্গন্ধময় অংশ। চলুন জানা যাক আমরা শরীরের কোন অংশের কথা বলছি? শরীরের সবচেয়ে নোংরা জায়গাটি হলো নাভি। বিজ্ঞান বলে, নাভি আসলে শরীরের একটি ক্ষত। জন্মের সময় শিশুকে মায়ের কাছ থেকে পৃথক করার সময়ই এই ক্ষত তৈরি হয়। নাভিকুণ্ডল বেশিরভাগই থাকে ভেতরের দিকে। খুব কমসংখ্যক মানুষেরই নাভিকুণ্ডল বাইরের দিকে থাকে। এই অংশটিই জীবাণুর আখড়া। এখন প্রশ্ন জাগতেই পারে, নাভি কতটা নোংরা? ২০১২ সালে পিএলওএস ওয়ানে প্রকাশিত একটি গবেষণায় জানা গেছে, নাভিতে থাকতে পারে ২৩৬৮ প্রকারের ব্যাকটেরিয়া। যার মধ্যে ১৪৫৮ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া বৈজ্ঞানিকদের কাছেও নতুন। টরন্টোর ডিএলকে কসমেটিক ডার্মাটোলজি অ্যান্ড লেজার ক্লিনিকের ত্বক বিশেষজ্ঞের মতে, নাভি ব্যাকটেরিয়াদের আদর্শ প্রজননক্ষেত্র। বিশেষ করে যাদের ওজন বেশি তাদের এই অংশে ব্যাকটেরিয়া থাকে। টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং নাভিতে পিয়ার্সিং করেছেন এমন ব্যক্তিদের নাভিও ব্যাকটেরিয়ার আঁতুড়ঘর। শরীরের যে কোনো অংশ যেখানে চামড়ার ভাঁজ পড়ে, ঘামে ভেজে, আর্দ্র থাকে সেখানে বেশি ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয়। নাভি এমনই একটি অংশ। চিকিৎসকরা বলছেন, যদি কখনো নাভিতে চুলকানি হয়, নাভি লাল হয়ে যায়, ব্যথা হয়, দুর্গন্ধ হয়, তাহলে সাবধান হোন। অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
আমরা অনেকেই কিডনি রোগকে গুরুত্ব দিই না। অথচ কিডনি নীরবে নীরবে শরীরের অনেক গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। শরীরের ভেতরে একধরনের ফিল্টার হিসেবে কাজ করে কিডনি - রক্ত পরিশোধন করে, টক্সিন বা বর্জ্য বাইরে বের করে, লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখে, এমনকি রক্ত তৈরি করতেও সাহায্য করে। কিন্তু কিডনি যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে আমাদের শরীর আগেভাগেই কিছু ইশারা দিতে শুরু করে। এসব লক্ষণ চেনা থাকলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়। চলুন জেনে নিই, কিডনি রোগে শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। সবসময় দুর্বল আর ক্লান্ত লাগা কিডনি যদি রক্ত ঠিকমতো ফিল্টার করতে না পারে, তাহলে শরীরে বিষাক্ত টক্সিন জমতে থাকে। এতে আপনি সবসময় ক্লান্ত লাগতে পারেন, মাথা ভার মনে হয়, কাজকর্মে মন বসে না। অনেক সময় রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া)-ও এর পেছনে কাজ করে। ঘুম ঠিকমতো না হওয়া কিডনি যখন ঠিকভাবে টক্সিন ফিল্টার করতে পারে না, তখন সেই টক্সিন রক্তেই থেকে যায়—ফলে ঘুমের সমস্যা হয়। স্থূলতা ও ঘুমের ব্যাঘাত - দুটোই দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের লক্ষণ হতে পারে। ত্বক শুষ্ক ও ফেটে যাওয়া কিডনি খনিজ লবণের ভারসাম্য রাখে, হাড়কে মজবুত রাখে। যখন এগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ আর ফাটতে শুরু করে। এটা অ্যাডভান্স কিডনি রোগের ইশারাও হতে পারে। ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া বিশেষ করে রাতে যদি বারবার প্রস্রাবের বেগ পায়, তাহলে সেটা কিডনি রোগের লক্ষণ হতে পারে। কিডনির ছাঁকনি (ফিল্টার) নষ্ট হয়ে গেলে এমন হয়। তবে ইউরিন ইনফেকশন বা প্রোস্টেট বড় হওয়ায়ও এমন হতে পারে। প্রস্রাবে রক্ত দেখা সুস্থ কিডনি রক্তে থাকা রক্তকণিকাকে শরীরে রাখে। কিন্তু কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তকণিকা প্রস্রাবে চলে আসে। এটা কিডনি রোগের পাশাপাশি হতে পারে টিউমার, কিডনি পাথর বা সংক্রমণের লক্ষণ। প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা বা বাবল হওয়া যদি প্রস্রাবে ডিমের মতো ফেনা বা বাবল হয়, তাহলে ধরে নিতে পারেন—প্রোটিন লিক হচ্ছে। এর মানে কিডনির ছাঁকনি ক্ষতিগ্রস্ত এবং শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যাচ্ছে। চোখের নিচে ফুলে যাওয়া চোখের নিচে বা চারপাশে হঠাৎ ফুলে যাওয়ার অর্থ হতে পারে—বেশি পরিমাণ প্রোটিন প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যাচ্ছে, এবং কিডনি এই লিক বন্ধ করতে পারছে না। পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে সোডিয়াম জমে গিয়ে পানি আটকে রাখে। এতে পা ও গোড়ালি ফুলে যায়। তবে এই লক্ষণ হৃদরোগ, লিভার সমস্যা কিংবা পায়ের শিরার দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণেও হতে পারে। কী করবেন? আপনি যদি এসব লক্ষণের এক বা একাধিকটি নিজের বা পরিচিত কারও মধ্যে দেখতে পান, তাহলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান। সাধারণ কয়েকটি পরীক্ষা যেমন - ব্লাড টেস্ট (Creatinine, Urea) ইউরিন টেস্ট (Protein, RBC) আলট্রাসনোগ্রাম - এইগুলো করলেই অনেক কিছু বোঝা যায়। কিডনি রোগ শুরুতে নীরব থাকে, কিন্তু একবার মারাত্মক হয়ে গেলে তা শরীরের অন্য সব অঙ্গের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই সময়মতো লক্ষণগুলো চিনে নেওয়াই হলো সবচেয়ে বড় সাবধানতা। শরীরের ইশারাগুলোকে গুরুত্ব দিন, নিয়মিত পরীক্ষা করান, আর সুস্থ থাকুন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।