গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা না দিতে এবং ফিলিস্তিনিদের মৌলিক চাহিদা পূরণে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)।
বুধবার (২২ অক্টোবর) হেগে দেওয়া এই রায়ে আদালত বলেছে, ইসরায়েল একটি দখলদার শক্তি হিসেবে স্থানীয় জনগণের খাদ্য, পানি ও ওষুধ সরবরাহে বাধা দিতে পারে না। আদালত আরও স্মরণ করিয়ে দেয়, ক্ষুধাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ। খবর এএফপির।
রায়ে বলা হয়, এটি পরামর্শমূলক হলেও এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও নৈতিক মূল্য। তবে ইসরায়েল সঙ্গে সঙ্গে রায়টি প্রত্যাখ্যান করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আশা করি, ইসরায়েল রায়টি মানবে।
আইসিজে বিশেষভাবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-র ত্রাণ কার্যক্রমে ইসরায়েলকে সহযোগিতা করতে বলেছে। ইসরায়েল এই সংস্থাকে নিষিদ্ধ করলেও আদালত বলেছে, ইসরায়েল তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।
ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি আম্মার হিজাজি বলেন, এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলকে রায় মানতে চাপ দেওয়া।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ৫৩০টি ট্রাকের মাধ্যমে প্রায় ৬,৭০০ টন খাদ্য প্রবেশ করেছে, যা অর্ধেক মিলিয়ন মানুষের জন্য দুই সপ্তাহের খাবার।
তবে সংস্থাটি বলেছে, প্রতিদিন গড়ে ৭৫০ টন খাদ্য গাজায় যাচ্ছে—যা তাদের দৈনিক লক্ষ্যের এক-তৃতীয়াংশ মাত্র।
রায় ঘোষণার পর নরওয়ে জানায়, ইসরায়েল যেন গাজায় ত্রাণ প্রবেশে আর কোনো বাধা না দেয়, সে বিষয়ে তারা জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে, যার মধ্যে ১১ বছর বয়সী একটি মেয়েশিশুও রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা সিটির তুফাহ ও জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া তাঁবুতে চালানো হামলায় আরো চারজন নিহত হন। এ ছাড়া আল-মাওয়াসি উপকূলীয় তাঁবু ক্যাম্পে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, নিহতদের একজন হলেন জরুরি সেবাকর্মী হুসেইন হাসান হুসেইন আল-সুমাইরি। খান ইউনিস থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম জানান, গাজা সিটির বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও এসব হামলার ফলে গাজার মানুষ কোনো স্বস্তি পাচ্ছে না। আবু আজ্জুম আরো বলেন, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় গাজাজুড়ে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। আকাশে ড্রোনের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা আরো সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।’ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তর গাজায় তাদের সাঁজোয়া ইউনিট ও যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ‘রুটিন অপারেশন’-এর সময় এক রিজার্ভ সেনা কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত, ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সীমারেখার কাছে ঘটেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল পূর্ব গাজার দিকে ‘ইয়েলো লাইন’-এর অবস্থান সরিয়ে নিচ্ছে, যা সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৫২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইরানের নারীরা এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স নিতে পারবেন। বুধবার স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। এর ফলে দুই চাকার যানবাহন চালানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আইনি অস্পষ্টতার অবসান হলো। আগে প্রচলিত আইনে নারীদের মোটরসাইকেল বা স্কুটার চালানো সরাসরি নিষিদ্ধ না হলেও কর্তৃপক্ষ তাদের লাইসেন্স দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। এই আইনি অস্পষ্টতার কারণে কোনো দুর্ঘটনায় পড়লে দায়ভার নারীদেরই বহন করতে হতো। ট্রাফিক আইন স্পষ্ট করতে মঙ্গলবার ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন। জানুয়ারির শেষ দিকে ইরানের মন্ত্রিসভা প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে বলে দেশটির ইলনা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। ইলনার খবরে বলা হয়, নতুন আইনের আওতায় ট্রাফিক পুলিশ নারী আবেদনকারীদের প্রশিক্ষণ দিতে পারবে, পুলিশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা আয়োজন করা যাবে এবং নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স প্রদান করা হবে। সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন এসেছে। তেহরান স্বীকার করেছে, বিক্ষোভ চলাকালে তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও পথচারী। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানে নারীরা নানা সামাজিক বিধি-নিষেধের মুখে পড়েছেন। মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে ড্রেস কোড একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হতো। ইরানে নারীদের জনসমক্ষে মাথায় ওড়না দিয়ে চুল ঢেকে রাখা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক নারী এসব নিয়ম মানছেন না, ফলে মোটরসাইকেলে নারীদের উপস্থিতি গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পুলিশি হেফাজতে তরুণী মাহশা আমিনির মৃত্যুর ঘটনার পর এই প্রবণতা আরো জোরালো হয়। ড্রেস কোড লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক ওই নারীর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
প্যারিসের প্রসিকিউটরের সাইবার অপরাধ ইউনিট সন্দেহভাজন অপরাধের তদন্তের অংশ হিসেবে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর ফ্রান্সের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। সন্দেহভাজন অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধভাবে তথ্য আহরণ এবং শিশু পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণে সহায়তার অভিযোগ। প্রসিকিউটরের দপ্তর জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তদন্ত শুরু হয়, যখন তারা এক্স প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সুপারিশকৃত কনটেন্ট খতিয়ে দেখতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে তদন্তের পরিধি সম্প্রসারিত হয়ে এতে বিতর্কিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোককেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এক বিবৃতিতে প্রসিকিউটর দপ্তর আরো জানায়, ইলন মাস্ক এবং এক্স-এর সাবেক প্রধান নির্বাহী লিন্ডা ইয়াকারিনোকে এপ্রিল মাসে শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে। এ বিষয়ে এক্স এখনো কোনো মন্তব্য করেনি, তবে এর আগে প্রতিষ্ঠানটি এই তদন্তকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছিল। এর আগে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হলে এক্স তখন দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করে এবং অ্যালগরিদম কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, তারা এখন একাধিক ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখছেন। সম্ভাব্য অপরাধের মধ্যে রয়েছে শিশুদের পর্নোগ্রাফিক ছবি সংরক্ষণ বা সংগঠিতভাবে বিতরণে সহায়তা, যৌন ডিপফেকের মাধ্যমে ব্যক্তির ভাবমূর্তি লঙ্ঘন এবং সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রতারণামূলক তথ্য আহরণ। প্রসিকিউটর দপ্তর আরো জানিয়েছে, তারা এক্স প্ল্যাটফর্ম ত্যাগ করছে এবং ভবিষ্যতে লিংকডইন ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ করবে।