সর্বশেষ

বেবিচক-আইইএবি দ্বন্দ্বে আড়ালে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যর্থতা

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হাউসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর দায়বদ্ধতা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায় নিয়ে শুরু হয়েছে দোষারোপের খেলা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং কার্গো হাউসের ইজারাদার ইন্টারন্যাশনাল এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইইএবি) এই তিন পক্ষই এখন একে অপরের দিকে আঙুল তুলছে।

 

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্যমতে, আগুন লাগে কার্গো হাউস কমপ্লেক্সের উত্তর পাশে কুরিয়ার ইউনিটে। দুপুর আড়াইটার দিকে কর্মীরা ধোঁয়া দেখতে পেয়ে খবর দেন। টানা ২৭ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে ইলেকট্রনিকস, পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যালসসহ বিপুল পরিমাণ আমদানি পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায় নির্ধারণে বিমান মন্ত্রণালয়, বেবিচক, ফায়ার সার্ভিস এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চারটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তিন পক্ষের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।

 

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার বোশরা ইসলাম জানান, যে অংশে আগুন লেগেছে, সেটি কুরিয়ার ইউনিট। ওই অংশের দায়িত্ব সম্পূর্ণ বেবিচকের। বিমান শুধু রপ্তানি ও আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং করে রক্ষণাবেক্ষণ আমাদের আওতায় নয়।

অন্যদিকে আইইএবির সভাপতি কবির আহমেদ বেবিচককে একটি লিখিত অভিযোগপত্রে জানান, কার্গো হাউসে দীর্ঘদিন ধরে বৈদ্যুতিক লাইন, ওয়াশরুম, পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণে মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বেবিচক কয়েক মাস ধরে ওয়্যারহাউজ পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও প্রয়োজনীয় মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। ফলে স্থাপনাটিতে ময়লা-আবর্জনা স্তূপ আকারে জমে ছিল।

 

এক কুরিয়ার মালিক বলেন, বেবিচক আমাদের একাধিক চিঠির কোনো জবাব দেয়নি, বরং ভাড়া বাড়ানোর নোটিশ পাঠিয়েছে। বিদ্যুৎ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পুরোটাই তাদের হাতে ছিল।

আইইএবির ট্রেজারার মোহাম্মদ জাকির হোসেন রিপন জানান, ২০১৩ সালের পর আমরা বেবিচকের কাছ থেকে কার্গো ইউনিট লিজ নিয়েছিলাম। তখন নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের ছিল। কিন্তু দুই বছর আগে বেবিচক নিজেই সেই দায়িত্ব নিয়ে নেয়। তিনি আরও বলেন, দুই বছর ধরে আমরা কোনো দায়িত্বে নেই। বেবিচককে অন্তত ১৪টি চিঠি দিয়ে অব্যবস্থাপনার কথা জানিয়েছি, কিন্তু কোনো জবাব পাইনি। বরং ভাড়া ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যা নিয়ে আদালতে রিট চলছে।

 

তুরস্ক থেকে আগত তদন্ত দল ঘটনাস্থল থেকে পারফিউম বোতলসহ কয়েকটি আলামত সংগ্রহ করেছে। বৈদ্যুতিক নিরাপত্তাহীনতা ও প্রশাসনিক অবহেলা দেখে তারাও বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

এদিকে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, আইকাও প্রোটোকল অনুযায়ী শাহজালাল বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইজারা চুক্তি অনুযায়ী কার্গো হাউসের দায় ইজারা গ্রহীতাদেরই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনের সূত্রপাত আমদানি কুরিয়ার সার্ভিস অংশ থেকে হয়েছে।

এখনও স্পষ্ট নয় এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত দায় কার। তবে তিন পক্ষের দায়িত্বহীনতা, সমন্বয়হীনতা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতিই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্স কার্যত ‘অভিভাবকহীন’ অবস্থায় রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইতিবাচক সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে শায়খ আহমাদুল্লাহ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ইতিবাচক সংস্কার ও পরিবর্তনের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ।   শায়খ আহমাদুল্লাহ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৩ মিনিটে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইতিবাচক সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রশ্নে আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। তবে সংশ্লিষ্ট সব সংস্কার কার্যক্রমকে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে।     তিনি পোস্টে আরও বলেন, “‘হ্যাঁ’ ভোট মানে শুধু পরিবর্তন নয়; বরং মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখে পরিবর্তনের অঙ্গীকার।” পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও নির্বাচিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শায়খ আহমাদুল্লাহ চূড়ান্ত সংস্কার কার্যক্রমে প্রতিনিধিত্বশীল আলেমদের অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানান। তার মতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলেমদের সম্পৃক্ততা থাকলে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ সহজ হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

আজ ঢাকার বাতাস ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’, দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে কায়রো

ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে বগুড়া-মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ ও সেনা মোতায়েন

ছবি : সংগৃহীত
ধানের শীষ গণজোয়ারের মুখে অপতথ্য প্রচারণা, নির্বাচন কমিশনে চিঠি বিএনপির

বিএনপি অভিযোগ করেছে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে গত এক সপ্তাহে অন্তত ২৯টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। দলের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফ্যাসিবাদী আমলে তৈরি মিথ্যা বয়ান পুনরায় ছড়িয়ে দিয়ে একই ভাষা ও স্লোগান ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন এ অভিযোগ জানান। তিনি বলেন, খুলনা ও যশোরে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সফরে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী, সমর্থক, ভোটার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জনসমর্থনের মুখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সুস্থ প্রতিযোগিতার পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপতথ্য ছড়ানোর কৌশল বেছে নিয়েছে। মাহদী আমীন জানান, নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে তারেক রহমান আগামীকাল বুধবার বরিশাল ও ফরিদপুরে যাচ্ছেন। বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে আকাশপথে বরিশালে গিয়ে দুপুর ১২টায় বেলস পার্ক মাঠে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন। এরপর বেলা একটায় বরিশাল থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। সমাবেশ শেষে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্বে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাডেট মোতায়েনের বিষয়ে বিএনপি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটি অভিযোগ করেছে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক ক্যাডেট কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাদের নির্বাচনী কাজে যুক্ত করা হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে ক্যাডেট মোতায়েন না করার অনুরোধ জানিয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়েও বিএনপি প্রশ্ন তুলেছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮১টি স্থানীয় সংস্থার ৫৫,৪৫৪ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৬টি সংস্থা থেকে ৩৪,৪৪২ জন পর্যবেক্ষক রয়েছেন। বিএনপি অভিযোগ করেছে, কয়েকটি সংস্থার নেতৃত্বে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন, যা নির্বাচনের দিন অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি কমিশনের প্রতি দুটি দাবি জানিয়েছে। প্রথম, পর্যবেক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা যাচাই করে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া এবং অভিজ্ঞতা কম সংস্থার পর্যবেক্ষকসংখ্যা সীমিত করা। দ্বিতীয়, কোনো ভোটকেন্দ্রে একসঙ্গে দুজনের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশনা জারি করা। রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে মাহদী আমীন বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। ২০১৬ সালে ভিশন–২০৩০, ২০২২ সালে ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদব্যবস্থা প্রবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগে ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব প্রথম তাদের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিএনপি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। দলটির মতে, জনগণের ভোটাধিকার ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। বিএনপি আশঙ্কা করছে, ভুয়া তথ্য ছড়ানো, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও ক্যাডেট মোতায়েনে হস্তক্ষেপ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দল সমর্থক ও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রমাণভিত্তিক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ থেকে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি

ছবি : সংগৃহীত

জীবনের চাপেই রাজনীতিবিমুখ ভোটার, নির্বাচনী আস্থা সংকটে

ছবি: সংগৃহীত

এনসিটি ইস্যুতে বদলির ধারাবাহিকতা, কর্মবিরতি অব্যাহত

ছবি : সংগৃহীত
ব্যালট বাক্স রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গের ঘোষণা, কুমিল্লায় হাসনাত আবদুল্লাহ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লায় এক নির্বাচনী জনসভায় কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ব্যালট বাক্স সুরক্ষায় কোনো আপস হবে না। প্রয়োজনে জীবন দেওয়ার কথাও উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেন, ভোটকেন্দ্র ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না এবং ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। শনিবার রাতে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গাজীপুর খান সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ১১–দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি কুমিল্লা-৪ আসনে ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী। বক্তব্যে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা ভোটকেন্দ্র দখলের উদ্দেশ্যে আসবে, তাদের কঠোর প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে। ভোটের অধিকার রক্ষাকে তিনি নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেন। প্রশাসনের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, রাষ্ট্রের কর্মচারীরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। নিজ নিজ মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের সেবা করতেই তাঁদের দায়িত্ব, কোনো দলীয় আনুগত্য প্রদর্শন নয়। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি মানুষের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের জন্য এটি এক ধরনের পরীক্ষা, যার ফলাফল নির্ধারিত হবে ভোটের দিন। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি দুর্নীতি ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১১–দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনী অংশগ্রহণকে জনগণের অধিকার রক্ষার পথ হিসেবে উল্লেখ করেন। সভাপতির বক্তব্য দেন কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনের ১১–দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মো. নাজিম উদ্দিন মোল্লা। তিনি নির্বাচনী মাঠে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজেদের মত প্রকাশের আহ্বান জানান। জনসভায় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটারদের উপস্থিতিতে নির্বাচনী উত্তাপ ও বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

দ্বিতীয় দিনেও স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর, মিছিল সমাবেশে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা

ছবি : সংগৃহীত

ভোটের আগে নগদ–বিকাশ–রকেট লেনদেনে নতুন বিধিনিষেধ

ছবি : সংগৃহীত

আশুলিয়া ৬ লাশ পুড়িয়ে হত্যার মামলার রায় ৫ ফেব্রুয়ারি

0 Comments