বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের সাতটি চোরাপথ হয়ে অবৈধ অস্ত্রের চালান দেশে ঢুকছে। এই অস্ত্র পাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে কমপক্ষে পাঁচটি চক্র, আর প্রতিটি চক্রেই রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এসব অস্ত্রের প্রধান গন্তব্য কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলার সন্ত্রাসীদের আস্তানা। সীমান্ত ও নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মায়ানমার থেকে যেভাবে অস্ত্র ঢুকছে—এমন পরিস্থিতি কয়েক বছর আগেও দেখা যায়নি। এখন মাদকের সঙ্গে অস্ত্রও পাচার হচ্ছে, আবার মানবপাচারকারী চক্রও এই অবৈধ ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. সাইফউদ্দীন শাহীন জানান, ৫ অক্টোবর ভোররাতে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের মরাগাছতলায় অভিযান চালিয়ে দুটি অগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি কার্তুজ ও দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। তারা এসব অস্ত্র ও মাদক মায়ানমার সীমান্ত থেকে পাচার করে এনেছিল। রোহিঙ্গা ক্যাম্প সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় পাচারকারীদের জন্য অস্ত্র আনা সহজ হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কক্সবাজার রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, মায়ানমার থেকে অস্ত্র আনার পর পাচারকারীরা তা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গত তিন মাসে বিজিবি সদস্যরা ২২টির বেশি দেশি-বিদেশি অস্ত্রের চালান আটক করেছেন।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের ২৭১ কিলোমিটারের মধ্যে সাতটি পথে পাচারকারীরা অস্ত্র আনছে। এসব পয়েন্টের মধ্যে রয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি, বালুখালী কাস্টমস ঘাট, উখিয়ার পালংখালী ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নলবনিয়া এলাকা। বাইশফাঁড়ি এলাকার পথ দুর্গম ও পাহাড়ি হওয়ায় সেখানে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের কিছু লোকজনও পাচারে যুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। এই পথ দিয়ে আনা অস্ত্রের বড় অংশ তিন পার্বত্য জেলায় থাকা সন্ত্রাসীদের হাতে যায়। অন্য দুটি পয়েন্ট দিয়ে আনা অস্ত্র সরাসরি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছায়।
এ ছাড়া নাফ নদী দিয়ে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং, উলুবনিয়া ও টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা, দমদমিয়া, জাদিমুরা, নয়াপাড়া এবং টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বরইতলী খাল হয়ে অস্ত্র পাচার হয়। এসব চোরাই পথের বিভিন্ন অংশে রোহিঙ্গারা অস্ত্র বহনের দায়িত্ব নেয়। জাদিমুরা পয়েন্টে স্থানীয় বাসিন্দা কালু নামের এক ব্যক্তি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এই চক্রে যুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, সীমান্তপথে অস্ত্র পাচারে অন্তত পাঁচটি চক্র সক্রিয়। এর মধ্যে চারটি হলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী—আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা), রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), হালিম গ্রুপ এবং নবী হোসেন গ্রুপ। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের অরণ্যে সক্রিয় একটি বড় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীও রয়েছে, যার সদস্যসংখ্যা শতাধিক বলে ধারণা।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাধারণ বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হালিম গ্রুপের প্রধান কেফায়েত উল্লাহ ওরফে আব্দুল হালিম উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-৭-এ অবস্থান করছেন এবং সেখানে নৌকার মাঠ এলাকায় আস্তানা গড়ে তুলেছেন। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মায়ানমারের রাখাইনের সীমান্ত ঘেঁষা ঢেকিবনিয়া ঘাঁটি থেকে লুট করা অস্ত্রের ভিডিও ধারণ করেন হালিম নিজেই। ধারণা করা হয়, ওই অস্ত্রগুলোর বড় অংশ বাংলাদেশে পাচার করা হয়।
র্যাব-১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান জানান, র্যাবের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে দেড় বছরে ২১টি বিদেশিসহ ১,২৭৯টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং ১৬৩ জন অস্ত্রধারীকে আটক করা হয়েছে।
মায়ানমারে অস্ত্রের উৎস
রাখাইন রাজ্যে (আরাকান) ২০১৭ সালে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর থেকে আরাকান আর্মি গঠন হয়। তারা রাখাইনকে মায়ানমার থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে সহিংস যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সীমান্তঘেঁষা রাখাইনের অধিকাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এই সংঘাতে মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) ঘাঁটিও দখল হয়, ফলে বহু অস্ত্র ফেলে তারা পালিয়ে আসে।
এই অস্ত্রগুলোর একটি অংশ রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো—আরসা, আরএসও ও হালিম গ্রুপ—লুট করে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাচার করে। এ সময় আরাকান অঞ্চলে খাদ্যঘাটতি দেখা দিলে স্থানীয় আরাকান আর্মি অস্ত্রের বিনিময়ে খাদ্য ও নিত্যপণ্য সংগ্রহ করতে থাকে। ফলে সীমান্ত বাণিজ্যের আড়ালে অস্ত্রের বড় অংশ বাংলাদেশের অপরাধীচক্রের হাতে পৌঁছে যায়।
স্থানীয় এক সভায় একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি বলেছেন, “বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে আরাকানে নিত্যপণ্যের পাচার এত বেড়েছে যে, এখন কক্সবাজারের খাবার দিয়েই আরাকান আর্মির সকালের নাশতা হয়।”
উপসংহার
সীমান্তের ভৌগোলিক জটিলতা, দারিদ্র্য ও অপরাধীচক্রের পারস্পরিক যোগসাজশে পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব একযোগে অভিযান চালালেও অস্ত্র পাচারের নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই চোরাপথগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বুধবার মৌলভীবাজার সফর করবেন। দিনব্যাপী এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর মূল কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এরপর মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল পৌঁছে ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। এ কর্মসূচির আওতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। সেখানে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। বিকেলে তিনি মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে দুসাই রিসোর্টের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছে কিছুক্ষণ বিশ্রাম শেষে দুসাই রিসোর্টে আয়োজিত রাজনৈতিক সভায় যোগ দেবেন। সভা শেষে সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের স্বীকৃতি হিসেবে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বিখ্যাত হাজারি গুড় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের মর্যাদা পেয়েছে। এ স্বীকৃতির ফলে দেশ-বিদেশে পণ্যটির ব্র্যান্ড মূল্য ও বাজার সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড় আনুষ্ঠানিকভাবে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর সম্প্রতি এ পণ্যের নিবন্ধন সনদ প্রদান করে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়’ নামটি জিআই-৬২ নম্বরে নিবন্ধিত হয়েছে। এর মাধ্যমে পণ্যটির ভৌগোলিক পরিচয় ও ঐতিহ্য আইনি সুরক্ষা পেল। মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা-এর ঝিটকা অঞ্চল বহুদিন ধরেই খেজুরের রস থেকে তৈরি বিশেষ ধরনের এই গুড়ের জন্য পরিচিত। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে স্থানীয় কারিগররা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে হাজারি গুড় উৎপাদন করে আসছেন। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, হাতে চাপ দিলেই গুড়টি সহজে গুঁড়ো হয়ে যায়। পাশাপাশি স্বতন্ত্র স্বাদ ও সুগন্ধের কারণে এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। স্থানীয় উৎপাদকদের মতে, জিআই স্বীকৃতির ফলে নকল পণ্যের বিস্তার কমবে এবং প্রকৃত উৎপাদকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আফরোজা খানম রিতা-এর উদ্যোগে জিআই নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। এ কাজে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জিআই স্বীকৃতি কোনো অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের স্বকীয়তা ও সুনাম রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতিও সংরক্ষিত থাকে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, এই স্বীকৃতি মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন পরিচিতি এনে দেবে। একই সঙ্গে এটি জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
বাংলাদেশের আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ এবং এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে (এস আলম) ঘিরে চলমান আন্তর্জাতিক তদন্ত নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাইপ্রাসে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন সম্পত্তি জব্দ, বাংলাদেশে আদালতের রায় এবং সিঙ্গাপুরে আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের উৎস নিয়ে অনুসন্ধানের পর এবার নজর পড়েছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থিত দুটি আন্তর্জাতিক মানের হোটেলের ওপর। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রেনেসাঁ কুয়ালালামপুর হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার এবং ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার—এই দুটি সম্পদের সঙ্গে এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ কাঠামোর যোগসূত্র রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করে বিভিন্ন দেশে সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। যদিও এস আলম সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং দাবি করছেন, তাঁর বিদেশি বিনিয়োগ বৈধ উৎস থেকে অর্থায়ন করা হয়েছে। তবে সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় তাঁর বৈশ্বিক ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক এখন বহুমাত্রিক তদন্তের আওতায় রয়েছে। এদিকে এমন এক সময়ে মালয়েশিয়ায় এস আলম-সংশ্লিষ্ট সম্পদ নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে, যখন বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ছে। শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগের মধ্যেই কুয়ালালামপুরের এই দুই হোটেলকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সম্পত্তিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো জব্দাদেশ বা আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি, তবুও আন্তর্জাতিক তদন্তের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সম্পদ ভবিষ্যতে আরও গভীর অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।