আগামী কয়েকদিন সারা দেশে তাপমাত্রা আরও কমবে। বাড়বে শীতের তীব্রতা, পাশাপাশি থাকবে কুয়াশার প্রকোপ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী জেলায় গতকাল শুক্রবার বয়ে গেছে মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, যা আজ শনিবারও চলতে পারে। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
সারা দেশেই ভোর ও রাতের দিকে কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সকালে কাজে বের হওয়া মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী, পথচারী ও ভাসমান জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। শীত থেকে বাঁচতে অনেককে খোলা জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে বা অস্থায়ী উষ্ণতার ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে।
গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহীর বাঘাবাড়ি ও নীলফামারীর ডিমলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বড় এলাকাজুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়; ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
দেশের ওপর এখন শীতের প্রভাব বাড়ার কারণ হিসেবে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের কথা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, এ বলয়ের প্রভাবে দেশে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। এ বলয়ের বর্ধিতাংশ এখন পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বলেন, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী জেলায় যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, সেটি এ মৌসুমের প্রথম। এমন আবহাওয়া ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, শনিবারও তা অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় ঠান্ডার অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবওহাওয়া অফিস।
ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। ঢাকাগামী পাঁচটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ভারতের কলকাতায় অবতরণ (ডাইভার্ট) করতে বাধ্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১টা থেকে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত এ পরিস্থিতি চলে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রাত ১টার পর থেকে রানওয়ে এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে গেলে অবতরণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ সময় কুয়েত থেকে ঢাকাগামী কুয়েত এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট, জাজিরা এয়ারওয়েজের দুটি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নামতে না পেরে কলকাতা বিমানবন্দরে চলে যায়। এ ছাড়া রাত সাড়ে ৩টার দিকে দাম্মাম থেকে আসা বিমানের আরও একটি ফ্লাইট অবতরণে ব্যর্থ হয়ে কলকাতায় অবতরণ করে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানান, কুয়েত এয়ারলাইন্সসহ বেশকিছু ফ্লাইট ডাইভার্ট করে কলকাতা পাঠানো হয়েছে।
কুয়াশার কারণে শুধু ডাইভার্ট নয়, বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়েও পড়েছেন যাত্রীরা। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুবাই থেকে আসা ফ্লাইট, বিমানের কুয়ালালামপুর ও গুয়াঞ্জু থেকে আসা ফ্লাইট, এয়ার অ্যারাবিয়ার শারজাহ এবং সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা ফ্লাইটগুলো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা বিলম্বে অবতরণ করেছে।
শীতকাল হওয়ায় মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত প্রায়ই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে রানওয়ে। এতে আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীরা দীর্ঘ সময় বিমানে বা ভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন ভোরে কুয়াশার এ দাপট অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে হঠাৎ হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু অবস্থা যশোরবাসীর। গত তিন-চার দিন জেলায় প্রচণ্ড কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া বইছে। দুপুরে সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তাপমাত্রা ছিল কম। উত্তরী হাওয়ায় থরথর করে কাঁপছে প্রাণিকুল। বৃষ্টির মতো ঝিরঝির করে পড়ছে কুয়াশা। এতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
শহরের ধর্মতলা এলাকার রিকশাচালক শিমুল হোসেন বলেন, শীতে রিকশা চালাতে গিয়ে হাত-পা জমে যাচ্ছে। ব্রেকও ঠিকমতো ধরা যাচ্ছে না, দুর্ঘটনার ভয় বাড়ছে।
ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়ক যানবাহনের ধীরগতি। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে সব ধরনের যানবাহন। গতকাল ভোরে যমুনা সেতু পূর্ব ইব্রাহীমাবাদ রেলস্টেশন, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও রাবনা বাইপাস এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
একতা পরিবহনের চালক সুমন মিয়া বলেন, আমি ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাচ্ছি। ভোর থেকেই কুয়াশা খুব বেশি। সামনে কী আছে বোঝা যায় না, তাই হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরে গাড়ি চালাচ্ছি।
চট্টগ্রাম থেকে পাবনাগামী ট্রাকচালক আব্দুল আলিম বলেন, ঘন কুয়াশায় কিছুই পরিষ্কার দেখা যায় না। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব পর্যন্ত সড়কের কাজ চলমান থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। তাই কম গতিতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছি।
মৌসুমের সর্বনিম্ন দশ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে সিরাজগঞ্জের যমুনা পারের মানুষ। প্রচণ্ড শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় নাকাল হয়ে পড়েছে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের মানুষগুলো। দেখা মেলেনি সূর্যের। প্রচণ্ড শীতে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষগুলো পড়েছে বিপাকে। তারা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে না পারায় কমে গেছে আয়।
রিকশা শ্রমিক উজ্জ্বল হোসেন বলেন, শুক্রবার আমাদের বেশি কাজকাম হয়। শহরে অনেক মানুষ ঘুরতে আসে। কিন্তু শীতের কারণে শহরে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমাদের কেউ কেউ ১০০ টাকাও রোজগার করতে পারেনি।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সোহেল ও মুকুল বলেন, সকাল থেকে বসে রয়েছি। কোনো ভাড়া মিলছে না। এভাবে থাকলে সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়বে।
পাবনায়ও শীত জেঁকে বসেছে। ঘন কুয়াশা এবং হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না খুব একটা। দুপুর পর্যন্ত প্রকৃতি ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকছে। হাড়কাঁপানো শীতে পদ্মা-যমুনা নদীর চরাঞ্চলের দুই লক্ষাধিক মানুষসহ অন্তত পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শীতে কাজ করতে না পারায় মানবেতর দিনযাপন করছেন তারা।
পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহে তীব্র শীতে কাঁপতে শুরু করেছে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামের মানুষ। টানা তিন দিন ধরে ১১-এর ঘরে অবস্থান করছে এ অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায় হাড়কাঁপানো শীতের সঙ্গে বেড়েই চলছে কুয়াশার দাপট। সেইসঙ্গে উত্তরীয় হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে এ জনপদের মানুষ। চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে-খাওয়া, দিনমজুর, নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষসহ জেলার পাঁচ শতাধিক চর ও দ্বীপ চরের হতদরিদ্র, ছিন্নমূল মানুষ।
কুড়িগ্রাম সদরের উত্তর নওয়াবস এলাকার রিকশাচালক আবুল কাশেম বলেন, কয়েকদিন ধরে তীব্র ঠান্ডা চলছে। খুব সকালে রিকশা নিয়ে বের হলেও ঠান্ডার কারণে দীর্ঘ সময়েও যাত্রী মিলছে না। এতে আয়ে ভাটা পড়ায় আমরা পরিবারের ব্যয় চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।
কৃষি শ্রমিক খসমত বলেন, কাজের সন্ধানে বেরিয়ে ঠান্ডায় হাত-পা কাঁপতেছে। ঠান্ডায় জীবন বাঁচানো মুশকিল। কিন্তু কাজকাম না করলে তো পেটে ভাত যাবে না।
একই পরিস্থিতি কুড়িগ্রামের কাঁচিচর এলাকার মাটি কাটা শ্রমিক ভারত চন্দ্রের। তিনি বলেন, ঠান্ডায় কোদাল হাত দিয়ে ধরলে হাত শিক লাগে। পেট তো আর ঠান্ডা বোঝে না। তাই কষ্টকর হলেও কাজ করতে হবে। নইলে পরিবারের ভরণপোষণ চালাব কীভাবে?
পাঁচগাছি ইউনিয়নের মাছ বিক্রেতা হরেন্দ্র নাথ বলেন, এ ঠান্ডায় খুব বিপদে আছি। পানি নাড়লে হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হচ্ছে। মাছ বিক্রি না করলে খাব কী?
অন্যদিকে, শীত বাড়লেও চরাঞ্চলে এখনো পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র পৌঁছেনি। অনেক এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। পৌষের শুরুতেই উত্তরের জনপদ নীলফামারীর ডিমলায় জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।
ডালিয়া নতুন বাজার এলাকায় পাথরের সাইটে কাজের অপেক্ষায় থাকা বাইশপুকুর গ্রামের শ্রমিক লাল মিয়া বলেন, কুয়াশা আর শীতের কারণে সাইটে কাজ বন্ধ। দুদিন ধরে এসে ফিরে যাচ্ছি।
চুয়াডাঙ্গায় হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু মানুষ ও প্রাণিকুল। সূর্যের সামান্য রোদের উষ্ণতা আশীর্বাদ হয়েছে এ জনপদের মানুষের। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ কাজে বের হচ্ছেন না। শীতে দুর্ভোগে পড়েছে খেটে-খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ।
ঘন কুয়াশার কারণে বরিশালে সূর্যের দেখা মেলেনি। এ কারণে শীতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আগামী দু-চার দিনে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল। তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বর ও জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কমে থাকে। সেই অনুযায়ী সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমবে। তবে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা নেই। অবশ্য বরিশাল বিভাগের নদী এবং সড়ক পথে শুক্রবার মধ্যরাত ভোর পর্যন্ত নদী ঘন কুয়াশা থাকবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সোমবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাবেন। তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। তার আগমনের মধ্য দিয়ে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিন শূন্য থাকা রাষ্ট্রদূতের পদ পূর্ণ হতে যাচ্ছে। গত ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ গ্রহণ করেন ক্রিস্টেনসেন। শপথের পর দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিরে আসতে পেরে তিনি আনন্দিত, কারণ দেশটি তার কাছে পরিচিত। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের টিমকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার করাই তার লক্ষ্য বলে জানান তিনি। ক্রিস্টেনসেন মার্কিন ফরেন সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের কাউন্সেলর র্যাঙ্কের সদস্য। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডে বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। তার কূটনৈতিক কর্মজীবনে ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটিতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ঢাকায় পৌঁছে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করবেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং সব পক্ষের মতামত জানবেন। নির্বাচন যেন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়, সে বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো, মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে কাজ করাও তার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে। দীর্ঘদিন পর পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণকে কূটনৈতিক মহল গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি ও স্থিতিশীলতা আনতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটসমূহে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রযুক্তি ইউনিটের অধীনে ভর্তি পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে প্রযুক্তি ইউনিটের অধীনে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ঢাবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে৷ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৪ এপ্রিল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এ পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫০ (আটশ পঞ্চাশ) টাকা।
২০২৬ সালের হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত ১১ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই হজযাত্রীরা টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে বলা হয়, ২০২৬ সালের হজে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো সময়মতো সম্পন্ন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হজযাত্রীদের যেসব পরীক্ষা করাতে হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইউরিন আর/এম/ই, র্যান্ডম ব্লাড সুগার (আরবিএস), এক্স-রে চেস্ট (পি/এ ভিউ) রিপোর্টসহ, ইসিজি রিপোর্টসহ, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি উইথ ইএসআর) এবং ব্লাড গ্রুপিং ও আরএইচ টাইপিং। এ ছাড়া দুরারোগ্য ব্যাধি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) নির্ণয়ের জন্য অতিরিক্ত কিছু পরীক্ষা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, হৃদযন্ত্রের অকৃতকার্যতার সন্দেহ হলে ইকোকার্ডিওগ্রাফি, কিডনি জটিলতায় এস ক্রিয়েটিনিন ও ইউএসজি অব কিইউবি, লিভার সিরোসিসের সন্দেহে ইউএসজি হোল অ্যাবডোমেন ও আপার জিআইটি এন্ডোস্কপি এবং দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ শনাক্তে স্পুটাম ফর এএফবি, সিটি স্ক্যান অব চেস্ট, সিরাম বিলিরুবিন, এসজিপিটি ও অ্যালবুমিন গ্লোবিউলিন রেশিও পরীক্ষা। স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ও ই-হেলথ প্রোফাইলের কপি টিকা কেন্দ্রে মেডিকেল টিমের কাছে জমা দিয়ে টিকা গ্রহণ করতে হবে। টিকা সম্পন্ন হওয়ার পর হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সনদ প্রদান করা হবে। হজসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ কল সেন্টার ১৬১৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।