ঢাকা: হাম এবং তার উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১,৮২৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই শিশু ও বৃদ্ধ। হাসপাতালগুলোতে রোগী সংক্রমণের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হিসেবে বিবেচিত। এর সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, সর্দি, শ্বাসকষ্ট এবং শারীরিক দুর্বলতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক চিকিৎসা এবং দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো গেলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রোগী ভর্তি কেন্দ্রগুলোতে প্রস্তুতি আরও শক্ত করা হচ্ছে। জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ডাক্তার ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার জানাচ্ছে, জনসাধারণকে গণজমায়েত এড়িয়ে চলা, মাস্ক ব্যবহার করা, এবং নিয়মিত হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
বরগুনাকে হামের হটস্পট ঘোষণা করায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মিলনায়তনে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। বেলা সাড়ে ১১ টায় ভার্চুয়ালি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের এমপি নূরুল ইসলাম মণি। দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০টি জেলার ৩০টি স্থানকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে বরগুনা জেলা সদর উপজেলা ও পৌরসভাকে হামের হটস্পট ঘোষণা করেছে সরকার। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন আবুল ফাত্তাহ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সেলিম শাহনেওয়াজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহিম, প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো সালেহ, ইসলামি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস শাকুর, চিকিৎসক ও সাংবাদিকবৃন্দ।
জুতা পুরোনো হয়ে গেলে আমরা বুঝি নতুন কিনতে হবে, পোশাকের রঙ ফিকে হলে সেটাও বদলাই। কিন্তু টুথব্রাশ? প্রতিদিন ব্যবহার করলেও অনেকেই জানেন না, কখন সময় হয় পুরোনো টুথব্রাশ বদলে নতুনটি ব্যবহার করার। বিষয়টি নির্ভর করে ব্যবহার, স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত অভ্যাসের ওপর। তাই পরেরবার দাঁত মাজার আগে ভেবে দেখুন, আপনার টুথব্রাশ বদলানোর সময় কি এসে গেছে? এক টুথব্রাশ কতদিন ব্যবহার করবেন? দাঁতের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পর টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। তবে কেউ সম্প্রতি অসুস্থ থাকলে বা একাধিক টুথব্রাশ একসঙ্গে রাখলে আরও আগে পরিবর্তন করাই ভালো। ব্রাশের ব্রিসল বা কাঁটা যদি ছেঁড়া বা বেঁকে যায়, সেটি আর ঠিকভাবে পরিষ্কার করতে পারে না, তখনই বুঝতে হবে, সময় হয়েছে নতুন টুথব্রাশ নেওয়ার। শিশুরা সাধারণত বেশি জোরে ব্রাশ করে, তাই তাদের টুথব্রাশ বড়দের তুলনায় বেশি ঘনঘন বদলানো প্রয়োজন। টুথব্রাশের ধরন মূলত দুই ধরনের টুথব্রাশ ব্যবহৃত হয়। একটি ম্যানুয়াল (হাতে চালানো) ও অন্যটি ইলেকট্রিক (বিদ্যুৎচালিত)। এর মধ্যে যেটি ব্যবহার করে আপনার আরাম লাগে এবং নিয়মিত দাঁত মাজতে উৎসাহ পান, সেটিই বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। ম্যানুয়াল টুথব্রাশ সহজে বহনযোগ্য, শব্দহীন এবং ব্যবহারকারী নিজের ইচ্ছেমতো চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। অন্যদিকে, ইলেকট্রিক টুথব্রাশে ঘূর্ণায়মান ব্রিসল দাঁতের ফাঁক ও মাড়ির কাছের ময়লা সহজে দূর করে। অনেক ইলেকট্রিক ব্রাশে টাইমার ও প্রেসার সেন্সর থাকে, যা নির্দিষ্ট সময় ধরে সঠিকভাবে ব্রাশ করতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত চাপ পড়া থেকে মাড়িকে রক্ষা করে। টুথব্রাশের যত্ন যে ধরনের টুথব্রাশই ব্যবহার করুন, পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে জরুরি। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন (ADA)-এর পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিবার ব্যবহারের পর টুথব্রাশ ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে, যেন পেস্ট বা ময়লার কোনো অংশ আটকে না থাকে। ব্যবহারের পর টুথব্রাশ সোজা করে দাঁড়ানো অবস্থায় শুকাতে দিন। ভেজা অবস্থায় ঢাকনা দেওয়া বা বন্ধ কনটেইনারে রাখলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ভ্রমণে গেলে ব্রাশ আর্দ্র থেকে ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে, তাই চাইলে ডিসপোজেবল টুথব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত অভ্যাসে আনুন পরিবর্তন বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের সবার জন্য বছরে কয়েকবার নতুন টুথব্রাশ কেনার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ব্রাশ পরিবর্তনের সময় নির্ভর করে ব্যবহার, বয়স ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ওপর; তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি বাথরুম ক্যাবিনেটে সব সময় বাড়তি একটি নতুন টুথব্রাশ মজুত থাকে, প্রয়োজনে যেন সঙ্গে সঙ্গে বদলানো যায়। সূত্র : মায়ো ক্লিনিক ও কোলগেট
গর্ভাবস্থায় মায়েদের বেশ কিছু বিষয় মেনে চলতে হয়। এই সময়ে খাবারের দিকে বিশেষ নজর দিতে হয়। গর্ভস্থ শিশুর উপযুক্ত বিকাশের জন্য দরকার হয় বিশেষ কিছু খাবারের। ডিম, ডাল, শাক, বিভিন্ন প্রোটিন জাতীয় খাবারের সঙ্গেই হাল্কা খাবার বা টিফিনের সময়েও দিতে হবে আলাদা নজর। এই সময়ে টিফিনে কোন ধরনের খাবার থাকা উচিত তা জানিয়েছেন চিকিৎসক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। চলুন জেনে নি যে ৬ খাবার খাওয়া জরুরি- সামাজিক মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের কোন ধরনের খাবার খাওয়া উচিত তা জানিয়েছেন তাসনিম জারা। তিনি জানান, এই সময়ে মেয়েদের পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। গবেষকরা প্রায় ১০০ রকমের পুষ্টিকর খাবারে তালিকা তৈরি করেছেন। সেই তালিকা অনুসারে, গর্ভবতী নারীদের পুষ্টিকর খাবার হিসাবে রাখতে হবে কাঠবাদাম, সিয়া সিড এবং মিষ্টি কুমড়োর বীজ। তিনি বলেন বলেন, শুধুমাত্র এই তিনটি জিনিসেই নয়, সব ধরনের বাদাম এবং বীজে নানা রকম পুষ্টি গুণ থাকে। চিনা বাদাম তাসনিমের মতে, ওই নারীরা টিফিনে অবশ্যই রাখতে হবে চিনাবাদাম। কারণ এই বাদামে থাকে ফলিক অ্যাসিড এবং কোলিন। এই দুটি জিনিসই গর্ভের শিশুর ব্রেন গঠনে খুব গুরুত্বপূর্ণ সূর্যমুখী বীজ গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত সূর্যমুখী বীজ খাওয়া উচিত বলেও জানান তাসনিম জারা। কারণ এই সূর্যমুখী বীজে আছে ভিটামিন ৬। এটা শিশুর নতুন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। ওই মায়েদের শরীরে নতুন করে রক্ত তৈরির জন্য আয়রন প্রয়োজন। তাই শাক খাবার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার লেবু, কমলা বা আমলকী জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত, যা শরীরকে আয়রন শোষণে সহায়তা করে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ডিম (প্রতিদিন একটি), ডাল, মুরগির মাংস ও মাছ শিশুর টিস্যু ও পেশি গঠনে সহায়তা করে। শাকসবজি ও ফলমূল গাঢ় সবুজ শাক (পালং শাক), মিষ্টি আলু, গাজর, এবং লেবু জাতীয় ফলে থাকা ভিটামিন ও মিনারেলস শিশুর বিকাশে প্রয়োজনীয়। দুগ্ধজাত খাবার দুধ, দই, ও পনির ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস, যা বাচ্চার হাড় ও দাঁত শক্ত করে।
’ নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের বিভিন্ন শহরে স্থাপন করা হচ্ছে ১৭০টি ‘নগর স্বাস্থ্য নীড়’, যা শহরের সাধারণ মানুষের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব স্বাস্থ্য নীড়ে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, টিকা কার্যক্রম, স্বাস্থ্য পরামর্শসহ নানা সেবা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের নগরবাসী যাতে সহজে ও স্বল্প খরচে চিকিৎসা পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নগর এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বিবেচনায় এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এতে করে বড় হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়েই অনেক রোগের চিকিৎসা সম্ভব হবে। সরকার আশা করছে, ‘নগর স্বাস্থ্য নীড়’ চালু হলে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এদিকে, দ্রুত বাস্তবায়ন ও সেবার মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিনাজপুর জেলায় তিন দিনব্যাপী বিনামূল্যে ঠোঁট ও তালু কাঁটা অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় দিনাজপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে ৪২ জন ঠোঁট ও তালু কাটা রোগীর সফল অপারেশন শেষে হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সফিকুল হক ছুটু এ তথ্য বাসসকে নিশ্চিত করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সফিকুল হক বলেন, দিনাজপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা স্মাইল ট্রেইন এর সহযোগিতায় প্রখ্যাত প্লাস্টিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. সাজ্জাদ খন্দকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত ৯ মাস ধরে ৫ বছর থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিশেষ করে শিশু রোগীদের জন্মগত ঠোঁট কাঁটা, তালু কাঁটা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ দিনব্যাপী এ অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। মানবিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের নেতৃত্বে থাকা অধ্যাপক ডা. মো. সাজ্জাদ খন্দকার জানান, জন্মগত এসব রোগীদের আমরা বিনামূল্যে অপারেশন, ফ্রি ওষুধ প্রদানসহ হাসাতপাতালে থাকাকালীন সময়ে খাবার ও যাতায়াত ভাড়া প্রদান করে আসছি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা স্মাইল ট্রেইন এর সহযোগিতায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের বিনামূল্যে আমি এবং আমার মেডিকেল টিম প্রতি মাসে দিনাজপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে এ অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। উল্লেখ্য, যারা এ ধরনের রোগীর অপারেশন করাতে চান তাদের সিরিয়ালের জন্য দাতা সংস্থার পক্ষ হতে নিয়োজিত পল্লব রায় নামের একজনের সাথে মোবাইল ফোন-০১৭১০৬০৬৭১৪, ০১৭১০৬০৬৭১৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অপারেশন শেষে রোগী এবং রোগীর স্বজনদের কাউন্সিলিং ও পরামর্শ প্রদান করেন, প্লাস্টিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. সাজ্জাদ খন্দকার। অধ্যাপক ডা. মো. সাজ্জাদ খন্দকার বাসসকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ডায়বেটিক হাসপাতালে আমরা প্রতি মাসে এ চিকিৎসা সেবা ও অপারেশন ক্যাম্পের মাধ্যমে জন্মগত বিশেষ করে শিশুদের ঠোঁট কাঁটা ও তালু কাঁটা অপারেশন বিনামূল্যে করে আসছি। আমাদের এ চিকিৎসা সেবা ও অপারেশনে এসব রোগীরা এখন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন। আগামীতে আমার নেতৃত্বে থাকা মেডিকেল টিম, বিনামূল্যে এ ধরনের অপারেশন ও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাব বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
রান্নার জন্য ননস্টিক প্যান অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে ননস্টিক প্যান ব্যবহারের কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। ননস্টিক প্যান কীভাবে ব্যবহার করা উচিত এবং এর বিকল্প হিসেবে কী ব্যবহার করা যেতে পারে সেই সম্পর্কে জেনে নিন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হাসান মোস্তফা রাশেদের কাছ থেকে। নন-স্টিক প্যান কতটা ক্ষতিকর ডা. হাসান মোস্তফা বলেন, আমরা রান্নার জন্য বিভিন্ন ধরনের পাত্র বা প্যান ব্যবহার করি। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের হলো ননস্টিক পাত্র। কারণ এগুলো সহজেই পরিষ্কার করা যায় এবং রান্নায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম তেল খরচ হয়। ননস্টিক প্যানের ওপর একটি প্রলেপ থাকে যা খাবারকে প্যানে আটকে রাখে না। এতে সাধারণত পলিটেট্রাফ্লুরোথাইলিন (পিটিএফই) দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়, যা টেফলন নামেও পরিচিত। এ কারণেই ননস্টিক পাত্র তেল ও পানিরোধী হয়ে ওঠে। পিটিএফই একটি সিনথেটিক রাসায়নিক, যা সহজে ক্ষয় হয় না এবং উপাদানটি মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য বেশ ক্ষতিকর। উচ্চতাপে পিটিএফই খাবারের সঙ্গে মিশে যায় যা মানবদেহে থাইরয়েড হরমোনজনিত রোগ, বন্ধ্যাত্ব, শ্বাসকষ্ট, কিডনি ও লিভারের দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী ক্ষতি, এমনকি ক্যানসারেরও কারণ হতে পারে। তারপরও পিটিএফই যুক্ত প্যানে রান্নার বাড়তি কিছু নিয়ম মেনে চলা ভালো। যেমন- ১. প্যানটি খালি থাকা অবস্থায় গরম করবেন না। ২. প্যানে অত্যাধিক তাপ সৃষ্টি করবেন না। ৩. প্যানের ননস্টিক প্রলেপ ক্ষয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে প্যানটি আর ব্যবহার করবেন না। ৪. শক্ত মাজুনি দিয়ে প্যান পরিষ্কার করবেন না। এতে প্রলেপটি সহজে নষ্ট হয়ে যায়। ডা. হাসান মোস্তফা বলেন, পিটিএফইযুক্ত প্যান থেকে সৃষ্ট সমস্যার কারণে বাজারে নতুন কিছু পলিটেট্রাফ্লুরোথাইলিন মুক্ত বা পিটিএফইমুক্ত প্যান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এগুলো পিটিএফই প্যানের মতোই সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং তেল ও পানিরোধী হয়ে থাকে অর্থাৎ ননস্টিক প্যানের সকল গুণই থাকে কিন্তু উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যবহার উপযোগী, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব। এসব প্যানের প্রধান সুবিধা হলো, এতে কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে না। এর মধ্যে সিরামিক ফ্রাইং প্যান, কাস্ট আয়রন ফ্রাইং প্যান এবং কার্বন স্টিল ফ্রাইং প্যান ইদানিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই প্যানগুলো সাধারণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি হওয়ায় খাবারের সঙ্গে মিশে শরীরের ক্ষতি করে না বা পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। এছাড়া আমাদের বাসায় সাধারণত যে স্টেইনলেস স্টিলের ফ্রাইং প্যান ব্যবহার করা হয়, তাও উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্য বেশ উপযোগী এবং স্বাস্থ্যকর। তাই ফ্রাইং প্যান কেনার সময় যা দেখা দরকার তা হলো, প্যানটিতে প্রাকৃতিক নন-স্টিক আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং তা স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কি না।
গরমের দিনে ঠান্ডা তরমুজের এক টুকরো মুখে তুলেছেন, আর অসাবধানতাবশত একটি কালো বীজ গিলে ফেললেন—এ অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। অনেকেই তখন চিন্তায় পড়ে যান, শরীরে কোনো ক্ষতি হবে কি না! কারণ ছোটবেলা থেকেই প্রচলিত একটি ধারণা, তরমুজের বীজ গিলে ফেললে বিপদ হতে পারে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বীজ মোটেই ক্ষতিকর নয়; বরং সঠিকভাবে খেলে এটি হতে পারে পুষ্টির এক সমৃদ্ধ উৎস। গরমের এই সময়ে তরমুজের বীজ নিয়ে ভুল ধারণা ভেঙে সঠিক তথ্য জানা জরুরি। তরমুজের বীজ : মিথ থেকে সুপারফুড তরমুজের বীজ খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ। কাঁচা অবস্থায় গিলে ফেললে এটি মূলত আঁশ হিসেবে কাজ করে এবং পরিপাকতন্ত্র দিয়ে প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বের হয়ে যায়। তবে আসল উপকার পেতে হলে বীজকে সঠিকভাবে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও রান্নায় তরমুজসহ অন্যান্য ফলের বীজ ব্যবহারের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। গবেষণাতেও দেখা গেছে, উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রোটিন ও খনিজের বৈচিত্র্য বাড়াতে এই বীজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পুষ্টিগুণে ভরপুর ছোট দেখতে হলেও তরমুজের বীজ পুষ্টিগুণে ভরপুর, যা আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে অনেক সময় ঘাটতি থেকে যায়। ১. প্রোটিনের ভালো উৎস তরমুজের বীজে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রোটিন থাকে। এতে রয়েছে আর্জিনিন নামের অ্যামিনো অ্যাসিড, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ২. উপকারী চর্বি (ফ্যাট) এতে রয়েছে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, যা খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে ও শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ৩. খনিজ উপাদানের ভাণ্ডার ম্যাগনেসিয়াম : স্নায়ুর কার্যক্রম ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে জিংক : রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ আয়রন : রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক, শক্তি বাড়ায় স্বাস্থ্য উপকারিতা গরমকালে শরীরের পানিশূন্যতা, ক্লান্তি ও ত্বকের সমস্যা বাড়ে। এ সময় তরমুজের বীজ উপকারী হতে পারে। ত্বক ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক : বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম ত্বকের সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে। হৃদ্স্বাস্থ্যে উপকারী : গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে হৃদ্যন্ত্রকে বেশি কাজ করতে হয়। তরমুজের বীজে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। শক্তি ও বিপাকক্রিয়া বাড়ায় : এতে থাকা বি-ভিটামিন (যেমন নায়াসিন ও ফলেট) খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। ফলে ক্লান্তি কমে। কীভাবে খাবেন তরমুজের বীজ : কাঁচা অবস্থায় গিলে ফেললে ক্ষতি নেই, তবে পুষ্টিগুণ পুরোপুরি পেতে হলে বীজ ভেঙে বা প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া ভালো। ভেজানো, অঙ্কুরিত বা ভাজা : বীজ ভিজিয়ে অঙ্কুরিত করলে খনিজ শোষণে বাধা দেওয়া উপাদান কমে যায়। এরপর রোদে শুকিয়ে বা হালকা ভেজে খাওয়া যায়। সহজ ভাজা রেসিপি তরমুজের বীজ ধুয়ে শুকিয়ে নিন। সামান্য ঘি বা তেলে হালকা ভেজে নিন। চাইলে লবণ, শুকনা আমচুর বা মরিচ গুঁড়া ছিটিয়ে স্বাদ বাড়াতে পারেন। এতে বাদামের মতো মচমচে স্বাদ পাওয়া যায়। খাবারে ব্যবহার ১. সকালের নাস্তায় পোহা বা উপমার সঙ্গে ২. স্মুদি বা লাচ্ছিতে ব্লেন্ড করে ৩. সালাদে টপিং হিসেবে সতর্কতা সবকিছুর মতো এটিও পরিমিত খাওয়া জরুরি। হজমের সমস্যা : কাঁচা বীজ বেশি খেলে পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে ক্যালরি বেশি : অল্প পরিমাণ (২৫–৩০ গ্রাম) যথেষ্ট শেষ কথা তরমুজের বীজ কোনো ভয় পাওয়ার বিষয় নয়। বরং এটি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া একটি পুষ্টিকর উপাদান। তাই পরেরবার তরমুজ খাওয়ার সময় বীজকে ফেলে না দিয়ে সচেতনভাবে খাবারের অংশ করে তুলতে পারেন। ছোট এই বীজই হতে পারে আপনার শরীরের জন্য বড় উপকারের উৎস। সূত্র : এনডিটিভি
বাজারে গেলে দেখা যায় নানান ধরনের চাল। কোথাও চিকন, কোথাও মোটা; কোনোটা ঝরঝরে, কোনোটা একটু আঠালো। অনেকেই স্বাদ, দামের পার্থক্য বা অভ্যাস অনুযায়ী চাল বেছে নেন। কিন্তু স্বাস্থ্যের দিক থেকে কোন চাল বেশি উপকারী, এই প্রশ্নের উত্তর জানেন না অনেকেই। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, ওজন বৃদ্ধি বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ার এই সময়ে সঠিক চাল নির্বাচন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে কোন ধরনের চাল রাখা উচিত, তা নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিককে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী। নিচে তা তুলে ধরা হলো। পুষ্টিগুণে এগিয়ে যে চাল চালের বাইরের স্তরে আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান থাকে। কিন্তু চাল প্রক্রিয়াজাত করার সময় এই বাইরের স্তর অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে হারিয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ। এসব পুষ্টি উপাদানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভিটামিন বি। যার মধ্যে রয়েছে থায়ামিন, নায়াসিন ও পাইরিডক্সিন। এছাড়া জিংক, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদানও অনেকটাই কমে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আঁশ বা ফাইবারও কমে যায়। অর্থাৎ চাল যত বেশি পরিশোধিত ও চিকন হবে, তাতে পুষ্টিগুণ তত কমে যাবে। সেই হিসেবে চিকন চালের তুলনায় মোটা চাল পুষ্টিগুণে অনেকটাই এগিয়ে। আরও সুবিধা-অসুবিধা মোটা চালে আঁশের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে এই চালের ভাত অল্প পরিমাণে খেলেও পেট ভরে যায় এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি থাকে। এটি ধীরে হজম হয়, ফলে রক্তের শর্করা হঠাৎ বেড়ে যায় না; বরং ধীরে ধীরে বাড়ে। এতে শরীর দীর্ঘ সময় শক্তি পায় এবং ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে না। অন্যদিকে চিকন চালে আঁশ কম থাকায় এটি দ্রুত হজম হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পরই তা কমতে শুরু করে। এতে দ্রুত ক্ষুধা লাগে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা তৈরি হয়, যা ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়। শেষ কথা পুষ্টিবিদদের মতে, মোটা চালে পর্যাপ্ত আঁশ থাকায় এটি ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ওজন নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে মোটা চাল বেশি উপকারী। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাদের জন্য মোটা চাল বেছে নেওয়াই ভালো। সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদে ভালো থাকার জন্য মোটা চাল উপকারী। তবে যাদের হজমে সমস্যা বেশি, কিংবা খাবার চিবাতে বা গিলতে অসুবিধা হয়, তাদের জন্য চিকন চাল সুবিধাজনক। এছাড়া সাময়িক হজম সমস্যার সময় কিছুদিনের জন্য চিকন চাল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
সুস্থ থাকার প্রধান শর্ত হলো গভীর ও পর্যাপ্ত ঘুম। কিন্তু অনেকেরই মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এটি সাধারণ কোনো অভ্যাস হতে পারে, আবার বড় কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। কেন বারবার ঘুম ভেঙে যায়? আমাদের ঘুমের একটি চক্র বা ‘স্লিপ সাইকেল’ থাকে, যা সাধারণত প্রতি ৯০ মিনিট পর পর পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনের সময় ঘুম কিছুটা পাতলা থাকে, ফলে সামান্য কারণেও তা ভেঙে যেতে পারে। প্রধান কারণগুলো হলো: পরিবেশগত কারণ: ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি বা কম হওয়া, বাইরে থেকে আসা আলো বা জানালার ধারের আওয়াজ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা: সারাদিনের ক্লান্তি, অফিসের কাজের চাপ বা মনের ভেতরের অস্থিরতা ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ডিপ্রেশন বা এনজাইটি থাকলে রাত তিনটার দিকে ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। খাদ্যাভ্যাস: শোবার আগে অতিরিক্ত পানি পান করলে বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া কফি বা অ্যালকোহল পান করলেও ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়। শারীরিক সমস্যা: ঘাড়, পিঠের ব্যথা বা মাংসপেশির টান ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তন বা মেনোপজের কারণেও এমনটি হতে পারে। এটি কি কোনো রোগের লক্ষণ? বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া নিচের এই রোগগুলোর সংকেত হতে পারে: ১. স্লিপ অ্যাপনিয়া: এটি একটি গুরুতর সমস্যা যেখানে ঘুমের মধ্যে সাময়িকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্ক শরীরকে জাগিয়ে দেয়। ২. অ্যাসিড রিফ্লাক্স: যাদের গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা আছে, শুয়ে থাকার সময় পাকস্থলীর অ্যাসিড গলায় উঠে আসায় হঠাৎ ঘুম ভেঙে যেতে পারে। ৩. লো ব্লাড সুগার: রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ কমে গেলে শরীর ঘামতে শুরু করে এবং ঘুম ভেঙে যায়। ৪. ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা: এটি নিয়মিত হতে থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদী অনিদ্রা রোগে রূপ নিতে পারে। ঘুম ভেঙে গেলে কী করবেন? যদি মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় এবং ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে আর ঘুম না আসে, তবে জোর করে বিছানায় পড়ে থাকবেন না। নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন: বিছানা ছেড়ে উঠুন: কিছুক্ষণ অন্য ঘরে গিয়ে হালকা পায়চারি করুন। মোবাইল ফোন এড়িয়ে চলুন: ভুলেও হাতে ফোন নেবেন না। স্ক্রিনের নীল আলো আপনার মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় যে—এখন দিন হয়ে গেছে, যা ঘুম পুরোপুরি কাটিয়ে দেয়। বই পড়া বা গান শোনা: হালকা কোনো বই পড়ুন অথবা মৃদু ধীরলয়ের গান শুনুন। মেডিটেশন: গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা মেডিটেশন মন শান্ত করতে সাহায্য করে। প্রতিকারের উপায় —দুপুরের ঘুম ২০ মিনিটের বেশি নয়। —শোয়ার আগে ঘর অন্ধকার রাখুন (প্রয়োজনে আই মাস্ক ব্যবহার করুন)। —প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। —শোয়ার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সেরে নিন। সতর্কবার্তা: যদি নিয়ম মেনে চলার পরও মাসের পর মাস এই সমস্যা চলতে থাকে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ই পারে আপনাকে প্রশান্তির ঘুম ফিরিয়ে দিতে। তথ্যসূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক
শিশুদের হাম রোগের প্রাদুর্ভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অধিদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে গতকাল একটি অফিস আদেশও জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, শিশুদের মধ্যে হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় আপদকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা ও হামের ভ্যাকসিন প্রদানের সুবিধার্থে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও অধিদপ্তরাধীন সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সর্বস্তরের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি (অর্জিত ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটি) এতদ্বারা স্থগিত/বাতিল করা হলো। এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে জারি করা হলো এবং অবিলম্বে কার্যকরী হবে।
অনেকেই হাম-কে শুধু শিশুদের রোগ মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে বড়রাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন এবং অনেক সময় জটিলতাও গুরুতর আকার নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়ায় বড়দের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি কম নয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, যারা ছোটবেলায় টিকা নেননি বা আগে কখনও হাম হয়নি, তারা যেকোনো বয়সেই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কেন বড়দের হাম হয়? বিভিন্ন কারণে বড়দের মধ্যে হাম দেখা দিতে পারে। যেমন— • শৈশবে টিকা না নেওয়া • আগে হাম না হওয়া • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকা • সংক্রমিত বা ভিড়পূর্ণ পরিবেশে বসবাস লক্ষণগুলো কী? বড়দের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো অনেক সময় বেশি তীব্র হয়— • উচ্চ জ্বর • তীব্র মাথাব্যথা • চোখ লাল হওয়া ও আলো সহ্য করতে না পারা • কাশি ও গলা ব্যথা • শরীরে লাল ফুসকুড়ি • অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তি জটিলতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? বড়দের ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারে। যেমন— • নিউমোনিয়া • লিভারের সমস্যা • তীব্র পানিশূন্যতা • এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কে সংক্রমণ) বিশেষ করে গর্ভবতী নারী বা দীর্ঘদিনের রোগে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি। আক্রান্ত হলে করণীয় • দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন • আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখুন (আইসোলেশন) • পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন • চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন • পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ করুন প্রতিরোধের উপায় হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা নেওয়া। যারা নিশ্চিত নন, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে টিকা নিতে পারেন। সচেতন থাকাই সুরক্ষা হামকে অবহেলা না করে সচেতন হওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা ও সতর্কতা মেনে চললে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই এ রোগ থেকে নিরাপদ থাকার প্রধান উপায়।
হাম প্রতিরোধে বর্তমান সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ ঢাকা শিশু হাসপাতালে হামজনিত নিউমোনিয়া শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বজ্রপাতের মতো এসেছে হাম। আমাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তবে অল্প সময়ে হাম প্রতিরোধে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’ সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী রোববার থেকে সারা দেশে হামের টিকা দেওয়া শুরু হবে। এতোগুলো শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আমি মর্মাহত। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা ও রাজশাহীসহ সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে, প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে হামের চিকিৎসায় কয়েকটি হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, রাজশাহী ও মানিকগঞ্জ ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রয়েছে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সব স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীদের অনেক সংকট আছে, সমস্যা আছে এবং এ ব্যাপরে আমরা ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি। তিনি বলেন, আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি যে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আপনাদের সব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবো। কিন্তু তার আগে দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের সহযোগিতা চাইছি। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, টিকা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ১ হাজার ৩০৬ জন স্বাস্থ্য সহায়তাকারী দীর্ঘ সময় ধরে বেতন পাচ্ছে না, এটা তাদের মধ্যে অনেক বড় একটি কষ্ট। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী, সহ-স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিদর্শক মিলে ২৫ হাজারের বেশি, যাদের প্রমোশন আটকে আছে। তিনি এ ব্যাপারে বলেন, আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করতে চাই, আজকে বা আগামীকালের মধ্যেই তাদের প্রতিনিধিদের ডেকে বিষয়টা ফয়সালা করার চেষ্টা করবো। আমার শুধু অনুরোধ থাকবে, জাতির এ দুর্যোগের সময় আপনারা আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করুন। ডাক্তারদের অবদান ও মানবিকতার বিষয় উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, আমি চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ করব, আপনারা মেডিকেল ইথিকসের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় ‘বিশ্বাস’কে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়ার খবর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। যদিও হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, তবুও এতে আক্রান্ত হলে শিশুদের নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়। কখনো কখনো পরিস্থিতি মারাত্মক আকারও ধারণ করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পরিচর্যার পাশাপাশি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ও প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি। দেশের প্রথম সারির একটি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে আলাপকালে এসব পরামর্শ দেন তিনি। রোগ-প্রতিরোধ বাড়াতে কী খাওয়াবেন? পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশির মতে, শিশু হাম আক্রান্ত হলে প্রথমেই তাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার। শিশুকে উষ্ণ গরম স্যুপ খাওয়ানো যেতে পারে। স্যুপে অল্প পরিমাণ মুরগির মাংস ও ডিমের সাদা অংশ যোগ করা যেতে পারে, যা শিশুর শরীরের জন্য উপকারী। তবে এতে কোনো ধরনের মসলা ব্যবহার না করাই ভালো। প্রোসেসড খাবার থেকে দূরে রাখুন অনেক সময় দেখা যায়, শিশু কিছু খেতে না চাইলে অভিভাবকরা তাকে চিপস বা প্রোসেসড খাবার দিয়ে দেন। কিন্তু এ অভ্যাসটি একেবারেই ঠিক নয়। প্রোসেসড ফুড সাধারণত শরীরের জন্য উপকারী নয়, বরং অসুস্থতার সময় তা আরও ক্ষতির কারণ হতে পারে। পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, হাম আক্রান্ত অবস্থায় শিশুকে এ ধরনের খাবার থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে হবে। চা-কফি কেন এড়িয়ে চলবেন? শুধু শিশু নয়, অনেক প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও অসুস্থ অবস্থায় কিছু খেতে না পারলে চা বা কফি পান করতে চান। অনেকেই মনে করেন এতে হয়তো কিছুটা স্বস্তি মিলবে। কিন্তু বাস্তবে এসব পানীয় উল্টো জটিলতা বাড়াতে পারে। তাই হাম আক্রান্ত অবস্থায় চা-কফি পরিহার করাই উত্তম। তরল ও প্রাকৃতিক খাবারের গুরুত্ব হাম আক্রান্ত রোগীর জন্য তরল খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ডাবের পানি অত্যন্ত উপকারী। এর পাশাপাশি ফলমূল এবং ঘরে তৈরি ফলের জুস খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। তবে জুস অবশ্যই বাসায় তৈরি হতে হবে এবং এতে কোনো ধরনের কৃত্রিম বা রাসায়নিক উপাদান মেশানো যাবে না। প্রয়োজন হলে অল্প পরিমাণ চিনি যোগ করা যেতে পারে। কারণ এ সময় শরীরে ক্যালোরির চাহিদা কিছুটা বেড়ে যায়। ডায়াবেটিসজনিত সমস্যা না থাকলে পরিমিত চিনি গ্রহণ করা যেতে পারে। অল্প অল্প করে, বারবার খাওয়ান শিশুরা অসুস্থ অবস্থায় একসঙ্গে বেশি খাবার খেতে চায় না। তাই অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে খাবারের বৈচিত্র্য আনা জরুরি, যাতে শিশু আগ্রহ পায়। খাবারের তালিকায় গাজর ও মিষ্টিকুমড়ার মতো পুষ্টিকর সবজি রাখা যেতে পারে (যদি পেটের সমস্যা না থাকে)। স্যুপ বা সবজির সঙ্গে এগুলো ব্লেন্ড করে দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া নরম ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গে মিশিয়ে অল্প অল্প করে খাওয়ালে শিশুর জন্য তা সহজপাচ্য হয় এবং উপকার মেলে। সব মিলিয়ে, হাম আক্রান্ত হলে ভয় না পেয়ে সচেতনভাবে শিশুর যত্ন নিতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু স্থানে প্রাণহানির খবর আসায় অভিভাবকদের মধ্যে কাজ করছে তীব্র আতংক। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম নিয়ে আতংকিত না হয়ে সঠিক তথ্য জানা এবং সচেতন থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি। হাম কী এবং কেন ভয়ংকর? হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের মধ্যে ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুর কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। একবার সংক্রমণ শুরু হলে আশপাশের অন্য শিশুর মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে যায়। প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো—জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া। কয়েকদিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। কখন বিষয়টি বিপজ্জনক হয়? সব শিশুর ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক না হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি জটিল রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ঝুঁকি বেশি। হামের জটিলতায় রয়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখের সংক্রমণ, এমনকি বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ। এই জটিলতাগুলোই অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। টিকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের বিনামূল্যে হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়। টিকা শুধুমাত্র শিশুকে সুরক্ষিত রাখে না, পুরো সমাজকেও ভাইরাসের বিস্তার থেকে রক্ষা করে। অভিভাবকদের করণীয় সময়মতো টিকা নিশ্চিত করুন: শিশুর বয়স অনুযায়ী টিকা নেওয়া হয়েছে কিনা যাচাই করুন। প্রয়োজনে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। লক্ষণ দেখলেই চিকিৎসা নিন: জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখুন: হাম দ্রুত ছড়ায়, তাই আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি। পুষ্টিকর খাবার দিন: শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার গুরুত্বপূর্ণ। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিষ্কার পরিবেশ সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক। আতংক নয়, সচেতনতার সময় হাম নিয়ে ভয় পাওয়ার কারণ অবশ্যই আছে, কিন্তু অযথা আতংক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। সচেতনতা, সঠিক তথ্য এবং সময়মতো পদক্ষেপই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। তাই ভয় নয়, দায়িত্বশীল আচরণই আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখার মূল চাবিকাঠি।
স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ‘উইকিমিডিক্স’ নামের একটি হেলথ টেক অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বাংলাভাষায় স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন। এতে উপসর্গ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য রোগ সম্পর্কে ধারণা, সাধারণ চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকবে। সোমবার (৩০ মার্চ) বিএমএ সভাককক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আসিফুর হাসান। অ্যাপটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন আনিকা সাবরিনা আহমেদ। বক্তব্য রাখেন, প্রকৌশলী রুদ্র সরকার প্রমুখ। আয়োজকরা জানান, অ্যাপটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ব্যবহারকারীর অবস্থান অনুযায়ী নিকটবর্তী হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খুঁজে বের করার সুবিধা। পাশাপাশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো স্থান থেকে বাবহার করা যাবে। ‘আস্ক ইউর ডক্টর’ নামে একটি ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য-পরামর্শ পাওয়া যাবে। এছাড়া মেডিকেল রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য দ্বিতীয় মতামত দেয়ার সুবিধাও এতে যুক্ত থাকবে। উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে, সেখানে এ উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে। বিপুল জনগোষ্ঠির এই দেশে এখনো জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ওষুধের দোকানি, হাতুড়ে চিকিৎসক, কবিরাজ এসবের মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়। ফলে এই জনগোষ্ঠির জীবনে অসুস্থতা স্থায়ীভাবে আসন গেড়ে নেয়। বাংলাদেশে চিকিৎসকদের রোগী দেখার সময় অনেক কম। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসকরা গড়ে ৪৮ সেকেন্ড থেকে সর্বোচ্চ ১ বা ২ মিনিট সময় দিয়ে থাকেন। অথচ সঠিক চিকিৎসার জন্য একজন রোগীর পেছনে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় দেওয়া প্রয়োজন। মানসম্মত সেবার জন্য বিশেষজ্ঞরা দিনে ২০ থেকে ৩০ জন রোগী দেখার পরামর্শ দেন। যদিও দেশের অনেক সরকারি হাসপাতালে একজন চিকিৎসক প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ বা তারও বেশি রোগী দেখে থাকেন। এতে চিকিৎসকের কাছ থেকে রোগী সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হন। তাই সামগ্রীক দিক বিবেচনায় উইকিমিডিক্স অ্যাপটি দেশের চিকিৎসা সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে বলে দাবি আয়োজকদের।
দিনভর ব্যস্ততার পর রাতে একটুখানি আরামদায়ক ঘুম, এই প্রত্যাশা সবারই। কিন্তু অনেক সময় অজান্তেই আমাদের রাতের খাবারের অভ্যাস সেই ঘুমের বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ডিনারে ভারী আমিষ খাবারের প্রতি ঝোঁক থাকলে তা ঘুমের মানে প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, ভালো ঘুম চাইলে রাতের খাবারের তালিকায় কিছু পরিবর্তন আনাই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ। ডিনারে মাছ-মাংস-ডিম ছাড়া যাদের চলে না, তাদের জন্য এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে আমিষের তুলনায় নিরামিষ খাবার খেলে ঘুমের গুণমান ভালো হয়। অর্থাৎ অ্যানিম্যাল প্রোটিনের বদলে প্ল্যান্ট প্রোটিন গ্রহণ করলে ঘুম তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হতে পারে। বিখ্যাত ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় ডাবলিন ও বস্টনের দুটি ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন ইনস্টিটিউটের পাঁচ গবেষক যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বড় সমীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ‘নার্সেস হেলথ স্টাডি-১ ও ২’ এবং ‘হেলথ প্রফেশনালস ফলো-আপ স্টাডি’—এই তিন গবেষণায় প্রায় ৯৮ হাজার প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। বিশ্লেষণে উঠে আসে, প্রোটিন গ্রহণের ধরন এবং ঘুমের মানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় ১৩০ ধরনের খাবার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দিনে মোট কতটা প্রোটিন খাওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কোন ধরনের প্রোটিন খাওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ প্ল্যান্ট (উদ্ভিজ্জ) না অ্যানিম্যাল (প্রাণিজ) প্রোটিন, এই পার্থক্যই ঘুমের গুণগত মান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। গবেষকদের মতে, ভালো ঘুমের জন্য প্ল্যান্ট প্রোটিনই বেশি উপকারী। কেন এমন হয়, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্লিপ মেডিসিন ও ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ অরূপ হালদার এবং ইএনটি ও ঘুম বিশেষজ্ঞ দীপঙ্কর দত্ত। তাদের মতে, ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমোন মেলাটোনিন তৈরি হয় ট্রিপটোফান নামক একটি রাসায়নিক থেকে, যার উৎস প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার। তবে অ্যানিম্যাল প্রোটিনে থাকা অন্যান্য অ্যামাইনো অ্যাসিড ট্রিপটোফানের শোষণে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে মস্তিষ্কে মেলাটোনিন উৎপাদন কমে যেতে পারে। অন্যদিকে প্ল্যান্ট প্রোটিনে ট্রিপটোফানের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকায় তা সহজেই মস্তিষ্কে পৌঁছে মেলাটোনিন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে ঘুমের মানও উন্নত হয়। আরেক স্লিপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সৌরভ দাস মনে করিয়ে দেন, অ্যানিম্যাল প্রোটিনের মধ্যেও রেড মিট—যেমন পাঁঠা, খাসি, গরু বা শূকরের মাংস ঘুমের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। কারণ এতে ট্রিপটোফানের অনুপাত কম থাকে এবং হজমে বেশি সময় লাগে। রাতে রেড মিট খেয়ে শুতে গেলে হজমজনিত অস্বস্তি তৈরি হতে পারে, যা ভালো ঘুমে বাধা দেয়। তবে সব অ্যানিম্যাল প্রোটিনই সমান ক্ষতিকর নয়। দুধজাত খাবার বা মুরগির মতো লিন মিটের ক্ষেত্রে এই সমস্যা তুলনামূলক কম। এসব খাবারের প্রভাব অনেকটা প্ল্যান্ট প্রোটিনের কাছাকাছি। সব মিলিয়ে বলা যায়, ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে চাইলে রাতের খাবারে ভারী আমিষ কমিয়ে শাকসবজি, ডালসহ উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের দিকে ঝুঁকতেই পারেন। এতে শুধু হজমই সহজ হবে না, ঘুমও হবে আরও প্রশান্তির।
দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। এরই মধ্যে ঢাকায় একাধিক শিশু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। হাসপাতালের শয্যা ছাড়িয়ে মেঝে, করিডর পর্যন্ত পৌঁছেছে হামের রোগী। রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। গত শনিবার হামে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে তিন শিশু এবং ময়মনসিংহে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশে হামের সংক্রমণ এখন শুধু নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। রাজশাহী, খুলনাসহ প্রায় সারা দেশেই এটি ছড়িয়ে পড়ছে। সাধারণত বসন্তকালে শুরু হওয়া এ ধরনের সংক্রমণ প্রায় দুই মাস স্থায়ী হতে পারে। ইতোমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঠিক তথ্য এখনো আমাদের কাছে নেই। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নয় মাসের কম বয়সি শিশুদের মধ্যেই এখন বেশি সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। অথচ এই বয়সে তাদের টিকা নেওয়ার কথা নয়। অর্থাৎ টিকা পাওয়ার আগেই তারা আক্রান্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘আউটব্রেক রেসপন্স’ হিসেবে আক্রান্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে ব্যাপক টিকা কর্মসূচি চালানো হতে পারে। এমনকি আগে টিকা নেওয়া শিশুদেরও অতিরিক্ত ডোজ দেওয়া হতে পারে। টিকা না নেওয়া শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই অভিভাবকদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে। শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, টিকাদানের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করতে আজ (সোমবার) ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি হামের রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে এখন ১৩০ জন রোগী ভর্তি আছে। অনেককেই করিডর ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর শনির আখড়া থেকে আট মাস বয়সি সন্তান আবদুল্লাহকে নিয়ে গত ১৯ মার্চ থেকে এ হাসপাতালের দুই নম্বর কেবিনের এক নম্বর বিছানায় আছেন সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, প্রথমে জ্বর, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, প্রস্রাবের ইনফেকশন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও পরে জানতে পারি ছেলে হামে আক্রান্ত। ছেলেকে তিন মাস বয়সে টিকা দেওয়া হয়েছিল। এরপর অসুস্থতার কারণে আর টিকা দেওয়া হয়নি। এ হাসপাতালে হামে এক শিশুর মৃত্যুও ঘটেছে। ইপিআইয়ের আওতায় শিশুর ৯ মাস বয়সে এমএমআর-এর প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিশু ওয়ার্ডে হামের রোগীর চাপ অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, হাসপাতালে সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় টিকাদান কর্মসূচির কথা ভাবা হচ্ছে। যেসব শিশু এখনো হামের টিকা পায়নি, তাদের আওতায় আনতে সরকার ৬০৪ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে। টিকা সংগ্রহ সম্পন্ন হলে সারা দেশে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানোর কথাও ভাবছে সরকার। এসময় রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ১১ দিনে ভেন্টিলেশনের অভাবে ৩৩ শিশুর মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। চারটি ভেন্টিলেটর মেশিন সোমবারেই পৌঁছে যাবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী রামেক হাসপাতালে গিয়ে সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও ১২টি ভেন্টিলেটর পাওয়ার প্রতিশ্রুতিও পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছর সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) বিঘ্ন, টিকার সংকট ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের আন্দোলনের কারণে সময়মতো হামের টিকা না পাওয়াই এ প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ। সূত্রমতে, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চম সেক্টর প্রোগ্রাম থেকে বের হয়ে আসার পরিকল্পনা করে অন্তর্বর্তী সরকার। সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ থাকায় ইপিআইয়ের টিকা কেনা হয়নি। ফলে ২০২৫ সালে দেশে ইপিআইয়ের টিকা সংকট দেখা দেয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনের (গ্যাভি) সিএসও কনস্টিটিউয়েন্সি স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারপারসন ড. নিজাম উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গত প্রায় এক বছর ধরে ইপিআইয়ের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ভ্যাকসিনের সরবরাহ ছিল না, আবার কর্মীদের আন্দোলনের কারণে মাঠপর্যায়ে টিকা ঠিকমতো দেওয়া হয়নি। ফলে বহু শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হামে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ : সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দুই মন্ত্রীকে সারা দেশ ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি দলের সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।এ সময় তিনি জানান, সরকারি দলের সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্রিফ করা হয়। সেখানে হামে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে দুজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন, সারা দেশ ঘুরে হামের প্রাদুর্ভাবের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর খবর আসছে। এর মধ্যে শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত তিন মাসে ৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এমনকি সারা দেশে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বৈঠকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন করে যা করার, তা-ই করা হবে। সংসদে আলোচনা করে জুলাই সনদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা বিষয়ে ৩০০ বিধিতে সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন বলে জানান তিনি। এ ছাড়া সংসদীয় কমিটির সভায় জ্বালানি তেল নিয়ে কৃত্রিম সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত তেল থাকার পরও তেল সংগ্রহে যে সংকট চলছে, তা নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। গত শনিবার বিকালে সরকারি দলের সভা শুরু হয়। সন্ধ্যায় ওই সভা মুলতবি করা হয়। সভায় সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের ভূমিকা, সরকারের চলমান কার্যক্রম, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসাসেবার বাস্তব চিত্র দেখতে আকস্মিকভাবে সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জ থেকে এক ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে ইনডোর পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিটের চিকিৎসা সেবা দেখেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালে উপস্থিত চিকিৎসকদের খোঁজ নেন এবং সেখানে দায়িত্বে থাকা চারজন চিকিৎসকের মধ্যে একজনকে অনুপস্থিত পান। এ বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা যেন না হয় সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। ঈদের ছুটির মধ্যেও দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, ‘আপনারা এই দুর্গম এলাকায় মানুষের ভরসা। আপনাদের ত্যাগ ও নিষ্ঠার বিষয়ে সরকার অবগত রয়েছে।’ ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি জরুরি বিভাগের নার্স এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন। রোগীদের কাছ থেকে সরাসরি সেবার মান সম্পর্কে মতামত নেন এবং সেবা পেতে কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে কিনা তা জানতে চান। তৃণমূলের মানুষ যাতে সময়মতো ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদের ছুটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। এ সময় তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যখাত উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে সরকার একটি যুগান্তকারী রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সুরক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বললে আমরা সাধারণত হৃদ্পিণ্ড, পাকস্থলী কিংবা ফুসফুসের কথাই বেশি ভাবি। কারণ এসব অঙ্গের সমস্যা হলে তা দ্রুত বোঝা যায়। কিন্তু শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো কিডনি, যা নীরবে প্রতিদিন প্রায় ২০০ লিটার রক্ত পরিশোধন করে চলেছে। অথচ কিডনির সমস্যা অনেক সময় দীর্ঘদিন অজানাই থেকে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কিডনি রোগকে প্রায়ই ‘সাইলেন্ট ডিজিজ’ বলা হয়। কারণ লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই রোগ অনেকটা এগিয়ে যায়। তাই শরীরের ছোট ছোট কিছু পরিবর্তনের দিকে নজর দিলেই কিডনির সমস্যা আগেভাগে বোঝা সম্ভব। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট অনলি মাই হেলথ-এর সম্পাদকীয় টিম এ বিষয়ে কথা বলেছে নিরা ব্যালান্সের চিফ সায়েন্স অফিসার রিতেশ বাওরি–র সঙ্গে। তার মতে, কিডনি সমস্যার কিছু সূক্ষ্ম সংকেত আছে, যেগুলোকে আমরা প্রায়ই অবহেলা করি। কেন কিডনির সমস্যা দ্রুত ধরা পড়ে না? রিতেশ বাওরি বলেন, মানুষের কিডনির গঠনই এমন যে, এটি অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রথম দিকে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তার ভাষায়, ‘কিডনি তার প্রায় ৪০ শতাংশ কার্যক্ষমতা হারানোর আগ পর্যন্ত অনেক সময় কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। এটি কোনো ত্রুটি নয়, বরং শরীরের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। শুরুতে কিডনি অসাধারণভাবে ক্ষতিপূরণ করে কাজ চালিয়ে যায়। এ কারণেই বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে।’ তবে তিনি বলেন, শরীর যে সংকেত দেয়, শুধু সেই সংকেতগুলো বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কিডনি সমস্যার সূক্ষ্ম ৪ লক্ষণ ১. প্রস্রাবে পরিবর্তন কিডনি সমস্যার প্রথম লক্ষণ অনেক সময় ধরা পড়ে প্রস্রাবের পরিবর্তনে। রিতেশ বাওরি বলেন, রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন হওয়া, প্রস্রাবে ফেনা বা বুদবুদ দেখা দেওয়া কিংবা রঙের পরিবর্তন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সুস্থ কিডনি সাধারণত রক্তে থাকা প্রোটিন ধরে রাখে। কিন্তু কিডনির ফিল্টারিং ঝিল্লি দুর্বল হলে প্রোটিন প্রস্রাবে চলে আসে। আর সেই কারণেই প্রস্রাবে ফেনা দেখা যায়। ২. অকারণ ক্লান্তি পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সব সময় ক্লান্ত লাগে, সেটিও কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি শরীরে এরিথ্রোপয়েটিন নামের একটি হরমোন তৈরি করে, যা লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে এই হরমোনের উৎপাদনও কমে যায়, ফলে শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি বাড়তে পারে। ৩. সকালে চোখ বা পা ফোলা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের নিচে বা পায়ের গোড়ালিতে ফোলাভাব দেখা দিলে সেটিও কিডনি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। রিতেশ বাওরি বলেন, কিডনি যখন অতিরিক্ত তরল ও সোডিয়াম বের করে দিতে পারে না, তখন তা শরীরের নিচের অংশে জমে যায়। অনেকেই এটাকে ক্লান্তির কারণে মনে করেন, কিন্তু নিয়মিত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। ৪. অকারণে রক্তচাপ বাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হলো হঠাৎ বা ধীরে ধীরে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া। কারণ কিডনি শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কিডনি দুর্বল হয়ে পড়লে রক্তচাপ বাড়তে পারে এবং আবার উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, এভাবে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়। কিডনি পরীক্ষা করতে কোন টেস্ট জরুরি? কিডনির অবস্থা জানতে দুইটি পরীক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান বিশেষজ্ঞরা— eGFR (Estimated Glomerular Filtration Rate) : এটি রক্তের একটি পরীক্ষা, যা কিডনি কতটা দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য ছেঁকে বের করছে তা জানায়। স্কোর ৬০–এর নিচে হলে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের আশঙ্কা থাকে। Urine Albumin-to-Creatinine Ratio : এটি প্রস্রাবের একটি পরীক্ষা, যার মাধ্যমে অতি ক্ষুদ্র পরিমাণ প্রোটিন লিক হওয়া ধরা পড়ে। এ ছাড়া ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও নজরে রাখা উচিত, কারণ এটি বেড়ে গেলে কিডনির টিউবুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিডনি সুস্থ রাখতে ৪টি অভ্যাস বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই কিডনির ওপর চাপ অনেকটা কমানো সম্ভব— ১. লবণ কম খান প্রসেসড খাবার ও অতিরিক্ত রেস্তোরাঁর খাবার কমালে কিডনির ওপর চাপ কমে। ২. নিয়মিত হাঁটুন বা শরীরচর্চা করুন অল্প সময় হাঁটলেও রক্তসঞ্চালন ও গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ৩. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন ঘুম কম হলে কর্টিসল ও রক্তচাপ বাড়ে, যা কিডনির জন্য ক্ষতিকর। ৪. খাবারের সময়সূচি ঠিক রাখুন অনেকে রাতে দেরিতে ভারী ও লবণাক্ত খাবার খান। এতে রাতে কিডনির ওপর চাপ বেড়ে যায়। শেষ কথা কিডনি আমাদের শরীরের সবচেয়ে নীরব অথচ পরিশ্রমী অঙ্গগুলোর একটি। এটি দিনরাত কাজ করে শরীরকে পরিষ্কার রাখে, অথচ সমস্যা না হওয়া পর্যন্ত আমরা এর দিকে তেমন নজর দিই না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান করা, লবণ কম খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং বছরে অন্তত একবার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করালে কিডনি সুস্থ রাখা অনেকটাই সহজ। ছোট ছোট এসব অভ্যাসই বড় রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।
এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের প্রধান উৎসব আর আনন্দের দিন হচ্ছে ঈদুল ফিতর। আর এ সময়টাতে নাড়ির টানে পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য দলে দলে মানুষের গ্রামের পথে ছুটে চলার প্রবণতা চিরন্তন। ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, উল্লাস, ফূর্তি আর নতুন সাজে সজ্জিত হওয়া। আমাদের ঈদ-সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অন্যতম আকর্ষণ হলো ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে আবালবৃদ্ধবনিতা সবার জন্যই নতুন পোশাক, একটু ভালো খাবারদাবার আর আনন্দ বিনোদন। ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি, বুকে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ, ফ্রেমে বন্দি অসংখ্য স্থিরচিত্র, বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয়ের বাসায় বাসায় ঘোরাঘুরি, খাওয়াদাওয়া, মজা করা মুসলিমদের জন্য এক মহা আনন্দের। আর এসব ঈদের সংস্কৃতির অংশ। তবে ঈদ ভ্রমণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সতর্কতা নিয়ে সবাইকে হতে হবে সচেতন। ঈদ ভ্রমণে স্বাস্থ্যঝুঁকির খুঁটিনাটি জানা থাকলে ভ্রমণটি হতে পারে আরও আনন্দময়। যাত্রাপথে যারা দূরদূরান্তে যান, তাদের রাস্তাঘাটে পোহাতে হয় হাজারো দুর্ভোগ আর বিড়ম্বনা। তারপরও বাসায় ফেরার আনন্দে মন থাকে মাতোয়ারা। তাই কষ্টগুলো আর বড় হয়ে ওঠে না। এ সময়টাতে অনেককেই ভ্রমণ করতে হয় বাস, ট্রেন অথবা লঞ্চে। রাস্তায় যানজট, ফেরি স্বল্পতা ও পারাপারের সংকট, লঞ্চ-স্টিমারে গাদাগাদি-ঠাসাঠাসি। প্রচণ্ড ভিড় আর ঠেলাঠেলি করে ক্লান্তিকর ও দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে বাড়ি পৌঁছাতে হয়, আবার ছুটি শেষে কাজে যোগদান করতে হয়। সবাই চায় নির্বিঘ্নে আর নিরাপদে ঘরে ফিরতে। তবে যাওয়া আসার ঝক্কিতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিশু ও বয়স্কদের পক্ষে লম্বা যাত্রাপথের ধকল সহ্য করা খুব কঠিন হয় বৈকি। এ সময় আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শরীর খারাপ হতেই পারে। তাই যাত্রাপথে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। অন্যথায় ঈদের আনন্দ আগেভাগেই মাটি হয়ে যেতে পারে। তাই ঈদ ভ্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়াটা কোনোক্রমেই কাম্য নয়। পরিকল্পনা : যাত্রা শুরুর আগে সুন্দরভাবে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে রওনা হবেন। একটু সতর্ক হলেই প্রতিরোধযোগ্য অসুখ-বিসুখ সহজে এড়ানো সম্ভব। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। লাগেজ গোছানো : গোছগাছের ব্যাপারটির সঙ্গে কোথায় যাওয়া হচ্ছে এবং কতদিন থাকতে হবে তা জড়িত। অবশ্যই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ এমনকি ছোট বাচ্চা বা বয়স্কদের জন্য যা যা দরকার, তা সঙ্গে রাখা উচিত। যতটা সম্ভব অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দেওয়া ভালো। রোজা অবস্থায় ভ্রমণ : রোজা রেখে রওনা হলে নিজের ঘরের তৈরি প্রয়োজনীয় খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় সঙ্গে রাখুন, যেন ইফতারের সময় বাইরের খাবার খেতে না হয়। বর্তমানে প্রচণ্ড গরম, তাই বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি পান করুন। পরিধেয় পোশাক : ভ্রমণে যত হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরা যায়, ততই সুবিধা, কারণ বাইরে প্রচণ্ড গরম। ছেলেরা টি-শার্ট পরতে পারেন। তবে নিজের আরামদায়ক হয়, এমন যে কোনো পোশাকই পরতে পারেন। বেশি টাইট জামাকাপড় পরিহার করা উচিত। যাত্রাপথে পরনের জুতা : জুতার ব্যাপারে অবশ্যই খেয়াল রাখুন। বিশেষ করে, নারীরা ভ্রমণের সময় হাইহিল জুতা এড়িয়ে চলুন। ভ্রমণক্ষেত্রে কমফোর্টেবল জুতা বা স্যান্ডেল হাঁটার জন্য আরামদায়ক। যানবাহনে সতর্কতা : জানালা দিয়ে মাথা বা হাত বের করে রাখবেন না। অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেন বা লঞ্চে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। বাস বা ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা খুবই বিপজ্জনক, তাই ছাদে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। ফাস্টএইড বক্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধ : ভ্রমণের প্যাকিং করার আগে অবশ্যই ফাস্টএইড বক্স নিয়ে নিন। ভ্রমণকালে যে কোনো সময় ছোটখাটো অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার কাটা-ছেঁড়ায় প্রাথমিক সহায়তা হবে। বিশেষ করে যারা পাহাড়-পর্বত বা ট্র্যাকিং ট্রিপ দিতে পছন্দ করেন, তাদের ক্ষেত্রে অধিক কাজে দেবে। কারণ ট্র্যাকিং করার সময় কাটা-ছেঁড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। ফাস্টএইড বক্সের সঙ্গে নিয়ে নিন প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। জ্বর-ঠান্ডা, মাথাব্যথা ইত্যাদি সমস্যা হওয়াটা স্বাভাবিক। এছাড়া বমি, পেট খারাপের ওষুধ এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে অ্যান্টিবায়োটিক সঙ্গে রাখা জরুরি। যারা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন : যারা বিভিন্ন রোগে ভোগেন, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, বাতরোগ, অ্যাজমা বা অ্যালার্জি, তারা অবশ্যই ঈদ ভ্রমণে প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নিতে ভুলবেন না। অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা সঙ্গে রাখুন ইনহেলার। ডায়াবেটিস রোগীরা ইনসুলিন বা ট্যাবলেট সঙ্গে রাখবেন এবং লজেন্স, সুগার কিউব সঙ্গে নেবেন। প্লেনে ভ্রমণ করলে ঘন ঘন পা ম্যাসাজ করতে হবে, না হলে পায়ে রক্ত জমাট বেঁধে ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস হতে পারে। তারা পায়ে রক্তজমা প্রতিরোধকারী মোজা পরতে পারেন। যাদের ওজন বেশি তারাও এটা পরতে পারেন। খাবার নিয়ে সতর্কতা : ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। নিজের ঘরের তৈরি খাবার এবং প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে রাখবেন। বাইরের খাবা, শরবত বা পানীয় পরিহার করবেন। অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার বা পানীয় পান করবেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশুদ্ধ পানি পান করুন এবং বাচ্চাদেরও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করাবেন। ভ্রমণে খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে। ভ্রমণের পূর্বে পর্যাপ্ত ঘুম : ভ্রমণের সময় দীর্ঘ দূরত্ব না থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই যানজটের জন্য দীর্ঘক্ষণ রাস্তাতেই কেটে যায়। এমতাবস্থায় শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে শক্তির জোগানের জন্য ভ্রমণের আগে পর্যাপ্ত ঘুম দরকার। এছাড়াও ট্রেনে মোশন সিকনেস থেকে রক্ষা পেতে যানবাহন চলাকালে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ রাখা অথবা সম্ভব হলে ঘুমিয়ে নেওয়া ভালো। গর্ভবতী নারীদের ভ্রমণ : ভ্রমণের সময়ে গর্ভবতী নারীদের রোজা না রাখাই ভালো। কারণ এ সময়ে ঘন ঘন পানি না খেলে শরীরে পানির অভাব দেখা দিতে পারে। বাইরের খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয় গর্ভবতী নারীদের। বাসা থেকেই শুকনো খাবার নিয়ে আসা উচিত সঙ্গে করে। বাসের একদম পেছনের দিকের সিট কিংবা ট্রেনের একেবারে পেছনের দিকের বগিতে অনেক বেশি ঝাঁকি অনুভূত হয়। তাই গর্ভবতী নারীদের উচিত টিকিট করার সময়ে নিজের অসুবিধার কথা জানিয়ে সামনের দিকের সিট নির্বাচন করা। গর্ভাবস্থায় অনেকক্ষণ এক স্থানে বসে থাকতে থাকতে পায়ে পানি এসে পা ফুলে যেতে পারে। এছাড়াও দীর্ঘক্ষণ একস্থানে বসে থাকলে রক্তচলাচল কমে যায়। তাই সম্ভব হলে যাত্রাবিরতিতে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করে নিন। এতে রক্তচলাচল স্বাভাবিক থাকবে। শিশুদের নিয়ে বাড়তি সতর্কতা : ট্রেনে, বাসে কিংবা লঞ্চে ভ্রমণের সময়ে শিশুরা সব সময়েই জানালার ধারের সিটটি পছন্দ করে। এ কারণে হঠাৎ করে অতিরিক্ত বাতাসের মুখোমুখি হয়। ফলে শিশুরা অনেকে ঠিক ভ্রমণের পর পরই আক্রান্ত হয় সর্দি-জ্বর কিংবা সাধারণ কাশিতে। এছাড়াও বাইরের পানীয় এবং খাবার খেয়ে বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। তাই তারা যাতে যাত্রাপথে বাইরের খাবার না খায়, সে ব্যাপারে সজাগ থাকুন। একেবারে ছোট দুগ্ধপোষ্য শিশু নিয়ে ভ্রমণ না করাই উচিত। প্রয়োজনে বের হতে হলে তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করে নিতে হবে। চলার পথে শিশুকে অবশ্যই ধরে রাখবেন, ট্রেন, বাস বা লঞ্চ থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কিন্তু উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। খেয়াল রাখবেন কোনো বাচ্চা যেন জানালা দিয়ে হাত বাইরে না রাখে। এ বিষয়ে সতর্ক হোন। বয়স্কদের সতর্কতা : দীর্ঘ ভ্রমণ বয়স্কদের জন্য বেশি কষ্টসাধ্য। বিভিন্ন রোগসহ অনেকেই বাতজ্বর বা আরথ্রাইটিসে ভোগেন। তাদের জন্য বাসে বা ট্রেনে ওঠাও সহজ নয়, সে সময় তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। যাত্রাপথে যেন তারা একই ভঙ্গিতে বেশিক্ষণ বসে না থাকে এবং মাঝেমধ্যে যানবাহনের মধ্যেই যেন কিছুক্ষণ চলাফেরা করেন, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। তা না হলে বাতের ব্যথা বাড়তে পারে, এমনকি পায়ে পানি জমে পা ফুলেও যেতে পারে। অজ্ঞান পার্টি থেকে সাবধান : যাত্রাপথে মলম পার্টি ও ছিনতাইকারীদের আনাগোনা বেশি থাকে তাই সতর্ক থাকুন। যানবাহনে অপরিচিত কেউ খাদ্য বা পানীয় দিলে খাবেন না। কারণ প্রায়ই শোনা যায়, এ ধরনের খাবার খেয়ে অনেকেই বড় দুর্ঘটনায় পড়েছেন। কাজেই এই বিপদ এড়াতে সচেতন থাকবেন। জরুরি প্রয়োজনে : পরিচিত ডাক্তার এবং পুলিশের ফোন নাম্বার সঙ্গে রাখুন। অসুস্থ বা কোনো বিপদে পড়লে যেন সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ ও বিপদের সময় পুলিশের সাহায্য নিতে পারেন। পুলিশের সাহায্য নিতে যেকোন জায়গা থেকে ৯৯৯-এ ফোন করবেন। বাড়তি সতর্কতা : ঈদে ঘরমুখো মানুষ বাড়ি যাওয়ার জন্য খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বাস, ট্রেন ও লঞ্চের ছাদে চড়ে ঝুঁকিপূর্ণ সফর করেন, এতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ-আপদের শিকার হন। অন্য সময়ের চেয়ে ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ বাড়ে। এ জন্য সফরে সতর্ক ও সাবধান থাকতে হবে, কোনোভাবেই অসতর্কভাবে চলাফেরা করা যাবে না। যে কদিন গ্রামে থাকবেন, অযথা অপ্রয়োজনে রোদে এবং অন্য কোথাও বেশি ঘোরাফেরা করবেন না। এ সময় সাপে কামড়ের রোগীরও প্রচুর খবর পাওয়া যায়। বাচ্চাদের দিকে বেশি নজর রাখবেন যেন পুকুর, নদী বা জলাশয়ের পানিতে বাচ্চারা একা একা না নামে। সবার ভ্রমণ সুন্দর ও নিরাপদ হোক। সর্বোপরি ঈদের ছুটিতে ভ্রমণের প্রস্তুতি, সতর্কতা ও নিরাপত্তা অব্যাহত থাকলে সুন্দর স্মরণীয় এক ভ্রমণ অভিজ্ঞতার আশা করা যায়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।