যুক্তরাষ্ট্রে নিচু দিয়ে উড়তে থাকা একটি বোয়িং ৭৬৭ বিমান ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে। এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বিমানের যাত্রীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৭ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক বিমানটি নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। বেকারি পণ্যের ট্রাকটি দুর্ঘটনায় বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৬৭ বিমান নিউইয়র্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য নিচে নামার সময় ট্রাকটির সঙ্গে ধাক্কা খায়।
এ সময় বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারের একটি চাকা ট্রাকের জানালা ও উইন্ডশিল্ড ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে কেবিনজুড়ে কাচ ছিটকে পড়ে এবং চালক বোর্ডলি জুনিয়রের হাত ও বাহুতে আঘাত লাগে। এত বড় দুর্ঘটনার পরও তিনি বেঁচে যান। কিছুক্ষণ পর চালক তার বাবাকে ফোন করেন।
তার বাবা ওয়ারেন বোর্ডলি সিনিয়র বাল্টিমোরের বক্সিং অঙ্গনের পরিচিত মুখ এবং বক্সিং হল অব ফেমের সদস্য। তিনি জানান, তার ছেলে প্রচণ্ড আতঙ্কিত অবস্থায় ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। আমাকে ফোন করে বলল, একটি বিমান তাকে ধাক্কা দিয়েছে। আমিও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।’
বোর্ডলি সিনিয়র জানান, তার ছেলে শরীরজুড়ে ব্যথা পেয়েছে। এর মধ্যে মাথা ও অভ্যন্তরীণ আঘাতও রয়েছে। এই মুহূর্তে আমরা শুধু কৃতজ্ঞ যে সে বেঁচে আছে। শারীরিক কষ্ট হয়তো একসময় সেরে যাবে, কিন্তু মানসিক ধাক্কা অনেক দিন থাকবে।
তিনি বলেন, পৃথিবীর সবকিছুর জন্য মানুষ প্রস্তুতি নিতে পারে, কিন্তু একটি বিমান এসে ট্রাকে ধাক্কা দেবে এমন কোনো ব্যাপার কেউ কল্পনাও করতে পারে না। অন্য কোনো চালকের ভুলের জন্য প্রস্তুত থাকা যায়, কিন্তু বিমানের জন্য নয়। এটা অবিশ্বাস্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে ফ্লাইট পরিচালনা, আবহাওয়া পরিস্থিতি, মানবিক ত্রুটি, ক্রু ব্যবস্থাপনা এবং এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে। এ ঘটনায় যাত্রী বা ক্রুদের কেউ আহত হননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুর সদর আসন থেকে ৩০ হাজার ৫০৬ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রদীপ সরকারকে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। এক সময় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি ছিলেন তিনি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়েও রয়েছে তার নাম। জয়ের পর নিজ নির্বাচনি এলাকায় বুলডোজারের ওপর দলীয় পতাকা উড়িয়ে বিজয় উদযাপন করেছেন এই বিজেপি নেতা। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার গঠন যখন সময়ের ব্যাপার, তখন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজ্যের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। রাজ্যের আর্থিক সংকট ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, নরেন্দ্র মোদি থাকলে সবকিছুই সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাবনা ও মানুষের ক্ষমতা আছে, শুধু প্রয়োজন ভালো প্রশাসন। কর্মসংস্থানের অভাবে ৫০ লাখের বেশি যুবক রাজ্য ছেড়েছেন। আমরা তাদের ঘরে ফেরার সুযোগ করে দেব। তৃণমূল আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘রাজ্যে কোনও প্রশাসন ছিল না, আইন-শৃঙ্খলা ও শিল্প বলতে কিছু ছিল না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। পাহাড় থেকে সমুদ্র সব থাকা সত্ত্বেও অভাব ছিল সুশাসনের। ভোট পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ২০২১ সালে নির্বাচনের পর কতজন বিজেপি কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, তা ভুলে যাওয়া উচিত নয়। বিজেপি সহিংসতায় বিশ্বাস করে না। গতবার আমাদের অনেক কার্যালয় দখল করে রং বদলে দেওয়া হয়েছিল। এখন মানুষ জানে কোনগুলো বিজেপির অফিস, তাই সেখানে দলীয় পতাকা লাগানো হচ্ছে। ডায়মন্ড হারবারে আমাদের ১২টি অফিস জেসিবি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দিলীপ ঘোষের কড়া মন্তব্য, জনগণ তাকে ১৫ বছর সময় দিয়েছিলেন। তিনি তিনবার সুযোগ পেয়েছিলেন কিন্তু মানুষের জন্য কিছুই করেননি। কেবল দুর্নীতি আর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নালিশ করেছেন। মানুষ তাকে বড় শাস্তি দিয়েছে, অথচ তিনি এখনও অভিযোগ করে যাচ্ছেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম এবং ২০২৬ সালে ভবানীপুরে মমতার হার নিয়ে তিনি বলেন, মানুষ এখন বলছে ঘরে থাকুন, বিশ্রাম নিন আর পূজা-অর্চনা করুন। কিন্তু মানুষের অভ্যাস সহজে যায় না। জনগণ উন্নয়ন চায় বলেই বিজেপিকে বেছে নিয়েছে। বিজয় উদযাপনে বুলডোজার বা জেসিবি ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি আর অনুপ্রবেশকারীদের হঠাতে জেসিবি প্রয়োজন। দল আমাকে ভোট লড়তে বলেছিল, লড়েছি ও জিতেছি। সামনে দল যা দায়িত্ব দেবে, তা-ই করব। সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতিতেই আমরা চলব। তবে এবার নতুন একটি বিষয় যোগ হবে, তা হলো ‘সবকা হিসাব’। আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে।
ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে আগ্রহী ইসরায়েল। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে দেশটি। ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (আইপিবিসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল আবিবের সামরিক ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বা সম্ভাব্য সমঝোতা কেবল সময়ক্ষেপণ ছাড়া কিছু নয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে ইরানের ভেতরে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এ লক্ষ্যে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা সম্ভাব্য হামলার জন্য নতুন লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও প্রস্তুত করেছেন বলে জানা গেছে। তালিকায় ইরানের অপরিশোধিত তেল শোধনাগার, জ্বালানি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আইপিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো সাম্প্রতিক বার্তায় ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে যে, তারা যেকোনো উপায়ে ইরানের ওপর আবারও আক্রমণ শুরু করার সুযোগ খুঁজছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ইর সাথে বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, "আমাদের চীনা বন্ধুরাও মনে করেন, যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান আর আগের ইরানের মতো নেই এবং এই যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।" চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, "সাম্প্রতিক সময়ের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমরা পর্যালোচনা করেছি। এর মাঝে ছিল যুদ্ধ, যুদ্ধ অবসানের উপায়, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে নানা ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালি ও চলমান দর-কষাকষি।" ইরানের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে "নতুন সময় আসছে" বলেও তিনি জানান।