বাংলাদেশে প্রস্তাবিত এয়ারলাইন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ-আয়াটা)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ চালু হলে যাত্রীদের পছন্দ, আকাশযাত্রার সুযোগ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সম্প্রতি বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহানের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে প্রস্তাবিত ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ–২০২৬’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এ সংস্থাটি।
চিঠিতে বলা হয়, অধ্যাদেশের ৪৩এ ধারায় এয়ারলাইন ভাড়া নিয়ন্ত্রণের যে প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তা মুক্তবাজার অর্থনীতির মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আয়াটার মতে, ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাত উদারীকরণের পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে এয়ারলাইন ভাড়া অর্ধেকেরও বেশি কমেছে, যা যাত্রীদের জন্য সুফল বয়ে এনেছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে জানায়, সরকার যদি সর্বোচ্চ ভাড়ার সীমা নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এতে নতুন বিনিয়োগে এয়ারলাইনগুলো নিরুৎসাহিত হবে এবং পর্যাপ্ত আসন সক্ষমতা না থাকায় উল্টো ন্যূনতম টিকিট ভাড়া বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, বাণিজ্যিক নমনীয়তা না থাকলে অনেক এয়ারলাইন কম গুরুত্বপূর্ণ বা প্রান্তিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে।
এর ফলে সেবার মান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আয়াটা উল্লেখ করে, বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ দেশ বর্তমানে এয়ারলাইনের ভাড়া নির্ধারণে পূর্ণ বাণিজ্যিক স্বাধীনতা দিয়ে থাকে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উত্তম চর্চা হিসেবে বিবেচিত।
প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে ভাড়া জমা দেওয়ার বা ‘ফেয়ার ফাইলিং’ বিধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি। আয়াটার মতে, এই বিধান কেবল তথ্য সংগ্রহের জন্য না কি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্দেশ্যে—তা স্পষ্ট নয়।
যদি উদ্দেশ্য নিয়ন্ত্রণ হয়, তাহলে স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থাই ব্যাহত হবে।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত উপদেষ্টা বোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন লেভি ও চার্জ আরোপের বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আয়াটা। সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চার্জ নির্ধারণ প্রক্রিয়াটি অবশ্যই স্বচ্ছ, ব্যয়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন হতে হবে।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ‘ওপেন স্কাই’ চুক্তিতেও এয়ারলাইন ভাড়া নির্ধারণে বাণিজ্যিক স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
আয়াটা বাংলাদেশ সরকারকে প্রস্তাবিত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এয়ারলাইন ভাড়ায় স্বাধীনতা বজায় রাখা হলে দেশের এভিয়েশন খাত আরো শক্তিশালী ও টেকসই হয়ে উঠবে।
আয়াটা বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৬০টি এয়ারলাইনের প্রতিনিধিত্ব করে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। পাশাপাশি বেসরকারি এয়ারলাইনের মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও এয়ার অ্যাস্ট্রাও এর সদস্য।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আমন মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সারের জন্য কৃষকদের ছোটাছুটি। কোথাও ভোর থেকে ডিলার পয়েন্টে দীর্ঘ সারি, কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি কয়েকশ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সময়মতো সার পাচ্ছেন না কৃষকরা। সরকারের দাবি, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে; কিন্তু মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সংকট ও বাড়তি দামের এই গ্যাঁড়াকলে পড়ে চাহিদামতো সার না পেলে আমনের উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। সরকারি নথি অনুযায়ী, আগস্টে সারা দেশে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৭৯ হাজার ৪১২ টন। কিন্তু ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬১২ টন। ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় বরাদ্দ ছিল ৩১ হাজার ৪২৫ টন; একই সময়ে ডিলাররা উত্তোলন করেছেন মাত্র ৯ হাজার ৯৯২ টন। সিলেট বিভাগের চার জেলায় ৯ হাজার ৫৪১ টন বরাদ্দের বিপরীতে উত্তোলন করা হয়েছে ২ হাজার ৬৭৯ টন। সরকারি বরাদ্দ ও মাঠপর্যায়ে সরবরাহের এই ব্যবধানই কৃষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিভিন্ন জেলায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সমস্যা শুধু সার কম থাকার অভিযোগেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুদ, বরাদ্দের সার সময়মতো না তোলা এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বগুড়ার শেরপুরে টিএসপি ও ডিএপি সার বস্তাপ্রতি ৪০০-৪৫০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তাদের দাবি, নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দাবি, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই; কিছু কৃষক আগাম সার কিনতে যাওয়ায় সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। নীলফামারীতে ডিলারদের কাছে কৃষক সার না পেলেও বিভিন্ন গুদামে মজুদ থাকা এবং বরাদ্দের সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রংপুরের মিঠাপুকুরে আমন মৌসুমে সার নিতে ভোর থেকেই ডিলার পয়েন্টে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে কৃষকদের। তাদের অভিযোগ, কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে উপজেলা কৃষি বিভাগের দাবি, পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং কৃষকরা চাহিদামতো সার পাবেন। হবিগঞ্জেও পর্যাপ্ত মজুদ থাকার সরকারি দাবির বিপরীতে কৃষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। নাটোরের গুরুদাসপুরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আমন মৌসুমে চাহিদা বাড়লেও প্রয়োজনমতো সার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলেও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। অন্যদিকে, অবৈধ মজুদের অভিযোগে দিনাজপুরে গত ২৭ আগস্ট সদর ও কাহারোল উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৬৬৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি বিভাগ নিয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। কৃত্রিম সংকট ও ডিলারদের অনিয়ম ঠেকাতে চালু করা হয়েছে ‘সার কার্ড’। কৃষকের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ নির্ধারণ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সার বরাদ্দ ও বিতরণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এতে প্রকৃত কৃষকের হাতে নির্ধারিত পরিমাণ সার পৌঁছানো সহজ হবে। কৃষি সচিব মো. সেলিম খানের দাবি, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুদ কিংবা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মাঠের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কাটছে না। রংপুরের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সরকার ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বরের চাহিদা অনুযায়ী সার জেলায় পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছে; কিন্তু বাস্তবে সেই সরবরাহ এখনো পৌঁছেনি।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কিনা এ বিষয়ে সবকিছু বিবেচনা হরে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তিনি বলেন, ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে, আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করবে। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো। শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান প্রধান অতিথি ছিলেন। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান উপস্থিত ছিলেন। সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকার সন্তুষ্ট কিনা সেটি বিষয় না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় তিনি ই-জুডিশিয়ারি (বিচকর বিভাগের ডিজিটালাইজেশন) নিয়ে সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। এর আগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ সহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন ‘৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬’-এ অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটির ‘ইউনিভার্সাল হিলটন কনভেনশন হলে’ তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার আয়োজনে সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, কমিউনিটি নেতা ও ব্যবসায়ী অংশ নেবেন। ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। উদ্বোধনী পর্বে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলসহ আয়োজক ও নির্বাহী কমিটির নেতারা বক্তব্য রাখবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়রের সঙ্গে একটি বিশেষ বিজনেস লাঞ্চে অংশ নেবেন মন্ত্রী। এ আয়োজনে ব্যবসায়ী নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আলোচনা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে মন্ত্রীসহ উত্তর আমেরিকা ও কানাডার ফোবানা নেতারা বক্তব্য দেবেন। সফরকালে আরিফুল হক চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের কার্যক্রম শেষে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।