আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলে জায়গা হয়নি নাজমুল হোসেন শান্ত'র। তার পরিবর্তে উইকেটের পেছনে লিটনের সঙ্গী হিসেবে রাখা হয়েছে নুরুল হাসান সোহানকে। এছাড়া জায়গা পাননি জাকের আলী অনিক।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্কোয়াড প্রকাশ করে বিসিবি। ঘোষিত স্কোয়াডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লিটন কুমার দাস। সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে সাইফ হাসানকে।
টপ অর্ডারে লিটন-সাইফের সঙ্গে আছেন তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। মিডল অর্ডারের ভরসা হিসেবে থাকছেন তাওহীদ হৃদয় ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি।
পেস আক্রমণে রয়েছে চেনা মুখ। মূল পেসার রয়েছেন চারজন। তারা হলেন— মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিব।
অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও জায়গা ধরে রেখেছেন। স্পিন বিভাগে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের সঙ্গে আছেন শেখ মেহেদী হাসান ও নাসুম আহমেদ।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরের। আর এদিনই শুরু হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা। বিশ্বকাপ শুরুর দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবেন লিটন-তাসকিনরা।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্কোয়াড: লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), তানজিদ তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, মো: সাইফুদ্দিন ও শরিফুল ইসলাম।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইনজুরি থেকে ফিরেই জোড়া গোল করলেন ক্রিষ্টিয়ানো রোনালদো। সৌদি প্রো লিগে আল নাসরও পেয়েছে বড় জয়।। সিঅআর সেভেনের জোড়া গোলের সৌজন্যেই শুক্রবার তারা ৫-২ গোলে পরাজিত করে আল নাজমাকে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গোল দুটি করেন ক্রিষ্টিয়ানো রোনালদো। ৫৬ মিনিটে পেনাল্টিতে ব্যক্তিগত প্রথম গোল করার পর ৭৩ মিনিটে করেন নিজের দ্বিতীয় গোল। এর ফলে সিআর সেভেনের ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা এখন ৯৬৭। ১ হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার পথে পর্তুগীজ সুপারস্টার আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আল নাসরের হয়ে এদিন জোড়া গোলের দেখা পেয়েছেন সাদিও মানেও। ম্যাচের দুই অর্ধে গোল দুটি করেন তিনি। বাকী গোলটি আসে আব্দুল্লাহ আল হামদানের পা থেকে।
প্রথম দুই ম্যাচে চার নম্বরে ব্যাটিং পেয়ে ভালো করতে পারেননি। এবার ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়েই জ্বলে উঠলেন পারভেজ হোসেন। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দারুণ ইনিংস খেললেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) লাহোর কালান্দার্সের হয়ে মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে ১৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেছেন পারভেজ। পাঁচ ছক্কা ও দুই চারে গড়া বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানের ইনিংসটি। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শুক্রবার বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ১৩ ওভারে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারে মুহাম্মাদ ইসমাইলের প্রথম পাঁচ বলে তিনটি চার মারেন মোহাম্মাদ নাইম। শেষ বলে প্রথম স্ট্রাইক পেয়ে সিঙ্গল নেন পারভেজ। অতিরিক্ত মিলিয়ে এই ওভারে আসে মোট ২৬ রান। পরের ওভারে পিটার সিডলের প্রথম তিন বলে কোনো রান নিতে পারেননি পারভেজ। চতুর্থ বলে নেন সিঙ্গল। শেষ বলে কাভারের ওপর দিয়ে চার মারেন তিনি। তৃতীয় ওভারে দুটি ছক্কা মারেন নাইম। পরের ওভারে বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মাদ নাওয়াজের ওপর ঝড় বইয়ে দেন পারভেজ। পরপর দুটি ছক্কা মারেন তিনি ডিপ মিডউইকেট ও লং অন দিয়ে। পরের বলে চার মারেন মিড অফের ওপর দিয়ে। পরের ওভারে আরেক বাঁহাতি স্পিনার ফয়সাল আকরামের প্রথম তিন বলে তিনটি ছক্কা হাঁকান পারভেজ। প্রথমটি লং অফ দিয়ে, পরেরটি মিডউইকেটের ওপর দিয়ে, তৃতীয়টি লং অফ দিয়ে। চতুর্থ বলে নেন সিঙ্গল। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ইসমাইলকে ছক্কার চেষ্টাতেই ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন ২৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। কালান্দার্সের স্কোর তখন ১ উইকেটে ৮৬। এমনিতে ওপেনার হলেও আসরে প্রথম দুই ম্যাচে পারভেজকে চার নম্বরে খেলায় দলটি। হায়দরাবাদ কিংসমেনের বিপক্ষে ১৩ বলে ১৪ ও করাচি কিংসের বিপক্ষে ১২ বলে ১২ রান করে আউট হন তিনি। বল টেম্পারিংয়ের দায়ে ফাখার জামানের নিষেধাজ্ঞায় এবার সহজাত ব্যাটিং পজিশনে সুযোগ পেয়েই দলকে দারুণ শুরু এনে দিলেন পারভেজ। গত বিপিএলেও প্রথম দিকে চার নম্বরে, পরে ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করেছিলেন পারভেজ। মোট ১২ ইনিংসে ১৩২.৯৯ স্ট্রাইক রেটে ৩৯৫ রান করে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি।
চলতি বছরের জুনে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপের ৪৮ দল চূড়ান্ত হবার পরই শুরু হয়েছে টিকিট বিক্রি। ফাইনাল ম্যাচের শীর্ষ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম বাড়িয়ে ১০ হাজার ৯৯০ ডলার নির্ধারণ করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকার মতো । গত ডিসেম্বরে টুর্নামেন্টের ড্র’র পর ফিফা যখন টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল তখন দাম ছিল ৮ হাজার ৬৮০ ডলার। যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৪০টির টিকিটের মূল্য আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের ‘ক্যাটাগরি ২’ টিকিটের দাম ৫ হাজার ৫৭৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার ৩৮০ ডলার করা হয়েছে। ‘ক্যাটাগরি ৩’-এর মূল্য ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার রাত পর্যন্ত গ্রুপ পর্বের ৭২টি ম্যাচের মধ্যে ১৭টির টিকিট তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু নকআউট পর্বের কোন ম্যাচের টিকিট তালিকাভুক্ত করা হয়নি। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশ্বকাপের জন্য ডাইনামিক প্রাইসিং পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহর ছাড়াও মেক্সিকোতে তিনটি এবং কানাডায় দু’টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দু’টি সেমিফাইনালের টিকিটের মূল্য ৩ হাজার ২৯৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৭১০ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১ জুন মেক্সিকো ও সৌদি আরবের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের দাম ২ হাজার ৩৫৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৯৮৫ ডলার হয়েছে। টিকিট বিক্রির সময় নির্দিষ্ট ঘোষণা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে ওয়েবসাইটে অপেক্ষা করতে হয়েছে ক্রেতাদের। এছাড়া কারিগরি ত্রুটির কারণে অনেকেই সঠিক লিঙ্কে প্রবেশ করতে পারেননি। তবে পরে সমস্যার সমাধান করেছে ফিফা। ফিফা জানিয়েছে, ১০৪টি ম্যাচের সব টিকিট একসঙ্গে ছাড়া হয়নি। টুর্নামেন্ট চলাকালীন পর্যায়ক্রমে আরও টিকিট বিক্রি করা হবে।