জাতীয়

শুধু হাত বদলেই সবজির দাম ৪ গুণ

শাহ মোঃ সিজু মিয়া অক্টোবর ১০, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কৃষকের মাঠ থেকে রাজধানীর খুচরা বাজারে পৌঁছতে পৌঁছতে সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে প্রায় চার গুণ পর্যন্ত। ঘন ঘন হাতবদল, পরিবহন ব্যয়, চাঁদাবাজি ও বাজার তদারকির দুর্বলতায় এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এতে একদিকে কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে চড়া দাম।

 

দেশের অন্যতম বড় সবজির মোকাম বগুড়ার মহাস্থান বাজারে বর্তমানে কৃষকরা বেগুন বিক্রি করছেন মানভেদে প্রতি কেজি ২৭ থেকে ৪০ টাকায় এবং শিম ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। অথচ এই একই সবজি রাজধানীর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি দামে।

 

বাজার পরিদর্শনে দেখা গেছে, রাজধানীর মহাখালী, বাড্ডা, রামপুরা ও জোয়ারসাহারা এলাকার কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৮০ টাকায়। অথচ বগুড়ায় কৃষকরা এই বেগুন বিক্রি করেছেন ২৭ থেকে ৪০ টাকায়। পাবনার বাজারে বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মেহেরপুরে ৭০ টাকা ও নরসিংদীতে ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

রাজধানীর বাজারে শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। কিন্তু বগুড়ার কৃষকরা পাইকারিতে বিক্রি করছেন মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। একইভাবে করলা বিক্রি হচ্ছে রাজধানীতে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, যেখানে কৃষক পর্যায়ে এর দাম মাত্র ৩২ থেকে ৩৮ টাকা। নরসিংদী, পাবনা ও মেহেরপুরে পাইকারি বাজারে করলার দাম ৫০ থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে।

 

বরবটির ক্ষেত্রেও একই চিত্র। রাজধানীতে প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, অথচ মহাস্থান হাটে কৃষকরা বিক্রি করছেন ৩০ থেকে ৩২ টাকায়। বিভিন্ন জেলা শহরে পাইকারি দরে এর মূল্য ৫০ থেকে ৭৫ টাকার মধ্যে। পটোলের ক্ষেত্রেও বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে—রাজধানীতে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, যেখানে বগুড়ায় কৃষক পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকায়।

 

এছাড়া রাজধানীর বাজারে ঝিঙা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে, অথচ কৃষকরা পাইকারিতে বিক্রি করছেন ৩০ থেকে ৩৬ টাকায়।

ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন, কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এক ক্রেতা বলেন, “কিছু দিন আগেও যে সবজি ৭০-৮০ টাকায় কিনতাম, এখন সেটি ১২০ টাকায় নিতে হচ্ছে। এভাবে চললে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।”

 

অর্থনীতিবিদ ও কৃষি বিপণন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত একাধিক ধাপে দামের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে মূলত মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণহীনতা, চাঁদাবাজি, পরিবহন ব্যয় ও কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে। তাদের পরামর্শ, কৃষি বিপণন ব্যবস্থা অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই শক্তিশালী করতে হবে এবং বাজারব্যবস্থাকে ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে কৃষক ও ক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচন উপলক্ষে টানা দুই দিন বন্ধ থাকবে দোকান ও বিপণিবিতান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ সারা দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল বন্ধ থাকবে। দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাধিকার প্রয়োগের সুবিধার্থে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে ২৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) সারা দেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি পালন করা হবে। এই ছুটি সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস-প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও এই ছুটির আওতায় থাকবেন। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুবিধার্থে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচন উপলক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারির ছুটি নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

ছবি : সংগৃহীত

তিন চ্যালেঞ্জে নতুন সরকার

ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে ‘ফেভারিট’ বলল দ্য ইকোনমিস্ট

ছবি : সংগৃহীত
রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত, আহত ১৪

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন।  আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পীরগঞ্জ পেট্রোল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- গাজীপুরের রাহিমা আক্তার মুন্নি (৩৫), রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের আব্দুল রাজ্জাক হওলাদার (৫৫) ও তার ছেলে আরাফাত সানী সানভী (২২)। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি ট্রাক সামনে থাকা আরেকটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। একই সময় দ্রুতগতিতে পেছন দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী হানিফ পরিবহনের একটি বাস দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের যাত্রী রাহিমা আক্তার মুন্নি নামের একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।  গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুরের হারাগাছের আব্দুল রাজ্জাক হওলাদারকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং তার ছেলে আরাফাত সানী সানভীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।  খবর পেয়ে বড়দরগাহ হাইওয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। বড়দরগা হাইওয়ে থানার ওসি মারুফ হোসেন জানিয়েছে, পীরগঞ্জে ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’

ছবি : সংগৃহীত

সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে কোস্টগার্ডের ব্যাপক প্রস্তুতি : মহাপরিচালক

ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি: যমুনার সামনে বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো গুলি ছোঁড়েনি

ছবি : সংগৃহীত
বিভিন্ন ক্যাডারে ১,৪৯০ কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে সরকার

সরকার ৪৪তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষা-২০২১ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৪৯০ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহসানুল হক এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা বেতন কাঠামোয় বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পর্যায়ের পদে এসব প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) অথবা সরকার নির্ধারিত কোনো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর সংশ্লিষ্ট ক্যাডার বা দপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দুই বছর মেয়াদি প্রবেশনারি (পরীক্ষাকালীন) সময় পার করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এই প্রবেশনারি সময়সীমা সর্বোচ্চ আরও দুই বছর বাড়াতে পারবে। প্রবেশনারি সময়ে কোনো কর্মকর্তা চাকরির জন্য অনুপযুক্ত বিবেচিত হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সঙ্গে পরামর্শক্রমে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে ২৪৪ জন, সহকারী সচিব হিসেবে ৯ জন, পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে ৪৮ জন, সহকারী পরিচালক/সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট/ব্যাটালিয়ন উপ-অধিনায়ক হিসেবে ১৩ জন, সহকারী মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক হিসেবে ২৯ জন, সহকারী কর কমিশনার হিসেবে ১১ জন, সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে সাতজন, ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে সাতজন, সহকারী পরিচালক/তথ্য কর্মকর্তা/গবেষণা কর্মকর্তা বা সমমানের পদে একজন, সহকারী পরিচালক (প্রোগ্রাম) হিসেবে ছয়জন, সহকারী নিউজ কন্ট্রোলার হিসেবে একজন, সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল হিসেবে ১৮ জন, সহকারী কন্ট্রোলার হিসেবে ছয়জন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ২৩ জন, সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে তিনজন, সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে একজন, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগে ১৮ জনসহ অন্যান্য ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগদান করতে ব্যর্থ হলে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে নিয়োগ বাতিল বলে বিবেচিত হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই: পটুয়াখালীতে জামায়াত আমির

ছবি : সংগৃহীত

বিনা বেতনে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত নারীর পড়াশোনার প্রতিশ্রুতি বিএনপির

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন : পর্যবেক্ষক মিশন প্রধান

0 Comments