গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী একটি নৌবহর থেকে আটক হওয়ার পর দেশে ফিরে আসা কয়েকজন অস্ট্রেলিয়ান অ্যাক্টিভিস্ট ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
আটক হওয়া অ্যাক্টিভিস্টরা জানান, তারা গাজায় সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন এমন একটি নৌবহরের অংশ ছিলেন, যেটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে। ওই নৌবহরে মোট ৪০টি দেশের প্রায় ৪৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন, যার মধ্যে ১১ জন অস্ট্রেলিয়ান ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসা কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট দাবি করেন, আটক অবস্থায় তাদের মারধর করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। একজন অ্যাক্টিভিস্ট বলেন, তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল এবং তিনি কয়েকদিন কঠিন পরিস্থিতিতে ছিলেন।
অন্য একজন অ্যাক্টিভিস্ট জানান, তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং অন্যদের ওপর টেজার ও রাবার বুলেট ব্যবহারের ঘটনাও দেখেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো ধরনের নির্যাতন বা অসদাচরণ করা হয়নি।
এদিকে মানবিক সহায়তা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা অন্তত ১৫টি ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে বলে দাবি করছে।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘটনাটিকে চমকে দেওয়া ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ আইনপ্রণেতারা। তাদের মতে, এই প্রস্তাবিত চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক পরাজয় এবং কার্যত একটি ‘আত্মসমর্পণ দলিল’। ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা বললেও অতীতের বহু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি এবং তার প্রশাসনের নীতিতে ধারাবাহিকতা নেই। শিফ আরও অভিযোগ করেন, নতুন যুদ্ধ শুরু হলেও এর আর্থিক বোঝা কমাতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন, যার প্রভাব সরাসরি মার্কিন জনগণের ওপর পড়ছে। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য সেথ মল্টন এই সম্ভাব্য চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ব্যর্থ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এটি একটি ‘ভয়াবহ চুক্তি’ এবং এটিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে জমা দেওয়া আত্মসমর্পণ দলিল ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। তিনি দাবি করেন, এই সংঘাতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং মার্কিন সেনাদের প্রাণহানিও ঘটেছে। তার মতে, এত ক্ষয়ক্ষতির পর এমন একটি চুক্তি কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। ডেমোক্র্যাট নেতাদের এই প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হারজগ বলেন, “ইরানের অশুভ প্রভাব মোকাবিলায় আপনার নেতৃত্ব এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি আপনার অবিচল অঙ্গীকারের জন্য ইসরায়েলের জনগণ আপনার কাছে কৃতজ্ঞ।” তিনি আরও বলেন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের যাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকান স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের প্রতিচ্ছবি। হারজগ তার বার্তায় উল্লেখ করেন, “আমাদের প্রিয় জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে আপনার নিরলস প্রচেষ্টা আমরা কখনও ভুলবো না।” ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবেন।
আমেরিকা ও ইরানের সংঘর্ষ আবারও আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর বড় দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। যে জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়, সেই হরমুজ প্রণালি ইরান ও আমেরিকার দ্বন্দ্বে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর তেল-গ্যাস রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই ক্ষতি সব দেশের ক্ষেত্রে একরকম হয়নি। কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। কারণ তাদের রপ্তানির প্রায় পুরোটাই হরমুজের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কিছুটা চাপ সামলাতে পেরেছে। তারা যথাক্রমে ইয়ানবু ও ফুজাইরাহ বন্দরের মাধ্যমে বিকল্প পথে কিছু তেল সরিয়ে নিতে পেরেছে। কিন্তু এই পথগুলোর ক্ষমতা সীমিত। হরমুজের সম্পূর্ণ বিকল্প হওয়ার মতো শক্তি তাদের নেই। সংঘর্ষ শেষ হয়ে গেলেও সমস্যার শেষ হচ্ছে না। ভবিষ্যতে আবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে উপসাগরীয় দেশগুলো নিশ্চিত করে বলতে পারবে না যে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবে। কারণ সাম্প্রতিক সংঘর্ষে পরিষ্কার হয়ে গেছে, হরমুজ প্রণালি ইরানের কৌশলগত অস্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এই পথকে ইরান ভবিষ্যতেও ব্যবহার করবে, এমন সম্ভাবনাই প্রবল। এই অনিশ্চয়তাকেই এখন ‘হরমুজ সংকট’ বলা হচ্ছে। এই সংকট শুধু উপসাগরীয় দেশগুলোর সংকট নয়, এটি এশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। তাই বিকল্প ভাবনা শুরু হয়েছে। কোথাও কৌশলগত তেল মজুত বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। কোথাও নতুন বাজার ও নতুন সরবরাহপথ খোঁজা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই পাকিস্তান একটি নতুন প্রস্তাব সামনে আনতে পারে। তারা উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের ভূখণ্ডে তেল ও গ্যাস সংরক্ষণের সুবিধা ভাড়া দেওয়ার কথা ভাবছে। এর মূল লক্ষ্য, হরমুজ বন্ধ থাকলেও যাতে ক্রেতারা বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি পেতে পারে। পরিকল্পনাটি এমন—কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, আমিরাতের তেল, বাহরাইনের পেট্রোলিয়াম পণ্য, এমনকি সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলও পাকিস্তানের উপকূলবর্তী অঞ্চলে সংরক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন হলে সেগুলো গওয়াদার, পোর্ট কাসিম বা অন্য জ্বালানি কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা যাবে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চিনের মতো বড় এশীয় ক্রেতাদের কাছে এটি এক ধরনের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। ভবিষ্যতে হরমুজ ঘিরে সংঘাত হলেও তারা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হবে না। পাকিস্তানে থাকা এই মজুত যেন এক ধরনের বিমার মতো কাজ করবে। পাকিস্তানের অবস্থান এই পরিকল্পনার জন্য বিশেষ সুবিধাজনক। সাম্প্রতিক এক শরও বেশি দিনের সংঘর্ষে দেখা গেছে, তারা ইরান ও উপসাগরীয় দেশ—দু’পক্ষের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পেরেছে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত হলেও ইরান পাকিস্তানের ভেতরে থাকা এই মজুতকে সহজে লক্ষ্যবস্তু করবে না, এমন ধারণা করা যায়। কূটনৈতিক ভারসাম্য ও প্রতিরোধ ক্ষমতার নিরিখে পাকিস্তান একটি গ্রহণযোগ্য ভরসাস্থল হতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। এতে তারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আশ্বস্ত করতে পারবে যে, হরমুজে সমস্যা হলেও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হবে না। চুক্তি রক্ষা করা সহজ হবে। অতীতে যেমন বাধ্য হয়ে অনেক দেশ ‘ফোর্স মাজোর’ ঘোষণা করেছিল, সেই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এতে সংঘর্ষের অঞ্চলের বাইরে একটি দ্বিতীয় রপ্তানি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আসবে। একটিমাত্র জলপথের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। পাকিস্তানের দিক থেকেও লাভ কম নয়। এতে তাদের উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে। শুধু নিরাপত্তা নয়, জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়বে। পাকিস্তান নিজেকে একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। এই পরিকল্পনা পাকিস্তানের বৃহত্তর ভূ-অর্থনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিদেশি বিনিয়োগ আসতে পারে। গওয়াদার বন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। সংরক্ষণাগার, পাইপলাইন, পরিশোধনাগার—সব মিলিয়ে নতুন শিল্প পরিকাঠামো তৈরি হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন পথ খুলবে। সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের মতো অঞ্চলেও অর্থনৈতিক গতি আসতে পারে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি, পরিকল্পনা, অনুমোদন ও কেন্দ্র-প্রদেশের সমন্বয়—সবই প্রয়োজন। অতীতে পাকিস্তানের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বহু বড় প্রকল্পকে ধীর করে দিয়েছে। এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সব মিলিয়ে হরমুজের সংকট শুধু একটি বিপদ নয়, নতুন চিন্তার সুযোগও তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান ধমনি হিসেবেই থাকবে, কিন্তু একে ঘিরে নির্ভরশীলতা যে ঝুঁকিপূর্ণ, তা সাম্প্রতিক ঘটনাই প্রমাণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যদি নিজেদের ভূখণ্ডকে কৌশলগত সংরক্ষণকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে পারে, তবে তা একসঙ্গে উপসাগরীয় দেশ, এশীয় ক্রেতা এবং পাকিস্তান—তিন পক্ষেরই উপকারে আসতে পারে।