সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘পিস অব বোর্ড’ বিশ্বরাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এই বোর্ড গঠনের জন্য একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছে।
ট্রাম্পের দাবি, বোর্ডটি গাজা পুনর্গঠন এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গঠন করা হলেও এর কার্যকারিতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্বনেতাদের মধ্যে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দাভোসে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “আমাদের ছাড়া বিশ্বের অধিকাংশ দেশ সঠিকভাবে চলতেই পারে না।” বিশ্লেষকরা এই মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
প্রাথমিকভাবে বোর্ড গাজা পুনর্গঠনের জন্য দুই বছরের জাতিসংঘ ম্যান্ডেটের কথা উল্লেখ করলেও, ১১ পৃষ্ঠার খসড়া সনদে ‘গাজা’ শব্দের উল্লেখ নেই। বরং বোর্ডটি একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়, যা বর্তমান জাতিসংঘ ব্যবস্থার বিকল্প বা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাজ করতে পারে। ট্রাম্প নিজেই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন এবং যেকোনো সিদ্ধান্তে তার একক ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে।
বোর্ডের নির্বাহী পরিষদে রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। এছাড়া গাজা প্রশাসনের জন্য ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজা’ নামে একটি বেসামরিক শাখা এবং স্থায়ী নিরস্ত্রীকরণের জন্য মার্কিন জেনারেল জ্যাসপার জেফারসের নেতৃত্বে একটি সামরিক শাখা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতিমধ্যেই ইসরাইল, পাকিস্তান, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো, সৌদি আরব ও হাঙ্গেরি এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের যুদ্ধাপরাধের পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এতে অংশগ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে এবং সুইডেন সরাসরি এই উদ্যোগে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও জাপান এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই বোর্ড জাতিসংঘের কার্যকারিতা খর্ব করতে পারে। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, অনেক দেশ শুধুমাত্র হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা এবং ভবিষ্যতে কোণঠাসা হওয়া এড়াতে বোর্ডে যোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে, চীন ও রাশিয়া এখনও নীরব রয়েছে। চীন গত বছর নিজস্ব ‘গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ’ চালু করেছে এবং ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
শেষ পর্যন্ত এই বোর্ড কি সত্যিই বিশ্ব শান্তির মডেল হবে, নাকি জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গত তিন বছরেরও কম সময়ে রেকর্ড ৬০ লাখ আফগান শরণার্থী নিজেদের দেশে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত পরিমাণে প্রত্যাবাসন বা মানুষের ফিরে যাওয়ার এমন কোনো বড় ঘটনা এর আগে দেখা যায়নি। একই সঙ্গে সব ধরনের প্রত্যাবাসন যেন সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে সংস্থাটি। খবর আনাদোলু এজেন্সির। ফিরে যাওয়া এসব শরণার্থীর সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত তথ্য ইউএনএইচসিআর প্রকাশ না করলেও, এদের বড় একটি অংশ প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ইরান থেকে নিজ দেশে ফিরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত জুনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান যে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইসলামাবাদ সরকারের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৪ লাখেরও বেশি আফগান নাগরিক তাদের দেশে ফিরে গেছেন। এ ছাড়া ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ লাখ আফগান ইরান থেকে ফিরে এসেছেন। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসন এবং পরবর্তীতে বছরের পর বছর চলা সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে লাখ লাখ আফগান শরণার্থী পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে পাকিস্তানে ৭ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত আফগান শরণার্থী বসবাস করছেন, অন্যদিকে অবৈধ শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি বলে ধারণা করা হয়।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার পরিবর্তে আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সামরিক বিকল্প খোলা রাখার পাশাপাশি ২০২৭ সালকে সামনে রেখে প্রস্তুতিও নিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা এখন শুধু তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এ কারণে আগামী বছরকে কেন্দ্র করে সামরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে মার্কিন প্রশাসন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংঘাত দীর্ঘ হলে এর প্রভাব আঞ্চলিক দেশগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্য বিকল্প পরিকল্পনাও তৈরি করছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন যে সংঘাত দ্রুত শেষ হবে এমন নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করছে না, সেটিই স্পষ্ট হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ সংঘাতে সক্রিয় হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি হতে পারে জ্বালানি সরবরাহ। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস উৎপাদন অঞ্চল হওয়ায় এ অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে হিসাব করতে হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে তাই দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে ইরানের ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখা, অন্যদিকে সংঘাত যাতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে না পড়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা। ২০২৭ সালের জন্য প্রস্তুতির বিষয়টি সামনে আসায় ইরান সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর থাকবে ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং তেহরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও চলতি বছরে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এমনটি জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজা উপত্যকায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩০১ জন শিশু রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় সম্মতি দেওয়ার পর যুদ্ধ বন্ধে রাজি হয় হামাস ও ইসরায়েল। ওই পরিকল্পনায় ‘বিমান ও গোলাবর্ষণসহ সব ধরনের সামরিক অভিযান’ স্থগিত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে এরপরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিবিসি ভেরিফাই ডজন খানেক ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে, যাতে দেখা গেছে ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংসযজ্ঞ। এর মধ্যে ছিল গাজার সৈকত তীরবর্তী একটি ক্যাফেসহ বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া তাঁবু এবং একটি জানাজার মিছিলও। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রাণহানি ছিল সবচেয়ে বেশি। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রতিমাসেই ১০০ জনের বেশি নিহত হওয়ার তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব মৃত্যুর জন্য সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে দায়ী করেছে। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক এবং কতজন যোদ্ধা, তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য মনে করে এবং বিশেষজ্ঞরা বিবিসি ভেরিফাই-কে বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন বিশ্লেষণ এই তথ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তবে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে। তারা বিবিসি ভেরিফাই-কে জানিয়েছে ,তালিকায় থাকা সবাই আইডিএফ-এর অভিযানের কারণে নিহত হয়েছে এমন ধরে নেওয়ার ‘কোনও ভিত্তি নেই’। ইসরায়েলের দাবি, হুমকি দূর করতে ও নিজেদের সেনা এবং ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করতে তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছে। সূত্র: বিবিসি