সর্বশেষ

প্রতারকেরা গড়ছে প্রযুক্তিমুক্ত নেটওয়ার্ক

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৫

প্রতারক ও পেশাদার অপরাধীরা গ্রেপ্তার এড়াতে এখন নতুন কৌশল নিয়েছে। তারা মোবাইল বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার না করে প্রযুক্তিমুক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলা যায়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মাদারীপুর জেলার ডাকাতরা নিজেদের মধ্যে এক ধরনের জোট গড়ে তুলেছে। এই চক্রে অন্তত ৩০ জন সদস্য রয়েছে, যারা প্রত্যেকেই একাধিক চুরি ও ডাকাতি মামলার আসামি।

 

অপরাধীরা বিশ্বাস করে, মোবাইল ব্যবহার না করলে তাদের গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। এজন্য চোর ও আন্তজেলা ডাকাতচক্র এখন মৌখিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর করছে। রেকি করা সদস্যরা টার্গেট করা এলাকা ঘুরে দেখে মুখে জানিয়ে দেয় পরবর্তী পরিকল্পনা। অপারেশনে অংশ নেওয়া সদস্যরা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ছাড়া কাজ করে। কেউ কেউ আবার অপরাধ সংঘটনের কয়েক ঘণ্টা আগেই মোবাইল বন্ধ করে রাখে। এতে গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাহত হচ্ছে, ফলে পুলিশকে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বেগ পেতে হচ্ছে।

 

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, চক্রের সদস্যরা আগে থেকেই নির্দিষ্ট লোকেশনে একত্রিত হয়। সংশ্লিষ্ট জেলার দলনেতা বা তার বিশ্বস্ত কেউ ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে নিশ্চিত হন জায়গাটি নিরাপদ কি না। এরপরই মূল দল সেখানে যোগ দেয়। কোনো কারণে টার্গেট করা বাড়ি বা দোকানে চুরি বা ডাকাতি সম্ভব না হলে তারা মহাসড়কে ডাকাতি করে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তার হলে দলনেতারা জামিনে সহায়তার ব্যবস্থাও রাখে।

 

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা থেকে আন্তজেলা ডাকাতদলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি ওয়ারী বিভাগ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ২০ সদস্যবিশিষ্ট একটি ডাকাতদলের তথ্য পাওয়া গেছে। এরা সবাই মোবাইল ব্যবহার এড়িয়ে চলে এবং সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে অপারেশন পরিচালনা করে।

৮ অক্টোবর রাজধানীর মৌচাকের ফরচুন শপিং মলের এক জুয়েলারি দোকান থেকে বোরকা পরিহিত দুই চোর ৫০০ ভরি সোনা চুরি করে। পরে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, উদ্ধার করা হয় ১৯০ ভরি সোনা। তদন্তে জানা গেছে, চোরেরা তিন মাস ধরে ৩১ বার ওই দোকানে রেকি করেছিল। পুরো পরিকল্পনা ও চুরির সময় তারা কোনো মোবাইল ব্যবহার করেনি। চুরির পর মালামাল ভাগাভাগি করে নতুন মোবাইল ও সিমকার্ড কেনে। এমনকি এক সদস্য নিজের পাঁচটি মামলার তথ্য গোপন করতে ভুয়া এনআইডিও তৈরি করে।

 

এ ছাড়া ৫ অক্টোবর রাতে যাত্রাবাড়ীর এক স্বর্ণের দোকান থেকে ১২৫ ভরি সোনা চুরির ঘটনায় মূল হোতা মোবাইল ব্যবহার করায় গ্রেপ্তার হলেও তার দুই সহযোগী মোবাইল বন্ধ রেখে পালিয়ে যায়। তদন্তে জানা গেছে, চোরেরা অন্যের নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে যোগাযোগ করত এবং ঘটনার দিন মোবাইল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখত।

 

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অপরাধী প্রযুক্তি ব্যবহার না করলে তাকে আইনের আওতায় আনতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও আমরা অসহায় নই। কারণ, অপরাধ সংঘটনের সময় এমন কিছু ক্লু থেকে যায় যা অনুসরণ করেই রহস্য উদ্ঘাটন ও গ্রেপ্তার সম্ভব হয়। আগে যখন মোবাইলের প্রচলন কম ছিল, তখনও কিন্তু অপরাধীরা আইনের আওতায় এসেছে। এখন সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ নানা প্রযুক্তিগত সহায়তাও আমাদের হাতে আছে।

 

গোয়েন্দারা বলছেন, অপরাধীরা যতই প্রযুক্তিমুক্ত থাকার চেষ্টা করুক, আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়া সহজ নয়। কারণ, প্রতিটি অপরাধই কোনো না কোনো সূত্র রেখে যায় যা শেষ পর্যন্ত অপরাধীর কাছেই তদন্তকারীদের পৌঁছে দেয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতি মামলায় ঢাকা ব্যাংকের চার কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা ব্যাংকের কাকরাইল শাখার সাবেক ম্যানেজার মেহেদী জামান খান ও প্রিন্সিপাল অফিসার আয়েশা সাদাফ হুসাইনসহ চার আসামির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।   বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।   বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অপর দুই ব্যক্তি হলেন লিটন চৌধুরী ওরফে মো. ইব্রাহিম খলিল এবং জামিল শরীফ ওরফে মো. আল আমীন।   দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান আদালতে আসামিদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।   আবেদনে উল্লেখ করা হয়, চার আসামির বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ফ্ল্যাটের জাল দলিল তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই ঋণের ৮৫ লাখ টাকা স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে।   দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, মামলাটির তদন্তের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বস্ত সূত্রে আসামিদের দেশত্যাগের চেষ্টার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে তাদের বিদেশযাত্রা বন্ধ রাখা প্রয়োজন।   এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত চার আসামির বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পুতুলের পদে নির্বাচন: মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে ঢাকা

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ছাত্রশক্তির কাউন্সিলে দুই পক্ষের হাতাহাতি

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে চেকপোস্টে পুলিশকে ধাক্কা, মোটরসাইকেল নিয়ে পালাল দুই আরোহী

হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রফতানিতে জোর

হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমিয়ে তাজা ফল, পাট ও চামড়াজাত পণ্যসহ উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য রফতানি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।   বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হংকং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সামিটের সাইডলাইনে হংকং ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এইচকেটিডিসি) নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।   বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল ৪১৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, বিপরীতে রফতানি করেছে ১০৮ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রফতানি সামান্য বেড়ে ১০৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সরাসরি প্রবেশ বাড়ানো জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।    বৈঠকে বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল ও লেবুসহ প্রিমিয়াম ফল হংকংয়ের সুপারমার্কেট ও বড় আমদানিকারকদের কাছে পৌঁছাতে বিটুবি ম্যাচমেকিং আয়োজনের প্রস্তাব দেয়া হয়। একই সঙ্গে হংকংয়ের গ্রিন রিটেইল ও ডিজাইন শিল্পে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।   বাংলাদেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ বাড়াতে ভর্তুকিযুক্ত বা বিনামূল্যের প্রদর্শনী স্টল, ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট অব অরিজিন চালু, শুল্ক প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং যৌথ শিপিং ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।   এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হংকংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হংকংকে দক্ষিণ চীন ও গ্রেটার বে এরিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।   সোফিয়া চং বাংলাদেশের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দুই পক্ষের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়াতে হবে। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।”    বৈঠক শেষে সোফিয়া চংয়ের নেতৃত্বে এইচকেটিডিসির একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গঙ্গা-পদ্মায় বাড়তে পারে পানি, সতর্কসীমায় প্রবাহের আশঙ্কা

মধ্যরাতে ফেসবুকে বিদায়ী পোস্ট লিখে ফের আত্মহত্যার চেষ্টা মেঘমল্লার বসুর

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ দম্পতির সম্পদ বিবরণী যাচাই করছে দুদক

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জিতলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা

ভিয়েতনামের নান্দনিক নগরীতে বসেছিল বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল। বিশ্বের শতাধিক সুন্দরীকে পেছনে ফেলে ‌‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬’-এর কাঙ্ক্ষিত মুকুট নিজের মাথায় তুলে নিয়েছেন ডমিনিকান রিপাবলিকের সুন্দরী জোহেইরি মোলা। জমকালো এই আয়োজনে বিদায়ী মিস ওয়ার্ল্ড, থাইল্যান্ডের ওপাল সুচাতা চুয়াংস্রি নতুন বিশ্বসুন্দরীর মাথায় জয়ের মুকুট পরিয়ে দেন।   প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সেরাদের হারিয়ে প্রথম রানার-আপ হয়েছেন মিস ওয়ার্ল্ড স্পেনের এলিসাবেথ রেনেস এবং দ্বিতীয় রানার-আপ খেতাব অর্জন করেছেন মিস ওয়ার্ল্ড মালয়েশিয়ার তানুসিয়া শেঠি। ভিয়েতনামের খান হোয়া প্রদেশের সেরা সৌন্দর্যমণ্ডিত শহর না ট্রাং-এ আয়োজিত এই মহতী আসরে পুরো বিশ্ব রূপ, মেধা ও মানবসেবার এক অপূর্ব রূপকার্থের সাক্ষী হয়।   বিশ্বমঞ্চে সেরা ছয়ের তালিকায় নিজেদের স্থান নিশ্চিত করে নজর কেড়েছেন ৬টি অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিযোগী। তারা হলেন—পিপলস চয়েস বিজয়ী মিস ওয়ার্ল্ড ইরিত্রিয়ার স্নিথ হাবতেয়াব, ইউরোপ মহাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী স্পেনের এলিসাবেথ রেনেস, ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ বিজয়ী মালয়েশিয়ার তানুসিয়া শেঠি, এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের মিস ওয়ার্ল্ড ভিয়েতনামের লে নগুয়েন বাও এনগোক, আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বিজয়ী ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা এবং আফ্রিকা মহাদেশের প্রতিনিধি দক্ষিণ আফ্রিকার রোমান্দা হোমবির।   ১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যে প্রখ্যাত সংগঠক এরিক মরলি কর্তৃক প্রবর্তিত এই প্রতিযোগিতাটি বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা হিসেবে খ্যাত। কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচনে প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ, বন্ধ দরজার ভেতরে ব্যক্তিত্ব যাচাইয়ের সাক্ষাৎকার এবং সরাসরি মঞ্চে উপস্থিত বুদ্ধি ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।   এ বছরের বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় মোট ১১১ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের আফ্রিকা, আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান, ইউরোপ এবং এশিয়া ও ওশেনিয়া—এই চারটি মহাদেশীয় অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল। প্রারম্ভিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে সিলেকশন কমিটি প্রথমে শীর্ষ ৪০ জন রূপসীকে কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য নির্বাচন করে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে প্রতিভাবানদের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হয় শীর্ষ ২০ এবং সেখান থেকে শীর্ষ ১২ জন প্রতিযোগীকে। সেখান থেকেই চূড়ান্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে উঠে আসেন সেরা ৬ ফাইনালিস্ট, যা থেকে পরবর্তীতে বিজয়ী ও রানার-আপদের নাম ঘোষণা করা হয়।   এবারের আসরটি ছিল বেশ কিছু নতুনত্ব ও চমকে ভরা। প্রথমবারের মতো এই বিশ্বমঞ্চে পদার্পণ করে আত্মপ্রকাশ করেছে ফ্রেঞ্চ গায়ানা, ইরিত্রিয়া, মোজাম্বিক, পাকিস্তান এবং মালদ্বীপের প্রতিযোগীরা। অন্যদিকে, বিশেষ ব্যক্তিগত ও প্রযুক্তিগত কারণে ইকুয়েডরের সামান্থা কুয়েনেদিত, আর্মেনিয়ার মনিকা হারুতজুনজান এবং টোগোর নাদিরাতু আফোলাবি শেষ মুহূর্তে প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন।   বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রূপসীদের এই মহামিলনমেলার সফল সমাপ্তির পর পরবর্তী আয়োজক দেশের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মিস ওয়ার্ল্ডের আগামী ৭৪তম সংস্করণটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায়।   সূত্র: এনডিটিভি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কালিয়াকৈরে কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সিএনজির সংঘর্ষ, নিহত ২

ছবি: সংগৃহীত

বাধা এলেও চট্টগ্রামে লং মার্চ পৌঁছাবে: নাহিদ ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত

সিফাতকে মুক্তি দিন, নইলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে: শফিকুর রহমান

0 Comments