অন্যান্য

শীতে কেন বেশি ঘুম পায় ও শরীর ঝিমিয়ে থাকে?

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫

শীত এলেই অনেকেরই মনে হয়, ঘুম যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। সকালে উঠতে কষ্ট হয়, সারাদিন ক্লান্ত লাগে, কাজের আগ্রহ কমে যায়। কেউ কেউ এটাকে অলসতা ভাবলেও বাস্তবে বিষয়টি মোটেও এমন নয়।

বিজ্ঞান বলছে, শীতের সঙ্গে মানুষের শরীর ও ঘুমের অভ্যাসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। সূর্যের আলো কমে যাওয়া থেকেই মূলত এই পরিবর্তন শুরু হয়। মানুষের শরীরে একটি স্বাভাবিক সময়সূচি আছে, যাকে বলা হয় সার্কাডিয়ান রিদম। এই দেহঘড়ি সূর্যের আলো–অন্ধকারের ওপর নির্ভর করে।

শীতে দিন ছোট ও রাত বড় হওয়ায় এই দেহঘড়ির ছন্দ বদলে যায়, আর তার প্রভাব পড়ে ঘুম ও শক্তির ওপর।

শীতের ঘুম নিয়ে গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?

‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউরোসায়েন্স’ নামের বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঘুমের ধরনও বদলায়। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, গ্রীষ্মের তুলনায় শীতে মানুষ আরইএম (REM) ঘুম বেশি পায়।

আরইএম ঘুম হলো সেই পর্যায়, যখন আমরা স্বপ্ন দেখি। এই ঘুম স্মৃতিশক্তি, মানসিক স্থিতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও শীতে মোট ঘুমের সময় খুব বেশি না বাড়লেও ঘুমের গঠন ও মানে স্পষ্ট পরিবর্তন আসে।

গবেষণাটি কীভাবে করা হয়েছিল?

এই গবেষণায় প্রাপ্তবয়স্কদের রাতের ঘুম বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়, যাকে বলা হয় পলিসমনোগ্রাফি। অংশগ্রহণকারীরা ল্যাবরেটরিতে অ্যালার্ম ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে ঘুমিয়েছিলেন। তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের নড়াচড়া ও ঘুমের ধাপ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—শীতকালে তারা গড়ে প্রায় ৩০ মিনিট বেশি আরইএম ঘুম পান।

এতে বোঝা যায়, আধুনিক শহরে কৃত্রিম আলো থাকলেও মানবদেহ এখনো ঋতুর পরিবর্তনে সাড়া দেয়।

শীতে কেন বেশি ক্লান্ত লাগে?

শীতে সূর্যের আলো কম থাকায় শরীরে মেলাটোনিন নামের হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে। এই হরমোন ঘুমের জন্য দায়ী। আলো কম হলে শরীর ধরে নেয় বিশ্রামের সময় বেশি, ফলে সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব, মনোযোগের ঘাটতি ও শক্তি কমে যাওয়ার অনুভূতি দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের দুর্বল আলো শরীরের স্বাভাবিক শক্তির মাত্রা কমিয়ে দেয়। তাই দিনের বেলাতেও মানুষ বেশি ক্লান্ত অনুভব করে।

মন-মেজাজ ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

শীতে ঘুমের পরিবর্তন শুধু শরীরেই নয়, মনের ওপরও প্রভাব ফেলে। অনেকেই এ সময় মন খারাপ, হতাশ বা অস্থির অনুভব করেন। মনোযোগ কমে যেতে পারে, কাজের আগ্রহ হ্রাস পায়। কেউ কেউ বেশি মিষ্টি বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং শরীরচর্চা কমিয়ে দেন, যা আবার ঘুমের মান আরও খারাপ করে।

এ ছাড়া যাঁরা ঋতুগত বিষণ্নতা (Seasonal Affective Disorder)–তে ভোগেন, তাঁদের শীতে ঘুম ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

শীতের সঙ্গে ঘুমের অভ্যাস কীভাবে মানিয়ে নেবেন?

গবেষকরা মনে করেন, আমাদের আধুনিক কাজ ও পড়াশোনার সময়সূচি শীতের স্বাভাবিক ঘুমের চাহিদার সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই নয়। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মানলে শীতে ভালো ঘুম পাওয়া সম্ভব—

- রাতে একটু আগে ঘুমাতে যাওয়া

- ঘুমানোর আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো

- শোয়ার ঘর ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা

- প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার চেষ্টা করা

- দিনের বেলায় যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলোতে থাকা

শীতে বেশি ঘুম পাওয়া বা ক্লান্ত লাগা কোনো দুর্বলতা বা অলসতা নয়, এটি শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক প্রতিক্রিয়া। ঋতুর পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে ঘুমের অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই শীতকালেও শরীর ও মন দুটোই সুস্থ রাখা সম্ভব।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জমির দলিলে ভুল হলে সহজে সংশোধন করবেন যেভাবে

জমি কেনার পর দলিলে দাগ, খতিয়ান, মৌজা, জমির চৌহদ্দি কিংবা নামের বানানে ভুল ধরা পড়লে দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেকে।    অনেকের ধারণা, দলিল একবার নিবন্ধন হয়ে গেলে আর সংশোধনের সুযোগ নেই। তবে ভুলের ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনগতভাবে দলিল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য কখনো সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হয়, আবার কখনো আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়।   দলিল কীভাবে সংশোধন করবেন? দলিলে এমন ভুল থাকলে, যা সংশোধন করলে জমির মালিকানা বা দলিলের মূল বিষয়বস্তু পরিবর্তিত হয় না, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগাযোগ করে করণীয় জেনে নেওয়া যেতে পারে। তবে ভুলের কারণে মালিকানা, জমির পরিমাণ বা পক্ষগুলোর অধিকার নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তির প্রয়োজন হতে পারে।   নির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৩১ ধারা অনুযায়ী, প্রতারণা বা পক্ষগুলোর পারস্পরিক ভুলের কারণে কোনো লিখিত দলিল তাদের প্রকৃত অভিপ্রায় প্রকাশ না করলে আদালতে দলিল সংশোধনের মামলা করা যায়। আদালত প্রমাণ পর্যালোচনা করে সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।   আদালতে যেতে হলে কী করবেন?   দলিলের ভুল সংশোধনে আদালতে যাওয়ার আগে দলিলের মূল কপি, আগের দলিল, খতিয়ান, পর্চা এবং ভুলের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ভুলটি কী ধরনের এবং কোন আইনি প্রতিকার প্রযোজ্য, তা নির্ধারণে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।   দলিল সংশোধনের মামলা করার সময়সীমা সব ক্ষেত্রে একইভাবে নির্ধারণ করা যায় না। তাই তিন বছর পার হলেই সংশোধনের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়—এমন ধারণা না করে ঘটনার বিবরণ ও প্রযোজ্য তামাদি আইন যাচাই করা উচিত।   দলিল লেখার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন জমি কেনার আগে ক্রেতাকে কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। যেমন—   বিক্রেতার পরিচয় ও সক্ষমতা: বিক্রেতা আইনগতভাবে জমি বিক্রির অধিকারী কি না এবং তার পরিচয় সঠিক কি না, তা যাচাই করুন।   মালিকানার কাগজপত্র: আগের দলিল, খতিয়ান, পর্চা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা পেলে উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করুন।   জমির পরিচিতি: জেলা, উপজেলা, মৌজা, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, জমির শ্রেণি ও পরিমাণ সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কি না, দেখুন।   জমির চৌহদ্দি: জমির উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম পাশের সীমানা এবং সংলগ্ন জমির বিবরণ যাচাই করুন।   জমির পরিমাণ ও মূল্য: মোট জমির পরিমাণ, বিক্রয়মূল্য, বায়নার টাকা এবং বাকি পরিশোধযোগ্য অর্থ দলিলে সঠিকভাবে উল্লেখ আছে কি না, নিশ্চিত করুন।   স্বাক্ষর ও সাক্ষী: দলিলের প্রয়োজনীয় স্থানে বিক্রেতার স্বাক্ষর বা টিপসই, দলিল লেখকের স্বাক্ষর এবং সাক্ষীদের তথ্য ঠিক আছে কি না, যাচাই করুন।   কাটাকাটি ও সংশোধন: দলিলে অপ্রয়োজনীয় কাটাকাটি, ঘষামাজা ও অস্পষ্টতা এড়িয়ে চলুন। কোনো সংশোধন প্রয়োজন হলে তা আইনসম্মতভাবে নথিভুক্ত হয়েছে কি না, নিশ্চিত করুন।   দলিল লেখক নির্বাচন: দক্ষ ও অভিজ্ঞ দলিল লেখকের সহায়তা নিন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তালিকাভুক্ত কি না, তা যাচাই করে নিন।   সতর্কতাই পারে জমি নিয়ে বিরোধ কমাতে জমির দলিল তৈরির সময় সরকারি নমুনা অনুসরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং একাধিকবার প্রুফ দেখা ভুলের ঝুঁকি কমাতে পারে। বিশেষ করে দাগ ও খতিয়ান নম্বর, জমির পরিমাণ এবং চৌহদ্দি লেখার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। দলিলে কোনো ভুল ধরা পড়লে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সনদে ভুল তথ্য? জেনে নিন সংশোধনের সহজ উপায়

ছবি: সংগৃহীত

হুতিদের হামলায় ঝুঁকিতে সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশিরা

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং

‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’রা এক হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক থাকছে না, একক প্রার্থী দেবে বিএনপি

সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি। এ ছাড়া এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না।     রবিবার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।       স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের বিষয়ে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সাধারণত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।       তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা যাবে না। প্রকৃত জনসমর্থন রয়েছে, এমন প্রার্থীই যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।       স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে দল। এ জন্য তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো কাজে লাগানো হবে।       তিনি বলেন, এবার দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে না। বিএনপি চায়, নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক এবং স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন।       তৃণমূলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে দল কী ব্যবস্থা নেবে এমন প্রশ্নে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, এ বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এখনো এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট ‘ব্যান’ করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

স্বত্ব নিয়ে বিরোধ থাকলে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত নয়, হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আয়াসসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত
মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা, জানালেন জামায়াত আমির

মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষা ও তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।   রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে তুরস্ক সফর ও সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শফিকুর রহমান।   জামায়াত আমির বলেন, তুরস্কে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে তুলে ধরা। সফরকালে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনায় শিক্ষা, তৈরি পোশাক খাত এবং মক্কা চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।   বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, বিশ্ব এখন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের হামলাই বিশ্বের জন্য কল্যাণকর নয়। আলোচনার পথ ধরেই বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনা উচিত।   এর আগে গত ৭ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ অংশ নিতে দেশটিতে যান শফিকুর রহমান।   সম্মেলনে বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো সামনে এল ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখ!

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপিকে নিয়ে সমাবেশে মামুনুল হকের বিস্ফোরক মন্তব্য

সাহিত্য নোবেল জিতলেন কানাডীয় লেখক অ্যান কার্সন

0 Comments