পর্যটকদের জন্য চালু থাকা ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধার মেয়াদ বড় পরিসরে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে থাইল্যান্ড। মঙ্গলবার (১৯ মে) দেশটির মন্ত্রিসভা এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
এর ফলে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে চালু হওয়া ৬০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা থেকে সরে আসছে ব্যাংকক। করোনাভাইরাস মহামারির পর পর্যটন খাত পুনরুজ্জীবিত করতে সে সময় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশ এবং ইউরোপের ২৯ দেশের শেনজেন অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য এই সুবিধা চালু করা হয়েছিল।
নতুন নীতির আওতায় ভিসামুক্ত অবস্থানের সর্বোচ্চ সময়সীমা আবার ৩০ দিনে নামিয়ে আনা হচ্ছে। কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য এই সময় আরও কমিয়ে ১৫ দিন করা হবে।
ব্যাংককে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের মুখপাত্র রাচাদা ধানাদিরেক বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু মানুষ অপব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, থাই অর্থনীতির জন্য পর্যটন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখন নিরাপত্তা উদ্বেগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
থাই কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ৬০ দিনের দীর্ঘ সময়সীমা অনিচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করেছিল। এর মধ্যে অবৈধ ব্যবসা, অনুমতিহীন বিদেশি শ্রমিক এবং অনলাইন প্রতারণা চক্রের বিস্তারও ছিল।
নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রকৃত এবং উচ্চ ব্যয়ক্ষমতাসম্পন্ন পর্যটকদের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমাই যথেষ্ট।
সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচার, মানবপাচার, অনুমোদন ছাড়া হোটেল ও ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে একাধিক আলোচিত গ্রেপ্তারের পরই নীতিতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও বলেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি। বরং যারা আইনশৃঙ্খলা এড়িয়ে যেতে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে, তাদের ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, অপব্যবহার রোধে স্থলসীমান্ত দিয়ে বছরে সর্বোচ্চ দুইবার ৩০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। ২০২৪ সালের সম্প্রসারণের আগে যে নিয়ম ছিল, এবারও সেই পদ্ধতিই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
তবে নতুন নিয়ম কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো জানায়নি সরকার।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ থাইল্যান্ডের জন্য সময়টি বেশ স্পর্শকাতর। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ১০ শতাংশের বেশি আসে পর্যটন খাত থেকে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি পর্যটক আগমন আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেও চলতি বছরে ৩ কোটি ৩৫ লাখ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যমাত্রা বহাল রেখেছে থাই সরকার।
সূত্র : আল জাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড় ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। সোমবার রাতে ঝড়টি উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। ঘূর্ণিঝড় ‘মুরুসু’ সোমবার মধ্যরাত অথবা মঙ্গলবার ভোরে উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও প্রতিবেশী তামিলনাড়ুতে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এল নিনো আবহাওয়াজনিত প্রভাবে এ বছর ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এ প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটছে। পাশাপাশি বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনেও পরিবর্তন আসছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ‘ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূল অতিক্রম করার সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।’ অধিদপ্তর জানায়, ওঙ্গোল শহরের কাছাকাছি নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। এর আগে গত বুধবার ঘূর্ণিঝড় ‘আর্র্ণব’ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানে। এতে ভারী বৃষ্টিপাত হয় এবং অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়। বাতাসের গতিবেগের দিক থেকে মুরুসু আগের ঘূর্ণিঝড়টির তুলনায় দুর্বল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এটি আবারও ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে বলেছে, প্রবল বাতাসে খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ঘরের ছাদ উড়ে যেতে পারে এবং গাছপালা উপড়ে পড়তে পারে। জমিতে থাকা ফসল, বাগান ও ফলের বাগানও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডায় আবাসিক এলাকায় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৯ জন নিহত হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পাম বিচ কাউন্টিতে লিয়ারজেট-৬০ মডেলের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এ সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানায়, পামবিচ কাউন্টির ক্রিসহ্যাভেন এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-এ-লাগো রিসোর্ট থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে। বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামার নর্থ এলিউথেরা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। তবে বোকারাটন থেকে উড্ডয়নের প্রাথমিক খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রায় আট হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ ডান দিকে বাঁক নিয়ে দ্রুত মাটির দিকে নেমে আসে বিমানটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মাটিতে পড়ার আগে একটি গাছে ধাক্কা মেরে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ফেলে এটি। এতে সড়কে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিমানের জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। দুর্ঘটনার সময় বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২৫ মাইল বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছিল। আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতির সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন পরিবহন সচিব শন ডাফি।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনসহ একাধিক নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সতর্ক করে রাহুল বলেছেন, নিজেদের যতই শক্তিশালী মনে করুন না কেন, তারা দেশের সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন। রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর পর তাদের পরবর্তী লক্ষ্য হবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতা ছাড়া নরেন্দ্র মোদির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া সম্ভব হতো না। নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সমাবেশে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব পায়। রাহুলের দাবি, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রায় ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি একে সাধারণ কোনো অনিয়ম হিসেবে দেখতে নারাজ। তার ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল এবং অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের নির্বাচনেও পরিকল্পিতভাবে ভোট কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাহুল। এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে রাহুল বলেন, নরেন্দ্র মোদি কোথাও যাচ্ছেন না বলে অমিত শাহ যে দাবি করেছেন, তার জবাব দেবে দেশের জনগণ। তার বক্তব্য, প্রথমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এরপর নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আসবে। নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন কংগ্রেস নেতা। শিল্পপতি গৌতম আদানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের সবকিছু গুটিকয়েক শিল্পপতির হাতে চলে যাওয়া উচিত নয়। কৃষক যেন তার পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পান এবং শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী সুযোগ পান, এমন একটি ভারত গড়ার পক্ষে তিনি। রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা যদি নির্দিষ্ট কয়েকজন শিল্পপতির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে রাহুল বলেন, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী জোট ঘৃণা ও সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে দেশের সংবিধান রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। রামলীলা ময়দানের এ সমাবেশে বিরোধী জোটের অন্যান্য নেতারাও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়।