সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ইরানের হামলার পর সংহতি প্রকাশ করায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং শিগগিরই ঢাকা সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকাস্থ ইউএই দূতাবাস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইউএই প্রেসিডেন্ট কঠিন সময়ে বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
হামলায় ইউএইতে বসবাসরত দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন শেখ মোহাম্মদ। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও মানবিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন ইউএই প্রেসিডেন্ট।
এ ছাড়া, বাংলাদেশ সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণকে তিনি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং সুবিধাজনক প্রথম সুযোগেই সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
শেখ মোহাম্মদ আশা প্রকাশ করেন, এই সফর দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের বিদ্যমান সুদৃঢ় সম্পর্ককে আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক বিদ্যমান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভিয়েতনামে বিধিবহির্ভূতভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি কর্মীদের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে হ্যানয়ের বাংলাদেশ দূতাবাস। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দূতাবাসপ্রধান শাবাব বিন আহমেদ এক নোটিশে এ তথ্য জানান। নোটিশে বলা হয়, অনিয়মিত বাংলাদেশিদের নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন অথবা ইমিগ্রেশন অফিসে সরাসরি সশরীরে উপস্থিত হয়ে রিপোর্ট করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম ইমিগ্রেশন নির্ধারিত জরিমানার পরিমাণ উল্লেখ করে একটি সরকারি চিঠি দিয়ে থাকে। ওই চিঠিতে উল্লেখিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জরিমানার অর্থ জমা দিয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃক ইস্যুকৃত এক্সিট পাস সংগ্রহ করে নিজ পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া যাবে। দূতাবাস সব ক্ষেত্রে সরাসরি পুলিশ স্টেশন অথবা ইমিগ্রেশন অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। বাংলাদেশি বা ভিয়েতনামের কোনো তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ কিংবা আর্থিক লেনদেন করে প্রতারণার শিকার না হওয়ার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস। দূতাবাসের ভাষ্য, সম্প্রতি দেখা গেছে, কিছু অসাধু বাংলাদেশি ব্যক্তি দেশে ফেরত পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে, এমনকি দূতাবাসের নাম ব্যবহার করেও বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, পাসপোর্ট না থাকলে শুধু প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পারমিট (সরকারি ফি ১০ মার্কিন ডলার, যা আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় প্রায়ই মওকুফ করা হয়) ইস্যু করা ছাড়া এ বিষয়ে দূতাবাসের অন্য কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। প্রয়োজনীয় জরিমানার অর্থ ভিয়েতনাম সরকারের কোষাগারে সরাসরি জমা দিতে হয়। এ-সংক্রান্ত যেকোনো প্রতারণার তথ্য উপযুক্ত প্রমাণসহ দূতাবাসের ই-মেইল (mission.hanoi@mofa.gov.bd) ঠিকানায় পাঠানোর জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানকালে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। শুক্রবার (৩১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বালেন্দ্র শাহকে খুব একটা প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে প্রথম বড় ভাষণের মাধ্যমে তিনি সেই নীরবতা ভাঙেন। তিনি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে এবং ‘অশান্তির মেঘ সরাতে’ সহায়তা করার আহ্বান জানান। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতীয় সীমান্তের কাছে সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মিছিল চলাকালে উচ্চস্বরে গান বাজানো ও ধর্মীয় পতাকা বহনকে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিবাদ দেখা দেয়। সেখান থেকেই পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয়। পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফল বলেন, জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালালে দুজন নিহত হন। কারফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পার্শ্ববর্তী সিরাহা জেলায় একটি বিক্ষোভ চলাকালে আরও একজন নিহত হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরও সংঘর্ষ এড়াতে কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সুনসারি ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কারফিউ জারি করেছে। বালেন্দ্র শাহ বলেন, আমি সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রদায়, সম্মানিত নেতা, রাজনৈতিক দল এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের প্রতি আন্তরিকভাবে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। বক্তব্যে তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ছাড়া দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কাফল বলেন, "আমরা মাঠে থাকা সব পুলিশ কর্মকর্তাকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছি এবং ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও যেকোনো সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি প্রতিরোধের চেষ্টা করছি।" উল্লেখ্য, নেপালের জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু। তবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
গাজায় হামাসসহ অন্যান্য সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে পর্যায়ক্রমে নিরস্ত্র করতে মধ্যস্থতাকারী ও হামাস নেতাদের আলোচনায় একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তির বিষয়ে ইসরায়েলের সমর্থন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। হামাসের এক কর্মকর্তা এটিকে কেবল একটি ‘খসড়া চুক্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে কি না, তা নিয়ে ইসরায়েল ঘোর সংশয়ে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আজ বোর্ড অব পিস গাজায় হামাস এবং অন্যান্য সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই নিরস্ত্রীকরণ পর্যায়ক্রমে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার দিকে এটি একটি স্মারক পদক্ষেপ। ট্রাম্পের মতে, গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এই চুক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা বোর্ড অব পিস-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, একই সঙ্গে ইসরায়েল তার প্রাপ্য নিরাপত্তা পাবে, গাজাকে আর সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে হামাসের এক সূত্র জানিয়েছে, এই খসড়া চুক্তিতে বলা হয়েছে ভারী অস্ত্রগুলো কেবল একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে সংরক্ষিত থাকবে এবং এসব অস্ত্র ইসরায়েলে হস্তান্তর করা যাবে না। হামাসের প্রতিনিধি দলের সদস্য গাজী হামাদ বলেন, ইসরায়েল গাজা উপত্যকা থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত কোনও পদক্ষেপ নেব না। এক মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েল হামাস নিরস্ত্র হবে কি না তা নিয়ে খুবই সংশয় প্রকাশ করছে। আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী যে তারা এটি মেনে চলবে। তারা না মানলে নিশ্চিতভাবেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব, খুবই হতাশ হবেন। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে কত সময় লাগবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বোর্ড অব পিস-এর এক কর্মকর্তা ২০০ থেকে ৩২০ দিনের একটি হিসাব দিলেও মার্কিন কর্মকর্তা সেই সময়সীমাকে গুরুত্ব দেননি। ট্রাম্পের ঘোষণার আগে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েল এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, যেকোনও প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে ইসরায়েল হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, গাজা থেকে অস্ত্র অপসারণ এবং উপত্যকাটিকে সম্পূর্ণ সামরিকীকরণমুক্ত করার দাবি জানায়। তিনি আরও বলেন, আলোচিত ১৫ দফার নথিতে এই দাবিগুলোর সন্তোষজনক উত্তর নেই এবং ইসরায়েল তার আপত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবারই গাজায় ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার পৃথক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দুই শিশু, এক নারী ও তিন পুরুষ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হামাস যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে গাজা স্বাস্থ্য বিভাগ ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মতে, বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হয়েছে। এতে ১,২০০-র বেশি ফিলিস্তিনি (যাদের অধিকাংশই বেসামরিক) এবং চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। হামাস সাধারণত তাদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করে না। সূত্র: রয়টার্স