এই দুই কর্মকর্তা হলেন— মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান ও মো. মিজানুর রহমান।
সোমবার পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার মো. আলী হোসেন ফকির–এর সই করা পৃথক দুটি আদেশে তাদের প্রত্যাহার করা হয়।
আদেশে বলা হয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার ও ফেনীর এসপি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ১০ মে’র মধ্যে পুলিশ সদর দফতরে রিপোর্ট করতে হবে। অন্য আদেশে বলা হয়, পঞ্চগড় জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে ১০ মে’র মধ্যে সদর দফতরে রিপোর্ট করবেন।
এর আগে, ৫ মে দেশের ১২টি জেলায় পুলিশ সুপার পদে রদবদল করা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়নের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদও প্রকাশিত হয়।
গত ৭ মে দুটি হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পরও তাকে ফেনীর এসপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তার নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। রিটে তার নিয়োগ বাতিল, সাময়িক বরখাস্ত এবং পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
জনস্বার্থে রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল–এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু।
আইনি ও সামাজিক চাপের মুখেই শেষ পর্যন্ত তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সময় ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। দিনপঞ্জির পাতায় ঘনিয়ে আসছে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। আর কিছুদিন পর শুরু হচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ। সময়ের হিসাবে আর মাত্র এক মাস বাকি। আগামী ১১ জুন শুরু হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়াযজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় বসছে এবারের ২৩তম আসর। পৃথিবীর নানা প্রান্তে যেমন ফুটবল উন্মাদনা জমে উঠছে, তেমনি এই উৎসবের সঙ্গে একাত্ম হতে যাচ্ছে বাংলাদেশও। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে হাজির হওয়ার সুযোগ হয়নি বাংলাদেশের। তারপরও বিশ্বকাপ নিয়ে এই দেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে তুমুল উত্তেজনা, উন্মাদনা ও উচ্ছ্বাস। দেশজুড়ে ওড়ে প্রিয় দেশের পতাকা। বের হয় বড় বড় মিছিল। প্রিয় দলের জয়ে যেমন আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়, তেমনি হারে মন ভাঙে লাখো সমর্থকের। সমর্থকদের এসব উন্মাদনা-উত্তেজনা এখন আর বিশ্ব মিডিয়ার নজর এড়ায় না। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দ-বেদনার সব গল্প ছড়িয়ে পড়ে সমর্থকদের প্রিয় দেশগুলোতেও। এবার আর চার বছর নয়, সাড়ে তিন বছরের মধ্যে শেষ হচ্ছে প্রতীক্ষার সময়। এর মধ্যে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পাহাড়ি জনপদেও শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে উৎসবের প্রস্তুতি। মাঠের লড়াই থেকে বহু দূরে থেকেও আবেগ, উত্তেজনা আর সমর্থনের দিক থেকে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই এখানকার মানুষ। এর একটি প্রতীকী মঞ্চ হয়ে উঠেছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত দুটি সেতু। রাঙামাটি সদরের আসামবস্তি এলাকায় পাশাপাশি অবস্থান সেতু দুটির। স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে একটির নাম ‘ব্রাজিল সেতু’, অন্যটি ‘আর্জেন্টিনা সেতু’। বিশ্বের মানচিত্রে ‘ব্রাজিল’ আর ‘আর্জেন্টিনার’ অবস্থান কাছাকাছি। প্রতিবেশী এ দুই দেশের মধ্যে তেমন দূরত্ব নেই। তেমনি খুব বেশি দূরত্ব নেই কাপ্তাই হ্রদের এ দুটি সেতুরও, শত মিটারের কম। তবু আবেগের দিক থেকে যেন দুই ভিন্ন জগৎ। এক সেতুজুড়ে হলুদ-সবুজের আধিপত্য, অন্যটিতে আকাশি-সাদা রঙের দাপট। বর্ষা মৌসুম এখনো শুরু হয়নি। বৃষ্টি নেই তেমন। তাই ধীরে ধীরে শুকিয়ে গেছে কাপ্তাই হ্রদ। এখন সেতু দুটির নিচে পানির প্রবাহ নেই। হ্রদের ভেতরে প্রাণ না থাকলেও তার ছাপ নেই সেতু এলাকায়। বিশ্বকাপ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই এ দুই সেতুকে ঘিরে বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। পতাকা টাঙানো, রং করা, ব্যানার ঝোলানো—সব মিলিয়ে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। সন্ধ্যা নামলেই দুই সেতুতে জমে উঠছে আড্ডা, আলোচনা, তর্ক আর ভবিষ্যদ্বাণী। আসামবস্তি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হেলাল। আর্জেন্টিনা আর মেসির অন্ধ এক সমর্থক। আকাশি-সাদার প্রতি অন্য রকম এক ভালোবাসা তাঁর। প্রিয় দলের খেলোয়াড়দের হাতে বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি এখনো তাঁর চোখে-মুখে ঝলমল করে। সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্বজয়ের সে স্মৃতি এখনো উজ্জ্বল। এবারও একই দৃশ্যের জন্ম হবে বলে বিশ্বাস মোহাম্মদ হেলালের। আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং মেসির হাতে বিশ্বকাপ দেখার মধ্যে যে অনুভূতির জন্ম হয়েছিল, এর কোনো ব্যাখ্যা নেই তাঁর কাছে। এমন একটা ছবির জন্য বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষায় ছিলেন রাঙামাটির এই সন্তান। প্রিয় দলের সাফল্যের পরেও মনে একটা আফসোস রয়ে গেছে হেলালের। গতবারের আসরের ফাইনাল ম্যাচ দেখানো হয়েছিল আর্জেন্টিনা সেতুর ওপর বড় পর্দায়। শত শত মানুষের সঙ্গে মিশে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচটা এই সেতুতে বসে দেখার সৌভাগ্য হয়নি তাঁর। জীবিকার তাগিদে তখন পাশের জেলা চট্টগ্রামে ছিলেন। তবে এবার আর মিস হবে না। সেতুতে আর্জেন্টিনার পতাকার রং বিবর্ণ হওয়ায় কিছুটা হলেও মন খারাপ হেলালের। অবশ্য বিশ্বকাপ আসতে আসতে ঠিকই সব রঙিন হয়ে যাবে বলে আশাবাদ তাঁর। আর্জেন্টিনা সেতু দিয়ে গাড়ি চলে খুব কম। মাঝে মাঝে দু-একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। তবে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ব্রাজিল সেতুতে। এই সেতু পার হয়ে যেতে হয়ে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কাপ্তাই উপজেলায়। এসব কারণে ব্রাজিল সেতু দিনভর ব্যস্ত থাকে। বিকেল হতেই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। তুমুল আড্ডা-গল্প চলে রাত পর্যন্ত। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলেও ব্রাজিলের বিশ্বজয়ের সময় শুধু দীর্ঘ হচ্ছে। ২০০২ সালের পর বিশ্ব আসরগুলোয় ঠিক ‘ব্রাজিল’ হয়ে উঠতে পারছে না দলটি। সাম্বা নৃত্যের সে ছন্দ কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ শিরোপা ছোঁয়া হয়নি ব্রাজিলের। একসময় যাদের জন্য বিশ্বকাপ জয় ছিল প্রায় নিয়মিত ঘটনা, সেই দলই এখন অপেক্ষার দীর্ঘ ছায়ায়। একেকটি বিশ্বকাপ শেষ হয়, সমর্থকদের মন খারাপের প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হয় না; বরং আরও বেশি যন্ত্রণার হয়ে দাঁড়ায়। এর মধ্যে গতবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের বিশ্বকাপ জয় সে বেদনা বাড়িয়েছে বহুগুণ। তবু আশার প্রদীপ নিভে যায়নি। ব্রাজিল সমর্থকদের প্রত্যাশা, এবার তাঁদের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। আবার উজ্জ্বল রঙিন হবে হলুদ-সবুজের পতাকার রং। তারই যেন ছাপ পাওয়া যায় ব্রাজিল সেতুতে দাঁড়ালে। ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া সেতু নতুন করে রাঙানো হয়েছে। এখন অনেক বেশি উজ্জ্বল ও রঙিন। দূর থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়। ঝকঝকে সেই রং যেন নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে সমর্থকদের মনেও। ব্রাজিলের সমর্থক সুমন চাকমা বলেন, ‘অনেক দিন হলো আমরা কাপ পাই না। কিন্তু ব্রাজিল মানেই প্রত্যাশা। এবার ভালো কিছু হবেই।’ বিশ্ব আসর থেকে আট হাজার মাইল দূরের এক পাহাড়ি এলাকার এ দুই সেতু এখন শুধু যাতায়াতের পথ নয়; হয়ে উঠেছে আবেগ, উন্মাদনা আর ফুটবল ভালোবাসার প্রতীক। বিশ্বকাপ এলে যেন পুরো এলাকাই ভাগ হয়ে যায় দুই রঙে—হলুদ-সবুজ আর আকাশি-সাদা। সেতু দুটি হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিনিধিত্বকারী মঞ্চ, আর সেই মঞ্চে প্রতিদিনই চলছে আবেগের লড়াই।
চট্টগ্রামে এক সাংবাদিকের কাছে চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই সাংবাদিক। জিডিতে সাংবাদিক বিপ্লব দে পার্থ উল্লেখ করেছে, একটি নম্বর থেকে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল ও অডিও বার্তা পাঠিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হয়। এই সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। জিডি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ছোটভাই ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি এই হুমকি দেন। ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয়ে হুমকিদাতা মোবারক হোসেন ইমন একাধিক হত্যা মামলার পলাতক আসামি এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত পলাতক আসামি সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বিপ্লব দে জিডিতে হত্যার হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করলেও চাঁদা দাবির বিষয়টি উল্লেখ করেননি। বিপ্লব দে বাংলা টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরোতে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত। তিনি জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ইমন হোয়াটসঅ্যাপে অডিও বার্তায় বলেছেন, ‘...তুমি গাড়ি বিক্রি করে এখন সিএনজি অটোরিকশা চালাও... তোমার বোল্লার বাসা বানিয়ে দেবো। এত গুলি করবো যে তোমার পরিবারও গুনে শেষ করতে পারবে না। যা করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই করতে হবে। গুলি কাউকে চিনে না।’ এ বিষয়ে বিপ্লব বলেন, ‘সন্ত্রাসী ইমন নিজেকে বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে আমাকে কল করে। প্রথমে সে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে পারব না বললে সে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা দিয়ে দেওয়ার আলটিমেটাম দেয়।’ তিনি বলেন, ‘প্রথমে সে আমাকে কল করে, পরে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়ভীতি দেখিয়ে অডিও বার্তা পাঠায়।’ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘হুমকি ও চাঁদা দাবির ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’ কে এই ইমন মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের মো. মুসার ছেলে। ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ‘ঢাকাইয়া আকবর’ নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী হত্যাসহ সাতটি মামলার আসামি তিনি। পুলিশের দাবি, ইমন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহারে তিনি অত্যন্ত দক্ষ। জোড়া খুনের ঘটনায় তিনি সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও অভিযানের জন্য ভাড়া করা মোটরসাইকেলের ব্যবস্থা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বর্তমানে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুইজন। তাদের একজন হলেন এই ইমন। আগে স্থানীয়ভাবে এই চক্রের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন ‘ছোট সাজ্জাদ’। ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকায় ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান আলম নামে আরেকজন চক্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের অন্তত আটটি মামলা রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বড় সাজ্জাদের চক্রে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে। ইমন ও রায়হান ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দিয়ে সাজ্জাদের হয়ে চাঁদা আদায় করে যাচ্ছেন। একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ জানালেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
হাটহাজারীতে মেটারনিটি এন্ড চাইল্ড কেয়ার নামক হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক নারী একসঙ্গে তিনটি শিশুর জন্ম দিয়েছেন। ওই প্রসূতির নাম সালমা আক্তার (২২)। রোববার (১০ মে) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পৌরসভার মেডিকেল গেটের ওয়ান মেটারনিটি এন্ড চাইল্ড কেয়ারের চেয়ারম্যান সোহেল রানা। এর আগে শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় উক্ত হাসপাতালে ওই নারী তিন সন্তানের জন্ম দেন। সালমা আক্তার উপজেলার মেখল গ্রামের জৈনক মোহাম্মদ বেলালের স্ত্রী। বিশিষ্ট প্রসূতিরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. জোবাইদা আকতার এর ওই নারীর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একসঙ্গে জন্ম নেয়া তিনটি শিশুর মধ্যে দুইটি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তান। ওয়ান মেটারনিটি এন্ড চাইল্ড কেয়ার এর এনআইসিইউ ইউনিটের প্রধান শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোকেশ ধর ও ডা. হালিমাতুস সাদিয়া জানান, প্রসূতি মা ও শিশুগুলো সুস্থ ও নিরাপদে আছেন। এদিকে, রোগীর অভিভাবক ও স্বজনরা তাদের নতুন অতিথিদের আগমনে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।