বিশ্ব

টমেটো খেয়ে ১৫ হাতির মৃত্যু, সায়ানাইড বিষক্রিয়ার শঙ্কা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

​​​​​​

দক্ষিণ কেনিয়ার আম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্ক সংলগ্ন এলাকায় বিগত এক মাসে ১৫টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। পার্শ্ববর্তী খামার থেকে নেওয়া টমেটো খাওয়ার পর সায়ানাইড বিষক্রিয়ায় এসব হাতির মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে দেশটির বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ।

 

পার্কটির সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক কৃষি ও গবাদিপশু পালন করা হয়ে থাকে। খেতের ফসল খাওয়া থেকে আটকাতে অতীতে কৃষকদের দ্বারা হাতিকে বিষ দেওয়ার ঘটনার ইতিহাস থাকলেও, এবার টমেটোতে সায়ানাইড মিশানোর ঘটনায় কর্তৃপক্ষ কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্ত করেনি।

 

কেনিয়ার বন্যপ্রাণী সেবা বিভাগের (কেডব্লিউএস) মহাপরিচালক এরাস্টাস কাঙ্গা জানান, প্রাথমিক গবেষণাগার পরীক্ষায় সায়ানাইডের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। তিনি বলেন, সায়ানাইড অত্যন্ত বিষাক্ত একটি রাসায়নিক, বিশেষ করে হাতিদের জন্য।

 

তিনি আরও সতর্ক করে জানান, বন্যপ্রাণী ছাড়াও ওই এলাকায় স্থানীয় ছাগল ও গরুর মতো গবাদিপশু চড়ে বেড়ায়। ফলে যদি সত্যিই সিস্টেমে এই বিষাক্ত রাসায়নিক থেকে থাকে, তবে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও ব্যাপক হতে পারে।

 

তবে মৃত হাতিগুলোর শরীরে পাওয়া এই বিষাক্ত পদার্থ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হুমকি তৈরি করবে না বলে আশ্বস্ত করেছে বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ।

 

সূত্র: এপি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতির বিবৃতি প্রকাশ করে প্রত্যাহার করলো ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন নয়াদিল্লি সফর নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন। শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রপতি ভবন জানিয়েছিল, সম্মানিত রাষ্ট্রীয় অতিথির অভ্যর্থনা মহড়ার জন্য শনিবার চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে না।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য এই সফর নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এখনও কোনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি এবং সরকারিভাবে এই হাইপ্রোফাইল সফর নিয়ে নয়াদিল্লি বা ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু ঘোষণা করা হয়নি। এর আগে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে এই সফরটি হতে পারে।   তবে গত ১৬ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতে অবস্থান করা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনের উপস্থিতির কারণে এই সফর সংক্রান্ত আলোচনায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।   চলতি শনিবার চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠান হবে না শীর্ষক ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার চূড়ান্ত মহড়ার কারণে আগামী শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে না।   বিবৃতিটি প্রত্যাহারের পর বেলা তিনটার দিকে রাষ্ট্রপতি কার্যালয় থেকে পাঠানো এক নতুন বার্তায় বলা হয়, ২০২৬ সালের ২১ আগস্ট চলতি শনিবার চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠান হবে না শিরোনামে যে প্রেস রিলিজটি দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হলো।   ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়া বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ অতিথিদের সম্মানে রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে জমকালো সামরিক ও কূটনৈতিক ঐতিহ্য মেনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। এতে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিচয় পর্ব পরিচালনা করা হয়। এই অনুষ্ঠানের একদিন আগে পূর্ণাঙ্গ মহড়া (ফুল ড্রেস রিহার্সাল) অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পরে রাষ্ট্রপতি সফররত রাষ্ট্রনেতার নৈশভোজেরও আয়োজন করেন।   সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২১, ২০২৬

ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে ২২ ভারতীয়সহ দুই জাহাজ ছিনতাই

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক ক্যাপিটলে বোমা হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করল এফবিআই

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে রোবট নামাল চীন, নেই গ্রেফতারের ক্ষমতা

ছবি: সংগৃহীত
ইরান অবরোধের মধ্যে ৬৭টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ বদলেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শুরুর পর ৬৭টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। বৃহস্পতিবার রাতে ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর জানিয়েছে।    বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ১৪ জুলাই ইরানের ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় শুরু করার পর এসব জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়।   এ ছাড়া মার্কিন বাহিনী তিনটি জাহাজের চলাচল বন্ধ করেছে এবং আরও দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালিয়ে নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে কি না তা যাচাই করেছে।   এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় অর্থনৈতিক চাপের ঘোষণা দেন। তেহরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।   মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই জলপথ দিয়ে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা বলেন।   তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনও আগের তুলনায় কম রয়েছে। বেশিরভাগ জাহাজ মালিক এখনো এই জলপথ এড়িয়ে চলছেন।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ আগস্ট হরমুজ প্রণালি দিয়ে ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের দিন এই সংখ্যা ছিল নয়টি। গত ১০ দিনের গড় ছিল ১১টি জাহাজ।   সূত্র: শাফাক নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বরফ গলছে মেরু সাগরে, গ্রিনল্যান্ডে বাড়ছে দৈত্যাকার তিমির আনাগোনা

ছবি: সংগৃহীত

ইমরান খানের দলের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত

কিমের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন করতে চান ট্রাম্প, মিলবেন বৈঠকে

ছবি-সংগৃহীত
ময়নাতদন্ত শেষে দেশে ফিরবে নয় মরদেহ, অপেক্ষায় স্বজনেরা

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল ‘শিখা ইনে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের মরদেহ কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এরপর ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে মরদেহগুলো বাংলাদেশে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন স্বজনেরা। নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশের নাগরিক এবং দুজন ভারতের নাগরিক। নিহতদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় কলকাতায় অবস্থান করছেন নিহতদের স্বজনেরা। ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া থেকে দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যরা এবং সাতক্ষীরা থেকে মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান ও শিকদার পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় পৌঁছেছেন। তাঁরা মরদেহ শনাক্ত ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বজনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাস ও কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারই নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এরপর সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেগুলো বাংলাদেশে নেওয়া হবে। এদিকে হোটেলটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে হোটেলটির লিজহোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে আরও দুই হোটেলকর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের একজন হোটেলের বিপরীতে থাকা ‘যাপন’ হোটেলের ম্যানেজার এবং অন্যজন ওই হোটেলের কর্মী। পুলিশ জানিয়েছে, ‘যাপন’ হোটেলটির লিজহোল্ডারও আবু জাফর। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলটির পরিচালন ব্যবস্থা, লিজ-সংক্রান্ত নথি, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আগুনের সূত্রপাতের কারণ খতিয়ে দেখছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। প্রাথমিকভাবে এসি মেশিনে বিস্ফোরণ অথবা শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে আগুন অন্তত চারটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো হোটেলে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে। মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর অনিচ্ছাকৃত হত্যার ধারা ১০৫, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারা ৬১ এবং সমবেতভাবে অপরাধের ধারা ৩/৫ যুক্ত করা হয়েছে। দমকল বিভাগের পক্ষ থেকেও একটি অভিযোগ করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই নিহতদের স্বজনেরা কলকাতায় অবস্থান করছেন। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে কখন মরদেহ হাতে পাবেন এবং কবে প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেশে ফিরিয়ে নিতে পারবেন, এখন সেই অপেক্ষাতেই রয়েছেন তাঁরা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২০, ২০২৬
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন মোহেবি।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করবে ইরান: আইআরজিসি

ছবি: এএফপি

নয় মাস পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা ইমরান খানের

ধ্বংসস্তূপ সরানোর মাঝেই ইন্দোনেশিয়ায় ফের ৫.৯ মাত্রার কম্পন

0 Comments