অন্যান্য

স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্তি নিয়ে বড় সুখবর

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৭, ২০২৬

আবারও বেসরকারি স্কুল-কলেজকে এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

 

বুধবার (৭ জানুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) বিভাগ এ-সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। গণবিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী।

 

গণবিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে অনলাইনে নন-এমপিও স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্ত করার আবেদন গ্রহণ শুরু করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ আবেদন।

 

এ বিষয়ে উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী গণমাধ্যমকে জানান, ২০২৫ সালে জারি হওয়া স্কুল-কলেজের এমপিও নীতিমালার আলোকে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত হবে।’

 

স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্তি নিয়ে বড় সুখবর

ট্রেনিং ও বিদেশি বৃত্তি নিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনা

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকেই নতুন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিও সুবিধা পাবে বলেও জানান তিনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
হলফনামায় মিথ্যা তথ্যের অভিযোগ, এমপি পদ নিয়ে চাপে হান্নান মাসউদ

সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। এ ঘটনায় তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়া উচিত কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।   সোমবার (১৫ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এই অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সংসদ সদস্য জানিয়েছেন আইনজীবীর পরামর্শে ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আয়কর সংক্রান্ত সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে হলফনামায় কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছিল।   রাশেদ খান আরও বলেন, ওই সংসদ সদস্য তার স্থাবর সম্পদ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, এটি হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।   এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ–এর পূর্ববর্তী এক বক্তব্যও উদ্ধৃত করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন ভোটের পরেও তদন্ত করতে পারে এবং সত্যতা মিললে প্রার্থিতা বা সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিধান রয়েছে।   নিজের পোস্টের শেষ অংশে রাশেদ খান আরও কয়েকটি ব্যক্তিগত আর্থিক দাবির প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন—কেন এসব বিষয় হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের পরিবর্তে ক্ষুধার্তদের চাহিদা পূরণের আহ্বান শায়খ আহমাদুল্লার

সিলেটে মতবিনিময় সভায় কথা বলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত সেক্রেটারি

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সমর্থক মির্জা ফখরুল

বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে চলমান উন্মাদনার মধ্যেই নিজের প্রিয় দলের নাম প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে তার সমর্থনের দল ব্রাজিল।   রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।   বক্তৃতার শুরুতে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমার প্রিয় দল ব্রাজিল। এবারের প্রথম ম্যাচের খেলা দেখতে গিয়ে একটু ক্লান্ত বোধ করছি। এখনও পুরোপুরি সেই ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে পারিনি।”   তার এই মন্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হয়। রাজনৈতিক আলোচনার মাঝেও ফুটবল প্রসঙ্গ উঠে আসায় সভায় ভিন্নমাত্রা যোগ হয়।   বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে যে উন্মাদনা দেখা যায়, মির্জা ফখরুলের এই মন্তব্যও সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বক্তব্য নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।   ফুটবলের প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসার কথা এর আগেও বিভিন্ন সময় দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা প্রকাশ করেছেন। এবার সেই তালিকায় নতুন করে আলোচনায় এলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৫, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে সোনার দাম কমার প্রবণতার কারণ কী

ছবি: সংগৃহীত

এমপিদের উন্নয়ন দেখাতে কেন্দ্র, অথচ নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী: প্রতিমন্ত্রী নুর

ছবি : সংগৃহীত

জামায়াতের তিন নেতার পদ স্থগিত

শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
টাকা ধার দেওয়া-নেওয়া সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

মানুষের জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যখন প্রয়োজন পূরণে অন্যের সহযোগিতার দরকার হয়। কখনো ব্যবসার প্রয়োজনে, কখনো চিকিৎসার জন্য, আবার কখনো পারিবারিক সংকট মোকাবিলায় ঋণ বা ধার নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। ইসলাম মানবজীবনের এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করেনি; বরং ঋণ গ্রহণ ও ঋণ প্রদানের জন্য সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা নির্ধারণ করেছে। একদিকে যেমন প্রকৃত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহণকে বৈধ করা হয়েছে, অন্যদিকে ঋণ পরিশোধে অবহেলা, তালবাহানা এবং অসততাকে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ঋণ দেওয়াকে সওয়াবপূর্ণ ও মহৎ আমল হিসেবে উৎসাহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে মূল্যবান দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। শায়খ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়— কাউকে টাকা ধার দেওয়া-নেওয়ার ইসলামি বিধান কী? শায়খ আহমাদুল্লাহ এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন— ‘শরীয়া দৃষ্টিকোন থেকে টাকা ধার নেওয়া, কারো কাছ থেকে ঋণ নেওয়া এটা জায়েজ আছে যদি কারো প্রয়োজন হয়। খোদ নবী করীম (সা.) ঋণ গ্রহণ করেছেন, সাহাবিদের মধ্যে ঋণ গ্রহণ করা দেওয়া— এগুলো প্রচলন ছিল। অতএব কারো প্রয়োজন হলে ঋণ গ্রহণ করতে কারো কাছ থেকে কোনো অসুবিধা নেই। তবে ঋণ হতে হবে প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে। যেন তেন কারণে একান্ত প্রয়োজন না হলে মানুষের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া— এটা খুব ভালো কোনো কাজ না। মানুষের কাছে ঋণের জন্য হলেও যে হাত পাতা হয়, চাওয়া হয়; সে চাওয়াটা হবে একান্ত প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে। যদিও এটা তার কাছ থেকে দান বা দক্ষিণা চাওয়া নয় বরং ঋণ চাওয়া। কিন্তু তারপরও এটা যখন প্রয়োজন হবে তখনই চাওয়া উচিত। তিনি বলেন, আজকাল দেখা যায় অনেকে ঠুনকো কোনো কারণে যেটা আসলে খুব বেশি একান্ত প্রয়োজনের সীমানায় ফেলার মতো না; সে রকম বিষয়ের জন্য যেন তেনো কারণে ঋণ করে। অতএব জরুরতের ভিত্তিতে কোনো প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে ঋণ গ্রহণ করা ঋণ নেওয়া এটা জায়েজ আছে তবে তার জন্য শর্ত হলো— সুদমুক্ত ঋণ নেওয়া। এবং সেই সাথে শর্ত হলো— ঋণ আদায়ে সদ্বিচ্ছা থাকতে হবে। আজকাল অনেকে ঋণ নেন কিন্তু আদায় করার ব্যাপারে সদ্বিচ্ছা নেই। কারো কাছ থেকে সরাসরি চাইতে অসুবিধা, সে জন্য  ঋণের কথা বলে চান, ওনার নিয়ত হলো দেবেন না। যে তার অনেক আছে, ডাইরেক্ট চাই কীভাবে। এ জন্য ঋণের কথা বলে চাই। অর্থাৎ ঋণ নেওয়ার সময় নিয়তই হলো এটা আর ফেরত দেবো না। তো এ রকম উদ্দেশ্যে যদি ঋণ গ্রহণ করা হয় তাহলে সেটা জায়েজ নেই। তিনি আরও বলেন, পরিশোধ করার পাক্কা এরাদা আছে, নিয়ত আছে, প্ল্যান-পরিকল্পনা আছে এবং সুধভিত্তিক কোনো ঋণ নিচ্ছেন না এ রকম যদি হয় তাহলে সেক্ষেত্রে একান্ত জরুরতের ভিত্তিতে ঋণ গ্রহণ করা জায়েজ আছে। আর যিনি ঋণ দেবেন, তার জন্য এটা সর্বাবস্থায় প্রসংশনীয়; বিশেষ করে কাউকে যদি ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে তার কোনো বিপদ দূর হয়, তার কোনো কষ্ট দূর হয়, তার কোনো বিশেষ উপকার হয়; তাহলে সেক্ষেত্রে ঋণ দেওয়াটা এটা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি কাজ।  অনেক ওলামায়ে কেরাম ঋণ দেওয়াটাকে মুস্তাহাব বলেছেন।  বিশেষ করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দান করার চাইতেও ঋণ দেওয়ার সওয়াবের পরিমাণ বেশি বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত রয়েছে। এখন প্রশ্ন ওঠতে পারে— দানের ক্ষেত্রে তো একটা মানুষকে পুরোপুরি দিয়ে দেওয়া হয়। আর ঋণের ক্ষেত্রে তো পুরোপুরি দেওয়া হয় না। তাহলে পুরোপুরি দিয়ে দিলে তার চাইতে আবার ঋণের ফজিলত সওয়াব বেশি কীভাবে হতে পারে। এর উত্তর হলো— এটা সব ক্ষেত্রে সাধারণ অর্থে হয়তো প্রযোজ্য না। এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা মুহাদ্দিসিনেকেরাম দিয়েছেন। এর একটা প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যা হলো— কোনো ব্যক্তিকে দান করা হয়েছে; এ দানটা না হলে তার যে অনেক অসুবিধা হতো এ রকম না। এমত পরিস্থিতিতে বা এ ধরনের পরিস্থিতিতে যে দান হয়ে থাকে সেই দানের তুলনায় ওই ঋনের সওয়াব বেশি, যে ঋণ একটা মানুষের অনেক উপকার করবে। তার অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা হবে। তাহলে একজনকে আপনি দশ বিশ পঞ্চাশ একশ টাকা দান করলেন; এটা না করলেও আসলে এটা তার তেমন কিছু হতো না; এটা নেয়াতে তার উপকার হয়েছে কিন্তু আহামরি কিছু না। আর এর বিপরীতে একই পরিমাণ টাকা যদি আরেকজনকে ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে তার বিরাট উপকার হবে। এমত পরিস্থিতিতে প্রয়োজন পূরণের ক্ষেত্রে কোনো কোনো জায়গায় দানের চাইতে ঋণের, ঋণ দেওয়ার উপকারিতা ঋণ গ্রহীতার জন্য প্রযোজ্য হয়; সে রকম পরিস্থিতিতে দানের চাইতেও ঋণের সওয়াব বেশি হবে। আল্লাহই ভালো জানেন। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, তাহলে খোলাসা কথা হলো— জরুরত হলে কোনো বিশেষ প্রয়োজন হলে কারো কাছ থেকে ধার নেওয়া, ঋণ নেওয়া জায়েজ আছে; কিন্তু সেটা পরিশোধ করার সদ্বিচ্ছা থাকতে হবে। ঋণ দেওয়ার অনেক মানুষের সদ্বিচ্ছা আছে, অনেকে ঋণ দিতে চান কিন্তু ঋণ গ্রহিতারা তালবাহানা করেন, পরিশোধ করতে চান না, ঘুরান; এ বদঅভ্যাস এবং এই খারাপ কালচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে ঋণ দেওয়ার যে আমলটা আছে, এটা সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এবং মানুষ সুদী ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যেতে হচ্ছে। তো এই জন্য যারা ঋণ নিয়ে সেটা তালবাহানা করেন, ঘুরান, দিতে চান না; তারা মূলত সুদকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে একটা ভূমিকা রাখছেন। ব্যাপারটা অনেকটা এ রকম। নবী করীম (সা.) বলেছেন— ‘একজন স্বচ্ছল মানুষ, সে ঋণ নেওয়ার পরে যদি তালবাহানা করে এবং দিতে না চায়, ঘুরাঘুরি করায়; তাহলে সেক্ষেত্রে সেটা স্পষ্ট জুলুম।’ এ জন্য কারো কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার পর সেটা পরিশোধ করার জন সদ্বিচ্ছা থাকতে হবে। স্পষ্ট সময় দেওয়ার জন্য নিয়ত থাকতে হবে, পরিকল্পনা থাকতে হবে; তাহলে ঋণ নেওয়াটা জায়েজ আছে। ঋণ কোনো খেলাচ্ছলে নেওয়ার বিষয় নয়; এটি মানুষের হক এবং একটি গুরুতর আমানত। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঋণ গ্রহণ করা যেমন অনুচিত, তেমনি ঋণ নিয়ে পরিশোধে গড়িমসি করাও বড় ধরনের অন্যায় ও জুলুম। একজন মুমিনের উচিত ঋণ গ্রহণের সময় তা পরিশোধের দৃঢ় নিয়ত ও বাস্তব পরিকল্পনা রাখা। অন্যদিকে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উচিত বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং যথাসম্ভব সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে তাদের কষ্ট লাঘব করা। ব্যক্তি ও সমাজ উভয় পর্যায়ে এই ইসলামী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে, মানুষের কষ্ট কমবে এবং সুদভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতাও হ্রাস পাবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে মানুষের হক আদায় করার, আমানত রক্ষা করার এবং ইসলামের সুন্দর অর্থনৈতিক শিক্ষার ওপর চলার তাওফিক দান করুন। আমিন। সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিডিও থেকে নেওয়া।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ১১ দলীয় সমাবেশে সরকারের সমালোচনা শফিকুর রহমানের

ছবি : সংগৃহীত

চবি ছাত্রদল নেতা নোমানকে ডেকে খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

দ্বিতীয় রানার আপ হওয়ার সুবাদে দলটি পেয়েছে ২ হাজার মার্কিন ডলার।ছবি: এইচএসবিসি বাংলাদেশের সৌজন্যে

বিশ্বমঞ্চে পুরস্কার জিতল বিইউপির ‘টিম সিক্স সেভেন’

0 Comments