তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজ্যের ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন জোসেফ বিজয়।
মঙ্গলবার দেওয়া এক সরকারি আদেশে ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি থাকা এসব দোকান দুই সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া বা বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মন্দির, মসজিদ, গির্জা, স্কুল, কলেজ ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশন (তাসম্যাক) পরিচালিত মদের দোকানগুলো এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছে।
তামিলনাড়ু সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৭৬৫টি সরকারি মদের দোকান রয়েছে। বন্ধের তালিকায় থাকা ৭১৭টি দোকানের মধ্যে ২৭৬টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে, ১৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ২৫৫টি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত।
দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজয়ের এ সিদ্ধান্তকে সামাজিক সংস্কার ও জনস্বার্থে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে তার সরকার।
তবে তাসম্যাক রাজ্যের অন্যতম বড় রাজস্ব আয়ের উৎস হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে সরকারের আয় কতটা প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
৫১ বছর বয়সী অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয় রোববার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার দল টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর কংগ্রেস, বাম দল, ভিসিকে ও মুসলিম লিগের সমর্থনে রাজ্যে প্রথমবারের মতো জোট সরকার গঠন হয়েছে।
বর্তমানে বিধানসভায় বিজয়ের দলের ১০৭টি আসন রয়েছে। শরিকদের ১৩ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তিনি শিগগিরই আস্থা ভোটের মুখোমুখি হবেন।
মদের দোকান বন্ধের পাশাপাশি নতুন সরকার আরও কয়েকটি জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, নারী নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন এবং প্রতিটি জেলায় মাদকবিরোধী ইউনিট স্থাপন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতেও হরমুজ প্রণালির মতো নৌ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্স প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি। খবর প্রেসটিভির। মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েল যদি লেবানন ও গাজায় হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ তাদের সমর্থন আরও বাড়াবে এবং নতুন নতুন ফ্রন্ট সক্রিয় করবে। এর ফলে বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের পরিস্থিতিও হরমুজ প্রণালির মতো হয়ে যেতে পারে। ইসমাইল কানি বলেন, লেবানন ও গাজায় একযোগে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল নিজেই হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের আরও শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়বে। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও ইসরায়েল এখনো দক্ষিণ লেবানন ও গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এতে হাজারো বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরান বরাবরই বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে গাজা ও লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। উল্লেখ্য, ইয়েমেন ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের মাঝখানে অবস্থিত বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। আন্তর্জাতিক তেল ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত ১৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর এটিকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার (১ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানান, হিজবুল্লাহর ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর পূর্ণমাত্রায় সংঘাত বন্ধ হয়নি, তবুও বৈরুতকে সরাসরি হামলার বাইরে রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। নেতানিয়াহুর ঘোষণার পরপরই বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের ব্যাপকভাবে এলাকা ছাড়তে দেখা যায়। প্রধান সড়কগুলো যানবাহনে ভরে যায়। গত কয়েক মাসে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হওয়া স্থানীয়দের জন্য এটি নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকায় নিয়মিত বিমান হামলার পাশাপাশি বহু শহর ও গ্রামে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর আগে রোববার দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ দখলের ঘোষণা দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে গভীর স্থল অগ্রগতি বলে দাবি করা হচ্ছে। দুর্গ দখলের পর নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আমাদের উপস্থিতি আরও গভীর ও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা আগের চেয়ে আরও ঐক্যবদ্ধ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং শক্তিশালী। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা বিউফোর্ট দুর্গের আশপাশে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করেছে। সংগঠনটির ঘনিষ্ঠ লেবাননি আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ পরিস্থিতির জন্য লেবানন সরকারকে দায়ী করে বলেন, সরাসরি আলোচনার পথ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। ইসরায়েলের নতুন সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ দক্ষিণ লেবাননে চলমান সামরিক উত্তেজনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মাত্রার সামরিক বিস্তারের কোনো যৌক্তিকতা নেই। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বানের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও জার্মানিও ইসরায়েলের নতুন অভিযানের সমালোচনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা প্রচেষ্টাকেও জটিল করে তুলতে পারে। তেহরান ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ না হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি বা নতুন কোনো চুক্তি সম্ভব নয়। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুজব নাকচ করে দিয়েছে। রোববার (৩১ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তাসনিমের বরাতে একটি সূত্র জানায়, ‘পেজেশকিয়ান কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তিনি আজও স্বাভাবিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে।’ সূত্রটি আরও দাবি করে, ‘এসব গুজব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিভেদ সৃষ্টি এবং ইরানের সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে।’ একই সূত্রের মতে, ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ নেটওয়ার্ক যেসব তথাকথিত সূত্রের কথা উল্লেখ করেছে সেগুলো সাধারণত ওই নেটওয়ার্কের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কল্পনা ও ভ্রান্ত ধারণার ফল।’ এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল।