জাতীয়

আড়াই বছরের প্রকল্প যাচ্ছে সাড়ে ৮ বছরে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫ 0

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় আকারের উড়োজাহাজ নিরাপদে ওঠানামার লক্ষ্যে নেওয়া রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে শক্তিশালীকরণ প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া আড়াই বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের এরই মধ্যে চার দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তারপরও কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় এবার আরও ছয় মাস সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, বৈশ্বিক সংকট ও কাজের পরিধি পরিবর্তনকে কারণ হিসেবে দেখানো হলেও প্রকল্প পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে শক্তি বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পটি ২০১৮ সালে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল বোয়িং-৭৭৭-এর মতো বড় উড়োজাহাজ নিরাপদে ওঠানামার সক্ষমতা তৈরি। এর আওতায় রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের পেভমেন্ট শক্তিশালীকরণ, সাইড স্ট্রিপ গ্রেডিং ও এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম (এজিএল) উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৬২২ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু দুই বছর ছয় মাস মেয়াদি প্রকল্পটি আট বছরেও শেষ হয়নি। এবার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হলে প্রকল্পের সময়কাল দাঁড়াবে সাড়ে ৮ বছর—অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ছয় বছর বেশি।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে মীর আক্তার-সিএএমসিই জেভি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত করোনার কারণে প্রায় ১৮ মাস কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ডলার সংকটে আমদানিনির্ভর উপকরণ—এসবিএস মডিফায়েড অ্যাসফল্ট, বিটুমিন, জয়েন্ট সিলিং কম্পাউন্ড ও এজিএল সিস্টেম সময়ে সংগ্রহ করা যায়নি।

পরবর্তী সময়ে এজিএল সিস্টেমকে সিএটি-১ থেকে সিএটি-২ মানে উন্নীত করার সিদ্ধান্তে টেন্ডার আইটেমে পরিবর্তন ও নন-টেন্ডার আইটেম সংযোজন করা হয়। একনেক কর্তৃক প্রথম সংশোধিত ডিপিপি ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের নতুন মেয়াদ ধরা হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু সংশোধিত কাজগুলোও সময়মতো শেষ করা যাবে না বলে আরও ছয় মাস বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) শর্তসাপেক্ষে মতামত দিয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংশোধিত ইমপ্লিমেন্টেশন ম্যাট্রিক্স, মাইলস্টোনভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা, আমদানিনির্ভর উপকরণের রোডম্যাপ, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, অঙ্গভিত্তিক ব্যয়সীমা রক্ষা এবং প্রকল্প অডিট সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল। তবে পূর্ববর্তী মেয়াদ বৃদ্ধির সময় দেওয়া শর্ত বাস্তবায়নে পরিকল্পনা কমিশনের কোনো প্রকাশ্য মূল্যায়ন নেই।

প্রায় আট বছরেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো শেষ না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও তদারকি দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অর্ধসমাপ্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিরাপত্তা ও সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কার্যকর তদারকির অভাব স্পষ্ট।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা) ফররুখ আহম্মদ কালবেলাকে বলেন, ঠিকাদার নিয়োগে বিলম্বিত হওয়ায় প্রকল্পের কাজ শুরু হয় দেরিতে। এখন পুরোদমে কাজ চলছে এবং প্রস্তাবিত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব বলেও তিনি জানান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ফাইল ছবি
ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে ১১৭৪ মামলা শুনানি করে ৪০৯টি নিষ্পত্তি

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আজ সুপ্রিম কোর্টের উভয় (আপিল ও হাইকোর্ট) বিভাগে ১১৭৪টি মামলা শুনানি করে ৪০৯টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।  সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৯ এপ্রিল বুধবার তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে শুনানির মাধ্যমে আপিল বিভাগে (চেম্বার জজ আদালতসহ) ৫২টি মামলা শুনানি করে ৩০টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১১২২টি মামলা শুনানি করে ৩৭৯টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আজ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে সর্বমোট ১১৭৪টি মামলা শুনানি করে ৪০৯টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে উভয় বিভাগে দুই দিনে ২ হাজার ১৬৭টি মামলা শুনানি করে ৭৭৩ টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত ২০ এপ্রিলের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন-২০২০ এবং সুপ্রিম কোর্টের জারিকৃত প্র্যাকটিস নির্দেশনা অনুসরণ করে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সপ্তাহের প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আদালত পরিচালিত হবে। সপ্তাহের অন্যান্য কার্যদিবসে শারীরিক উপস্থিতিতে আদালত পরিচালিত হবে। এই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে (চেম্বার জজ আদালতসহ) ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আদালতে শুনানি সংক্রান্ত মামলার দৈনন্দিন কার্যতালিকা এবং ভার্চুয়াল (মিটিং) আইডি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে ও সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ হতে জানা যাবে। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0

সংসদ সচিবালয় কমিশনের ৩৭তম বৈঠকে বাজেট অনুমোদন

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির

সেবা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতে কাজ করছে ডিএমপি: আইজিপি

তেলের দাম বৃদ্ধিতে ঢাকার পাম্প ফাঁকা : মজুতের হিড়িক কমেছে

ছবি : সংগৃহীত
বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম, চাপে সাধারণ ক্রেতারা

ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।   বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেলের বাজারদর ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।   মন্ত্রী জানান, শুধু বোতলজাত সয়াবিন তেল নয়, খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে খোলা তেল এখন ১৭৫ টাকার পরিবর্তে ১৭৯ টাকায় বিক্রি হবে।   তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবেই দেশে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। বিশ্ববাজারে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎস পর্যায়েই ব্যয় বেড়েছে, যার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ছে।   বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের ভোক্তারা বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি বুঝবেন এবং নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ আগের তুলনায় আরও স্বাভাবিক হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান ঢাবির সাবেক উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খানের

ছবি : পিএমও

ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৩ মাস সহায়তা দেবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, সংসদে জানালেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর প্রাইম হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ

নোয়াখালীর সদরে অবস্থিত প্রাইম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমাম হোসেন বাবু নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।    স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসা অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।    মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার প্রাইম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ইমাম হোসেন বাবু সেনবাগ উপজেলার কেশরপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাজুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং দুই সন্তানের জনক।   স্বজনদের দাবি, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই ইমাম হোসেন বাবুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।   এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, রোগীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।   খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সহকারী পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মোঃ আরিফ হোসেন, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলামসহ পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব বাংলাদেশ

ছবি : সংগৃহীত

দেশের সব অঞ্চলে মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে ৯০% ঋণ রাশিয়ার, ২৮ বছরে পরিশোধ করবে বাংলাদেশ

0 Comments