আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ভাষণ নিয়ে বাজি, সাবেক হোয়াইট হাউস কর্মীকে জরিমানা

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যের আগাম গোপন তথ্য ব্যবহার করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বাজি ধরার দায়ে হোয়াইট হাউসের সাবেক এক টেলিপ্রম্পটার অপারেটরকে ১ লাখ ৭২ হাজার ডলারেরও বেশি (প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার পাউন্ড) অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ স্বীকার ও তদন্তে সহযোগিতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এই বড় আর্থিক জরিমানা ও ট্রেডিং নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জারি করেছে।

 

অভিযুক্ত গ্যাব্রিয়েল পেরেজ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন ভাষণে কী কী বিষয় বা শব্দ উল্লেখ করা হবে, তা আগেই জানতে পেরে ‘কালশি’ নামক একটি প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্মে বাজি ধরেন। কালশি মূলত এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে ব্যবহারকারীরা বাস্তব বিশ্বের নানা ঘটনার ওপর ভিত্তি করে অর্থ বাজি ধরতে পারেন। এ ঘটনার পর মার্কিন কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশন (সিএফটিসি) তদন্ত শেষে পেরেজকে বাজি ধরে আয় করা ১ লাখ ৭ হাজার ৫৩৯.০২ ডলার সমর্পণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৬৫ হাজার ডলার বেসামরিক জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

 

প্রকাশিত এই কেলেঙ্কারির বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে গত জুলাই মাসে তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছিলেন যে পেরেজকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং তিনি আর তার পুরোনো পদে ফিরে আসবেন না। 

 

শুক্রবার চুক্তি ও জরিমানার বিষয়টি ঘোষণার সময় সিএফটিসি জানায়, পেরেজ হোয়াইট হাউসের গোপনীয়তা ও বিশ্বাসের নীতি লঙ্ঘন করে ট্রাম্পের বক্তব্যের ওপর আগাম বাজির সুবিধার্থে তার পূর্বজ্ঞানকে অসদুপায়ে ব্যবহার করেছেন। তবে তদন্তের ক্ষেত্রে তার অভূতপূর্ব সহযোগিতার কারণে বেসামরিক জরিমানার পরিমাণ কিছুটা কমানো হয়েছে। জরিমানার পাশাপাশি পেরেজকে আগামী তিন বছরের জন্য যেকোনো ধরনের ট্রেডিং বা বাজিতে অংশ নেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কালশির প্রধান আইনজীবী ববি ডি’নল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, আপনার পরিচয় যা-ই হোক না কেন, আমাদের নিয়ম কিংবা ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করলে তাকে পরিণতি ভোগ করতেই হবে। 

 

এর আগে কোম্পানিটি সংবাদমাধ্যম ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছিল যে, গত মার্চ মাসে তাদের বিশ্লেষকরা ‘মেনশন মার্কেট’ বা নির্দিষ্ট বক্তব্য-সংক্রান্ত বাজির চুক্তিতে অস্বাভাবিক লেনদেন প্রত্যক্ষ করেন। মেনশন মার্কেটে মূলত কোনো বক্তা নির্দিষ্ট দেশ, নির্বাচনের স্লোগান বা বিশেষ কোনো শব্দ ব্যবহার করবেন কি না—তার ওপর বাজি ধরা হয়। পরে অ্যাকাউন্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে লেনদেনকারী ব্যক্তি হোয়াইট হাউসের টেলিপ্রম্পটার পরিচালনাকারী একজন সরকারি কর্মচারী এবং পরবর্তীতে বিষয়টি সিএফটিসিকে অবহিত করা হয়।

 

প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম কালশি গত জুলাইয়ে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছিল যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিংবা ফেডারেল রিজার্ভের প্রধানের মতো রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ফরেক্স মার্কেট, জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ বাজার এবং শেয়ারবাজারে কোটি কোটি ডলারের হেরফের ঘটায়। তাই এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্যের অপব্যবহার অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। একই মাসে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হোয়াইট হাউস ম্যানেজমেন্ট অফিস থেকে সকল কর্মকর্তা ও সহযোগীদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্মে যেকোনো ধরনের বাজি ধরা থেকে বিরত থাকার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সূত্র: বিবিসি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম মিসাইল ছুড়ল পাকিস্তান

নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফায’-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এই পরীক্ষা চালানো হয়।   এর মধ্য দিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর।   পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএসপিআরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটিতে অত্যাধুনিক টার্মিনাল গাইডেন্স ব্যবস্থা রয়েছে। এটি দূরপাল্লা থেকে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।   আইএসপিআর বলছে, ‘ফায’ পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করবে।   এর সফল পরীক্ষা দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও স্বনির্ভরতার প্রতিফলন।   পরীক্ষার সময় সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। সফল পরীক্ষা উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান আসিম মুনিরসহ তিন বাহিনীর প্রধান সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।   এর আগে গত মাসে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ফাতাহ-২ ইআর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ফাতাহ-৪ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বর্ধিত সংস্করণের পরীক্ষা চালায় পাকিস্তান।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে কারা এগিয়ে, এখন পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন তেহরানে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে বিলবোর্ড

ছবি: সংগৃহীত

আজই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, রাসায়নিক অস্ত্রের হুমকি নিয়ে ইসরায়েলের সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত
নজিরবিহীন ব্যয়ের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন হতে চলেছে। এই নির্বাচনে সব মিলিয়ে নজিরবিহীন অর্থ খরচ হচ্ছে, যার একটি বড় অংশই আসছে শীর্ষ ধনকুবেরদের পকেট থেকে।   বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিং ফার্ম 'অ্যাড ইমপ্যাক্ট' এর তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে কেবল রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনেই ব্যয় রেকর্ড ১১৬০ কোটি (১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনসহ আমেরিকার পূর্ববর্তী যে কোনও নির্বাচনের চেয়ে বেশি।   তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন দেশটির শীর্ষ ৫০ জন মেগা-দাতা। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট তহবিলের বাইরে গিয়ে মাত্র ৫০ জন অতি-ধনী ব্যক্তি ও সংস্থা ব্যক্তিগতভাবে রেকর্ড ২৭৭ কোটি (২ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলার অনুদান দিয়েছেন। মাত্র ৫০ দাতার কাছ থেকে এত বিশাল অঙ্কের অর্থ আগের কোনও নির্বাচনে আসেনি।   ৩ নভেম্বরের ভোটের আগে সবচেয়ে বড় অনুদানগুলোর পেছনে থাকা ধনকুবের, অর্থদাতা এবং কোম্পানিগুলোকে চিহ্নিত করতে আল জাজিরা ছবি, গ্রাফ ও চার্টের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের ডেটা ব্যবহার করেছে।   ৫০ জন বৃহত্তম দাতার অনুদান ২৭৭ কোটি ডলার   ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ৫০ দাতা এবং সংস্থা এ পর্যন্ত সম্মিলিতভাবে ২৭৭ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছে।   রিপাবলিকানপন্থি দাতারা দিয়েছেন ১৬৭ কোটি ডলার, যা মোট অনুদানের প্রায় ৬০ শতাংশ। এটি ডেমোক্র্যাটপন্থি দাতাদের দেওয়া ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের (৩০ শতাংশ) তুলনায় দ্বিগুণ।   অবশিষ্ট ২৬ কোটি ৪০ কোটি ডলার (প্রায় ১০ শতাংশ) এসেছে দ্বিপক্ষীয় বা বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাতা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ পক্ষগুলোর কাছ থেকে, যার মধ্যে স্পোর্টস বেটিং (খেলায় বাজি ধরা) এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিকে সমর্থনকারী গ্রুপগুলোও রয়েছে।   ২০২৫-২৬ নির্বাচন চক্রে একজন মার্কিন নাগরিক ফেডারেল প্রার্থীর প্রচারের জন্য প্রতি নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৩৫০০ ডলার পর্যন্ত দান করতে পারেন। তবুও এই তালিকার কিছু মানুষ এবার শত শত কোটি ডলার দান করেছেন।   এটি বৈধ, কারণ এই অর্থের সিংহভাগ সরাসরি প্রার্থীদের কাছে যায়নি, বরং গেছে 'সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি' বা 'সুপার প্যাক' গুলোর কাছে, যারা যেকোনো অংকের অনুদান গ্রহণ করতে পারে।   সুপার প্যাক কী?   সুপার প্যাক হলো এমন একটি গ্রুপ যা মূলত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রার্থীদের সমর্থন বা বিরোধিতা করার জন্য সীমাহীন অর্থ সংগ্রহ এবং ব্যয় করতে পারে। এর প্রধান শর্ত হলো এটি প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে ব্যয়ের বিষয়ে কোনো সমন্বয় করতে পারবে না।   ২০১০ সালে আদালতের দুটি রায়ের পর প্রার্থীর বাইরে স্বাধীন গ্রুপগুলোর মাধ্যমে নির্বাচনে সীমাহীন ব্যয়ের পথ সুগম হলে এই সুপার প্যাকগুলোর উত্থান ঘটে।   সুপার প্যাকগুলোকে তাদের দাতাদের তথ্য ফেডারেল ইলেকশন কমিশন এর কাছে রিপোর্ট করতে হয়, যা মার্কিন ফেডারেল নির্বাচন তদারকি সংস্থা। তবে কিছু বড় অনুদানকারী, যেমন—'ওয়ান নেশন' এবং 'মেজরিটি ফরোয়ার্ড' হলো অলাভজনক সংস্থা, যাদের নিজেদের দাতাদের নাম প্রকাশ করতে হয় না।   এটি রাজনৈতিক অর্থের মূল উৎসকে লুকিয়ে রাখতে পারে, যা ‘ডার্ক মানি’ বা ‘কালো টাকা’ হিসেবে পরিচিত।   তবে হার্ভার্ড ল স্কুলের আইন ও নেতৃত্ব বিষয়ক অধ্যাপক এবং নির্বাচনী অর্থায়ন সংস্কারের আইনজীবী লরেন্স লেসিগের মতে, এই অর্থ কেবল ভোটারদের কাছ থেকে লুকানো থাকে।   ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ব্র্যাডলি স্মিথের সঙ্গে মার্কিন নির্বাচনে অর্থায়ন সংক্রান্ত আল জাজিরার 'লেটস ফোকাস' অনুষ্ঠানে এক বিতর্কে তিনি জোশ রাশংকে বলেন, “রাজনীতিবিদদের কাছে এটি গোপন নয়। এটি আমাদের কাছে গোপন। রাজনীতিবিদদের পক্ষের কেউ এই অর্থ কোথা থেকে আসছে তা নিয়ে বিভ্রান্ত নয় এবং তারা ভালো করেই জানে যে তাদের কী করতে হবে।”   সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দাতা কারা? ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের ডেটা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এবং টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়ে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের বৃহত্তম ব্যক্তিগত দাতা হয়েছেন।   তার পরেই রয়েছেন শিপিং সাপ্লাই কোম্পানি 'ইউলাইন' এর প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ ও রিচার্ড উইহেলিন এবং জেফ ও জেনিন ইয়াস। জেফ ইয়াস ট্রেডিং ফার্ম 'সাসকুয়েহানা ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। এই তিনজনই রিপাবলিকানপন্থি গ্রুপগুলোকে অনুদান দিয়েছেন।   রিপাবলিকানপন্থি শীর্ষ দাতা • ইলন মাস্ক: ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার • এলিজাবেথ ও রিচার্ড উইহেলিন: ১৫ কোটি ডলার • জেফ ও জেনিন ইয়াস: ১১ কোটি ডলার   ডেমোক্র্যাটপন্থি সবচেয়ে বড় দাতারা হলেন বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারী এবং ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ সোরোস, নিউ ইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র এবং আর্থিক তথ্য কোম্পানি ব্লুমবার্গের প্রতিষ্ঠাতা মাইক ব্লুমবার্গ এবং লিংকডইন-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান ও তার স্ত্রী মিশেল য়ি। ডেমোক্র্যাটপন্থি শীর্ষ দাতা • জর্জ সোরোস: ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার • মাইক ব্লুমবার্গ: ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার • রিড হফম্যান এবং মিশেল য়ি: ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার     চারজন ব্যক্তিগত দাতা প্রত্যেকে ১০ কোটি ডলারের বেশি দান করেছেন। লেসিগের মতে, নির্বাচনের সামগ্রিক খরচ নয়, বরং দাতাদের এই কেন্দ্রীকরণই আসল উদ্বেগের বিষয়।    তিনি বলেন, “সমস্যা ব্যয় করার পরিমাণ নিয়ে নয়। সমস্যা হলো দাতাদের এই অতি-কেন্দ্রীকরণ। যদি আপনার কাছে টেবিলে রাখার মতো ১০ কোটি ডলার না থাকে, তবে একটি গণতন্ত্রে যেভাবে মানুষের গুরুত্ব থাকা উচিত, সেভাবে আপনার কোনো গুরুত্ব থাকবে না।”   কোন সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থ ঢালছে? প্রাতিষ্ঠানিক র‌্যায়কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে রাজনৈতিক অলাভজনক সংস্থাগুলো, পাশাপাশি রয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি ফার্ম এবং একটি শিল্প গ্রুপ।   রিপাবলিকান পক্ষে সবচেয়ে বড় দাতা ছিল 'ওয়ান নেশন' -সেনেটের রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত একটি অলাভজনক সংস্থা।   এরপরেই রয়েছে 'আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক', যা প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত। ডেমোক্র্যাট পক্ষে দলের সেনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত অলাভজনক সংস্থা 'মেজরিটি ফরোয়ার্ড' এবং 'হাউস মেজরিটি ফরোয়ার্ড' নেতৃত্ব দিয়েছে।   রিপাবলিকানপন্থি সংস্থা • ওয়ান নেশন: ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার • আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক: ৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলার • আমেরিকান প্রসপারিটি অ্যালায়েন্স: ৫ কোটি ৭ লাখ ডলার   ডেমোক্র্যাটপন্থি সংস্থা • মেজরিটি ফরোয়ার্ড: ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার • হাউস মেজরিটি ফরোয়ার্ড: ৯ কেটি ৩৭ লাখ ডলার • ইকোনমিক অপরচুনিটি ফান্ড: ৪ কোটি ১৫ লাখ ডলার ক্রিপ্টোকারেন্সি কোম্পানিগুলোর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ 'কয়েনবেস' ৫ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, তারপরে রয়েছে ব্লকচেইন পেমেন্ট কোম্পানি 'রিপল' ৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলার এবং ক্রিপ্টো ডটকম এর পেছনের কোম্পানি 'ফোরিস ড্যাক্স' দিয়েছে ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার।   শিল্প গ্রুপ 'কোক' দিয়েছে ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার আর স্পোর্টস বেটিং কোম্পানি 'ড্রাফটকিংস' দিয়েছে ৪ কোটি ৪ লাখ ডলার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচতে নাগরিকদের নির্দেশনা দিল ইরান

ফাইল ছবি

একসঙ্গে সাত উড়োজাহাজে বোমার হুমকি, ইউরোপজুড়ে আতঙ্ক

সামরিক দিক থেকে প্রস্তুত থাকলেও কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে চায় ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা নয়, হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান

ইয়েমেনের আল-জাওফ প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের লড়াই
ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি জড়াচ্ছে ইরানের আইআরজিসি

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কার্যক্রমে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ‘সরাসরি সম্পৃক্ত’ থাকার অভিযোগ করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। ইয়েমেন সরকারের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি দাবি করেছেন, হুতি বিদ্রোহীদের পরিচালনা করতে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে হুমকি তৈরিতে আইআরজিসি আগের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে।   ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবার বরাত দিয়ে রাশাদ আল-আলিমি জানান, আইআরজিসির বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ হুতিদের কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। তারা মূলত বিভিন্ন অভিযানের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা করছেন। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে হুমকি সৃষ্টির পেছনেও এসব বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন বলে তিনি দাবি করেন। আল-আলিমি বলেন, হুতিদের সঙ্গে আইআরজিসির সম্পর্ক এখন আর শুধু অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তারা সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনা এবং জলপথে হুমকি তৈরিতে অংশ নিচ্ছে।   তবে মিত্র গোষ্ঠী হুতিদের সরাসরি কোনো সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে ইরান। হুতিরাও দাবি করে থাকে, তারা তেহরানের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবেই নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। অবশ্য তাদের এই দাবির পরও উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর আদর্শিক মিল থাকার বিষয়টি স্পষ্ট।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৬
রয়টার্স ছবি

জ্বালানি খাতের মেগা প্রকল্পে পৌনে ৭ লাখ কোটি রুপি ঢালছে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

আগামী বছর থেকে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের কথা জানালেন ট্রাম্প

সংগৃহীত ছবি

লিমাহ উপকূলে জাহাজে হামলা, ভারতীয় নাগরিক নিহত ও ১৩ উদ্ধার

0 Comments