মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মাঝে বাংলাদেশের সামনে কঠিন বছর। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং জুলাই গণভোট দেশকে নতুন মোড়ে নিতে পারে।
বাংলাদেশ ২০২৬ সালে প্রবেশ করছে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি যেমন উত্তাল, তেমনি অর্থনীতিতেও চাপে রয়েছে সাধারণ মানুষ। বিশ্লেষকদের মতে, এই বছরটি হতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য ‘মেক অর ব্রেক’ বছর।
মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি:
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)-এর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী,
২০২৫ সালে ৩৮টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ১০৭টি হেফাজতে মৃত্যু ঘটেছে।
২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২১ ও ৬৫।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে,
২৬ জন নিহত ‘বন্দুকযুদ্ধ’, শারীরিক নির্যাতন ও যৌথ বাহিনীর হেফাজতে
১২ জন নিহত বিভিন্ন থানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে
হেফাজতে মৃত্যুবরণকারী ১০৭ জনের মধ্যে ৬৯ জন বিচারাধীন এবং ৩৮ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বনাম অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ:
অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।
রাজনীতির অস্থিরতার কারণে,
প্রবৃদ্ধি ধীর
দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বৃদ্ধি
মূল্যস্ফীতি উচ্চ
ব্যাংকিং খাত সংস্কার
এগুলো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ঐতিহাসিক নির্বাচন:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড
এই দুই নেত্রী ছাড়াই নির্বাচন হচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বড় পরীক্ষা।
‘মবোক্রেসি’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার রাজনীতি
রাজনৈতিক দলগুলোর পুনর্বিন্যাস
তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট জটিল।
অর্থনীতি: স্থিতিশীলতার আভাস:
অর্থনীতিতে কিছু স্থিতিশীলতার লক্ষণ থাকলেও,
প্রবৃদ্ধি মন্থর
বৈদেশিক ঋণের চাপ বেশি
জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।
জুলাই গণভোট: ভবিষ্যতের রূপরেখা:
জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। এটি রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গ্যাসের চাপ কারসাজি করে ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে। গ্যাস চুরির এই অভিনব জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে টিকে গ্রুপকে বকেয়া এরিয়ার গ্যাস বিল হিসেবে ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপক আব্দুল বাতিনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের বাহির সিগন্যাল এলাকায় অবস্থিত টিকে গ্রুপের সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের গ্যাস ব্যবহারে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। প্রকৃত প্রেসার ২.৯৬৯ পিএসআইজি হওয়ার কথা থাকলেও ২.৬২৯ দেখিয়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির বিক্রয় উত্তর-১ বিভাগ থেকে ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ২ বার (২৯ পিএসআইজি) চাপের ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। গ্যাস বিপণন নিয়মাবলী-২০১৪ অনুযায়ী ২৯ পিএসআইজি চাপের জন্য প্রেসার ফ্যাক্টর বা চাপ শুদ্ধিগুণকের মান হবে ২.৯৬৯। এই নিয়ম ২০১০ সাল থেকে বিল প্রক্রিয়ায় প্রয়োগ করা হচ্ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালের ২২ জুলাই ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করার সময় জালিয়াতির মাধ্যমে প্রেসার ফ্যাক্টর ২.৬২৯ দেখিয়ে বিল ইস্যু করা হয়। এর ফলে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সরবরাহকৃত গ্যাসের সঠিক পরিমাণ অনুযায়ী বিল আদায় হয়নি এবং প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা কম জমা পড়েছে সামুদা কেমিক্যালের। কর্ণফূলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী গ্যাসের প্রেসার ফ্যাক্টর ২.৯৬৯-এর ভিত্তিতে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সঠিক পরিমাণের ভিত্তিতে ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা আদায়যোগ্য। ওই টাকা পে-অর্ডার অথবা রাজস্ব শাখায় জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে বড় ধরনের জালিয়াতি করলেও ব্যবস্থাপক আব্দুল বাতিনকে শুধুমাত্র অন্যত্র বদলি করে দায় সারা হয়েছে। গ্যাস কম্পানির এত বড় ক্ষতি করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার অধীনে থাকা অন্যান্য কম্পানির চাপ যাচাই করে দেখার দাবি উঠেছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, এখনো তারা এরিয়ার বিল জমা দেয়নি। সম্ভবত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে এ সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিইআরসির নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ওই ঘটনায় কয়েকজন অফিসারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। টিকে গ্রুপের বিরুদ্ধে নানা ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী স্টিল মিলস লিমিটেডের ক্যাপটিভ বিদ্যুতে গ্যাস সংযোগে মহাজালিয়াতির ঘটনা ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। এনওসি না থাকায় টিকে এ সংযোগ পেতে অন্ধকার পথ অবলম্বন করেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে তারা এমন সব গোজামিল করেছে যা খালি চোখে সহজেই দৃশ্যমান। ফৌজদারহাট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের এখতিয়ার না থাকলেও ভূয়া চিঠির মাধ্যমে টিকে গ্যাস সংযোগ অনুমোদন পায়। ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কম্পানির ১৬৯তম বোর্ডসভায় টিকে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কর্নফুলী স্টিল মিলস লিমিটেডের ১৬.৮ মেগাওয়াট ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। কেজিডিসিএলের একজন সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তার সময়ে টিকে গ্রুপের অনেক ভুয়া কাগজ তিনি ধরেছিলেন। তাদের কাগজপত্র আরো যাচাই করলে আরো অনেক জালিয়াতি পাওয়া যাবে। তিনি জানান, আগের সরকারের সময়ে তারা জ্বালানি উপদেষ্টার (তৌফিক ই-ইলাহী চৌধুরী) দপ্তর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করত। টিকে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের গ্রুপ ডিরেক্টর মোহাম্মাদ মোস্তফা হায়দারকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ ছাড়া নিউজের বিষয়ে কথা বলার জন্য পাঠানো এসএমএস-এও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি থেকে শুরু করে খালাস পর্যন্ত প্রতিটি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার সকালে বেনাপোল চেকপোস্টের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় আমদানির প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয় যে, একটি পণ্যচালান বাংলাদেশে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয় এলসি (ঋণপত্র) খোলার মাধ্যমে। আমদানিকারক ব্যাংকে প্রোফরমা ইনভয়েস জমা দিয়ে এলসি খোলেন, যেখানে পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ থাকে। এরপর রপ্তানিকারক-দেশ থেকে আইজিএম (ইমপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্ট) প্রক্রিয়ায় পণ্যের তথ্য পাঠানো হয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা এসব নথি অনলাইনে এন্ট্রি করার পর কাস্টমস অনুমোদন দিলে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অনুমতি পায়। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রাকগুলো বন্দরে প্রবেশের পর পর্যায়ক্রমে বিজিবি, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয় এবং ওজন স্কেলে ওজন করার পর কার্গো ভেহিক্যাল টার্মিনালে রাখা হয়। এরপর নির্ধারিত শেড বা ইয়ার্ডে পণ্য খালাস করা হয়। পরবর্তী ধাপে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন সম্পন্ন করে। আমদানিকারক প্রয়োজনীয় শুল্ক পরিশোধ করলে কাস্টমস থেকে রিলিজ অর্ডার ইস্যু করা হয়। সবশেষে বন্দর কর্তৃপক্ষের মাশুল পরিশোধ ও গেটপাস সংগ্রহের মাধ্যমে পণ্য বাংলাদেশি ট্রাকে লোড করে নির্ধারিত গেট দিয়ে বন্দর ত্যাগ করে। সংবাদ সম্মেলনে বেনাপোল স্থলবন্দরের রাজস্ব আদায়ের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, গত পাঁচ বছরে বেনাপোল বন্দরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব ছিল ৪ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৯ কোটি টাকায়। সর্বশেষ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) ও উপ-সচিব মোহাম্মদ শামীম হোসেন বলেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে সবার মধ্যে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এতে কার্যক্রম গতিশীল হবে এবং রাজস্ব আহরণ আরও বাড়বে। তিনি বন্দরকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম পদোন্নতি পেয়ে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। রোববার (৩ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। পদোন্নতির আগে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন পদে যোগ দিলেও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি বর্তমান কর্মস্থলেই দায়িত্ব পালন করবেন। নজরুল ইসলাম ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন’ কর্মসূচির আওতায় উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের মাধ্যমে পরিচালিত এই কর্মসূচি দেশে দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ক্রেডিট গ্যারান্টি বিভাগ, ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ইন্সপেকশন বিভাগ এবং ব্যাংকিং রেগুলেশনস অ্যান্ড পলিসি বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় কাজ করেছেন। শিক্ষাজীবনে নজরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এআইটি) থেকে ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্সে প্রফেশনাল মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এছাড়া জার্মানি থেকে সনদপ্রাপ্ত রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ (সিইআরএম) ডিগ্রিও অর্জন করেছেন তিনি। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের এই পদোন্নতিকে তার কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।