২০২৫ সালে অবৈধ পথে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সর্বশেষ অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইউরোপের বহিঃসীমান্তে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া জাতীয়তার মধ্যে বাংলাদেশিরা শীর্ষে রয়েছেন। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের পর মিসরীয় ও আফগানদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের অনিয়মিত সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা সত্ত্বেও বাংলাদেশিরা ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসনে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছেন।
একই সঙ্গে ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরীয় বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল জাতীয়তাগুলোর একটি। এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে আফ্রিকার দেশ মিসর এবং এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান।
ফ্রন্টেক্স জানায়, বাংলাদেশি নাগরিকেরা বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া জাতীয়তার মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছেন। সীমান্ত নজরদারি ও মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রম জোরদার হলেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
ইউরোপে পৌঁছাতে বাংলাদেশিরা মূলত সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগর রুট ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ইতালির উপকূল এবং গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে পৌঁছানোর প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়াভিত্তিক মানবপাচার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশিরা এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করছেন।
সংস্থাগুলো বলছে, বাংলাদেশিদের ইউরোপমুখী অভিবাসনের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ, কর্মসংস্থানের সংকট এবং বিদেশে ভালো আয়ের প্রত্যাশা। মানবপাচার চক্রগুলো এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিপজ্জনক যাত্রায় প্রলুব্ধ করছে।
ফ্রন্টেক্সের মতে, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগের অভাব বাংলাদেশ থেকে অনিয়মিত অভিবাসনের একটি বড় চালিকা শক্তি। ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশিরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানো শীর্ষ জাতীয়তাগুলোর মধ্যে রয়েছেন, তবে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশিদের পাশাপাশি মিসর ও আফগান নাগরিকরাও ইউরোপে অনিয়মিতভাবে পৌঁছানোদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছেন। সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় সীমান্তে নজরদারি আরও কঠোর হলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সীমিত বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে একে একে সাক্ষ্য দেন ভিকটিমের স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে রামিসা হত্যার সেই বিভীষিকাময় ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা। মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রামিসার বাবা-মা ও বড় বোনসহ মোট ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। আদালতে সাক্ষীরা রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা, রক্তাক্ত ঘরের দৃশ্য এবং অভিযুক্ত সোহেল রানার পালিয়ে যাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন। সাক্ষ্যে শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। তার অফিস কাকলী এলাকায় হওয়ায় ক্যান্টনমেন্ট হয়ে সেখানে যাচ্ছিলেন। সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে বাসায় আসতে বলেন। তিনি আদালতকে বলেন, ফোন পাওয়ার পর বাসায় ফিরতে আমার ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে। এসে দেখি আমাদের ফ্ল্যাটের সামনে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে। দ্রুত ওপরে উঠে যাই। তখন আমার স্ত্রী অনেকক্ষণ ধরে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ডাকাডাকি করছিল, কিন্তু কেউ দরজা খুলছিল না। হান্নান মোল্লা জানান, পরে তিনিও দরজা খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে দরজার লক ভেঙে ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, ভেতরে ঢুকে টয়লেটের সামনে সামান্য রক্ত দেখতে পাই। সাক্ষ্যগ্রহণকালে তিনি আদালতকে আরো জানান, ঘটনার আগে তিনি আসামিদের চিনতেন না। আমি আসামিকে জীবনেও দেখিনি, বলেন তিনি। সাক্ষ্যে ভুক্তভোগী শিশুটির মা পারভীন আক্তার বলেন, ঘটনার দিন বাসায় রান্না করছিলেন তিনি। রান্নার শেষ পর্যায়ে এসে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ সময় বড় মেয়ে বলছিল- শিশুটিকে (রামিসা) বাসায় থাকতে, তবে তিনি বুঝতে পারেননি শিশুটি বাইরে গেছে কিনা। পারভীন আক্তার বলেন, ‘রান্না করার সময় একটি চিৎকার শুনেছিলাম। ভেবেছিলাম পাশের বাসার কোনো শিশু হয়তো চিৎকার করছে। পরে বড় মেয়ে ফিরে এলে আমার মেয়ের খোঁজ করি। সে জানায়, রামিসা তার সঙ্গে যায়নি।’ তিনি জানান, এরপর ভবনের নিচতলা, একটি অফিস কক্ষ, ব্যাচেলর বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে মেয়েকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে তৃতীয় তলায় পাশের ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে মেয়ের একটি জুতা দেখতে পান। তখন তার মনে হয়, আগে শোনা চিৎকারটি হয়তো তার মেয়েরই ছিল। আদালতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি বারবার স্বপ্নাকে বলেছি- বোন দরজাটা খুলে দে। কিন্তু সে দরজা খোলেনি।’ সাক্ষ্যে তিনি আরো বলেন, তিনি ও আশপাশের লোকজন বারবার দরজায় ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি। পরে আরও লোকজন এসে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ফ্ল্যাটের ভেতরে রক্ত দেখতে পান তারা। পরে সেখান থেকে আমার মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পারভীন আক্তার আদালতকে জানান, পরে অভিযুক্ত আসামি স্বপ্না আক্তার উপস্থিত লোকজনকে বলেছিল- সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে। সাক্ষ্যে রামিসার চাচি আদালতে বলেন, ‘আমার স্বামী ফোন দিয়ে বলেন, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে গিয়ে দেখি বাসায় ভিড় ও কান্নাকাটি চলছে। ঘরে গিয়ে খাটের নিচে এক পাশে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই। তখন পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছিল।’ জেরায় তিনি বলেন, ‘আমি গলাকাটা মরদেহ দেখেছি, ধর্ষণের দৃশ্য দেখিনি।’ রামিসার চাচা মিজানুর রহমান লিটন আদালতে বলেন, ‘আমি মেট্রোরেলে থাকাকালে স্ত্রী ফোন করে জানান, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। বাসায় এসে দেখি রক্ত পড়ে আছে। একটি বড় বালতির মধ্যে রামিসার মাথা ছিল। তার গলা ও হাত কাটা ছিল।’ তিনি আদালতে উপস্থিত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে শনাক্ত করেন। একই ভবনের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে শব্দ শুনে নিচে নেমে দেখেন রামিসার মা সোহেল রানার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রক্ত দেখতে পান।’ তিনি বলেন, ‘স্বপ্নাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। ভেতরের আরেকটি গেট তালাবদ্ধ ছিল। সেটি খুলে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই।’ প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজন আদালতে বলেন, ‘রামিসার মা ডাকাডাকি করলে ফিরে আসি। দরজা না খোলায় পরে ভেতরে ঢুকে প্রথমে বাথরুমে কাপড় পড়ে থাকতে দেখি। এরপর রক্ত দেখতে পাই। স্বপ্নাকে জিজ্ঞেস করলে সে কিছু জানে না বলে। পরে খাট উঁচু করে রামিসার বস্ত্রবিহীন মরদেহ দেখতে পাই। একটি বালতির মধ্যে মাথা ছিল।’ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেন আবু সামা নামে এক প্রতিবেশী। তিনি আদালতে বলেন, ‘সকাল প্রায় ১০টার দিকে নাস্তা করছিলাম। তখন দেখি পাশের বাসার জানালা বেয়ে এক ব্যক্তি খালি গায়ে নিচে নামছে। আমি তাকে চোর মনে করে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করি। পরে পাশের বাসা থেকে চিৎকার শুনে গিয়ে রামিসার মরদেহ দেখি।’ জেরায় তিনি বলেন, ‘পরে মিডিয়ায় ছবি দেখে নিশ্চিত হই, জানালা দিয়ে নামা ব্যক্তিই আসামি সোহেল রানা।’ আরেক সাক্ষী মনিরুজ্জামান শাহীন আদালতে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি একটি পাতলা ছুরি এবং বালতির মধ্যে রামিসার মাথা দেখতে পান। পুলিশ সদস্য রুমা আক্তারও আদালতে সাক্ষ্য দেন। তবে তার সাক্ষ্যের বিস্তারিত অংশ পরে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।’ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাক্ষীদের বক্তব্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীর বাবা-মায়ের সাক্ষ্যে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসে। এছাড়া আসামি সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার পর গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও সাক্ষ্যে তথ্য এসেছে।’
বিদ্যুতের পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন—তিন পর্যায়েই দাম বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে আগামীকাল বুধবার (৩ জুন) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গণশুনানি শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় কমিশন এই আদেশ দেওয়ার দিন নির্ধারণ করল। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এবার সব পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে। মঙ্গলবার (২ জুন) বিইআরসি সচিব নজরুল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার দুপুর ৩টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় অবস্থিত কমিশনের শুনানি কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্যহার, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) সঞ্চালন মূল্যহার এবং ডেসকো, ডিপিডিসি, আরইবি, ওজোপাডিকো ও নেসকোর মতো বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব কমিশনে জমা দেয়। এসব প্রস্তাবের ওপর গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও প্রস্তাব পর্যালোচনা শেষে কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। আবেদন সূত্রে জানা গেছে, লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে। ডেসকো ৯.৬৭ শতাংশ, ডিপিডিসি ৬.৯৬ শতাংশ, ওজোপাডিকো ১০ শতাংশ, আরইবি ৫.৯৩ শতাংশ এবং নেসকো ও বিপিডিবি ইউনিটপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্ক বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়, যা বর্তমান দামের তুলনায় ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, দেশের একমাত্র সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পিজিসিবি সঞ্চালন চার্জ ইউনিটপ্রতি ৩০-৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৮-৪৯ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে সরকার পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়েছে। এছাড়া গত মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১১৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। জ্বালানির এমন ঊর্ধ্বমুখী দামের পর এবার নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এ অনুরোধ জানান। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ১৯৭২ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে নরওয়ের স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বৈদেশিক নীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যার মূল ভিত্তি হলো- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানান যে নরওয়ে এখন চিরাচরিত উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে সরে এসে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে। মন্ত্রী নরওয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ থেকে নরওয়েতে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন। তিনি নরওয়ের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প, চামড়াজাত পণ্য, আইটি সেবা, পাটজাত পণ্য এবং হস্তশিল্পের মতো উচ্চ-মূল্যের পণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সাথে, তিনি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ এবং প্যাকেজিং শিল্পে নরওয়ের উদ্যোক্তাদের বড় আকারের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নরওয়ের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা অন্যতম প্রধান দেশ। গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড এবং নরফান্ড এর ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব ও কম-কার্বন প্রযুক্তির প্রকল্পসমূহে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও, তিনি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, ডিজিটাল উদ্ভাবন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময় বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে নরওয়ের শিক্ষাবৃত্তির আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান। বৈঠকে নরওয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর চমৎকার ভূমিকার প্রশংসা করা হয়, যা দুই দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করছে। রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) প্রতি নরওয়ের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের সক্রিয় কার্যক্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি। নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার অভিন্ন মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে আশ্বস্ত করেন যে, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের একাত্মতা ও সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুরক্ষায় নরওয়ে সবসময় পাশে থাকবে। সাক্ষাৎকালে নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-৩ শাখার উপসচিব মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।