অন্যান্য

শীতে কেন বেশি ঘুম পায় ও শরীর ঝিমিয়ে থাকে?

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫

শীত এলেই অনেকেরই মনে হয়, ঘুম যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। সকালে উঠতে কষ্ট হয়, সারাদিন ক্লান্ত লাগে, কাজের আগ্রহ কমে যায়। কেউ কেউ এটাকে অলসতা ভাবলেও বাস্তবে বিষয়টি মোটেও এমন নয়।

বিজ্ঞান বলছে, শীতের সঙ্গে মানুষের শরীর ও ঘুমের অভ্যাসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। সূর্যের আলো কমে যাওয়া থেকেই মূলত এই পরিবর্তন শুরু হয়। মানুষের শরীরে একটি স্বাভাবিক সময়সূচি আছে, যাকে বলা হয় সার্কাডিয়ান রিদম। এই দেহঘড়ি সূর্যের আলো–অন্ধকারের ওপর নির্ভর করে।

শীতে দিন ছোট ও রাত বড় হওয়ায় এই দেহঘড়ির ছন্দ বদলে যায়, আর তার প্রভাব পড়ে ঘুম ও শক্তির ওপর।

শীতের ঘুম নিয়ে গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?

‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউরোসায়েন্স’ নামের বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঘুমের ধরনও বদলায়। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, গ্রীষ্মের তুলনায় শীতে মানুষ আরইএম (REM) ঘুম বেশি পায়।

আরইএম ঘুম হলো সেই পর্যায়, যখন আমরা স্বপ্ন দেখি। এই ঘুম স্মৃতিশক্তি, মানসিক স্থিতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও শীতে মোট ঘুমের সময় খুব বেশি না বাড়লেও ঘুমের গঠন ও মানে স্পষ্ট পরিবর্তন আসে।

গবেষণাটি কীভাবে করা হয়েছিল?

এই গবেষণায় প্রাপ্তবয়স্কদের রাতের ঘুম বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়, যাকে বলা হয় পলিসমনোগ্রাফি। অংশগ্রহণকারীরা ল্যাবরেটরিতে অ্যালার্ম ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে ঘুমিয়েছিলেন। তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের নড়াচড়া ও ঘুমের ধাপ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—শীতকালে তারা গড়ে প্রায় ৩০ মিনিট বেশি আরইএম ঘুম পান।

এতে বোঝা যায়, আধুনিক শহরে কৃত্রিম আলো থাকলেও মানবদেহ এখনো ঋতুর পরিবর্তনে সাড়া দেয়।

শীতে কেন বেশি ক্লান্ত লাগে?

শীতে সূর্যের আলো কম থাকায় শরীরে মেলাটোনিন নামের হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে। এই হরমোন ঘুমের জন্য দায়ী। আলো কম হলে শরীর ধরে নেয় বিশ্রামের সময় বেশি, ফলে সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব, মনোযোগের ঘাটতি ও শক্তি কমে যাওয়ার অনুভূতি দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের দুর্বল আলো শরীরের স্বাভাবিক শক্তির মাত্রা কমিয়ে দেয়। তাই দিনের বেলাতেও মানুষ বেশি ক্লান্ত অনুভব করে।

মন-মেজাজ ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

শীতে ঘুমের পরিবর্তন শুধু শরীরেই নয়, মনের ওপরও প্রভাব ফেলে। অনেকেই এ সময় মন খারাপ, হতাশ বা অস্থির অনুভব করেন। মনোযোগ কমে যেতে পারে, কাজের আগ্রহ হ্রাস পায়। কেউ কেউ বেশি মিষ্টি বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং শরীরচর্চা কমিয়ে দেন, যা আবার ঘুমের মান আরও খারাপ করে।

এ ছাড়া যাঁরা ঋতুগত বিষণ্নতা (Seasonal Affective Disorder)–তে ভোগেন, তাঁদের শীতে ঘুম ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

শীতের সঙ্গে ঘুমের অভ্যাস কীভাবে মানিয়ে নেবেন?

গবেষকরা মনে করেন, আমাদের আধুনিক কাজ ও পড়াশোনার সময়সূচি শীতের স্বাভাবিক ঘুমের চাহিদার সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই নয়। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মানলে শীতে ভালো ঘুম পাওয়া সম্ভব—

- রাতে একটু আগে ঘুমাতে যাওয়া

- ঘুমানোর আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো

- শোয়ার ঘর ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা

- প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার চেষ্টা করা

- দিনের বেলায় যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলোতে থাকা

শীতে বেশি ঘুম পাওয়া বা ক্লান্ত লাগা কোনো দুর্বলতা বা অলসতা নয়, এটি শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক প্রতিক্রিয়া। ঋতুর পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে ঘুমের অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই শীতকালেও শরীর ও মন দুটোই সুস্থ রাখা সম্ভব।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে জামায়াতের মহিলা বিভাগের বিক্ষোভ মিছিল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা বিভাগের উদ্যোগে মিরপুর-১১ এলাকায় শিশু রামিসার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার পর এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানিয়েছেন। এ সময় তারা—‘বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘হত্যার বিচার চাই’, ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’ বলে স্লোগান দেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, গত সাত দিনে সারাদেশে চারটি শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার দায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে বলেও দাবি জানান তারা।একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এক নারী নেত্রী বলেন, ‘সম্মানিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আপনারা জাতির বিবেক। আপনারা যদি প্রকৃত সত্য তুলে ধরেন এবং আমাদের সঙ্গে আওয়াজ তোলেন, তাহলে হয়তো আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সবাই মা। নিহত শিশুটির বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বারবার মনে হয়েছে, আজ যদি সেই জায়গায় আমার সন্তান থাকতো, তাহলে আমি কীভাবে বেঁচে থাকতাম? বিচার হলেও হয়তো কিছুটা শান্তি মিলবে, কিন্তু এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি কোনো পরিবার কোনোদিন ভুলতে পারবে না।’ বক্তারা বলেন, একটি মানববন্ধন বা বিক্ষোভে থেমে গেলে চলবে না। সমাজের প্রতিটি মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠতে হবে এবং সরকারের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করতে হবে। বক্তারা সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন তুলুন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান— নরপিশাচদের গ্রেপ্তারের পরও বিচারে দেরি কেন? একের পর এক ঘটনা ঘটে, আমরা প্রতিবাদ করি, তারপর সব থেমে যায়। এভাবে চলতে পারে না।’ বক্তারা আরো বলেন, ক্ষমতার মোহে বিবেককে বিসর্জন না দিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরো অনেক পরিবারকে এমন শোক বয়ে বেড়াতে হবে।

মারিয়া রহমান মে ২১, ২০২৬
পরিত্যক্ত লবণমিশ্রিত মাটি সিদ্ধ করে তৈরি হচ্ছে ঝরঝরে সাদা লবণ। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার ডুবি গ্রাম থেকে তোলা।

স্বরূপকাঠিতে মাটি সিদ্ধ করে লবণ

যুক্তরাষ্ট্রের কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার ভূতত্ত্ব ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও পানি বিশেষজ্ঞ ড. মো. খালেকুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা ব্যারাজ কেন বাংলাদেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে?

অধ্যাপক আসিফ নজরুল

আওয়ামী লীগ ছিলই, ‘ব্যাক’ করেছে তাদের দম্ভ: আসিফ নজরুল

আম্রপালি নামটির পেছনে রয়েছে রোমাঞ্চে ভরা এক গল্প
যেভাবে নর্তকীর নাম থেকে এলো জনপ্রিয় আমের নাম

আমকে বলা হয় ফলের রাজা। স্বাদ, ঘ্রাণ আর পুষ্টিগুণ—সব মিলিয়ে গ্রীষ্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফলগুলোর একটি এটি। দেশের বাজারে নানা জাতের আমের ভিড়ে বিশেষভাবে পরিচিত আম্রপালি। ছোট আকার, গাঢ় মিষ্টি স্বাদ আর দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করা যায় বলেই এই আমের চাহিদা বেশ বেশি। তবে শুধু স্বাদ নয়, আম্রপালি নামটির পেছনেও রয়েছে ইতিহাস ও রোমাঞ্চে ভরা এক গল্প। কৃষিবিদ ও ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত এক নর্তকীর নাম থেকেই এসেছে এই আমের নাম। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে প্রাচীন ভারতে বৈশালি নামে একটি সমৃদ্ধ নগর ছিল। সেই নগরের এক রাজউদ্যানে আমগাছের নিচে এক শিশুকন্যাকে কুড়িয়ে পাওয়া যায়। পরে উদ্যানের রক্ষকই শিশুটিকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন। আম্রতলায় পাওয়া বলেই তার নাম রাখা হয় ‘আম্বপালি’ বা ‘আম্রপালি’। বড় হওয়ার পর আম্রপালি হয়ে ওঠেন সেই সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও রূপসী নর্তকী। তার সৌন্দর্য ও নৃত্যগুণ নিয়ে চারদিকে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাকে বৈশালির ‘নগরবধূ’ হিসেবেও ঘোষণা করা হয়। পরে জীবনের শেষ সময়ে তিনি গৌতম বুদ্ধের অনুসারী হন বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। এই ঐতিহাসিক চরিত্রের নাম থেকেই ১৯৭৮ সালে ভারতের কৃষি গবেষকরা নতুন এক জাতের আমের নাম রাখেন ‘আম্রপালি’। গবেষকেরা ‘দশেহরি’ ও ‘নীলাম’ জাতের আমের সংকরায়নের মাধ্যমে এই জাত উদ্ভাবন করেন। আম্রপালি আম সাধারণত ছোট থেকে মাঝারি আকারের হয়। এর খোসা মসৃণ এবং পাকার পর হলুদাভ-সবুজ রং ধারণ করে। শাঁস গাঢ় কমলা, আঁশ কম এবং স্বাদ অনেক বেশি মিষ্টি। এছাড়া এই আম তুলনামূলক দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করা যায়। সাধারণত জুনের শেষভাগ থেকে বাজারে ভালো মানের পাকা আম্রপালি পাওয়া যায়।

মারিয়া রহমান মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে নিন্দা জানাল জামায়াত

ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ফাইল ছবি

সজীব ওয়াজেদ জয়ের অজানা তথ্য ফাঁস!

মির্জা আব্বাস। ফাইল ছবি

আগের চেয়ে সুস্থ মির্জা আব্বাস, চাইলেন দেশবাসীর দোয়া

কুরবানির পশু ওজনে মাপা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
ওজন করে কুরবানির পশু কেনা কি জায়েজ?

কুরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার মূল ভিত্তি তাকওয়া, আন্তরিকতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা। প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পশু কেনাবেচায় নানা নতুন পদ্ধতি যুক্ত হচ্ছে। আধুনিক সময়ে অনেক খামারি ও বিক্রেতা জীবন্ত পশুর ওজন মেপে প্রতি কেজি অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করছেন, যা ক্রেতাদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন দেখা দেয়— ওজন করে কুরবানির পশু কেনা কি শরিয়তসম্মত? এতে কি কুরবানির উদ্দেশ্য বা ইবাদতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়? ইসলামি শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে রয়েছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা। ওজন করে পশু কেনা কি বৈধ? শরিয়তের দৃষ্টিতে ওজন মেপে পশুর দাম নির্ধারণ করা মূলত বৈধ ও জায়েজ। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, এটি কেনাবেচার একটি সহজ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই ন্যায্য মূল্যে একমত হতে পারেন এবং অতিরিক্ত দাম বা প্রতারণার আশঙ্কাও কমে যায়। ইসলাম যেহেতু কারও ওপর অন্যায়ভাবে ক্ষতি চাপিয়ে দেওয়াকে সমর্থন করে না, তাই স্বচ্ছতা নিশ্চিতকারী এ ধরনের পদ্ধতি শরিয়তসম্মত বলে বিবেচিত। কুরবানিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— নিয়ত ওজন মেপে পশু কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়ত বা উদ্দেশ্য। কারণ কুরবানির প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আন্তরিক চেষ্টার ওপর। ➤ ভালো নিয়ত হলে রয়েছে সওয়াব যদি কেউ বেশি গোশত পাওয়ার আশায় বড় পশু কেনেন এই উদ্দেশ্যে যে দরিদ্র, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বেশি পরিমাণে গোশত বিতরণ করবেন, তাহলে এটি উত্তম নিয়ত হিসেবে গণ্য হবে। এমন নিয়তের মধ্যে ইবাদতের সৌন্দর্য ও মানবিকতা প্রকাশ পায় এবং এতে সওয়াবও রয়েছে। ➤ ভুল নিয়ত নষ্ট করতে পারে কুরবানির শিক্ষা অন্যদিকে যদি কেবল লাভ-ক্ষতির হিসাব, কত কেজি গোশত পাওয়া যাবে কিংবা লোকদেখানোর মানসিকতা প্রাধান্য পায়, তাহলে কুরবানির মূল শিক্ষা ও আত্মিক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কুরবানি শুধু মাংস অর্জনের বিষয় নয়; বরং এটি আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের প্রতীক। ডিজিটাল স্কেলে পশু কেনায় ধর্মীয় বাধা নেই বর্তমান সময়ে ডিজিটাল স্কেলে ওজন মেপে স্বচ্ছতার সঙ্গে পশু কেনাবেচা করা হচ্ছে। এতে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ওজন করার এই প্রক্রিয়া যেন শুধুমাত্র লাভ-লোকসানের অঙ্কে সীমাবদ্ধ না হয়ে যায়। কুরবানির ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো— সঠিক নিয়ত, শরিয়তসম্মত পশু নির্বাচন এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। ওজন করে কুরবানির পশু কেনা আধুনিক ও স্বচ্ছ একটি পদ্ধতি, যা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ। তবে কুরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য নির্ভর করে মানুষের অন্তরের তাকওয়া ও নিয়তের ওপর। তাই পশুর ওজন বা দামের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ইবাদতের উদ্দেশ্য, মানবিকতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে। তথ্যসূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪৯৭; ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৯৯; ফাতাওয়া কাসিমিয়া, খণ্ড ১৯, পৃষ্ঠা ৩৫৩)

মারিয়া রহমান মে ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন গোলাম পরওয়ার

ছবি: সংগৃহীত

‘সবাই বলতেছে, আপনি রাগ করলেন, ভাই?’ সাক্ষাৎকারে ভাইরাল ঈমান আলী

ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, দাবি মাহফুজ আলমের

0 Comments