ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য শেষ মুহূর্তে যে আবেদন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), তা আইসিসির ডিসপিউট রেজোল্যুশন কমিটি (ডিআরসি) শুনতে পারবে না। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী বোর্ড অব ডিরেক্টরসের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডিআরসি আপিল গ্রহণের এখতিয়ার রাখে না। ফলে বাংলাদেশের এই উদ্যোগ কার্যত নিষ্ফল হওয়ার পথেই।
পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বোর্ড ‘শেষ বিকল্প’ হিসেবে ডিআরসির দ্বারস্থ হয়েছে। ডিআরসি’র প্রধান ব্রিটিশ আইনজীবী মাইকেল বেলফ (কিংস কাউন্সেল)। তবে আইসিসির সংবিধান ও ডিআরসি’র টার্মস অব রেফারেন্স অনুযায়ী, এই কমিটি আইসিসি বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে পারে না।
বিসিবির এক সূত্র পিটিআইকে জানায়, ‘সব বিকল্প ব্যবহার করতেই ডিআরসিতে যাওয়া হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে গেলে, তখন একমাত্র পথ থাকবে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)।’
এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১৪–২ ভোটে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতেই রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। ওই মূল্যায়নে ঝুঁকির মাত্রাকে ‘নিম্ন থেকে মাঝারি’ বলা হয়। তবে বাংলাদেশের সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, এটি বিসিবির নয়—সরকারের সিদ্ধান্ত, এবং নিরাপত্তাজনিত কারণেই দল ভারতে যাবে না।
আইসিসির এক বোর্ড সূত্রের ভাষ্য, ‘ডিআরসি-তে আবেদন করা যেতে পারে, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী এই কমিটির এখতিয়ার নেই বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার।’
এই পরিস্থিতিতে আইসিসি ইতোমধ্যেই স্কটল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল-কে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে প্রস্তুত রেখেছে। পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের মধ্যেই বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা আসতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইসিসির অন্দরমহলে বিসিবির ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত প্রকাশ করায় বোর্ড সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ডিআরসি সাধারণত দেখে আইসিসি বোর্ড সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া ও নিয়ম মেনেছে কি না। এটি কোনো আপিল ট্রাইব্যুনাল নয়। অতীতেও বড় মামলায় ডিআরসি আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে—যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের আবেদন আটকে যাওয়ায় বিশ্বকাপে তাদের ভবিষ্যৎ কার্যত শেষ। এখন নজর শনিবারের দিকে—সেদিনই স্পষ্ট হতে পারে, বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডের নামই কি চূড়ান্ত হচ্ছে।
(সূত্র: পিটিআই)
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
গোলের জন্য শট কেবল একটি, আক্রমণভাগের তিন খেলোয়াড় মিলে প্রতিপক্ষের বক্সে বলে স্পর্শ স্রেফ একবার- প্রথমার্ধে এতটাই বিবর্ণ ছিল ফ্রান্স! সেই হতাশা ঝেড়ে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলল তারা। দলকে পথ দেখালেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভসূচনা করল দিদিয়ে দেশমের দল। নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতেছে দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এমবাপে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, বদলি নেমেই ব্যবধান বাড়ান ব্র্যাডলি বার্কোলা। শেষ দিকে সেনেগাল একটি গোল শোধ করার পরই, দর্শনীয় দ্বিতীয় গোলে আবার ব্যবধান বাড়ান এমবাপে। বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের হয়ে টানা তিন ম্যাচে গোল পাননি। আসর শুরুর আগে কোচকে এমবাপে বলেছিলেন, বিশ্বকাপের জন্য জমিয়ে রাখছেন সব। বিশ্ব মঞ্চে ঠিকই জ্বলে উঠলেন তিনি। চার বছর আগের বিশ্বকাপ ফাইনালে করেছিলেন হ্যাটট্রিক, এবার প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল। বিশ্বকাপে এমবাপের মোট গোল হলো ১৪টি। সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে চায় আর দুটি। একটি রেকর্ড অবশ্য এই ম্যাচেই গড়ে ফেলেছেন তিনি। অলিভিয়ে জিঁরুকে (৫৭) ছাড়িয়ে ফ্রান্সের রেকর্ড গোলস্কোরার এখন এমবাপে (৫৮)। দুই অর্ধে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স পুরোপুরিই দুই রকম। প্রথমার্ধে একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেওয়া দলটি বিরতির পর গোলের জন্য ১০টি শট নিয়ে আটটিই লক্ষ্যে রাখতে পারে। ম্যাচে সেনেগালের ছয় শটের দুটি লক্ষ্যে ছিল। ম্যাচটির আগে ঘুরে-ফিরে আসছিল এই দুই দলের আগের একমাত্র সাক্ষাতের লড়াইয়ের প্রসঙ্গ। ২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তখনকার বিশ্ব ও ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল সেনেগাল। বিশ্বকাপে আফ্রিকার দেশটির প্রথম ম্যাচ ছিল সেটি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয় ম্যাচটিকে। তবে এবার আর কোনো চমক দেখাতে পারল না সেনেগাল। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় হেরে বিদায় নেওয়ার পর থেকে, এই বছরের আফ্রিকান নেশন্সের কাপের বিতর্কিত ফাইনাল বাদ দিলে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত থেকে এ দিন খেলতে নামে সেনেগাল। শুরু থেকে বল দখলে ফ্রান্স আধিপত্য করলেও দুই দলের কেউ উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। পানি পানের বিরতির আগে ২৫তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত সেনেগাল। ফ্রান্সের আক্রমণ ঠেকিয়ে পাল্টা আক্রমণ শাণায় তারা। সতীর্থের পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে শট নেন নিকোলাস জ্যাকসন, কিন্তু বল পোস্টে লেগে গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন সেনেগালের ইসমাইলা সার। বক্সে কাছ থেকে উড়িয়ে মারেন তিনি। এটিই হয়ে থাকে প্রথমার্ধের শেষ কিক। প্রথমার্ধে গোলের জন্য ফ্রান্সের একটি শট, ১৯৬৬ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে দলটির সবচেয়ে কম। ৫৪তম মিনিটে বক্সে ঢুকে মাইকেল ওলিসের নেওয়া শট এগিয়ে এসে রুখে দেন গোলরক্ষক এদুয়াঁ মঁদি। বল তার পায়ে লেগে বাইরে যায়। চার মিনিট পর আরেকটি দারুণ সেভ করেন তিনি। এবার ওয়ান-অন-ওয়ানে এমবাপের শট ব্যর্থ করে দেন সাবেক চেলসি গোলরক্ষক। পরের মিনিটে সাদিও মানের চ্যালেঞ্জে বক্সে এমবাপে পড়ে গেলে পেনাল্টির জোরাল আবেদন করে ফ্রান্স। ভিএআরের সাহায্যে মনিটরে দেখে পেনাল্টি দেননি রেফারি। যেটি নিয়ে হতে পারে বিতর্ক। এরপর যদিও গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি এমবাপেকে। ৬৬তম মিনিটে ওলিসের পাস বক্সে পেয়ে প্রথম স্পর্শে আলতো শটে গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে জালে পাঠান তিনি। একটু পর সেনেগাল বল ফ্রান্সের জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল মেলেনি। ৮০তম মিনিটে দেম্বেলের বদলি নামা বার্কোলা ৮২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। মাঝমাঠ থেকে আদ্রিওঁ রাবিওর বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান তিনি। আট মিনিট যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে নাটকীয় কিছুর আভাস দেয় সেনেগাল। ইব্রাহিম এমবায়ের শট গোলরক্ষকের হাতে লেগে জালে জড়ায়। তবে পরের মিনিটেই ব্যবধান আবার বাড়িয়ে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন এমবাপে। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে জোরাল শটে গোলটি করেন রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামছে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর এবার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে বিরল এক কীর্তি গড়তে চায় লিওনেল স্কালোনির দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দুটি দেশ শিরোপা ধরে রাখতে পেরেছে। ১৯৩৮ সালের ইতালির পর সর্বশেষ ১৯৬২ সালে ব্রাজিল এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। এরপর আর কোনো দল টানা দুই আসরে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। তাই এবারের আসরে আর্জেন্টিনার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেই দীর্ঘ ৬৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটানো। দলের মূল শক্তি হিসেবে থাকছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ৩৮ বছর বয়সী এই মহাতারকার জন্য এটি হতে পারে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করলেও এবার আরেকটি শিরোপা জিতে বিদায় নেওয়ার লক্ষ্য তার। স্কালোনির দলেও বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজদের নিয়ে গড়া দলটি এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতেছে আর্জেন্টিনা। ফলে আত্মবিশ্বাসের দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। তবে সমালোচকরাও একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বেশি। ফলে নকআউট পর্বে ফ্রান্স, ব্রাজিল বা স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হলে তারা কতটা প্রস্তুত থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এদিকে বিশ্বকাপের পাশাপাশি দলটির কয়েকজন তারকাকে ঘিরে দলবদলের গুঞ্জনও চলছে। হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সব মিলিয়ে শিরোপা ধরে রাখা, মেসির বিদায়ী বিশ্বকাপ এবং নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন—এই তিন লক্ষ্য নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযানে নামছে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ফুটবল বিশ্বে বড় চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। আর এই ঐতিহাসিক ফলের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া, যার অনবদ্য পারফরম্যান্সে মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি। পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে যেন অদম্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ভোজিনিয়া। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি কেপ ভার্দেকে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। তার অসাধারণ নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই। তবে ম্যাচ শেষে দেখা যায় এক ভিন্ন দৃশ্য। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে ভেঙে পড়েন ভোজিনিয়া। মাঠেই হাঁটু গেড়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সতীর্থরা ঘিরে ধরে তাকে সান্ত্বনা দিলেও চোখের জল থামাতে পারেননি এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ভোজিনিয়া জানান, তার আবেগের পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত বেদনা ও গর্বের মিশ্র অনুভূতি। ছোটবেলায় দাদা-দাদির স্নেহে বেড়ে উঠলেও জীবনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত দেখার জন্য তারা আজ আর বেঁচে নেই। আরও কষ্টের বিষয়, ভিসা জটিলতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার মা-ও গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্যের দিনে প্রিয়জনদের পাশে না পাওয়ার আক্ষেপই তাকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। ভোজিনিয়ার এই হৃদয়স্পর্শী গল্প ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মন ছুঁয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সাবেক ফুটবলাররাও তার প্রশংসায় মুখর। অনেকের মতে, কেপ ভার্দের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অর্জিত এই ড্র শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়; এটি কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে গৌরবময় ও স্মরণীয় এক অধ্যায় হয়ে থাকবে।