বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল বুধবার। ২০১১ সালের এই দিনে কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয় ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানী খাতুন। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে ছিল তার মরদেহ, যা গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে এত বছর পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার পায়নি তার পরিবার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে বন্ধ হয়নি বিএসএফের গুলি, নির্যাতন ও বেপরোয়া আচরণ।
ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পূর্তির মধ্যেই মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে রনি মিয়া নামে এক বাংলাদেশি যুবক আহত হন। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের জোহরপুর–টেক সীমান্ত দিয়ে ভারতের ভেতরে আটক হন রবিউল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি। আটকের কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহে বুক, হাত-পা ও গালে অন্তত ছয়টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
২০২৫ সালে বিএসএফ ও ভারতের নাগরিকদের হাতে বাংলাদেশিদের হত্যার সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিএসএফের হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হন। এর মধ্যে ২৪ জন গুলিতে এবং ১০ জন নির্যাতনের ফলে মারা যান। আগের বছরগুলোতে নিহতের সংখ্যা ছিল—২০২৪ সালে ৩০ জন, ২০২৩ সালে ৩১ জন, ২০২২ সালে ২৩ জন এবং ২০২১ সালে ১৮ জন।
হাতীবান্ধায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার
গোতামারী ইউনিয়নের দইখাওয়া সীমান্তের ৯০২ নম্বর পিলারের কাছে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে বিএসএফের গুলিতে আহত হন রনি মিয়া। তিনি ওই এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজনের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় গেলে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে রনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ পেয়ে বিজিবির টহল দল তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও রনি একইভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।
রবিউলের দেহে ছয় স্থানে আঘাতের চিহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জোহরপুর–টেক সীমান্তের ওপারে আটক হওয়ার পর রবিউল ইসলামের মরদেহে ছয় স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জেলা হাসপাতালের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের তথ্যমতে, আঘাতগুলো লাঠির নয়, তবে এসব আঘাতে মৃত্যু হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে প্রতিবেদন অপেক্ষমান।
গত ৪ জানুয়ারি আটক হওয়ার পরদিন রাতে বিএসএফ রবিউলের মরদেহ হস্তান্তর করে এবং দাবি করে তিনি অসুস্থতায় মারা গেছেন। বিজিবি জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে লিখিতভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে দুই বাংলাদেশি আটক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের সময় দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে ভারতীয় পুলিশ। তারা গরু চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার সময় আরও দুজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। বিএসএফ তাদের ধাওয়া করে সাতটি গরু জব্দ করে।
মহেশপুর সীমান্তে এক দশকে ৩৬ বাংলাদেশি নিহত
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে গত এক দশকে বিএসএফের গুলিতে ও নির্যাতনে অন্তত ৩৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে মারধরে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
এই উপজেলার ৭৮ কিলোমিটার সীমান্তের প্রায় ১২ কিলোমিটার এখনো উন্মুক্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগ বা সন্দেহের ভিত্তিতে বিএসএফ প্রায়ই গুলি চালায়।
নিহতদের পরিবারগুলোর দাবি, বিএসএফের শত্রুতাপূর্ণ আচরণে সীমান্ত এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই আচরণ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত হত্যা ও অপরাধ দমনে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দুই দেশের নিয়মিত পতাকা বৈঠকে এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে এবং সীমান্তবাসীদের সচেতন করতে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানির দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আজ ক্রমিক নম্বর ৭১ থেকে ১৪০ পর্যন্ত আপিলের শুনানি নেওয়া হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন বিকাল ৫টা পর্যন্ত আপিল শুনানি গ্রহণ করবেন। এর আগে শনিবার (১০ জানুয়ারি) শুনানির প্রথম দিনে ৭০টি আপিলের মধ্যে ৫২টি মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, প্রথম দিনের শুনানিতে ৫২টি আপিল মঞ্জুর, ১৫টি নামঞ্জুর করা হয়েছে। তথ্যগত অসংগতির কারণে তিনটি আপিলের শুনানি মুলতবি রাখা হয়। মঞ্জুর হওয়া ৫২টি আপিলের মধ্যে ৫১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। অপরদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক বৈধ ঘোষিত একজন প্রার্থীর প্রার্থিতা আপিল শুনানিতে বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আপিল শুনানি চলবে। সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর এবং মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল মনিটরে প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি রায়ের পিডিএফ কপি ও আপিলের সিদ্ধান্ত রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের ই-মেইল অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ১০ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত শুনানির রায়ের অনুলিপি আগামী ১২ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকে সংগ্রহ করা যাবে। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে।
ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মাওলানা শাহ্ সুফী খাজাবাবা ফরিদপুরী নকশবন্দি মুজাদ্দেদীর ওরস শনিবার (১০ জানুয়ারি) ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরিফে শুরু হয়েছে। চলবে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পর্যন্ত। বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ফরিদপুর অঞ্চলের কর্মী গ্রুপের প্রধান কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, প্রতিবছরের ন্যায় আগত আশেকান জাকেরান ওরশের দিনগুলোতে দরবার শরিফে ফরজ, সুন্নত ও নফল এবাদত বন্দেগিতে রত থেকে জাতির কল্যাণ কামনা করা হবে। বিশেষ করে সব প্রকার বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহ দরবারে মোনাজাত করা হবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫২টি আপিল মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া ১৫টি আপিল নামঞ্জুর বা বাতিল করা হয়েছে এবং অন্য তিনটি আপিলের শুনানি মুলতবি রাখা হয়েছে। আজ শনিবার আপিল শুনানি শেষে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। আখতার আহমেদ বলেন, ‘আজ ৭০টি আপিলের মধ্যে অনুমোদিত বা মঞ্জুর করা হয়েছে ৫২টি আপিল। নামঞ্জুর করা হয়েছে ১৫টি আপিল। এছাড়া তিনটি আপিল মুলতবি রাখা হয়েছে। এরমধ্যে একটি আপিল আগামীকাল রোববার বিকাল ৫টা পর্যন্ত এবং বাকী দুটি আপিল ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি থাকবে। তথ্যগত কিছু অসংগতি আছে। যেটা রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে নেওয়া হবে।’ এ দিকে ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসসকে জানান, মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫২টি আপিল মঞ্জুর করেছে ইসি। এ মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫১টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে। অর্থাৎ ইসির রায়ে ৫১ জন প্রার্থী প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন। এছাড়া মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে একটি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে। অর্থাৎ রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা একজন প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে। এছাড়া নামঞ্জুর করা হয়েছে ১৫টি আপিল বলে তিনি জানান। এর আগে শনিবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেইজমেন্ট-২) সকাল ১০টা থেকে আপিলের শুনানি শুরু হয়। দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল শুনানি গ্রহণ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ফুল কমিশন। শুনানিতে আপিলকারী বা তাদের আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরছেন। অপরদিকে রিটার্নিং অফিসার বা তার প্রতিনিধি মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণে কারণ উল্লেখ করে যুক্তি তুলে ধরছেন। শুনানি গ্রহণ শেষে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের রায় তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়। শুনানিতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দেখাতে পারায়, অনেক প্রার্থী প্রার্থিতা ফেরত পান। অপর দিকে যারা প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত দেখাতে পারছেন না, তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে। ইসি’র পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসস’কে জানান, শনিবার সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়ে চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। শনিবার ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল রোববার ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল, সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৪১-২১০ নম্বর আপিল এবং মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী আপিল শুনানির তারিখ শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে। ইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদনগুলো শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল মনিটরে প্রদর্শন, রায়ের পিডিএফ কপি ও আপিলের সিদ্ধান্ত রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের ই-মেইল অ্যাকাউন্টে প্রেরণ এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া, আপিলের রায়ের অনুলিপি শিডিউল মোতাবেক নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক হতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারির রায়ের অনুলিপি ১২ জানুয়ারির দেওয়া হবে। ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারির রায়ের অনুলিপি ১৫ জানুয়ারি দেওয়া হবে। এছাড়া ১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারির রায়ের অনুলিপি ১৮ জানুয়ারি দেওয়া হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন দায়ের করা হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩শ’ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করেন।