বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির শফিকুর রহমান ১৯৪৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত যে কোনো ব্যক্তি, যে কোনো স্থানে জামায়াতের কারণে যারা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তাদের সবার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
তিনি নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে বলেন, আজ আমি আবারও প্রকাশ্যে ঘোষণা করছি—১৯৪৭ সাল থেকে আজ ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর, নিউইয়র্ক সময় রাত ৮টা ১১ মিনিট পর্যন্ত আমাদের দ্বারা যেখানেই, যেকোনো মানুষের ক্ষতি হয়ে থাকুক না কেন, আমরা তার জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তার এই বক্তব্যের ভিডিও ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জামায়াতের আমির বলেন, অনেকে বলেন, আপনি কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ না করলেও, আপনার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণযোগ্য ছিল না। অন্তত ক্ষমা চাওয়া যেত। আমরা অন্তত তিনবার ক্ষমা চেয়েছি। প্রফেসর গোলাম আযম ক্ষমা চেয়েছেন, মাওলানা মতিুর রহমান ক্ষমা চেয়েছেন, আমিও নিজে ক্ষমা চেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি যখন এটিএম আজহারুল ইসলাম কারাগার থেকে মুক্তি পান, আমি বলেছিলাম—শুধু ১৯৭১ নয়, ১৯৪৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যদি কেউ জামায়াতে ইসলামী’র কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমাদের ক্ষমা করুন।
শফিকুর রহমান বলেন, আমি কীভাবে বলতে পারি যে আজ পর্যন্ত আমরা কোনো ভুল করিনি? আমরা মানুষ। আমাদের সংগঠনও মানুষের সংগঠন। ১০০টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ৯৯টি ঠিক হলেও একটি ভুল হতে পারে। আর সেই একটি ভুল সিদ্ধান্ত যদি জাতির ক্ষতি করে, তাহলে তার জন্য ক্ষমা চাওয়ায় সমস্যা কোথায়?
তিনি বলেন, অনেকে বলেন, ক্ষমা প্রার্থনার ভাষা এমন নয়, অন্যভাবে বলা উচিত ছিল। কিন্তু আমি তো নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চেয়েছি, কোনো শর্ত ছাড়াই। আর কী বলব?
তিনি আরও বলেন,আমি আগে কখনও এমন বলিনি, আমার সহকর্মীরাও বলেননি। আমাদের সিনিয়ররাও কখনও বলেননি যে আমরা ভুলের ঊর্ধ্বে। কোনো দল যদি বলে তারা ভুলের ঊর্ধ্বে, জাতি নিশ্চয়ই সেই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করবে। তাহলে আমাদের দাবি কেন গ্রহণ করা হবে?
জামায়াতের আমির বলেন, যে ভুলগুলো আমরা করেছি, জেনে বা না জেনে এবং যারা আমাদের সেই ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন, আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আর যাদের আমাদের ভুলের কারণে ক্ষতি হয়েছে, আমরা তাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। এর চেয়ে বেশি আর কিছু বলার আছে কি? বিষয়টা একেবারেই স্পষ্ট।
তিনি আরও বলেন, পরে কেউ কেউ বলবেন, শফিকুর রহমান দেশে নয়, নিউইয়র্কে ক্ষমা চেয়েছেন। আমি দেশে থেকেও ক্ষমা চেয়েছি, আমার সিনিয়ররাও চেয়েছেন, আর এখন এখানে থেকেও বলছি, যখনই সুযোগ পাব, আবারও বলব।
এক পর্যায়ে শ্রোতাদের একজন বলেন, অনেকে শুধু ১৯৭১ সালের জন্যই ক্ষমা চাইতে বলেন। এর জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কি শুধু ১৯৭১ সালেই ভুল করেছি? অন্য সময় করিনি? আর যারা আমাদের ক্ষমা চাইতে বলেন, তারা কি ফেরেশতা? আমরা অন্যদের সম্পর্কে এসব প্রশ্ন তুলি না, কারণ যত বেশি আমরা অতীতের বিষয়গুলো খুঁড়ে তুলব, জাতি তত বেশি বিভক্ত হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, আগামী ২৮ জুন থেকেই বাংলাদেশিরা আবার ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা মিশনের দায়িত্ব শুরুর পরপরই যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে এসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমরা ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য স্বাভাবিক ভিসা আবেদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করছি, যা আগামী ২৮ জুন, রবিবার থেকে জমা দেওয়া যাবে। মানবিক বিবেচনায় জরুরি ক্ষেত্রে মেডিকেল ভিসার সুবিধা আমরা অব্যাহত রাখব।” তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরে ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলোতেও এ কার্যক্রম চালু হবে। “আমরা আশা করি, এর ফলে আমাদের দুই সার্বভৌম দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে,” বলেন হাই কমিশনার। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর দৈনিক ঘোষণার ভিত্তিতে ভিসা কার্যক্রম বন্ধই রাখা হয়। গণআন্দোলনের মুখে ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ওই মাসের মাঝামাঝি সময়ে সীমিত পরিসরে ভিসা আবেদনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়। এরপর ১৬ অগাস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়াল বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কেবল সীমিত পরিসরে জরুরি ও মেডিকেল ভিসা ইস্যু করবে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন। এই সময়ে ভারতীয় ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিরা ভোগান্তিতে পড়েন। ব্যবসার কাজে অনেকে বিদেশে যেতে পারছিলেন না। মেডিকেল ভিসা সীমিত পরিসরে চালু থাকলেও ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিলছিল না। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সেই অচলাবস্থা আর কাটেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। মে মাসের মাঝামাঝি খবর আসে, ভারত শিগগিরই বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করতে যাচ্ছে। তারও দেড় মাস পর সুখবর দিলেন নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবন থেকে তিনি সরাসরি যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন সেন্টারে আসেন এবং ভিসার জন্য আগতদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, ১২ জুন যখন বেনাপোল হয়ে তিনি বাংলাদেশে এলেন, তখন সাংবাদিকরা শুরুতেই তাকে ভিসা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। "ওই জিনিসটা আমার মাথায় ছিল। আর আবার মাথায় ঢুকল যে, ভিসা সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট। এজন্য আজ প্রথমে আমি পুরো ঘুরে দেখলাম, খুবই ভালো লাগলো। অনেকের সঙ্গে আমার আলোচনা হল।” হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব শুরুর দিনই ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিতে পারায় নিজের আনন্দের কথা জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, "এইটা নিয়ে আমি অনেক খুশি। এটা আমাদের জন্য ভালো, এখানকার মানুষের জন্য ভালো। এটা সবার পাওনা ছিল। আশা করি যে, এখানকার সাধারণ মানুষও খুশি হবে।" সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চব্বিশের ৫ অগাস্ট ধানমন্ডিতে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র লুণ্ঠিত ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক) হামলার শিকার হয় এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তারা হুমকির মুখে পড়েন। নিরাপত্তাজনিত হুমকি এবং হাই কমিশনের স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ওপর হামলার কারণে বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশন ভিসা কার্যক্রম সীমিত করতে 'বাধ্য হয়'। ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদনকারী অনেকেই গুরুতর রোগের চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। সেই মানবিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় রেখে 'নিরাপত্তাজনিত প্রতিকূলতা' সত্ত্বেও ভারতীয় হাই কমিশন ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীতে ভিসা কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ সময়ে ভারত প্রতিদিন ট্যুরিস্ট ভিসা বাদে দেড় হাজারের বেশি অন্যান্য ভিসা ইস্যু করে আসছে। যেখানে চিকিৎসা সংক্রান্ত ও অন্যান্য জরুরি ভিসার আবেদনে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে ভারতীয় হাই কমিশন।
তিস্তা নদীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে পানিসম্পদ খাতে কারিগরি ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশটির পানিসম্পদমন্ত্রী লি কুওইংয়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কামনা করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে এ খাতে চীনের সহযোগিতা চান। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি কুওইং বাংলাদেশের অনুরোধের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা ও নদী উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে। তিনি আরও জানান, এ খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ গ্রহণে চীন সহযোগিতা করবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলকেন্দ্রিক একটি বৃহৎ উন্নয়ন উদ্যোগ। এর আওতায় নদী খনন, তীর সংরক্ষণ, সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, নদীভাঙন কমবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক শিল্প ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তার পানিপ্রবাহের বড় অংশ ভারতের উজাননির্ভর হওয়ায় প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সফলতার জন্য কার্যকর আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্পের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর একটি বড় অংশ চীনা ঋণের মাধ্যমে অর্থায়নের প্রস্তাব রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে প্রথম ধাপের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ অফিস (বিনিয়োগ অফিস) চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে শিল্পায়ন ও ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণে চীনা বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ অফিস চালু করা হবে, যাতে চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত ও সহজে পেতে পারেন। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এখন নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শিল্প ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হচ্ছে। সরকারপ্রধান জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে এবং নতুন ব্যবসার লাইসেন্স অনুমোদনের সময়সীমা ১৫ দিনে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বৈষম্যহীন পরিবেশ, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুবিধা এবং শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামের আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বলেও জানান তিনি। এসব অঞ্চলে বন্দর সুবিধা, লজিস্টিকস, দক্ষ জনবল ও শিল্পবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত বস্ত্রশিল্প এবং ওষুধ শিল্পে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।