জাতীয়

আরও বাড়বে পৌষের শীতের তীব্রতা, স্থবির জনজীবন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫

আগামী কয়েকদিন সারা দেশে তাপমাত্রা আরও কমবে। বাড়বে শীতের তীব্রতা, পাশাপাশি থাকবে কুয়াশার প্রকোপ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী জেলায় গতকাল শুক্রবার বয়ে গেছে মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, যা আজ শনিবারও চলতে পারে। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

সারা দেশেই ভোর ও রাতের দিকে কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সকালে কাজে বের হওয়া মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী, পথচারী ও ভাসমান জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। শীত থেকে বাঁচতে অনেককে খোলা জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে বা অস্থায়ী উষ্ণতার ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে।

গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহীর বাঘাবাড়ি ও নীলফামারীর ডিমলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বড় এলাকাজুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়; ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

দেশের ওপর এখন শীতের প্রভাব বাড়ার কারণ হিসেবে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের কথা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, এ বলয়ের প্রভাবে দেশে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। এ বলয়ের বর্ধিতাংশ এখন পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বলেন, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী জেলায় যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, সেটি এ মৌসুমের প্রথম। এমন আবহাওয়া ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, শনিবারও তা অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় ঠান্ডার অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবওহাওয়া অফিস।

ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। ঢাকাগামী পাঁচটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ভারতের কলকাতায় অবতরণ (ডাইভার্ট) করতে বাধ্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১টা থেকে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত এ পরিস্থিতি চলে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রাত ১টার পর থেকে রানওয়ে এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে গেলে অবতরণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ সময় কুয়েত থেকে ঢাকাগামী কুয়েত এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট, জাজিরা এয়ারওয়েজের দুটি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নামতে না পেরে কলকাতা বিমানবন্দরে চলে যায়। এ ছাড়া রাত সাড়ে ৩টার দিকে দাম্মাম থেকে আসা বিমানের আরও একটি ফ্লাইট অবতরণে ব্যর্থ হয়ে কলকাতায় অবতরণ করে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানান, কুয়েত এয়ারলাইন্সসহ বেশকিছু ফ্লাইট ডাইভার্ট করে কলকাতা পাঠানো হয়েছে।

কুয়াশার কারণে শুধু ডাইভার্ট নয়, বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়েও পড়েছেন যাত্রীরা। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুবাই থেকে আসা ফ্লাইট, বিমানের কুয়ালালামপুর ও গুয়াঞ্জু থেকে আসা ফ্লাইট, এয়ার অ্যারাবিয়ার শারজাহ এবং সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা ফ্লাইটগুলো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা বিলম্বে অবতরণ করেছে।

শীতকাল হওয়ায় মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত প্রায়ই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে রানওয়ে। এতে আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীরা দীর্ঘ সময় বিমানে বা ভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন ভোরে কুয়াশার এ দাপট অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে হঠাৎ হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু অবস্থা যশোরবাসীর। গত তিন-চার দিন জেলায় প্রচণ্ড কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া বইছে। দুপুরে সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তাপমাত্রা ছিল কম। উত্তরী হাওয়ায় থরথর করে কাঁপছে প্রাণিকুল। বৃষ্টির মতো ঝিরঝির করে পড়ছে কুয়াশা। এতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

শহরের ধর্মতলা এলাকার রিকশাচালক শিমুল হোসেন বলেন, শীতে রিকশা চালাতে গিয়ে হাত-পা জমে যাচ্ছে। ব্রেকও ঠিকমতো ধরা যাচ্ছে না, দুর্ঘটনার ভয় বাড়ছে।

ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়ক যানবাহনের ধীরগতি। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে সব ধরনের যানবাহন। গতকাল ভোরে যমুনা সেতু পূর্ব ইব্রাহীমাবাদ রেলস্টেশন, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও রাবনা বাইপাস এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

একতা পরিবহনের চালক সুমন মিয়া বলেন, আমি ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাচ্ছি। ভোর থেকেই কুয়াশা খুব বেশি। সামনে কী আছে বোঝা যায় না, তাই হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরে গাড়ি চালাচ্ছি।

চট্টগ্রাম থেকে পাবনাগামী ট্রাকচালক আব্দুল আলিম বলেন, ঘন কুয়াশায় কিছুই পরিষ্কার দেখা যায় না। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব পর্যন্ত সড়কের কাজ চলমান থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। তাই কম গতিতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছি।

মৌসুমের সর্বনিম্ন দশ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে সিরাজগঞ্জের যমুনা পারের মানুষ। প্রচণ্ড শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় নাকাল হয়ে পড়েছে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের মানুষগুলো। দেখা মেলেনি সূর্যের। প্রচণ্ড শীতে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষগুলো পড়েছে বিপাকে। তারা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে না পারায় কমে গেছে আয়।

রিকশা শ্রমিক উজ্জ্বল হোসেন বলেন, শুক্রবার আমাদের বেশি কাজকাম হয়। শহরে অনেক মানুষ ঘুরতে আসে। কিন্তু শীতের কারণে শহরে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমাদের কেউ কেউ ১০০ টাকাও রোজগার করতে পারেনি।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সোহেল ও মুকুল বলেন, সকাল থেকে বসে রয়েছি। কোনো ভাড়া মিলছে না। এভাবে থাকলে সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়বে।

পাবনায়ও শীত জেঁকে বসেছে। ঘন কুয়াশা এবং হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না খুব একটা। দুপুর পর্যন্ত প্রকৃতি ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকছে। হাড়কাঁপানো শীতে পদ্মা-যমুনা নদীর চরাঞ্চলের দুই লক্ষাধিক মানুষসহ অন্তত পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শীতে কাজ করতে না পারায় মানবেতর দিনযাপন করছেন তারা।

পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহে তীব্র শীতে কাঁপতে শুরু করেছে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামের মানুষ। টানা তিন দিন ধরে ১১-এর ঘরে অবস্থান করছে এ অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায় হাড়কাঁপানো শীতের সঙ্গে বেড়েই চলছে কুয়াশার দাপট। সেইসঙ্গে উত্তরীয় হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে এ জনপদের মানুষ। চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে-খাওয়া, দিনমজুর, নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষসহ জেলার পাঁচ শতাধিক চর ও দ্বীপ চরের হতদরিদ্র, ছিন্নমূল মানুষ।

কুড়িগ্রাম সদরের উত্তর নওয়াবস এলাকার রিকশাচালক আবুল কাশেম বলেন, কয়েকদিন ধরে তীব্র ঠান্ডা চলছে। খুব সকালে রিকশা নিয়ে বের হলেও ঠান্ডার কারণে দীর্ঘ সময়েও যাত্রী মিলছে না। এতে আয়ে ভাটা পড়ায় আমরা পরিবারের ব্যয় চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।

কৃষি শ্রমিক খসমত বলেন, কাজের সন্ধানে বেরিয়ে ঠান্ডায় হাত-পা কাঁপতেছে। ঠান্ডায় জীবন বাঁচানো মুশকিল। কিন্তু কাজকাম না করলে তো পেটে ভাত যাবে না।

একই পরিস্থিতি কুড়িগ্রামের কাঁচিচর এলাকার মাটি কাটা শ্রমিক ভারত চন্দ্রের। তিনি বলেন, ঠান্ডায় কোদাল হাত দিয়ে ধরলে হাত শিক লাগে। পেট তো আর ঠান্ডা বোঝে না। তাই কষ্টকর হলেও কাজ করতে হবে। নইলে পরিবারের ভরণপোষণ চালাব কীভাবে?

পাঁচগাছি ইউনিয়নের মাছ বিক্রেতা হরেন্দ্র নাথ বলেন, এ ঠান্ডায় খুব বিপদে আছি। পানি নাড়লে হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হচ্ছে। মাছ বিক্রি না করলে খাব কী?

অন্যদিকে, শীত বাড়লেও চরাঞ্চলে এখনো পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র পৌঁছেনি। অনেক এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। পৌষের শুরুতেই উত্তরের জনপদ নীলফামারীর ডিমলায় জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

ডালিয়া নতুন বাজার এলাকায় পাথরের সাইটে কাজের অপেক্ষায় থাকা বাইশপুকুর গ্রামের শ্রমিক লাল মিয়া বলেন, কুয়াশা আর শীতের কারণে সাইটে কাজ বন্ধ। দুদিন ধরে এসে ফিরে যাচ্ছি।

চুয়াডাঙ্গায় হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু মানুষ ও প্রাণিকুল। সূর্যের সামান্য রোদের উষ্ণতা আশীর্বাদ হয়েছে এ জনপদের মানুষের। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ কাজে বের হচ্ছেন না। শীতে দুর্ভোগে পড়েছে খেটে-খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ।

ঘন কুয়াশার কারণে বরিশালে সূর্যের দেখা মেলেনি। এ কারণে শীতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আগামী দু-চার দিনে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল। তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বর ও জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কমে থাকে। সেই অনুযায়ী সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমবে। তবে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা নেই। অবশ্য বরিশাল বিভাগের নদী এবং সড়ক পথে শুক্রবার মধ্যরাত ভোর পর্যন্ত নদী ঘন কুয়াশা থাকবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এগ্রিভোল্টাইক এগিয়ে নিতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের স্বার্থ ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করেই দেশে এগ্রিভোল্টাইক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, একই জমিতে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে এগ্রিভোল্টাইক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   বুধবার রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকায় ন্যাশনাল এগ্রিভোল্টাইকস ওয়ার্কশপ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   মন্ত্রী বলেন, এনডিসি ৩ দশমিক ০ এর আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। তাই বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে উৎপাদনশীল কৃষিজমির ক্ষতি না হয়।   তিনি বলেন, এগ্রিভোল্টাইক পদ্ধতিতে একই জমিতে কৃষিকাজ ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এতে ফসল উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কৃষকের অতিরিক্ত আয়, পানির দক্ষ ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।   পরিবেশমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃষকের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কার্বন অর্থায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশগত অখণ্ডতা, স্বচ্ছতা এবং জাতীয় নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
ডাক বিভাগের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

ডাক বিভাগের ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

বুধবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এডিপি অন্তর্ভুক্ত চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও পর্যালোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ ইউজিসির

ছবি: সংগৃহীত
পটিয়ায় মুখোশ পরে ঝটিকা মিছিল, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী সন্দেহে তদন্ত

চট্টগ্রামের পটিয়ায় ভোরে মুখোশ পরে মহাসড়কে ঝটিকা মিছিল করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে পটিয়া পৌর সদরের পোস্ট অফিস এলাকায়।   স্থানীয় সূত্র জানায়, ৮ থেকে ১০ জন যুবক মুখোশ পরে মহাসড়কে মিছিল বের করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলটির নেতৃত্ব দেন পটিয়া পৌরসভা ছাত্রলীগের সংগঠক হিসেবে পরিচিত পার্থ দাশ। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম নিশ্চিত করা হয়নি।   মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মুখোশ পরিহিত অবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ এবং ‘টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিব, লও লও লও সালাম’। কিছুক্ষণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।   ঘটনাস্থলটি পটিয়া থানার কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।   এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “ভোরে একটি মিছিলের খবর পেয়েছি। অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরিহিত ছিলেন। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।”   পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১৬ হাজার কোটি টাকায় ১৫ লাখ টনের বেশি জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি, তিন রেস্টুরেন্টকে জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকদের হুমকির অভিযোগে রাকসুর সংবাদ বয়কটের ঘোষণা রাবির তিন সংগঠনের

ছবি: সংগৃহীত
ঘাঁটির নিরাপত্তায় সেনাদের মোবাইল ব্যবহারে কড়াকড়ি ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে সেনাসদস্যদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) শীর্ষ কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সতর্ক করে বলেছেন, সেনাদের ধারণ করা ভিডিও ও ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তা শত্রুপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। বিশেষ করে ইরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদ প্রতিবেদন ও অনলাইন পোস্ট বিশ্লেষণ করে হামলার কার্যকারিতা মূল্যায়নের চেষ্টা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   সূত্রগুলোর দাবি, জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তুতি চলছে। সংবেদনশীল মিশনের ক্ষেত্রে সেনাদের ফোন তালাবদ্ধ স্থানে জমা রাখতে হতে পারে। তবে পুরো অঞ্চলে মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স বলেন, অভিযানের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সেনাসদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এসব নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য। এটি সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে হামলার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ফুটেজে হামলার সময় সেনাদের আশ্রয়ের জন্য দৌড়াতে দেখা যায়। অ্যাডমিরাল কুপার তার এক অভ্যন্তরীণ চিঠিতে উল্লেখ করেন, এ ধরনের ভিডিও থেকে হামলার লক্ষ্যবস্তু, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।   মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে স্মার্টফোনের কিছু অ্যাপ, বিশেষ করে অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহকারী ফিটনেস অ্যাপ, সামরিক সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়ক হতে পারে। এ কারণে পেন্টাগন তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মোবাইল ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হাজার হাজার মার্কিন সেনার দৈনন্দিন যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে, কারণ অনেকেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যক্তিগত স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় মাদরাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষক আটক

ছবি: সংগৃহীত

১৪৪ ধারার মধ্যে হবিগঞ্জমুখী এনসিপি গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

অতিরিক্ত পণ্য আমদানিতে ১৯ লাখ টাকার রাজস্ব ও জরিমানা আদায়

0 Comments