ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা। স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যা চারপাশের উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্দানাওয়ের দক্ষিণাংশে, যা ভূমি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার গভীরে অবস্থান করছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আশপাশের কয়েকটি প্রদেশেও এটি অনুভূত হয়। অনেক স্থানে ভবন দুলে ওঠে, মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় আসে।
ভূমিকম্পের পর প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ফিলিপাইনের উপকূলে ঢেউয়ের উচ্চতা ১০ ফুট পর্যন্ত উঠতে পারে। সতর্কতা অনুযায়ী, সাগর উপকূলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র পালাউয়েও সুনামির আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় ঢেউয়ের উচ্চতা ১ মিটার বা ৩ ফুটের বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, উপকূলীয় এলাকায় উদ্ধার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং জনগণকে শান্ত থেকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জার্মান এনজিও জাহাজ ‘সি-আই ৫’ এবং ‘কোলিব্রি ২’ বিমানের যৌথ প্রচেষ্টায় ভূমধ্যসাগরে থাকা একটি কাঠের নৌকা থেকে ৪৭ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদেরকে দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা শেষে (গত ৪ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ ইতালির ভিবো ভালেন্তিয়া (Vibo Valentia) বন্দরে নিরাপদে নামানো হয়েছে। জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় হ্যারির প্রভাবে সাগরে তীব্র ঝড় ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করেই এই অভিবাসীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ইতালিতে পৌঁছানো ১ হাজার ৫৭২ জন অভিবাসীর মধ্যে ৪৯৮ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। ওই তালিকার শীর্ষে রেয়েছে বাংলাদেশ। উদ্ধারকৃতদের অনেকেই চরম শীতে হাইপোথার্মিয়া, পানিশূন্যতা, স্ক্যাবিস এবং নৌকার জ্বালানি ও লোনা পানির মিশ্রণে শরীরে সৃষ্ট পোড়া ক্ষতে (Fuel burns) ভুগছিলেন। এনজিও সংস্থাগুলোর দাবি, উদ্ধারস্থল থেকে ৩২ ঘণ্টার দূরত্বের বন্দরে পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে অসুস্থ অভিবাসীরা যাত্রাপথে আরও দুর্বল ও সি-সিকনেসের শিকার হয়েছেন। ভ্যাটিকান ও লিবিয়ার শরণার্থী সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, সাম্প্রতিক ঝড়ের কবলে পড়ে সাগরে আরও শত শত বা হাজারো অভিবাসী এখনো নিখোঁজ থাকতে পারেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের সদ্য স্বাক্ষরিত মেগা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পর্তুগালের ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে ভারতীয় পণ্যের আগ্রাসনে ইউরোপের অভ্যন্তরীণ বাজার—বিশেষ করে পর্তুগিজ বাজার—চাপের মুখে পড়তে পারে। অনেক উদ্যোক্তার ভাষায়, এটি হতে পারে “চীনের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি”। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আলোচনার পর সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি শুল্ক ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হবে। এর ফলে প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষের একটি বিশাল মুক্ত বাণিজ্য বাজার তৈরি হবে। ইউরোপীয় কমিশনের আশা, এই চুক্তির মাধ্যমে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতের উদ্দেশে ইইউ–এর রপ্তানি প্রায় দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে। তবে পর্তুগালের উদ্যোক্তা সংগঠন অ্যাসোসিয়াসাও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পর্তুগেসা (এআইপি)–এর সভাপতি সতর্ক করে বলেছেন, এই চুক্তিতে টেক্সটাইল, পোশাক ও জুতা শিল্প সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কারণ, ভারত এসব খাতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদক এবং তাদের শ্রম ব্যয় পর্তুগালের তুলনায় অনেক কম। তিনি আরও জানান, জেনেরিক ওষুধের বাজারেও ভারতীয় জেনেরিক পণ্যের বাড়তি প্রবেশাধিকার পর্তুগিজ প্রস্তুতকারকদের লাভের মার্জিন কমিয়ে দিতে পারে। পর্তুগিজ টেক্সটাইল ও পোশাক সমিতি (এটিপি)–এর সভাপতি রিকার্দো সিলভা চুক্তিটিকে ঘিরে “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করে বলেন, ভারতের মতো শক্তিশালী ও দাম–নির্ভর উৎপাদনকারী দেশের জন্য ইউরোপীয় বাজার খুলে দিলে পর্তুগিজ কোম্পানিগুলোর বাজার অংশীদারিত্ব কমে যেতে পারে এবং স্বল্পমেয়াদে “বিপর্যয়”ও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নিটওয়্যার, সুতা ও ফেব্রিক্সে ভারতীয় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। চুক্তির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারতীয় তৈরি পোশাক ও হোম টেক্সটাইলের ওপর বিদ্যমান ৯–১২ শতাংশ আমদানি শুল্ক ধাপে ধাপে শূন্যে নেমে আসবে। এতে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য ভারতীয় কটন ও ম্যান–মেড ফাইবারভিত্তিক পণ্য কম দামে পাওয়া সহজ হবে। যদিও এটি ভোক্তাদের জন্য ইতিবাচক, তবে ইউরোপ—বিশেষ করে পর্তুগালের ক্ষুদ্র ও মাঝারি টেক্সটাইল উৎপাদকদের জন্য এটি বড় চাপ তৈরি করতে পারে। কোন কোন পর্তুগিজ শিল্প সবচেয়ে ঝুঁকিতে ১) টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্প ভারতের বৃহৎ উৎপাদনক্ষমতা ও কম শ্রমব্যয় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেলে দামের প্রতিযোগিতায় পর্তুগিজ কারখানাগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে। এর ফলে ‘বেসিক’ গার্মেন্ট ও নিটওয়্যার উৎপাদকরা অর্ডার হারাতে পারেন। ২) জুতা শিল্প ভারতীয় ফুটওয়্যারের ওপর শুল্ক কমে গেলে মধ্য ও নিম্নমূল্যের সেগমেন্টে পর্তুগিজ জুতা–উৎপাদকদের জন্য সরাসরি প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। বহু বছর ধরে চীনা কমদামি জুতার চাপ সামলানোর পর এবার নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভারত যুক্ত হবে। ৩) জেনেরিক ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস “বিশ্বের ফার্মেসি” হিসেবে পরিচিত ভারতের জেনেরিক ওষুধ ইউরোপে আরও কম ট্যারিফে ঢুকতে পারলে পর্তুগিজ উৎপাদকদের লাভের মার্জিন সংকুচিত হতে পারে। ৪) নিম্ন–প্রযুক্তি ও শ্রমনির্ভর শিল্প আগের গবেষণায় দেখা গেছে, চীনা প্রতিযোগিতার ফলে টেক্সটাইল, পোশাক, জুতা ও স্বল্প–প্রযুক্তি খাতে পর্তুগালের রপ্তানি–শেয়ার ও কর্মসংস্থান কমেছে। একই ধরনের পণ্য–সেগমেন্টে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ হলে নতুন আরেকটি বাণিজ্য–ধাক্কার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। চীনের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া সতর্কতা পর্তুগিজ শ্রমবাজার নিয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে, চীনা রপ্তানির উত্থান দেশটির জন্য বড় নেতিবাচক শক ছিল। বিশেষ করে টেক্সটাইল, পোশাক ও জুতা খাতে রপ্তানি–শেয়ার কমে যায় এবং কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই ধাক্কায় নারী, বয়স্ক ও স্বল্প–শিক্ষিত শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, ইইউ–ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কেবল শিল্পনীতি নয়, সামাজিক সুরক্ষা, পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং উচ্চ–মূল্য সংযোজনভিত্তিক উৎপাদনে বিনিয়োগ জরুরি হয়ে উঠছে।
ইসলামী সংস্কৃতি, সংগীত ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল জনপ্রিয় মালয়েশিয়ান নাশিদ দল ইনটিম। তাদের সংগীতজীবনের পঁচিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘কনসার্ট টুয়েন্টি ফাইভ তাহুন ইনটিম নুর কাসিহ’-এ পারসাতুয়ান কেবাজিকান আল-ফিকরাহ মালয়েশিয়াকে ১০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত অনুদান প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসী মুসলমানদের কাছে ইনটিমের গান দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় অনুভূতি, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির অনুপ্রেরণা হিসেবে পরিচিত। সেই দলটির রজতজয়ন্তী কনসার্টে মানবিক উদ্যোগ যুক্ত হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। রোববার বুকিত জলিলের অ্যাক্সিয়াটা অ্যারিনাতে অনুষ্ঠিত এই কনসার্টে তিনপক্ষের যৌথ উদ্যোগে অনুদানটি প্রদান করা হয়। অনুদানদাতারা হলেন—ইনটিম নিজে, কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী দাতুক এম নাসির এবং কনসার্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠান আইকন এন্টারটেইনমেন্ট। ইনটিমের পক্ষে দলের সদস্য রহিম বলেন, এই অনুদান একটি আন্তরিক প্রয়াস, যাতে সংগীতের আনন্দের সঙ্গে সমাজের কল্যাণেও আমরা ভূমিকা রাখতে পারি। অনুষ্ঠানে দাতুক এম নাসির প্রতীকী চেক হস্তান্তর করেন এবং পরে ইনটিমের সঙ্গে মঞ্চে উঠে পরিবেশন করেন তার আবেগঘন গান ‘বোন্দা’—যা মালয়েশিয়ান ও প্রবাসী দর্শকদের স্মৃতিতে মায়ের ভালোবাসা ও শেকড়ের টানকে নতুন করে নাড়া দেয়। ২৫ বছর পূর্তির এই বিশেষ কনসার্টে ইনটিম পরিবেশন করে তাদের ২৫টিরও বেশি জনপ্রিয় নাশিদ। নাজরি জোহানি ও জিজি কিরানার উপস্থিতিতে কনসার্টটি আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শক জানান, এই কনসার্ট তাদের জন্য ছিল শুধু বিনোদন নয়—বরং প্রবাসজীবনের ক্লান্তিতে আত্মিক প্রশান্তির এক অনন্য মুহূর্ত। ইনটিমের এই মানবিক উদ্যোগ প্রমাণ করে সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং তা হতে পারে সমাজকল্যাণ ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার শক্তিশালী হাতিয়ার।