জাতীয়

তারেক রহমানের সঙ্গে মাইকেল মিলারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৬, ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

সাক্ষাতে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক পায়োলা প্যাম্পালোনি, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দক্ষিণ এশিয়ার উপপ্রধান মনিকা বাইলাইতে ও লিগ্যাল অ্যাডভাইজার রাস্টিস্লাভ স্প্যাক।

এসময় বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেছেন, বিএনপি সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। আর নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের উন্নয়নে ইইউ'র সহযোগিতা চেয়েছেন তারেক রহমান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলমান দুর্যোগে প্রশাসনকে দৃঢ়ভাবে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ।   প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন জানিয়েছেন, চলমান দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনকে দৃঢ়ভাবে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   শুক্রবার (১০ জুলাই) সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।   মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে সর্বস্তরের মানুষের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’   তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার চেষ্টা করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি অনুষঙ্গ সাহায্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।   এসময় মানবিক মূল্যবোধেরভিত্তিতে সবাই একসঙ্গে দেশ গড়তে নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান মাহদী আমিন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১০, ২০২৬

বন্যাকবলিত চট্টগ্রাম পরিদর্শনে জামায়াত আমির, দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা

ছবি: সংগৃহীত

দুর্ঘটনায় পা হারিয়েও হার মানেননি রিপন, চুরিতে উধাও ব্যবসার মূলধন

ছবি : সংগৃহীত

১২ দিনের মাথায় সিলেটে আবার নতুন ডিসি নিয়োগ

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা-রিয়াদ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করছে রিয়াদ এয়ার

ঢাকা থেকে রিয়াদ রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের নতুন জাতীয় বিমান সংস্থা ‘রিয়াদ এয়ার’। আগামী ৭ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এই রুটে সরাসরি ফ্লাইট শুরু হবে। এ উপলক্ষে এয়ারলাইন্সটি টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। রিয়াদ এয়ার অ্যাপ, ওয়েবসাইট কিংবা পছন্দের ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনা যাবে।   যাত্রীরা এখনই রিয়াদ এয়ারের লয়্যালটি প্রোগ্রাম ‘স্ফিয়ার’-এর ‘ফাউন্ডিং মেম্বার’ হতে পারবেন এবং প্রথম ফ্লাইট থেকেই সেরা অফারের গ্যারান্টি, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধাসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতার সুযোগ পেতে পারেন।   গতকাল বৃহস্পতিবার এই বিমান সংস্থার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবকে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা এবং যাত্রীদের জন্য বিশ্বমানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই রিয়াদ এয়ারের মূল লক্ষ্য। রিয়াদ এয়ারের এই নতুন সার্ভিস ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। বাণিজ্য ও অবকাশ, উভয় ক্ষেত্রেই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এই রুটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছে।   নতুন বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ঢাকার বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট রুটে প্রতিদিন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। উভয় দেশের স্থানীয় সময়ে ফ্লাইটের সময়সূচি হচ্ছে– রিয়াদ থেকে ছাড়বে রাত ৯টা ২০ মিনিটে এবং ঢাকা পৌঁছাবে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে। ঢাকা থেকে ছাড়বে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে এবং রিয়াদ পৌঁছাবে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে।   রিয়াদ এয়ারলাইন্স-সংশ্লিষ্টরা জানান, এই সার্ভিস চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সহযোগিতার একটি মজবুত ভিত্তি রয়েছে। এই অংশীদারিত্ব এখন ভ্রমণ ও অবকাশের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। ঢাকা-রিয়াদ রুটে এই প্রিমিয়াম সার্ভিস সেই যাত্রাকে আরও দৃঢ় করে তুলবে। এ ছাড়া রিয়াদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবেও কাজ করবে। ফলে রিয়াদ এয়ারের নেটওয়ার্ক ও কোডশেয়ার পার্টনারশিপের মাধ্যমে ঢাকার যাত্রীরা বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে সহজেই পৌঁছাতে পারবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

পঞ্চদশ সংশোধনী: এবার বল সংসদের কোর্টে

ছবি: সংগৃহীত

দেশে আরও ৩ নতুন উপজেলা, জারি হলো প্রজ্ঞাপন

ছবি: সংগৃহীত

সাত লাখের বদলে লাগানো হয়েছে দুই লাখ গাছ, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ‘দুঃখজনক’

ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতির জন্য গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে বিশেষ সুবিধা

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা নানা কাঠখড় পুড়িয়ে, নিয়মের বেড়াজাল ডিঙিয়ে নিজেদের জমা টাকা তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে এসব বিধিনিষেধ থেকে বিশেষ ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে থাকা তার হিসাব থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে।   গত মে মাসের শেষ দিকে করা এক আবেদনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চিকিৎসা ও অন্যান্য পারিবারিক ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখায় থাকা তার হিসাব থেকে ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমতি চান। পরে গত ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয়।   ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম-২০২৫-এর ২১ ধারার আওতায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই ধারায় বিশেষ পরিস্থিতিতে স্কিমের কোনো বিধান শিথিল বা সংশোধনের ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে চিকিৎসার খরচ মেটাতে অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন। রেজল্যুশন স্কিমের আওতায় সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধের বিধান থাকলেও রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা ও অবস্থান বিবেচনায় তাকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’   তিনি জানান, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও কয়েকজনকে একই ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের নাম বা কোন কোন বিষয়কে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। রাষ্ট্রপতির (বেতন ও বিশেষাধিকার) আইন, ১৯৭৫ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশে এবং প্রয়োজনে বিদেশেও সরকারি খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারী।   যোগাযোগ করা হলে রাষ্ট্রপতিও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তিনি জানান, একজন সাধারণ গ্রাহক হিসেবেই নিজের অর্থে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির আইনের আওতায় বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা শুধু রাষ্ট্রপতি এবং তার সঙ্গে বসবাসকারী ও সম্পূর্ণভাবে তার ওপর নির্ভরশীল নিকট পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য। অন্য আত্মীয়রা এই সুবিধার আওতায় পড়েন না।   রাষ্ট্রপতি জানান, তার দুই ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বর্তমানে ভারতে চিকিৎসাধীন। ‘এই সংকটাপন্ন সময়ে তাদের সহায়তা করা আমার দায়িত্ব’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   ‘অগ্রাধিকার শ্রেণির বাইরে’ গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের একটি। অন্য চারটি হলো এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংককে রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে।   রেজল্যুশন স্কিম অনুযায়ী, অগ্রাধিকারভিত্তিক কাঠামো অনুসারে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হয়। যেসব হিসাবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা রয়েছে, সেসব আমানতকারী কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই টাকা তুলতে পারেন।   এছাড়া ক্যানসার রোগী ও ডায়ালাইসিস প্রয়োজন এমন ব্যক্তিরা আমানতের পরিমাণ বিবেচনা ছাড়াই যেকোনো অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পান। অন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শ্রেণির মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি তহবিল, বহুজাতিক কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি কূটনৈতিক মিশন।   বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শুরুতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় কর পরিশোধের বিষয়ে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং কর পরিশোধ করে রসিদ দেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে রাষ্ট্রপতি তার হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন। আবেদনটি রেজল্যুশন স্কিমে উল্লেখ করা কোনো অগ্রাধিকার শ্রেণির মধ্যে না পড়ায় ব্যাংক বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়।   ‘বিশেষ সুবিধা’ ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, রেজল্যুশন স্কিমে নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ উত্তোলনের অনুমতি সাধারণত মানবিক কারণ বিবেচনায় দেওয়া হয়। ব্যাংকটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কিডনি প্রতিস্থাপন, ডায়ালাইসিস, ক্যানসার চিকিৎসা ও বিদেশে শিক্ষার খরচের মতো জরুরি প্রয়োজনে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। গুরুতর চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি এবং কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাই করে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর্থিক সংকটে থাকা প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রেও অনেক সময় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক মো. মোকসুদুজ্জামান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রপতি এখনো অনুমোদিত অর্থ উত্তোলন করেননি। রাষ্ট্রপতিকে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাংক খাতে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর অনেক আমানতকারী এখনো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারছেন না।    তাদের প্রশ্ন, সাধারণ আমানতকারীরা যেখানে রেজল্যুশন স্কিমের বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছেন এবং রাষ্ট্রপতির বিষয়টি স্কিমের মানবিক বিধানের আওতায় পড়ে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তাহলে তাকে কেন বিশেষ অনুমতি দেওয়া হলো?   মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের উপদেষ্টা ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গ্রুপ-নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়।   রাষ্ট্রপতির বক্তব্য লিখিত বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, তার আবেদনে কর পরিশোধ বা ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয়ের কোনো উল্লেখ ছিল না। তিনি বলেন, ‘পারিবারিক ব্যয়, ব্যক্তিগত ব্যয়, পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় এবং ঈদুল আজহা-সংক্রান্ত ব্যয় মেটানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির (বেতন ও বিশেষাধিকার) আইন ১৯৭৫ অনুযায়ী কেবল রাষ্ট্রপতি এবং তার সঙ্গে বসবাসকারী ও সম্পূর্ণভাবে তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরাই বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা পান; পরিবারের অন্য সদস্যরা এ সুবিধার আওতায় পড়েন না।’   তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য বলছি, “পরিবার” শব্দটি বাংলাদেশে প্রচলিত বিস্তৃত অর্থেই ব্যবহার করেছি। দেশের অনেক সাধারণ নাগরিক ও দায়িত্বশীল বড় ভাইয়ের মতো আমিও শুধু আমার নিকট পরিবার নয়, আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছোট ভাই-বোনদেরও আমার বৃহত্তর পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করি এবং তাদের সহায়তা করি।’   রাষ্ট্রপতি জানান, তার ছোট বোন এবং ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বর্তমানে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের একজন লিভার সিরোসিসের জটিলতায় এবং অন্যজন মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে এই সংকটময় সময়ে তাদের সহায়তা করা তার দায়িত্ব বলেও জানান তিনি।   তিনি বলেন, ‘আজ (৮ জুলাই ২০২৬) পর্যন্ত ব্যাংক থেকে আবেদন করা অর্থের কোনো অংশই ছাড় করা হয়নি।’

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মিরপুর বিআরটিএতে দালালবিরোধী অভিযান, তিনজনের ৩০ দিনের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে আসছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন-২০২৬’

ছবি: সংগৃহীত

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় ইতিহাস গড়ল আনসার-ভিডিপি, প্রথমবার অংশগ্রহণ

0 Comments