দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান এবং মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদের সংসার ভেঙে গেছে। বিয়ের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দুজনের পথ আলাদা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহসান নিজেই।
সম্প্রতি তাহসান জানান, তিনি আর রোজা আহমেদের সঙ্গে একসঙ্গে থাকছেন না। যদিও এ তথ্য প্রকাশের পরও রোজা তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে তাহসানের সঙ্গে তোলা ছবি এবং নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত ‘খান’ পদবি রেখে দিয়েছিলেন। তবে এবার সেই দৃশ্যও বদলে গেছে।
রোজা আহমেদ তার ইনস্টাগ্রাম থেকে তাহসানের সব ছবি মুছে ফেলেছেন। একইসঙ্গে নিজের নাম থেকে ‘খান’ পদবিও বাদ দিয়েছেন। আগে তার ইনস্টাগ্রাম নাম ছিল ‘রোজা আহমেদ খান’, বর্তমানে সেখানে শুধু ‘রোজা আহমেদ’ লেখা রয়েছে। তার অ্যাকাউন্টে এখন কোথাও তাহসানের কোনো উপস্থিতি নেই—যা দুজনের বিচ্ছেদের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
এর আগে সংসার ভাঙার খবরটি গণমাধ্যম কালবেলাকে নিশ্চিত করে তাহসান খান বলেন,
‘খবরটি সত্য। দীর্ঘদিন ধরেই—জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে আমরা আলাদা আছি। তবে এ বিষয়ে এখন বিস্তারিত জানাতে চাই না। সময় হলে সবকিছু প্রকাশ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন,
‘ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কখনোই কথা বলতে চাইনি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি জানাতে হচ্ছে। বিস্তারিত পরে সময় নিয়ে বলব।’
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মাত্র চার মাসের পরিচয়ের পর রোজা আহমেদকে বিয়ে করেন তাহসান খান। রোজা একজন অভিজ্ঞ মেকআপ আর্টিস্ট। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে টানা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ব্রাইডাল মেকআপের কাজ করে আসছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিজের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন তিনি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শেষ হলো দেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র আয়োজন ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (ডিআইএফএফ)। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত ৯ দিনব্যাপী এই উৎসবে ৯১টি দেশের ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। রোববার সন্ধ্যায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির মধ্য দিয়ে পর্দা নামে আন্তর্জাতিক এই চলচ্চিত্র যজ্ঞের। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকার জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে সভাপতিত্ব করেন উৎসব কমিটির নির্বাহী সদস্য ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীতশিল্পী আহমেদ হাসান সানির পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের কালচারাল কাউন্সিলর লি শিয়াও পেং, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ মার্ক সেরে শার্লেট এবং আঁলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দে ঢাকার পরিচালক ফ্রাঁসোয়া শঁব্রো। অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন। এবারের উৎসবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগ। এ বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে কিরগিজস্তানের সিনেমা ‘কুরাক’। এরকা জুমাকমেটোভা ও এমিল আটাগেলডিভ পরিচালিত ছবিটি পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীর ক্ষমতাহীনতা ও অধিকার লঙ্ঘনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। এর আগে ৩০তম বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি ‘বাংলাদেশ জুলাই মেমোরিয়াল প্রাইজ’ অর্জন করেছিল। সে সময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নির্মাতাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশনে সেরা নির্মাতার পুরস্কার পান আজারবাইজানের পরিচালক এমিন আফান্দিয়েভ ( আ লোনলি পারসন মনোলোগ )। কাজাখস্তানের সিনেমা আবেল–এর জন্য সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হন ইয়ারলান এবং সেরা চিত্রগ্রাহকের পুরস্কার জেতেন জোলানতা দেলুস্কা। ইরানি ছবি দ্য হাসব্যান্ড–এর জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান ফারিবা নাদেরি। এ ছাড়া ফিশ অন দ্য হুক ছবির জন্য স্পেশাল মেনশন অ্যাওয়ার্ড পান ইসফান্দিওর গুলমভ এবং বার্নিং সিনেমার জন্য সেরা চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার জেতেন দাস্তান মাদালেভ ও এইজদা আমাঙ্গেলডে। স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশও পেয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে ফিপ্রেস্কি জুরির সেরা পুরস্কার অর্জন করে মনিরুল হক পরিচালিত দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল। একই বিভাগে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে সেরা হয় তানহা তাবাসসুমের হোয়াট ইফ। ট্যালেন্ট সেকশনে ফার্স্ট রানারআপ হয়েছে উম্মিদ আশরাফ পরিচালিত ধ্যাৎ! এবং সেকেন্ড রানারআপ আবির ফেরদৌস মুখরের ইস্পিতে। অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ প্রযোজনার ছবি ড্রেইনড বাই ড্রিমস। উইমেন্স ফিল্মমেকার সেকশনে সেরা ফিকশন ফিল্ম নির্বাচিত হয় রাশিয়ার পলিনা কোন্ড্রাতেবার ফ্রম স্ক্রেচ এবং সেরা প্রামাণ্যচিত্র হয় লিটল সিরিয়া। স্পিরিচুয়াল ফিল্ম সেকশনে সেরা ফিকশন দক্ষিণ কোরিয়ার আ ভাস্ট অ্যালগরিদম অব হিউমিনিটি। চিলড্রেন ফিল্ম সেকশনে বাদল রহমান অ্যাওয়ার্ড জিতেছে চীনের সিনেমা কুইংটন অ্যান্ড কুইহুয়া। এবারের উৎসবে ভেন্যু ও আয়োজনেও ছিল ব্যতিক্রম। ঢাকার জাতীয় জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমি, আঁলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পাশাপাশি প্রথমবারের মতো কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে উন্মুক্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনী দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সমাপনী বক্তব্যে ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টর আহমেদ মুজতবা জামাল আগামী আসরের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের রজতজয়ন্তী বা ২৫তম আসর অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ৯ থেকে ১৭ জানুয়ারি।
বলিউডে আইটেম গানের জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গ উঠলেই এখন অনেকের মুখে শোনা যাচ্ছে তামান্না ভাটিয়ার নাম। একের পর এক আলোচিত গানে উপস্থিতি ও নিখুঁত নাচের দক্ষতায় দর্শকের মন জয় করে চলেছেন এই দক্ষিণী তারকা। সেই ধারাবাহিকতায় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে রাজকুমার রাও ও শ্রদ্ধা কাপুর অভিনীত সিনেমা ‘স্ত্রী ২’–এর বহুল জনপ্রিয় গান ‘আজ কি রাত’। গানটিতে তামান্না ভাটিয়ার প্রাণবন্ত নাচ ছবিটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন দর্শকরা। সম্প্রতি ইউটিউবে এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে গানটি। এই অসাধারণ সাফল্যে ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তামান্না। এ উপলক্ষে নিজের ইনস্টাগ্রামে শুটিং সেটের কিছু অদেখা মুহূর্ত শেয়ার করেন তিনি। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কোরিওগ্রাফার বিজয় গাঙ্গুলী ও তার টিমের সঙ্গে মনিটরে নিজের নাচের শট দেখছেন তামান্না। শটের প্রশংসা করা হলে মজা করে ‘না!’ বলে প্রতিক্রিয়া জানান অভিনেত্রী। অন্য একটি ক্লিপে তামান্নার সঙ্গে নাচতে দেখা যায় পঙ্কজ ত্রিপাঠী, রাজকুমার রাও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অপরশক্তি খুরানাকে—যা ভক্তদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে। ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ক্যাপশনে তামান্না লেখেন, “প্রথম ভিউ থেকে এক বিলিয়ন ভিউ—এই সব ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ।” গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মাধুবন্তী বাগচী ও দিব্য কুমার। এর কথা লিখেছেন অমিতাভ ভট্টাচার্য এবং সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন জনপ্রিয় সংগীতজুটি শচীন–জিগর। অমর কৌশিক পরিচালিত ‘স্ত্রী ২’ ছবিতে তামান্নার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অপরশক্তি খুরানা। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি প্রায় ৯০০ কোটি রুপি আয় করে বছরের অন্যতম সফল বাণিজ্যিক ছবির তালিকায় জায়গা করে নেয়।
বয়স ৬০ ছুঁইছুঁই হলেও বলিউড অভিনেতা আমির খানের নতুন লুক দেখে তা বোঝার উপায় নেই। কোনো ধরনের জিম বা ব্যায়াম ছাড়াই ১৮ কেজি ওজন কমিয়ে ভক্তদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে তার এই বদল নিয়ে চলছে বেশ আলোচনা। তবে এই পরিবর্তনের নেপথ্যে শরীরচর্চা নয়, বরং কাজ করেছে তার বিশেষ খাদ্যাভ্যাস। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির খান জানান, তার এই ওজন কমানোর নেপথ্যে রয়েছে ‘অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি’ বা প্রদাহ-বিরোধী ডায়েট। তবে মজার বিষয় হলো, ওজন কমানো তার মূল লক্ষ্য ছিল না। দীর্ঘদিনের যন্ত্রণাদায়ক মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেই তিনি এই বিশেষ ডায়েট শুরু করেছিলেন। আমির বলেন, আমি মাইগ্রেনের চিকিৎসার জন্য এই ডায়েট শুরু করেছিলাম। কিন্তু দেখলাম, আমার ১৮ কেজি ওজন কমে গেছে। এটি অনেকটা নিজে থেকেই হয়েছে। বর্তমানে আমার মাইগ্রেনের সমস্যাও অনেক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরে ‘ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন’ বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হলে ইনসুলিন ও লেপটিন হরমোনের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়, যা মেদ জমার অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও মানসিক চাপের ফলে এই সমস্যা দেখা দেয়। আমিরের ক্ষেত্রে প্রদাহ-বিরোধী খাবারগুলো শরীরের মেদ ঝরাতে সাহায্য করেছে। এর আগে বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালানও একই পদ্ধতিতে ওজন কমিয়েছিলেন। নিজের ডায়েট চার্ট থেকে বেশ কিছু খাবার পুরোপুরি বাদ দিয়েছিলেন আমির খান। এর মধ্যে রয়েছে, চিনিযুক্ত পানীয় (কোল্ড ড্রিংকস বা প্যাকেটজাত জুস), রিফাইন অয়েল বা সয়াবিন তেল, ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য এবং সাদা চাল বা ময়দার তৈরি খাবার। মূলত ঘরোয়া ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েই নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছেন এই তারকা।