সময়টা বুঝি ভারতেরই! রোহিত-কোহলিদের হাত ধরে পুরুষ দল ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৩ বছরের শিরোপাখরা কাটানোর পর পরের বছর জেতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। আর এবার নারী ক্রিকেটে ইতিহাস গড়ল হারমনপ্রিত কৌরের দল। নাভি মুম্বাইয়ের ফাইনালে শেফালি ভার্মা ও দীপ্তি শর্মার দুর্দান্ত অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে প্রথমবার নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত।
দুই দলের সামনেই ছিল প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের সুযোগ। ভারত এর আগে দু’বার রানার্সআপ হলেও দক্ষিণ আফ্রিকা এবারই প্রথম ফাইনালে ওঠে। তবে লরা উলভার্টের সেঞ্চুরিও হার এড়াতে পারেনি প্রোটিয়াদের। তিন ফাইনালে হারের ব্যর্থতা যেন আবারও মনে করিয়ে দিল তাদের পুরোনো ‘চোকার্স’ তকমা।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচ শুরু হতে দেরি হয়। আগে ব্যাট করে ভারত নির্ধারিত ওভারে তোলে ৭ উইকেটে ২৯৮ রান নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ভারতের ইনিংসে শেফালি ভার্মা ৮৭, দীপ্তি শর্মা ৫৮, স্মৃতি মান্দানা ৪৫ এবং রিচা ঘোষ ৩৪ রানের অবদান রাখেন। আফ্রিকার হয়ে আয়াবোঙ্গা খাকা নেন ৩ উইকেট।
জবাবে লরা উলভার্টের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি (৯৮ বলে ১০১) সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকা গুটিয়ে যায় ২৪৬ রানে। তাজমিন ব্রিটসের রানআউটে ৫১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। সুনে লুস ২৫ ও এনেরি ডার্কসেন ৩৫ রান করলেও অন্য কেউ উলভার্টকে পর্যাপ্ত সঙ্গ দিতে পারেননি।
ভারতের জয় নিশ্চিত হয় উলভার্টের বিদায়ের পর। নাদিনে ডি ক্লার্কের ব্যাট থেকেও আসেনি প্রত্যাশিত ঝড় আউট হন ১৮ রানে।
ফাইনালে দীপ্তি শর্মা ছিলেন ভারতের সেরা অলরাউন্ডার। ব্যাটে ৫৮ রানের পর বল হাতে নেন ৫ উইকেট। এক আসরে ২০০ রান ও ১৫ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি রেকর্ড গড়েছেন নারী বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে।
শেফালি ভার্মার গল্পটাও অনুপ্রেরণামূলক মূল দলে ছিলেন না, কিন্তু প্রতিকা রাওয়ালের ইনজুরির কারণে দলে সুযোগ পান সেমিফাইনালে। আর ফাইনালে হয়ে ওঠেন নায়িকা। তার ব্যাটে সর্বোচ্চ রান, বল হাতে নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
লরা উলভার্ট অবশ্য ইতিহাস গড়েছেন অন্যভাবেও নারী ও পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ মিলিয়ে তিনি মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার, যিনি একই আসরে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছেন। এর আগে এই কীর্তি ছিল শুধু অস্ট্রেলিয়ার অ্যালিসা হিলির। এক আসরে সর্বোচ্চ ৫৭১ রান হয়তো তাকে কিছুটা সান্ত্বনা দেবে, তবে প্রথমবার বিশ্বকাপ না জেতার আক্ষেপ থেকে যাবে অনেকদিন।
নারী ক্রিকেটে ভারতের এই জয় শুধু ইতিহাস নয়, বরং নতুন যুগের সূচনা। পুরুষদের পর এবার নারীরাও ছুঁয়ে ফেলল বিশ্বজয়ের শিখর। সত্যিই সময়টা এখন ভারতেরই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে আর মাস তিনেকের একটু বেশি সময় বাকি। এমন সময় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে শঙ্কা দানা বাঁধতে শুরু করেছে, ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন তো পর্তুগিজ তারকা? এই শঙ্কার মূল কারণ তার হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট। মার্চের প্রথম দিনে সৌদি প্রো লিগে আল ফাইহার বিপক্ষে চোট পান রোনালদো। পরে তার ক্লাব আল নাস্র পরীক্ষায় রোনালদোর চোট ধরা পড়ার কথা জানায়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং প্রতিদিন তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। কিন্তু তার চোট কতটা গুরুতর কিংবা মাঠে ফিরতে কতদিন লাগতে পারে, এসব কিছুই জানানো হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা। তাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে আল নাস্র কোচ জোর্জে জেসুসের মন্তব্যে। তিনি বলেছেন, পরীক্ষার পর দেখা গেছে পর্তুগিজ তারকার চোট ধারণার চেয়ে বেশি গুরুতর। “চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত থেরাপিস্টের সঙ্গে সে স্পেনে যাবে, যেমনটা অনেক খেলোয়াড়ই করে থাকে। আমরা আশা করি, সে শিগগিরই মাঠে ফিরবে এবং দলকে সাহায্য করতে পারবে।“ আগামী ১১ জুন শুরু হবে এবারের বিশ্বকাপ, ৪২ বছর বয়সী রোনালদোর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এটাই তার শেষ লক্ষ্য হতে পারে। কিন্তু এই চোট থেকে সুস্থ হওয়ার পর, ফিটনেস ফিরে পেতে কতটা সময় লাগতে পারে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে। হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে কতটা সময় লাগতে পারে, এটা আসলে নির্ভর করে চোটের ধরনের ওপর। গ্রেড-ওয়ানের হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে সেরে উঠতে একজন খেলোয়াড়ের লাগে তিন সপ্তাহের মতো। আবার গ্রেড-টু হলে সেরে উঠতে সময় লাগে এক থেকে দুই মাসের মতো। তবে সবচেয়ে খারাপ হতে পারে চোট যদি গ্রেড-থ্রি হয়, এক্ষেত্রে খেলোয়াড়ের সেরে উঠতে সময় লাগে ছয় মাসের মতো। রোনালদোকে ঘিরে এই শঙ্কা তার ক্লাবের জন্যও বড় দুশ্চিন্তার কারণ। সাত মৌসুমের মধ্যে প্রথম লিগ শিরোপা জয়ের আশায় আছে তারা। ২৪ ম্যাচে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে দলটি এবং তাদের এই যাত্রায় দলের সর্বোচ্চ ২১ গোল করেছেন রোনালদো। তাই পেশাদার ক্যারিয়ারে রেকর্ড ৯৬৫ গোলের মালিককে খুব শিগগির ফিরে পাওয়াটা খুব দরকার আল নাস্রের জন্য।
খেলোয়াড়রা তাদের বয়স লুকান এটা নতুন কিছু নয়। এই যেমন আফগানিস্তানের তারকা ক্রিকেটার রশিদ খানের সত্যিকারের বয়স ৩৭ আপ হলেও কাগজে কলমে তার বয়স মাত্র ২৭। তার মানে তিনি মিনিমাম ১০ বছর বয়স লুকিয়েছেন। তেমনি এক ঘটনা ঘটল পাকিস্তানে। পাকিস্তানের হয়ে ১৪টি টি-টোয়েন্টি ও ৯টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন ইরফান নিয়াজি। ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্ভাব্য দলে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এই অলরাউন্ডারের। একটি টেলিভিশন টক শোতে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্ভাব্য দল নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেখানেই ওঠে ইরফানের নাম। অনুষ্ঠানের অতিথি ছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শহিদ আফ্রিদি। ইরফান প্রসঙ্গে আফ্রিদি বলেন, ‘অতীতে ইরফান নিয়াজিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চার বা পাঁচ নম্বরে ব্যাট করা একজন হিটার। ওর বয়স কত হতে পারে? ছেলেটা ফিট, ভালো হিটও করতে পারে। আগে তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’ তখন সঞ্চালক নিয়াজির বয়স খুঁজে বের করে জানান, ‘তার বয়স ২৩।’ নিয়াজির বয়স শুনে বিস্ময় প্রকাশ করে আফ্রিদি বলেন, ‘কী? তার বয়স ২৩?’ সঞ্চালক হাসতে হাসতে বলেন, ‘অফিশিয়ালি তার বয়স ২৩।’ এরপর ৪৬ বছর বয়সী শহিদ আফ্রিদি মজা করে বলেন, ‘ঠিক আছে, তাহলে আমার বয়স নিশ্চয়ই ৩০ থেকে ৩৫।’ এ কথা শুনে স্টুডিওতেই হাসির রোল পড়ে যায়।
মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ আসছে পাকিস্তান দল। সেই সিরিজের জন্য গতকাল (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশের দল ঘোষণা করে বিসিবি। তবে বড় চমকপ্রদ ঘোষণা ছিল লিটন দাসকে নিয়ে। ওয়ানডে ক্রিকেটে বছরখানেকের বেশি সময় ধরে ভালো করতে না পারলেও তিনি স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন। ওয়ানডেতে লিটন ফর্মে ফিরবেন বলে আশাবাদী নাজমুল আবেদীন ফাহিম। লিটনের দলে থাকা বা না থাকা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ ছিল। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সিরিজের দলে টিকে গেলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। লিটনকে নিয়ে এবার বড় স্বপ্নের কথা জানালেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম। তিনি বলেন, ‘ওর (লিটন) অভিজ্ঞতাকে আমরা খুব গুরুত্ব দিই। আমরা আশা করি ও খুব ভালো খেলবে। ওকে নিয়ে আমাদের যথেষ্ট স্বপ্ন আছে।’ এরপরই নতুন ব্যাটিং পজিশনে এই টি-টোয়েন্টি অধিনায়ককে দেখা যাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন ফাহিম, ‘মিডল অর্ডারে যদি সে থিতু হতে পারে সেক্ষেত্রে আমাদের ব্যাটিংটা অনেক শক্তিশালী হতে পারে। কারণ ওর মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মাঝে দরকার। সেদিক থেকে আমার ধারণা এই নির্বাচনটা (স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত) হয়েছে। দেখা যাক ও কেমন করে।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সেখানে স্পোর্টিং উইকেট থাকারও আভাস মিলেছে বিসিবি পরিচালকের কথায়, ‘তিনটি ম্যাচই মিরপুরে হবে সুস্পষ্ট কারণে। আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি মিরপুরে আগে যে ঐতিহ্যগতভাবে নিচু এবং মন্থর উইকেট হতো, তেমন উইকেট কিন্তু এখন হয় না। এখন যে ধরনের উইকেটে আমরা সাম্প্রতিক সময়ে খেলে আসছি সেরকম উইকেটই থাকবে।’ ফাহিম আরও বলেন, ‘আশা করি রান করাটা খুব কঠিন হবে না। প্রতিযোগিতামূলক হবে, কিন্তু রান করাটা কঠিন হবে না। কিন্তু কিছুটা সুবিধা আমাদের থাকবেই। যেহেতু আমরা এই উইকেটে খেলে অভ্যস্ত, পাকিস্তান এখানে অভ্যস্ত না। কিছুটা মার্জিনাল আমরা হয়তো একটু এগিয়ে থাকব। কিন্তু আগে যে ধরনের সুবিধা পেতাম সেটা হয়তো সেভাবে থাকবে না।’ এসএইচ/এএইচএস