অন্যান্য

রাজধানীর স্কুলে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২২, ২০২৬

রাজধানীর নয়াপল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’ নামের একটি স্কুলে ৩-৪ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।


ভিডিওতে দেখা গেছে, শিশুটিকে স্কুল ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় টানাহেঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী শিক্ষক শিশুটিকে টেবিলের সামনে বসিয়ে বারবার চড় মারছেন এবং ধমক দিচ্ছেন। পরে এক পুরুষ শিক্ষক শিশুর মুখের সামনে স্ট্যাপলার দেখিয়ে তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন। ফুটেজ অনুযায়ী, ঘটনাটি রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ঘটেছে।

পুলিশ জানায়, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তারা ঘটনাস্থল শনাক্ত করেছে। ইতোমধ্যে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও কয়েকজন শিক্ষককে থানায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে তারা বারবার সময় নিচ্ছেন। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল খান জানিয়েছেন, নির্যাতনের ঘটনায় এক জনকে শনাক্ত করা হয়েছে; তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শারমিন আক্তার। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
টকশোতে অনেকে শেখ হাসিনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন : রিজভীর

টকশোতে অনেকে ইনিয়ে-বিনিয়ে শেখ হাসিনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।    তিনি বলেন, হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। তার বাবাও একই কাজ করেছে। শেখ হাসিনা যদি ফিরে এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া ও টিক্কা খান কোন দোষ করেছে? শেখ হাসিনা তাদের চেয়ে কম কী করেছে?    শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।    রিজভী বলেন, অনেক উপস্থাপক-উপস্থাপিকাকে দেখছি টকশোতে নানাভাবে শেখ হাসিনাকে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছেন। যারা পাঁচ আগস্টের পরে ছিলেন না, তারা ধীরে ধীরে জয়েন করছেন এবং শেখ হাসিনার গুণগান গাওয়ার চেষ্টা করছেন।   রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা এত বাহাদুর হলে পালালেন কেন? বেগম খালেদা জিয়া তো পালাননি। হাসিনা যে কী নিষ্ঠুর হতে পারে, তা কারাগারে নেতাদের ওপর হাত তোলা না দেখলে বোঝা যাবে না। ফ্যাসিস্ট দলকে ফিরিয়ে আনা যায় না। হিটলারের দল ফিরে আসতে পারেনি।    তিনি বলেন, ইতিহাসের যে উল্লে­খযোগ্য প্রতিরোধ আছে, যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগের প্রতিরোধ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। শ্রাবণের বৃষ্টির মতো যাত্রাবাড়ীতে যখন গোলাগুলি করা হচ্ছিল, সেদিন বিএনপি-ছাত্রদল, জামায়াত-শিবির, মাদ্রাসার ছাত্ররাসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোও বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।   রিজভী আরও বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ছিল ঘৃতাহুতির (আগুনে ঘি ঢালা) মতো। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাদের রাজনীতি হচ্ছে বারবার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। কিন্তু আমি দেখেছি, কিছুদিন পর পর তারা নিজেরাই ঘোলা পানিতে পড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, একটি দল ধর্মের নামে রাজনীতি করে। কিন্তু তাদের আদর্শ কী? গোটা দেশ স্বাধীনতার পক্ষে গেলেও তারা ছিল বিপক্ষে। সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন নানা ঘটনার পরেও ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলেছে জামায়াত। আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনার টোনে জামায়াত কথা বললে জনগণ- তা মেনে নেবে না।   রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে বহু মানুষ নিহত হন।    তিনি বলেন, ২৪-এর ১৯ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির সমাবেশ ছিল। সে সময় যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত বন্ধ ছিল। নানা বাধা পেরিয়ে প্রেস ক্লাবে পৌঁছানোর পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি ও লাঠিচার্জ করে। পরে আমাকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।    রিজভী বলেন, কারাগারে থাকাকালে আমি আন্দোলনের বিস্তার সম্পর্কে জানতে পারি। একই সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন নেতার ওপর নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি।   শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, শিশু হত্যাকারী, কিশোর হত্যাকারী, তরুণ হত্যাকারীর মাফ হবে কী করে? তার দাবি, যে রক্তপাত হয়েছে, তার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ থাকা উচিত নয়।    তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজেরও মূল্যায়ন করা উচিত। জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং সারা দেশে নিহতদের স্মরণ করেন রিজভী। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।   সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর প্রমুখ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজপথে এবি পার্টির কফিন মিছিল

ছবি : সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত: নাহিদ ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর পরও সওয়াব পৌঁছায় যে ৬ আমলে

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। ফাইল ছবি
চেক ডিজঅনার মামলায় জামিন পেলেন সালমান এফ রহমান

চেক ডিজঅনারের এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।   বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এক হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিনের এ আদেশ দেন।   আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাদ্দেসুল আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পর গত ৭ মে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এই মামলার অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন।    এর আগে গত ৯ জানুয়ারি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশের পক্ষে উজ্জ্বল মন্ডল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।     মামলার অপর আসামিরা হলেন, আহমেদ সইয়ন ফজলুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, ইমরান মন্ডল, মো. লুৎফর রহমান, মাশকুরা খানাম, মো. সাইফুর রহমান, অবু নাঈম মোহাম্মদ সেলেহীন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর ও এ এস এফ রহমান।   মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের বারবার তাগিদের পর বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের পক্ষে ১১২ কোটি টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর চেকটি এক্সিম ব্যাংকের হেড অফিস করপোরেট শাখায় জমা দিলে একই দিন ব্যাংক সেটি ‘Insufficient Fund’ (অপর্যাপ্ত তহবিল) উল্লেখ করে ফেরত দেয়। পরবর্তী সময়ে ২৬ নভেম্বর নিবন্ধিত ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে চেকের অর্থ পরিশোধের কথা জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা অর্থ পরিশোধ করেননি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুদকের মামলায় সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের রায় ২৮ জুলাই

বৃহস্পতিবার খুলছে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র

ছবি : সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না : সারজিস আলম

ছবি : সংগৃহীত
ক্ষমা না চাইলে সারজিস-তুষারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার হুঁশিয়ারি

পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে জেলা বিএনপি। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জেলা বিএনপির নেতারা।    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষারকে মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে জেলাবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। অন্যথায় পাবনায় তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।   সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার জানান, ৯ জুলাই এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার পাবনা সদর ও চাটমোহরে রাজনৈতিক সফর করেন। বিএনপি তাদের স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু এনসিপির দুই নেতা তাদের সভা-সমাবেশে বিএনপি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নামে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত বক্তব্য দিয়েছেন। বিএনপির পাবনা জেলা শাখা এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষারের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তাদের বক্তব্য ছিল উসকানিমূলক ও সংসদ সদস্যের সম্মানহানির অপচেষ্টা। তাদের মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। শিমুল বিশ্বাসের নামে তারা মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে পাবনার মানুষের মনে যে ক্ষত সৃষ্টি করেছেন, তার জন্য পাবনাবাসীর কাছে তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। তা না করলে পাবনার জনগণ যেকোনো সভা-সমাবেশে সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন।   মকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার বলেন, ‌‘সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনকল্যাণমূলক কাজে পাবনার জনগণের নেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেন না। পাবনার জনগণ তাদের আস্থা, বিশ্বাস ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে তাকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন। শিমুল বিশ্বাসের নামে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়ে পাবনার জনমনে বিন্দুমাত্র রেখাপাত করা সম্ভব নয়।’   সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সামাদ খান, আনিসুল হক, নূর মোহাম্মদ মাসুম, শেখ তুহিন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক হিমেল রানাসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   এ বিষয়ে পাবনা জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক বরকতুল্লাহ ফাহাদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে সাংগঠনিক বক্তব্য দিয়েছি। বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে আমাদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে, সেটিও আমরা জেনেছি। আজ সন্ধ্যার পর এ বিষয়ে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’   গত ৯ জুলাই পাবনা সফরে এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষার অভিযোগ করেছিলেন, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের ইন্ধনে জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় করা হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেফতার হচ্ছেন না। জুলাই আন্দোলনে গুলিবর্ষণ করে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যাকারী আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ খান ওরফে সাঈদ চেয়ারম্যানসহ পাবনার আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন তিনি। ওই বক্তব্যর পর থেকেই বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারা ক্ষুব্ধ হন। গত কয়েক দিনে জেলা ছাত্রদল, জেলা যুবদল, সেচ্ছাসবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান খুলতে পারবে বিএমইউ

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা পেছাল

ফাইল ছবি

পদার্থ, হিসাব ও যুক্তিবিদ্যার পরীক্ষা আবার হবে : শিক্ষামন্ত্রী

0 Comments