মালদ্বীপে ২০০৭ সালের জানুয়ারির পর জন্ম নেওয়া কেউ আর ধূমপান করতে পারবে না। শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,মালদ্বীপই একমাত্র দেশ, যারা এমন প্রজন্মভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জুর উদ্যোগে নেওয়া এই পদক্ষেপ ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়। এর লক্ষ্য— ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং তামাকমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তোলা।’
নতুন বিধান অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য তামাকজাত পণ্য কেনা, সেবন বা বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এই নিষেধাজ্ঞা সব ধরনের তামাকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিক্রেতারা ক্রেতাদের বয়স যাচাই করে তবেই বিক্রি করবে।
বিলাসবহুল পর্যটনের জন্য পরিচিত মালদ্বীপ ১ হাজার ১৯১টি ছোট প্রবাল দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এখন থেকে এই নিয়ম পর্যটকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং পণ্যের আমদানি, বিক্রি, বিতরণ, মালিকানা ও ব্যবহার সবই নিষিদ্ধ। বয়স নির্বিশেষে এই নিষেধাজ্ঞা সবার জন্য প্রযোজ্য।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাক বিক্রি করলে ৫০ হাজার রুফিয়া (প্রায় ৩ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হবে। ভ্যাপিং ডিভাইস ব্যবহার করলে জরিমানা ৫ হাজার রুফিয়া (৩২০ ডলার)।
বৃটেনে একই ধরনের প্রজন্মভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবটি এখনো আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে, প্রথম দেশ হিসেবে নিউজিল্যান্ড এমন আইন চালুর পর এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ২০২৩ সালের নভেম্বরে তা বাতিল করে দেয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে চলতি বছরের জুন থেকে আগস্টের মধ্যে নতুন একটি এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ বলে জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। তবে এর প্রভাব ইউরোপে কতটা পড়বে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রঁসের জলবায়ুবিজ্ঞানী লরিয়ান বাতে বলেছেন, বর্তমানে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো গড়ে উঠছে। সাধারণত এর ফলে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় বৃষ্টিপাত কমে যায়, আর দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে বৃষ্টিপাত বেড়ে যায়। তবে ফ্রান্স বা ইউরোপের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সম্পর্কে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তার মতে, এল নিনোর কোনো প্রভাব দেখা গেলেও তা চলতি বছরের শেষ দিকে বা আগামী বছরের শুরুতে অনুভূত হতে পারে। লরিয়ান বাতে বলেন, ইউরোপে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব সাধারণত শীতকালে বেশি দেখা যায়। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, এর প্রভাব সব সময় একই রকম হয় না। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ওপর আরও অনেক আবহাওয়াগত উপাদান কাজ করে। তিনি জানান, বিভিন্ন জলবায়ু মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এবার একটি শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হতে পারে এবং বছরের শেষ দিকে এটি সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছাতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নই এখনও উচ্চ তাপমাত্রার প্রধান কারণ। এল নিনো এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। লরিয়ান বাতে আরও বলেন, এল নিনো মূলত প্রাকৃতিক জলবায়ুগত পরিবর্তনের একটি অংশ। এটি স্থায়ীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটায় না। সাধারণত একটি এল নিনো পর্ব শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে, কখনও কখনও এর বিপরীত অবস্থা ‘লা নিনাও’ দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এল নিনোর প্রভাবও আগের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। তাই এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সূত্র : www.20minutes.fr
চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান ভবিষ্যতে মার্কিন ডলারে তেল বিক্রি করতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ডলারে তেল বেচাকেনা শুরু হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন মুদ্রার প্রভাব আরও শক্তিশালী হবে। আর বিশ্ববাণিজ্যের কেন্দ্রীয় মুদ্রা হিসেবে ডলারের অবস্থান ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, ইরানের তেল রপ্তানি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের জন্য একটি ছাড় ঘোষণা করে। এর ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান ডলারে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করতে পারবে। এছাড়া বিদেশে আটকে থাকা ইরানের কিছু অর্থ ছাড়ের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই অর্থের একটি বড় অংশ খাদ্য ও ওষুধ কেনার কাজে ব্যবহৃত হবে। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, মুক্ত হওয়া অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্ত তেহরানই নেবে। খাদ্য বা কৃষিপণ্য কেনার ক্ষেত্রে তারা দাম ও মান বিবেচনা করবে, কোনো দেশের শর্ত নয়। এদিকে ডলারে তেল বিক্রির সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমতে পারে।
বিশ্বজুড়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংঘাতের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে এবং পারমাণবিক প্রতিরোধই বর্তমানে বড় ধরনের যুদ্ধ ঠেকিয়ে রাখার একমাত্র কার্যকর শক্তি বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। বুধবার (২৪ জুন) ১২তম আন্তর্জাতিক প্রিমাকভ রিডিংস ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ কথা বলেন। পেসকভ বলেন, বাস্তবে পারমাণবিক প্রতিরোধ ছাড়া এখন পৃথিবীতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই শক্তিই কেবল বৈশ্বিক যুদ্ধ প্রতিরোধ করছে, যদিও এটি আঞ্চলিক সংঘাত ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক সম্ভাবনা বাড়ছে এবং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ক্রমশ আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। পেসকভ আরও বলেন, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে ভবিষ্যতে এমন নতুন ধরনের অ-পারমাণবিক অস্ত্রব্যবস্থা তৈরি হতে পারে, যেগুলোর ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের সমতুল্য হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রসঙ্গে ক্রেমলিন মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম) এবং সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মস্কো এসব উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এর আগে মঙ্গলবার প্রিমাকভ রিডিংস ফোরামের উদ্বোধনী বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইনের সর্বজনীনভাবে বাধ্যতামূলক নীতিমালা, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অবিসংবাদিত কর্তৃত্ব, রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও নিজস্ব উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়ার অধিকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে। সূত্র : তাস ও সিনহুয়া