এক সময় অ্যান্টিবায়োটিকেই থেমে যেত টাইফয়েড। কিন্তু এখন সেই পুরোনো রোগই নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। ব্যাকটেরিয়া পরিবর্তিত হয়ে এমন এক রূপ নিয়েছে, যার বিরুদ্ধে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক প্রায় অকার্যকর। চিকিৎসক ও গবেষকেরা বলছেন, টাইফয়েড এখন রূপ নিচ্ছে “ওষুধ-প্রতিরোধী শিকারি”-তে, যাকে থামানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে সাম্প্রতিক সময়ে টাইফয়েড ও প্যারাটাইফয়েডের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে ৭০২টি নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি এবং ইতিহাসে সর্বোচ্চ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব সংক্রমণ স্থানীয় নয়—বেশিরভাগ রোগী বিদেশ ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে অসুস্থ হয়েছেন। যেসব দেশে এখনো খাবার ও পানির মাধ্যমে টাইফয়েড ছড়ায়, সেখান থেকেই এই জীবাণু ফিরে আসছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, টাইফয়েডের সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ ছড়াচ্ছে পাকিস্তানে। সেখানে যে ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হয়েছে, তা প্রচলিত কোনো অ্যান্টিবায়োটিকেই কাজ করছে না—অ্যামপিসিলিন, ক্লোরামফেনিকল, ট্রাইমেথোপ্রিম, ফ্লুরোকুইনোলন কিংবা সেফালোসপরিন—সবই অকার্যকর। এই প্রজাতির নাম দেওয়া হয়েছে এক্সটেনসিভলি ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট টাইফি (এক্সডিআর টাইফি)।
২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে নেপাল, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান থেকে সংগৃহীত প্রায় ৩,৫০০ ব্যাকটেরিয়া নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ওষুধ-প্রতিরোধী টাইফয়েড দ্রুত বাড়ছে এবং ধীরে ধীরে পুরোনো জীবাণুর জায়গা দখল করছে। উদ্বেগের বিষয় হলো—এই জীবাণুগুলো এখন আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে অন্তত ২০০টি আন্তর্জাতিক সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে শুরু করে পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, এমনকি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতেও এই ভয়ংকর টাইফয়েড ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ টাইফয়েড ও প্যারাটাইফয়েডে আক্রান্ত হন, আর মারা যান অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। আক্রান্তদের বেশিরভাগই এশিয়া ও আফ্রিকার শিশু। বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় প্রকৃত সংক্রমণের চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।
গবেষক ড. জেসন অ্যান্ড্রুজ বলেন, “এটি এখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি। টাইফয়েড নিয়ন্ত্রণকে জরুরি অগ্রাধিকারে আনতে হবে। নজরদারি বাড়াতে হবে, নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি খুঁজতে হবে এবং টিকা পৌঁছে দিতে হবে সংক্রমণপ্রবণ অঞ্চলে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—বর্তমানে মুখে খাওয়ার কিছু অ্যান্টিবায়োটিক এখনো কার্যকর হলেও, তাদের ক্ষমতা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে এই প্রাচীন রোগই হতে পারে আগামী দশকের নতুন মহামারি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের শান্তি আলোচনা শুরুর মাঝেই হিজবুল্লাহকে ‘‘ঝামেলা সৃষ্টি করা’’ থেকে বিরত না রাখলে ইরানে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ওই হুমকি দিয়েছেন তিনি। দক্ষিণ লেবাননে গত কয়েক দিন ধরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং তেহরানের মিত্র হিজবুল্লাহর মধ্যে চলা সংঘর্ষের মাঝে সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। এই সংঘাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার প্রাথমিক শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘ইরানকে অবশ্যই লেবাননে তাদের বিপুল অর্থপুষ্ট প্রক্সিদের অবিলম্বে ঝামেলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে হবে। তারা যদি তা না করে, তাহলে আমরা গত সপ্তাহের মতোই ইরানের ওপর আবারও খুব জোরালো আঘাত হানব। তবে এবার আঘাত হবে আরও শক্তিশালী! শনিবার পূর্ব ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় ইসরায়েলি বাহিনীকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর লড়াই কিছুটা শিথিল হয়েছে। গত বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে বৈরিতা বা সংঘাত অবসানের শর্ত দেওয়া হয়। রোববার সুইজারল্যান্ডে আলোচনার শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গত মাত্র কয়েক দিনে আমি দারুণ অগ্রগতি দেখেছি। তিনি বলেন, আমরা সবাই আঞ্চলিক শান্তির লক্ষ্যে কাজ করছি। লেবাননে আমরা বর্তমানে যে অবস্থানে আছি, তা নিয়ে আসলে আমি খুব আশাবাদী। এখনও কিছু বাড়তি কাজ করা বাকি আছে, তবে আমরা সেটি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব। ভ্যান্স বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লেবাননের সংঘাত থামাতে ট্রাম্প এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় বেশি ভূমিকা রেখেছে। সূত্র: এএফপি।
যোগব্যায়াম এমন একটি অনুশীলন, যা জীবনের যেকোনো পর্যায়ে মানুষের জন্য উপকারী এবং দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে এটি গ্রহণ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার রেড রোডে ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘২১ জুন, যা পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ দিন হিসেবে পরিচিত, এখন যোগের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক উদযাপনের দিন হয়ে উঠেছে। যোগ মানুষকে একত্র করে। এই উপলক্ষে আমি বিশ্বের সকল মানুষকে শুভেচ্ছা জানাই।’ খবর এনডিটিভির। ২০২৬ সালের ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘যোগ ফর হেলদি এজিং’। এই থিমে বলা হয়েছে, যোগব্যায়াম কোনো নির্দিষ্ট বয়সের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং জীবনের যেকোনো পর্যায়ে এটি সবার জন্যই উপকারী। নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, ‘যখন আমরা হেলদি এজিংয়ের জন্য যোগের কথা বলি, তখন এর অর্থ হলো বয়স যেন মানুষের সম্ভাবনাকে কমিয়ে না দেয়। যোগ মানুষের জীবনকে ধারাবাহিকভাবে উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ৪০ বছরে ২০ বছরের চেয়েও বেশি নমনীয় থাকা, ৫০ বছরে ৩০ বছরের চেয়েও বেশি প্রাণবন্ত থাকা এবং ৭০ বছরে ৫০ বছরের চেয়েও বেশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা। এ ক্ষেত্রে যোগ আমাদের সাহায্য করতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী যোগব্যায়ামকে শুধু শারীরিক ব্যায়াম নয় বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘যোগ শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি কোনো নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে সীমাবদ্ধও নয়। এটি মানব আত্মার একটি প্রকাশ।’ সবশেষে মোদি বলেন, নিয়মিত যোগব্যায়াম মানুষকে নিজের শরীর ও মনের সম্পর্কে আরও সচেতন করে তোলে। তিনি বলেন, ‘যোগ আমাদের শেখায় জীবনের শেষ পর্যন্ত শেখার মানসিকতা বজায় রাখতে। তাই ‘হেলদি এজিং’ থিমটি শুধু বয়স্কদের জন্য নয়, সব বয়সের মানুষের জন্যই প্রযোজ্য।’
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে দেশভাগ, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ইস্যুতে কংগ্রেস, বামপন্থী দল ও তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আড্ডায়’ পরিণত হতে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নরেন্দ্র মোদি। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আরএন রবি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশভাগের সময় কংগ্রেস বাংলাকে অবহেলায় ফেলে রেখেছিল। পরে কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং তৃণমূল কংগ্রেস ‘তোষণের রাজনীতি’ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোদি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মাটিতে বিদেশি বিচারধারা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে কংগ্রেস, পরে বামপন্থীরা, এরপর তৃণমূল—দশকের পর দশক পশ্চিমবঙ্গকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আড্ডা হয়ে উঠতে দিয়েছে।” তিনি বলেন, ১৯৪৬ সালের কলকাতা ও নোয়াখালির সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। দেশভাগের বেদনা সত্ত্বেও বাংলা তার স্বকীয়তা ও পরিচয় অটুট রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মোদি বলেন, “আমরা শুধু একটি দিন উদযাপন করছি না, ইতিহাসকে স্মরণ করছি। যখন পুরো বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার চেষ্টা চলছিল, তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।” ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তরের কাজ আটকে রেখেছিল। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময় পয়লা বৈশাখে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করা হলেও সরকার পরিবর্তনের পর ২০ জুন দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়।