অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, জনঘনত্ব ও পরিবেশ দূষণে নাজুক হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। দিনে দিনে এ শহরের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ও জাপানের টোকিও শহর দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে সামনে আসছে। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই শহর প্রমাণ করেছে—উচ্চ জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও একটি শহরকে কীভাবে কার্যকর, মানবিক ও বাসযোগ্য রাখা সম্ভব।
সিউল বহু বছর ধরেই দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী শহর। তবে রাজধানীর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে ১৯৭০-এর দশক থেকেই পরিকল্পিতভাবে সিউলের চারপাশে একাধিক স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলে দেশটির সরকার। এসব নতুন শহর মহাসড়ক, মেট্রোরেল ও দ্রুতগতির ট্রেনের মাধ্যমে সিউলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এতে মানুষ সহজে সিউলের সঙ্গে যাতায়াত করতে পারে।
একই সঙ্গে সিউলে শিল্পকারখানা ও সরকারি দপ্তরের অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ ঠেকাতে কড়াকড়ি নীতি নেওয়া হয়। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সেজং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সিটি। সিউল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে গড়ে ওঠা এই শহরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি মন্ত্রণালয় ও দপ্তর স্থানান্তর করা হয়েছে। এর ফলে রাজধানীর ওপর প্রশাসনিক চাপ কমেছে। এতে দেশের অন্য অঞ্চলেও উন্নয়ন ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে জাপানের রাজধানী টোকিও দেখিয়েছে, কীভাবে উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা একটি অতিঘন শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে পারে। টোকিওতে মেট্রো, ট্রেন ও বাসের এমন বিস্তৃত ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা আছে যে ব্যক্তিগত গাড়ির প্রয়োজন অনেক কমে গেছে। অনেক এলাকাতেই প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২০ হাজারের বেশি মানুষ বাস করলেও শহরটি অগোছালো বা অসহনীয় মনে হয় না।
টোকিওর পরিকল্পনায় আবাসন, অফিস, বাজার, স্কুল, হাসপাতাল ও পার্ক—সবকিছু কাছাকাছি রাখা হয়েছে। ফলে মানুষকে দৈনন্দিন প্রয়োজনে দূরে যেতে হয় না। হাঁটা ও গণপরিবহনই সেখানে প্রধান ভরসা। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হয়, পাশাপাশি দূষণও কমে।
টোকিওর আরেকটি বড় শক্তি হলো নাগরিকদের শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই গণপরিবহন ব্যবহার করেন। নগরজীবনে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সামগ্রিক সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়ার এ সংস্কৃতিই শহরটিকে টেকসই করেছে।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনা। প্রায় সব প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজধানীতেই। এতে গ্রাম ও ছোট শহর থেকে মানুষ ঢাকায় ভিড় করছে। চাপ বাড়ছে অবকাঠামো ও পরিবেশের ওপর।
সিউল ও টোকিওর অভিজ্ঞতা থেকে ঢাকার জন্য তিনটি বিষয় শেখা জরুরি। প্রথমত, রাজধানীর চাপ কমাতে পরিকল্পিতভাবে সরকারি দপ্তর ও শিল্প অন্য শহরে সরিয়ে দেওয়া; দ্বিতীয়ত, গণপরিবহনকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা; এবং তৃতীয়ত, পরিকল্পিতভাবে প্রয়োজনীয় সেবা মানুষের কাছাকাছি রাখা।
নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনঘনত্ব কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা হয় তখনই, যখন সেটিকে পরিকল্পনা ও ন্যায়সংগতভাবে পরিচালনা করা হয় না। সিউল ও টোকিও দেখিয়েছে, সঠিক সিদ্ধান্ত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলে ঘন শহরও হতে পারে নিরাপদ, কার্যকর ও মানুষের জন্য উপযোগী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নোয়াখালীর হাতিয়াতে ফেরি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপি নেতাকর্মিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ইটপাটকের নিক্ষেপে অন্তত ১২জন আহত হয়। তবে তাৎক্ষণিক আহতের নাম ঠিকানা জানা যায়নি। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা হাতিয়ার নলচিরা ঘাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফেরি উদ্বোধনের খবরে বিএনপি ও এনসিপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মি নলচিরা ঘাট এলাকায় একত্রিত হন। ওই সময় ফেরি চালুর কৃতিত্ব নেওয়াকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয় স্থানীয় দুই পক্ষের স্থানীয় সমর্থকেরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষ কথাকাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হাতাহাতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের নেতাকর্মিরা আবারো পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও নৌপুলিশ বেদম লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তখন অনুষ্ঠানে আসা হাজারো উৎসুক মানুষ দিকবিদিক ছুটে আত্মরক্ষা করতে চেষ্টা করে। নলচিরা ঘাট এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ফেরি ননচিরার ঘাটে ভেড়ার সাথে সাথে শাপলাকলির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে সমর্থকরা। এক এক পর্যায়ে ধানের শীষ সমর্থকদের পাল্টা শ্লোগান দিতে দেখা যায়। তখন ফেরির ক্রেডিট নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এদিকে সমর্থকদের ওপর হামলাকারীদের দুই ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার দাবি করেছেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। অন্যথায় তিনি নির্বাচনের মাঠ ছাড়ার হুঁশিয়ারি দেন। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান শামীম গণমাধ্যম কর্মিদের বলেন, ফেরি চালু হওয়া হাতিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে এনসিপির সন্ত্রাসীরা বিএনপির নেতাকর্মিদের ওপর হামলা চালায়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।” এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এখনো আহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত ডিসি পার্কে আজ শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পার্কে দর্শনার্থী নিয়ে আসা শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পার্কিং এলাকার ইজারাদারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। সূত্র জানায়, বাসটি পার্কিংয়ের ভেতরে আড়াআড়িভাবে দাঁড় করানোর কারণে পার্কিংয়ের ইজারাদারের পক্ষের লোকজন বাসটিকে সরানোর নির্দেশ দেন। বাসের কর্মীরা জানান, পার্কের ভেতরে কয়েকজন দর্শনার্থী এখনও রয়ে গেছেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে বাসের কাচ ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার সময় পার্কে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দুই পক্ষকে সমাধানমূলক বৈঠকের জন্য ডেকে বসান। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয় এবং বাসটি গন্তব্যের পথে ছেড়ে দেওয়া হয়। মামলার পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় ছয়-সাতজন যুবক ডিসি পার্কের সামনে দাঁড়ানো বাসের কাচ ভাঙছেন। ডিসি পার্ক সূত্র জানিয়েছে, বাসটি নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পার্কিং থেকে বের হতে বিলম্ব হওয়ায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তবে পার্কিং ব্যবস্থাপনায় দর্শনার্থীদের নিরাপদ এবং ব্যস্ত সময়ে যানজট এড়াতে আরও নজরদারি প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের প্রথম দিনেই নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের জামায়াতে ইসলামী ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করেছে প্রশাসন। পৃথক দুটি অভিযানে মোট দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) মনিরামপুর পৌর এলাকায় দাঁড়িপাল্লা ও কলস প্রতীকের পক্ষে আলাদা আলাদা গণমিছিল বের করা হয়। এসব মিছিলে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে, যা নির্বাচন আচরণবিধির পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেনের কলস প্রতীকের পক্ষে মনিরামপুর পৌরশহরে গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশ নেন। ওই সময় মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে যানজটের সৃষ্টি হয়। এই মিছিল শেষ হওয়ার পরপরই জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হকের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের গণমিছিল বের করা হয়। এতে আরও কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। দ্বিতীয় মিছিল শুরু হলে মহাসড়কে যানজট আরও ভয়াবহ রূপ নেয় এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। ঘটনার পর নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ ইকবাল হোসেনের পক্ষের এক প্রতিনিধির কাছ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। অন্যদিকে একই অভিযোগে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার দাস পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জামায়াত প্রার্থী গাজী এনামুল হকের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতিনিধি আহসান হাবীব লিটনের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সড়কে যানজট সৃষ্টি ও জনদুর্ভোগের দায়ে দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নে প্রশাসন সক্রিয় থাকবে এবং ভবিষ্যতে কেউ বিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।